নিবন্ধ: “রাস্তার ধারে এক আলোর বাতিঘর”
স্থান: তামেংলং, মণিপুর
তারিখ: ৬ অক্টোবর ২০২৩
– শ্যামল মণ্ডল
রাস্তার ধারে পড়ে থাকা ম্যাগির খালি প্যাকেট, আবর্জনায় ভরা ড্রেনের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে হঠাৎ চোখে পড়ে এক চমকপ্রদ দৃশ্য—একটি ছোট্ট কাঠের ঘর, জানালায় কাচ লাগানো, ভেতরে সারি সারি বই সাজানো। ওপরে লেখা—“Garbage or Knowledge?” নিচে স্পষ্ট করে লেখা—Street Library, Tamenglong।
এই ছোট্ট লাইব্রেরিটি হয়তো চোখে পড়ার মতো নয় প্রথম দেখায়, কিন্তু এটি প্রতিদিন পথচারীদের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় একটি মৌলিক প্রশ্ন: আমরা কি রাস্তায় জ্ঞান ফেলছি, না আবর্জনা? এই স্ট্রিট লাইব্রেরিটি যেন কেবল বই রাখার একটি বাক্স নয়, বরং এক অনুচ্চারিত প্রতিবাদ, এক মৌন আহ্বান সমাজের প্রতি।
তামেংলং-এর মতো এক ছোট শহরে এমন একটি উদ্যোগ নিঃসন্দেহে চমৎকার। যেখানে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মানুষ বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, সেখানে এই লাইব্রেরিটি মানুষকে নতুন করে বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনার এক অনন্য প্রয়াস। শিশুরা স্কুলে যাওয়ার পথে থেমে একটু উঁকি দিয়ে দেখে, কিছু কৌতূহলী কিশোর পাতা উল্টে দেখে কী আছে। কেউ বই রেখে যায়, কেউ নিয়ে যায়—কোনও চুক্তি নেই, কোনও বাধ্যবাধকতা নেই—শুধুই ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ।
এই লাইব্রেরির আশেপাশেই চোখে পড়ে একাধিক বেসরকারি প্রচেষ্টা—রেকর্ডিং স্টুডিও, প্রোডাকশন হাউস, স্থানীয় বোর্ডের নির্দেশিকা। এর মধ্যে এই কাঠের ছোট ঘরটি যেন দাঁড়িয়ে আছে এক প্রতীকি রূপে—সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও সচেতনতাকে বহন করে। এমন এক সময়ে, যখন শহরগুলোর রাস্তায় বইয়ের জায়গা দখল করে নিচ্ছে বিজ্ঞাপন ও প্লাস্টিক, তামেংলং-এর এই উদ্যোগ এক নিঃশব্দ বিপ্লব।
ছবিটির পেছনে একটি দিকচিহ্ন বোর্ড দেখা যায়—দিকনির্দেশনা দিয়ে। কিন্তু এই ছোট্ট লাইব্রেরি যেন নিজেই এক দিকনির্দেশ—আধুনিক জীবনের কোলাহলের মাঝেও বইয়ের পাতা উল্টে দেখার, জানার, শিখবার পথ দেখায়।
তবে, এই প্রকল্পকে সত্যিকার অর্থে সফল করতে হলে দরকার সম্মিলিত সচেতনতা। আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, বইগুলোর যত্ন নেওয়া, নতুন বই যোগ করা—এসব দায়িত্ব শুধু কর্তৃপক্ষের নয়, স্থানীয় জনগণেরও।
তামেংলং-এর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই ক্ষুদ্র কাঠামো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পরিবর্তন সব সময় বড় আকারে আসে না, কখনও কখনও একটি ছোট্ট বইয়ের তাকও হতে পারে এক নতুন দিগন্তের সূচনা।
তামেংলং জেলার এই উদ্যোগটি সামাজিক মাধ্যমে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য শহরে যদি এর আদলে এমন আরও ‘স্ট্রিট লাইব্রেরি’ গড়ে ওঠে, তবেই বলা যাবে—আবর্জনার চেয়ে জ্ঞানকেই মানুষ বেছে নিচ্ছে।
অসাধারণ ও মানসম্মত এ পত্রিকাটির উত্তরোত্তর উৎকর্ষতা ও প্রচার বৃদ্ধি হোক।
Very nice composition. L
অশেষ ধন্যবাদ
খুব সুন্দর। কবিতা গুল নতুন ভাবের।
খুব সুন্দর লেখা