শান্তি আসুক

স্বপনকুমার বিজলী
প্রকৃতি ও আকাশ আঁধার
হলে বারুদ ভারে
সুখের পায়রা হেসে খেলে
উড়তে কি আর পারে?
হানাহানি হিংসা বিভেদ
থাকলে চারিপাশে
চিতার আগুন জ্বলবে দ্বিগুণ
শান্তি কী আর আসে!
বিবেক হলে শুদ্ধ তবেই
শান্তি আসে নেমে
মানবতা এবার জাগুক
বিদ্রোহ যাক থেমে।
যুদ্ধ ও লাশ দেখব না আর
থাকব সবাই সরে
শান্তি তবেই দেখা দেবে
ঠিক আগামীর ভোরে।
*******************
লেখক পরিচিতি: স্বনামধন্য কবি ও ছড়াকার স্বপনকুমার বিজলী
বাংলা শিশুসাহিত্য ও ছড়ার জগতে স্বপনকুমার বিজলী এক সুপরিচিত নাম। তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা হয় খুব অল্প বয়সেই। ১৯৮০ সালে, যখন তিনি ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র, তখনই স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা ও ছড়া প্রকাশিত হয়। সেই ছোট্ট সূচনাই পরবর্তীতে এক দীর্ঘ ও সৃজনশীল সাহিত্যযাত্রার ভিত্তি রচনা করে। শৈশব থেকেই শব্দ, ছন্দ ও কল্পনার জগতে তাঁর বিচরণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, যা ক্রমে তাঁকে একজন প্রতিষ্ঠিত ছড়াকার হিসেবে গড়ে তোলে।
স্বপনকুমার বিজলীর পারিবারিক পরিবেশও তাঁর সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর পিতা শ্রী উপানন্দ বিজলী এবং মাতা সন্ধ্যা রাণী বিজলী। ১৯৬৮ সালের ২ জুন তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতি গভীর পর্যবেক্ষণ এবং শিশুমনের সহজ-সরল অনুভূতি তাঁর লেখায় বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।
এ পর্যন্ত তাঁর ৬টি ছড়াগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যা পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত। গ্রন্থগুলো হলো— ইচ্ছে খুশির মিষ্টি ছড়া (২০১৬), ঝুমুর ঝুমুর ছড়ার নূপুর (২০১৮), ছন্দে আঁকি ছড়ার পাখি (২০১৯), ছন্দে মোড়া ছড়ার তোড়া (২০২০), ছড়ার গাড়ি দিচ্ছে পাড়ি (২০২৩) এবং মিষ্টি কড়া ১০০ ছড়া (২০২৪)। তাঁর ছড়ায় সহজ ভাষা, প্রাণবন্ত ছন্দ এবং শিশুতোষ ভাবনার এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায়, যা ছোটদের পাশাপাশি বড়দের কাছেও সমানভাবে উপভোগ্য।
সাহিত্যে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি “কবি কৃত্তিবাস সম্মাননা ২০১৮”, “আব্দুল জব্বার স্মৃতি পুরস্কার”, “নজরুল স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার” এবং “আলোর ফুলকি সম্মাননা”-সহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি বহু সম্মাননা অর্জন করেছেন, যা তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল্যায়নকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
বর্তমানে স্বপনকুমার বিজলী সপরিবারে পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুর, কলকাতা – ৭০০১৪৪-এ বসবাস করছেন। পরিবারে স্ত্রী ও পুত্রসহ তিনজন সদস্য রয়েছেন। পারিবারিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি নিয়মিতভাবে সাহিত্যচর্চা করে চলেছেন এবং নতুন প্রজন্মের পাঠকদের জন্য সৃজনশীল ছড়া রচনায় নিয়োজিত রয়েছেন।
কাব্যপট পত্রিকার পক্ষ থেকে এই গুণী কবি ও ছড়াকারের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং সাহিত্যজীবনের আরও সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করা হচ্ছে।
– সম্পাদক
– কাব্যপট পত্রিকা
Very nice composition. L
অশেষ ধন্যবাদ
খুব সুন্দর। কবিতা গুল নতুন ভাবের।
খুব সুন্দর লেখা
একজন লেখক এর সব থেকে বড় প্রাপ্তি তার লেখা যদি পাঠক দের হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারে, যদি তাদের হৃদয়ে সেই…