মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের ধর্ম্মমত প্রচার
***************
রাজকুমার সরকার
ঝাড়খণ্ড

ভারতবর্ষ সাধু-সন্তের দেশ।যুগে যুগে অনেক সাধক-সাধিকারা আবির্ভূত হয়েছেন এবং তাঁরা আমাদের পথ দেখিয়ে গেছেন। তাঁরা বলে গেছেন, কেমন করে আমাদের চলতে হবে?
কিভাবে থাকলে ভালো হবে?
কোন পথটি ভালো?
লীলাতনু রামকৃষ্ণ ঠাকুর,
তৈলঙ্গস্বামী, শঙ্করাচার্য,লোকনাথ বহ্মচারী,ভোলানাথ গিরি,সাধক বামাক্ষ্যাপা,স্বামী প্রণবানন্দ,ঠাকুর সীতারাম দাস,
ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র,
নিগমানন্দ সরস্বতী,
রামঠাকুর,
লীলাদেহী স্বরূপানন্দ,
চৈতন্যদেব সহ অনেকেই আমাদের পথ দেখিয়ে গেছেন।
চৈতন্য মহাপ্রভুর ধর্ম্মমত প্রচারের মাধ্যমটি খুব সুন্দর। কলিযুগে নাম কর।নামেই মুক্তি।উনি বলে গেছেন কলিযুগে নাম সংকীর্ত্তনেই মুক্তির পথ।মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব ধর্ম্মপ্রচারের জন্য কোন বই লিখে যাননি।সময়ে সময়ে তিনি কিছু কিছু শ্লোক ও পদাবলী উচ্চারণ করতেন। তাঁর সমসাময়িক ও পরবর্তীতে গ্রন্থকারগণ তা রক্ষা করে গেছেন যা “শিক্ষাষ্টক” নামে অভিহিত হয়।তাঁর শ্লোকের মধ্যেই গভীর গূঢ় ভাব নিবদ্ধ আছে। নাম সংকীর্ত্তনেই মুক্তিলাভ হইবে,- এর অধিক সরল শিক্ষা আর কি হতে পারে?
জীবের যন্ত্রণায় যন্ত্রণা অনুভব করেছেন তিনি এবং করুণার কথা বিলিয়ে দিয়েছেন সকলের মাঝে।এস পাপী-তাপী, যে যেখানে আছো- নাম গান করো।এসো, তৃষ্ণার্ত এসো, শুষ্ককণ্ঠ এসো, সবাই এসো, নাম গান কর।নামগান মুক্তির একমাত্র পথ।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে
এই নাম মুখে আনলেই শান্তি/তৃপ্তি/ঈশ্বরলাভ/মোক্ষলাভ/শান্তি।
নামের অনেক গুন।এই নাম করে জগা মাধা (জগাই-মাধাই)
উদ্ধারিয়া গেল রে…
পাপী দুটি ভাই বলেই জানি বা সবাই শুনেছেন সেই পাপী দুটি ভাই হরি নাম করতে করতেই মুক্তি পেয়েছেন।
গ্রামে-গঞ্জে নগর কীর্ত্তনে এখনও শোনা যায়—
জগাই মাধাই পাপী দুটি ভাই নিতাইকে কত মেরেছিল,
এমন ছেলে কে কোথায় দেখেছো
মার খেলো তবু নাম নিলো…
প্রেম ভরে একবার হরি বলো।
প্রথম জন্মে নিমাই। সন্ন্যাস ধর্মের পর চৈতন্য মহাপ্রভু।নাম করতে বলতেন, নাম গানের প্রচার-প্রসার করে গেছেন।
গৌরাঙ্গ (গৌর/নিমাই) শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু,যিনি সোনার দেহের অধিকারী।তিনি প্রেম ও ভক্তি প্রচারের জন্য নবদ্বীপে আবির্ভূত হন।
শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু (গৌরাঙ্গ)এবং তাঁর প্রধান পার্ষদ শ্রী নিত্যানন্দ প্রভু (নিতাই) গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মে গৌরনিতাই বা নিতাই- গৌরাঙ্গ নামে পরিচিত। তাঁরা ভগবান কৃষ্ণ ও বলরাম অবতার,যাঁরা কলিযুগে সংকীর্তনের মাধ্যমে প্রেমভক্তি প্রচার করেন। নিত্যানন্দ হলেন ভক্তির আধার এবং গৌর হলেন করুণার অবতার যাঁদের যৌথ উপাসনা অত্যন্ত ফলদায়ী বলে মানা হয়।
নিতাই (নিত্যানন্দ)শ্রী নিত্যানন্দ প্রভু, যিনি অনন্ত আনন্দের মূর্ত প্রতীক এবং বলরামের অবতার।তিনি বীরভূম জেলার ‘একচক্রা’ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
গৌর-নিতাই: তাঁরা একে অপরের পরিপূরক এবং বৈষ্ণবীয় পঞ্চতত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিতাই গৌরাঙ্গকে পতিতপাবন বা সবচেয়ে করুণাময় অবতার বলে অভিহিত করা হয়।
সনাতন ধর্ম প্রচারে গৌর নিতাই এর অবদান রয়েছে।
হরে কৃষ্ণ
হরে কৃষ্ণ
হরে কৃষ্ণ
এই নামেই জগত উদ্ধার। নাম ছাড়া গতি নাই।
তথ্যসূত্র:
(১)শ্রীযুক্ত দুর্গাদাস লাহিড়ী প্রণীত– সৎপ্রসঙ্গ
(২)ড:নন্দলাল ভট্টাচার্য -এর
‘অলৌকিক লীলাপ্রসঙ্গ’
(৩)অন্তু কুমার চৌধুরী মোকো,ধানবাদ
কলমে : রাজকুমার সরকার
মোকো, ধানবাদ
ঝাড়খণ্ড, ভারত

The dol festival of Nabadwip, a column by Shyamal Mondal is an wonderful english writing. We as readers need his…
অমর প্রেম: স্বার্থহীন বন্ধনের এক মানবিক উপাখ্যান মানবজীবনের সবচেয়ে গভীর ও পবিত্র অনুভূতির নাম প্রেম। এই প্রেম কখনো রোমান্টিক সম্পর্কের…
কবি ফরিদ হোসেন হৃদয় এর "মিলে মিশে ঈদ করব" কবিতায় হাতটা বড় মিষ্টি, কবি প্রমান করলেন। আমি আগেই বলি, আমি…
শ্যামল মণ্ডল রচিত "ছেলের চিঠি" কবিতার পর্যালোচনা পর্যালোচনায় : শংকর হালদার শৈলবালা আলোচনা কাল : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ◆ ১.…
শংকর হালদার শৈলবালা রচিত “পণ্যের হাটে ঈশ্বর" কবিতার পর্যালোচনা পর্যালোচনায় : ভাষাবিদ অপরাজেয় আলোচনা কাল : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ◆…