কবিতা: নীলাঞ্জনা
দীননাথ চক্রবর্তী

নীলাঞ্জনা আর না ,
আর কত হবে অভিমানিনী!
লক্ষ্মীটি এবার এসো
নীলাম্বরী শাড়িতে ,নীলাঞ্জনে
তৃষিত হৃদয়ে নীল ঝর্ণা হয়ে ,
উষ্ণ ঠোঁটের কোমল পাপড়ি ঝরিয়ে
তুমি এসো নীলাঞ্জনা ।
কত বিনিদ্র রাত যায় কেটে
কেবলই তোমার ভাবনায় ,
নীলাঞ্জনা ,হয়ো না এত নিষ্ঠুর
তোমার ঢুলু ঢুলু চোখ দুটো একবার তুলে ধরো
একবার ঐ পটলচেরা চোখ দুটো ,
জল রাখবার জায়গা পাবেনা আর!
জানো নীলাঞ্জনা ,
তোমার সেই প্রাণের মানুষটা
ঠিক যেন একটা পাটকাঠি ,
চোখের কোনে কালি
উদভ্রান্ত
জীবন ভারে ন্যুব্জ
তুমি এসো নীলাঞ্জনা ।
বহুল দীর্ঘ তোমারই প্রতীক্ষায়
দুপুরের দীঘি
হেলে পড়া বট
পদ্মপুকুরের শান বাঁধানো ঘাট
আর লাজুক কৃষ্ণচূড়া।
কতদিন শুনিনি তোমার পায়ের নূপুর ,
আজ অবাক হয়ে যায়
তোমার শাড়ির ভাঁজের গন্ধ নেই ,
শরীরের মিঠে মিঠে সুবাস ,
চুলের খুসবু ,
ঠোঁটের তিলের স্পর্শ ,
তবু আজও আমি কেমন করে বেঁচে আছি?
নীলাঞ্জনা তুমি কি আসবে না?
যদি আমি মরে যাই?
ভগ্ন হৃদয়ে
তৃষিত মনে
অকালেই
তবুও না?
না নীলাঞ্জনা তা হয় না
সে যে বড় মিথ্যা
তুমিই শাশ্বত ।
আমি জানি নিশ্চিতভাবে
রুক্ষ দাবদাহে
শরীর মন প্রাণ যখন ক্লান্ত
তখনই তো তুমি আসো
বাৎসল্য সুধা ভরা উন্মুক্ত কুচ যুগলে
রাঙা সকাল নিয়ে
তোমার উষ্ণ বুকের তাপ ছড়িয়ে
তুমি এসো লক্ষ্মীটি নীলাঞ্জনা ।
আর যে সইতে পারিনা বিরহ
যুজবার ক্ষমতাটুকু বিলীন আজ ,
ভুলতো হয়েছেই
সেকথা কতবার বলেছি
আকারে ইঙ্গিতে ,
তুমি এসো নীলাঞ্জনা ।
তোমার ক্ষমা সুন্দর বুকের তাপ নিয়ে ,
কৃষ্ণচূড়া আবার হেসে উঠুক ,
দীঘি বট আর ঘাট সাক্ষি হোক
তোমার আমার কবিতার সঙ্গম মুহূর্তের ।
দোহাই তুমি এসো নীলাঞ্জনা
ইট কাঠ পাথর ক্রংক্রিটের পৃথিবীতে
প্রাণের স্পর্শ নিয়ে
মৃত বুকে সবুজ বীজ ছড়িয়ে
মন্দাকিনীর গোলাপ হাতে
তুমি এসো নীলাঞ্জনা ,
সমস্ত নশ্বরতাকে উল্লঙ্ঘন করে
আমার সংবর্ত শরীরে
আপনাকে হারিয়ে দিয়ে
লক্ষ্মীটি এসো প্রিয়ে নীলাঞ্জনা ।
অসাধারণ ও মানসম্মত এ পত্রিকাটির উত্তরোত্তর উৎকর্ষতা ও প্রচার বৃদ্ধি হোক।
Very nice composition. L
অশেষ ধন্যবাদ
খুব সুন্দর। কবিতা গুল নতুন ভাবের।
খুব সুন্দর লেখা