Spread the love

“বাস্তবতার কাছাকাছি”

    ✍️-"সূরাজ বনিক"..🌸

আমি সবসময়ের জন্য চেয়েছি প্রকাণ্ড এক বটবৃক্ষের শীতল ছায়ায় বিশ্রাম নিতে। ঝরে যাওয়া পাতার মর্মর আওয়াজ শুনতে।আমি চেয়েছি একটি বিশ্বস্ত কাঁধ,, একটি শান্তির কোল।
যে কোলে মাথা রেখে মনের সবটুকু অবসাদ তার কোলে শপে দিতে পারবো আমি।

কিন্তু বাস্তবে আমি পেয়েছি খরতাপে পুড়ে যাওয়া একটি ক্লান্ত শরীর..যে শরীর আমার নিজের,,যে শরীর ঝড়-বৃষ্টিতে, রোদে তপ্ত হয়েছে বারবার। কিন্তু কেউই এই শরীরের তপ্ত হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখতে চাইনি কখনোই কোনোদিন।

যে শরীর মন শত অবহেলা সয়ে গেলেও “ভালোবাসা” দিয়ে আপন করে নিতে চায়নি আমাকে।
বারংবার ক্ষত-বিক্ষত হলেও সে ক্ষতস্থানে প্রলেপ দিতে চাইনি কেউই কোনোদিন..

জীবনে যাকে যত বেশি আপন করতে চেয়েছি কাছের মানুষ হতে গিয়েছি,সেই তত আমাকে বুঝিয়ে গিয়েছে আমি ঠিক যতটা আপন হতে চেয়েছি তার অনেক গুণ পর আমি।
তাদের থেকে অনেক দূরের মানুষ আমি।
আমি যার যতটা কাছের মানুষ হতে চেয়েছি সে বুঝিয়ে দিয়েছে আমি তাদের মন থেকে অনেকখানি দূরেই বসবাস করি।

সবশেষে…
বেলা শেষে এসে উপলব্ধি করেছি কেউ সঙ্গে থাকে না,, বেলা শেষের নিজের ‘আমি’-টা ছাড়া।
সবটা হারিয়ে এই উপলব্ধি করবার পর আমি সুন্দরভাবে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে একলা কি করে ভালো থাকতে হয়,, নিজেকে ভালো রাখতে হয় তা শিখেছি।
“অতীতের” ভাবনাগুলোকে কল্পনা ভেবে ভুলে গিয়ে “বর্তমান” সময়ের কঠিন বাস্তবতাকে সঙ্গী করেই এখন আমার পথচলা আবার নতুন করেই শুরু করেছি।

                       সমাপ্ত..🍁

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।