পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি বাজেট: চাকরি, ডিএ বৃদ্ধি, নতুন জেলা ও উন্নয়নের একগুচ্ছ ঘোষণা
কাব্যপট সংবাদ ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হলো সোমবার। বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত আগামী অর্থবর্ষের জন্য যে বাজেট পেশ করেছেন, তাতে সরকারি চাকরি, কর্মচারীদের মহার্ঘভাতা বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত ঘোষণা হলো রাজ্যে এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনা। সরকার জানিয়েছে, পুলিশ, শিক্ষা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে ধাপে ধাপে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি মহিলাদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়োগের একটি বড় অংশ তাঁদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্যও এসেছে বড় স্বস্তি। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে মহার্ঘভাতা বা ডিএ ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাস থেকে নতুন হারে ডিএ কার্যকর হওয়ার কথা।
প্রশাসনিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে পাঁচটি নতুন জেলা গঠনের প্রস্তাবও বাজেটে স্থান পেয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে প্রশাসনিক পরিষেবা আরও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়বে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। কল্যাণীর নিকটে একটি নতুন গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক অঞ্চলে বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
যুবসমাজকে লক্ষ্য করে চালু হতে চলেছে নতুন ‘ভরসা’ কর্মসূচি। যোগ্য শিক্ষিত বেকারদের নির্দিষ্ট মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান না পাওয়া পর্যন্ত কিছুটা আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।
সামাজিক সুরক্ষা ক্ষেত্রেও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বয়স্ক, বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের মাসিক ভাতা বাড়ানো হয়েছে। আশাকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ এবং অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিটি জেলায় বিনামূল্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আর্থিক সহায়তার নতুন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী ব্যবসা ও শিল্পক্ষেত্রে স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরির উপরও জোর দিয়েছেন। ব্যবসার পথে বাধা সৃষ্টি করে এমন সিন্ডিকেট ও বেআইনি অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনার কথা বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
পর্যটন খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বাংলাকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সরকার জানিয়েছে।
মোট ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকার এই বাজেটকে সরকার উন্নয়নমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক বাজেট হিসেবে তুলে ধরলেও, এর বাস্তবায়ন কতটা সফল হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।
(প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া সরকারি বাজেট ঘোষণার ভিত্তিতে প্রস্তুত।)