গণসাহিত্য : ব্যক্তিগণ্ডি ছাড়িয়ে অংশীবাদী সাহিত্যচর্চার পথ
কালাচাঁদ মৃত্যু

পৃথিবীর যে কেউ সাহিত্যকর্মে অংশগ্রহণ করতে পারবে!
কেউ মানুক আর না মানুক: মানুষ বলতেই সৃষ্টিশীলতায় সমৃদ্ধ এক চিন্তাশীল, ভাবনাপ্রবণ, কল্পনাবিলাসী সাহিত্যিক সত্তা; অফুরন্ত সুপ্ত প্রতিভার আকর- হোক সে সাক্ষর কিংবা নিরক্ষর। আমার একান্ত বিশ্বাস- সামান্য হলেও সৃষ্টিশীল চিন্তা প্রতিটি সুস্থ মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য; যা কোনো বিশেষ শ্রেণি, পেশা কিংবা বিদ্যাচর্চাকারীর একচেটিয়া অধিকারের ক্ষেত্র নয়- সবার জন্যই উন্মুক্ত। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই উন্মুক্তভাবে চিন্তা করে, নিজের মতো করে অনুভব করে, ভাবে; আত্মোপলব্ধির ভেতর দিয়ে মানবজীবনকে অধ্যয়ন করে- একই সাথে কল্পনার বিস্তীর্ণ আকাশে বিচরণও করে। নিজের চিন্তা ও কল্পনা-বলয়ের মধ্যে অবিরাম ঘুরপাক খায়- চোখ বন্ধ করে কল্পনার বিমানে ভর করে অতিক্রম করে মহাবিশ্ব, এমনকি অন্যের চিন্তার সঙ্গে নিজের চিন্তার মেলবন্ধনও ঘটায় অনায়াসে। এসবই মূলত সার্থক সাহিত্য সৃষ্টির মৌল উপাদান।
কিন্তু এই অন্তর্লীন চিন্তাজগতের সব ভাবনা, সবার ভাবনা কখনো সমানভাবে প্রকাশের আওতায় আসে না। এতকাল ধরে যদি সবার মনের সব কথা ভাষায় প্রকাশ পেত, তবে মানবসভ্যতার সাহিত্যভাণ্ডার হতো বহুগুণ সমৃদ্ধ, বিশ্বসাহিত্য হতো আরও বিস্তৃত, অতলস্পর্শী। জানি, এ ধরনের চিন্তার বিপরীতে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন- লেখকশ্রেণির মানুষ তাঁদের চিন্তাকে সহজে ভাষা ও শৈল্পিক কাঠামোয় প্রকাশ করতে পারলেও পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ উপযুক্ত মাধ্যম, ভাষাগত দক্ষতা, প্রচলিত শিক্ষা কিংবা সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবে নিজেদের চিন্তা-ভাবনা ও চেতনাকে সাহিত্যিক রূপ দিতে সক্ষম হন না। গভীর আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও নানাবিধ প্রতিবন্ধকতায় এই সাধারণ শ্রেণির মানুষ তাদের ভাবনার জগৎকে কাগজে-কলমে জনসম্মুখে তুলে ধরতে হন ব্যর্থ।
অথচ আমি মনে করি, পৃথিবীর এমন কেউ নেই- যে কখনো একজন সাহিত্যিকের মতো, কবির মতো সামান্য হলেও চিন্তা করতে পারে না বা করে না; ভাবতে পারে না বা ভাবে না। আসলে এটাই দারুণ সত্যি- প্রতিটি সুস্থ মানুষের ভেতরেই নিহিত থাকে সম্ভাব্য প্রতিভাশক্তি ও সৃষ্টিশীলতার বীজ: যা মাত্র একটি অনুকূল পরিবেশ, সুষ্ঠু পরিচর্যা, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রকাশের সুযোগ পেলে স্বাভাবিকভাবেই সাহিত্যিক ভাষ্যে রূপান্তরিত হতে পারে বলে বিশ্বাস করি।
অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা- ভাষাগত সীমাবদ্ধতা, শৈল্পিক অনুশীলনের অভাব কিংবা সামাজিক অনীহার কারণে সাধারণের ভাবনার জগৎ অব্যক্তই থেকে যায়। সেইসাথে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে চিরতরে হয়ে যায় বিলীন-বিনষ্ট-নিশ্চিহ্ন। গণ-মানুষের মৃত্যুতে হারিয়ে যাওয়া সেই অমূল্য ভাবনাসোপানগুলো এভাবে নিশ্চিহ্ন হওয়ার বেদনা আমাকে অনেক বছর ধরে প্রতিনিয়ত আহত করত, ভাবিয়ে তুলত। যদিও জানা কথা, এই সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রচলিত পদ্ধতিতে এককভাবে সাহিত্যসৃষ্টিতে প্রবেশ করানো অসম্ভব, সাধ্যাতীত।
তারপরেও হাল না ছেড়ে, আমার দীর্ঘদিনের গবেষণা অব্যাহত: হৃদয়ে জাগ্রত একটি গণস্বপ্ন- তা হলো, এই বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের চিন্তা-ভাবনাকে সাহিত্যে পরিণত করার একটি কার্যকর কৌশল উদ্ভাবন করা। ভাবতাম, সত্যি-সত্যিই যদি কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল-অবলম্বনে জন-সাধারণের ভাবনাকে সাহিত্যের আলোকে প্রকাশ-মাধ্যমে নিয়ে আসতে পারি, তবে সাহিত্যজগৎ নিত্যনতুন সৃষ্টিকর্মে হয়ে উঠবে আলোকিত, ঝলমলে।
এই মর্মে, কাঙ্ক্ষিত সেই সুনির্দিষ্ট পথের অনুসন্ধান করতে গিয়ে যে প্রশ্ন জাগে:
১. এমন কোনো সুনির্দিষ্ট পথ কি নেই, যার মাধ্যমে লেখক নন এমন চিন্তাশীল গণ-মানুষের ভাবনাও সাহিত্যরূপে সংরক্ষিত হতে পারে?
২. সকলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চিন্তার সমন্বয় ঘটিয়ে আসলেই কি একটি পূর্ণাঙ্গ ও শিল্পসম্মত সাহিত্য নির্মাণ করা সম্ভব নয়?
উক্ত প্রশ্নদ্বয়ের হ্যাঁ-সূচক উত্তর অনুসন্ধান করতে গিয়েই ধীরে ধীরে দ্বিতীয় প্রশ্ন থেকে মনের ক্যানভাসে একটি নতুন ধারণা স্পষ্ট হতে থাকে এবং যা দৃঢ়তার সাথে উপলব্ধি করি- সবার দ্বারা এককভাবে সাহিত্যচর্চা করা সম্ভব নয়; কিন্তু যদি যৌথভাবে দুই বা তার অধিক মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চিন্তাকে পরিকল্পিতভাবে সংযুক্ত ও বিন্যস্ত করা যায় তবে সেই অংশীবাদী যৌথ সাহিত্য একক লেখকের রচিত সাহিত্য অপেক্ষা শক্তিশালী সাহিত্যে পরিণত হতে পারে- এ সম্ভাবনা কিছুতেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এতদিন যদিও সকলে সাহিত্যকে একক ব্যক্তির একক-সৃষ্টিকর্ম রূপেই দেখে দেখে অভ্যস্ত- সেহেতু হঠাৎ করে সমষ্টিগত অংশীবাদী সাহিত্যচর্চার পদ্ধতির চিন্তাকে অনেকে হাস্যকর বলে উড়িয়েই দিতে চাইবেন- এও জানি। আবার বুঝে ওঠার পূর্বেই কিছু লেখকের পক্ষ থেকে আসতে পারে বাধা-বিপত্তিও। এর কারণ- কেবল বাংলায় নয়- বিশ্বসাহিত্যেও অংশীদারিত্বমূলক বহুত্ববাদী সাহিত্যচর্চার ধারণা এখন পর্যন্ত অনুপস্থিত। এখানেই উক্ত পদ্ধতির প্রয়োগের পূর্বে সেই পুরাতন প্রশ্ন নতুন আলোকে অন্তরে আবারও ধাক্কা দেয়-
সাহিত্য কি আজন্মকাল শুধু ব্যক্তি-মালিকানার সম্পদ হয়েই থাকবে? নাকি তা সমষ্টিগত চিন্তার ফসল রূপেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে? এবার হাতে-কলমে অন্তত একবার এর প্রমাণ করেই দেখি।
এই “একবার প্রমাণ করেই দেখি” ভাবনার বাস্তব পরীক্ষণ ঘটেছিল আজ থেকে ২৫ বছর পূর্বে ২০০০ সালে; তখন বেড়াতে গিয়েছিলাম ঢাকার মানিকনগর, সিটিগলি এলাকায়। সেদিন বিকেলে একটি গান লেখায় ব্যস্ত ছিলাম। ওখানে উপস্থিত ছিলেন আরও সাত-আটজন- তারা কেউ সমবয়সী, কেউ যুবক, কেউ বৃদ্ধ। একজনে আচমকা বলে বসলো, আমরাও কিছু লিখতে চাই- কিন্তু পারি না- কী করা যায় কবি?
দীর্ঘদিন পুষে রাখা অংশীবাদী সাহিত্যের ধারণাটি চট করে কাজে লাগানোর সময় সন্নিকটে হাজির। বললাম, চিন্তা কী? আমরা সবাই মিলে একটিমাত্র লেখা লিখব। প্রত্যেকেই অবাক হয়ে আমার দিকে তাকাল, কেউ কেউ মৃদু হাসলো: এরপর একযোগে বলে উঠল-
“সবাই একসাথে, মানে?” আমি হ্যাঁ-সূচক মাথা নেড়ে বললাম-
কেন নয়? সবাই বসুন, এখনই সবার ভাবনাকে একত্র করার কায়দাটা দেখাচ্ছি; আচ্ছা, সবাই মিলে একটি নাটক লিখলে কেমন হয়?
চোখ-মুখের ভাব দেখে মনে হলো, কথাটি কেউ বিশ্বাস করতে পারছিল না। কিছুটা বিস্মিত-ভাব নিয়েও আগ্রহ সহকারে সবাই গোল হয়ে বসে পড়লো আমার পাশ ঘেঁষে। সবার মুখে আমার ভাবনার প্রতি একরকম তাচ্ছিল্যের হাসিটা তখনো ছিল। হাসিটা উপেক্ষা করে সেই সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সকলের চিন্তাকে সমন্বয় করার স্বপ্নে শুরু করলাম একটি অনির্ধারিত, অজানা বিষয় নিয়ে আন্দাজে নাটক রচনার সৃজনশীল কর্মযজ্ঞ।
শুরুতে একটি চরিত্র নির্ধারণ করে প্রথম সংলাপের দুটি শব্দ লিখে পাশেরজনকে বললাম, পরের দু-তিনটি শব্দ লিখতে। সে আমার প্রদত্ত শব্দদুটি বারবার পাঠ করে তার সাথে নিজের চিন্তা মিশিয়ে কয়েকটি শব্দ লিখে পাশের জনকে দিয়ে দিলো পরের অংশ লিখতে। খেয়াল করলাম, আমার দেওয়া দুটি শব্দের পরে আমি নিজে যা লেখার কথা ভেবেছিলাম, পরের জন তার ধারকাছ দিয়েও না গিয়ে এমন কিছু লিখলো- যা রীতিমত চমকে দেওয়ার মতই ছিল। এভাবে সবাই মিলে চমকাতে চমকাতে কেউ লিখলাম প্রতি সংলাপের দু-তিনটি শব্দ, কেউ সংলাপে যুক্ত করলাম নতুন চিন্তা, কেউ উক্ত চিন্তার সাথে নিজের চিন্তাকে যুক্ত করে সংলাপটি সম্পূর্ণ করলাম। কেউ নতুন চরিত্র সংযোজন করলাম, কেউ চরিত্রানুসারে ভাব-গম্ভীর সংলাপ নির্মাণ করলাম। কেউ সংলাপের প্রতিপক্ষ হয়ে তীব্র উত্তর দিলাম। কেউ ঘটনাকে সম্পূর্ণ নতুন মোড়ে নিয়ে চললাম। এভাবেই হাত বদল হতে হতে সমবায়ী চিন্তার ভেতর প্রত্যেকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চিন্তার সমন্বয় ঘটিয়ে দৃশ্যের পর দৃশ্য নির্মিত হতে থাকল। ততোক্ষণে আমার বলা সেই “সবাই মিলে” কথাটির প্রতি সকলের তাচ্ছিল্যের ভাবটাও কেটে গেছে- সেই সাথে সবার চোখে তাকাতেই যেন একটা নাট্যকার নাট্যকার ঝিলিকও উপলব্ধি করলাম!
ফলাফলস্বরূপ, এক আশ্চর্য, অনন্য ও ব্যতিক্রমী সৃষ্টিকর্ম দৃষ্টিসম্মুখে অবতরণ করল। সেই মুহূর্তে আমি নাটকটির ভাষার সৌন্দর্য মুগ্ধ হয়ে সকলের সমষ্টিচিন্তার স্ফূরণ-স্পর্ধাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করলাম এবং ধারণা করলাম সারা পৃথিবীর যে কোন একজন লেখকের পক্ষে সারাজীবনেও এমন বহুমাত্রিক ও প্রাণবন্ত একখানা নাটক রচনা আদৌ সম্ভব নয়। এই বহুত্ববাদী, সমবায়ী ও অংশীদারিত্বমূলক সাহিত্যসৃষ্টির পদ্ধতিকেই সেদিন ‘গণসাহিত্য’ নামে অভিহিত করেছিলাম- যা গণ-মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চিন্তার সম্মিলনে প্রস্ফুটিত সাহিত্যসৃষ্টির এক কার্যকর মাধ্যম। আর এর বিস্ময়কর সম্ভাবনা এই- সাহিত্যের যে কোনো শাখাতেই ইচ্ছা করলে গণসাহিত্যের চর্চা করা সম্ভব।
বহু বছর পর, ২০২৫ সালে এসে কবি বিকাশ চক্রবর্তীর ডাক্তারি চেম্বারে বসে হঠাৎ মনে পড়লো গণসাহিত্যের অংশীবাদী কৌশলে নাটক রচনার সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি। উক্ত ঘটনাটি উপস্থাপন করা মাত্রই চেম্বারে উপস্থিত কয়েকজন লোক গণসাহিত্য চর্চার প্রতি তাৎক্ষণিক উৎসাহ প্রকাশ করলেন। আমি এবারও সুযোগটি হাতছাড়া না করে সেই মুহূর্তেই সবাইকে নিয়মটি বুঝিয়ে দিয়ে চট করে কয়েকটি শব্দ লিখে সবার মাঝে ছেড়ে দিলাম। আমার দেওয়া শব্দগুচ্ছ পাঠের আলোকে একে একে প্রত্যেকের দ্বারা নিজেদের চিন্তা-নিসৃত একটি-দুটি করে শব্দ সংযোজিত হতে হতে একসময় চরম উত্তেজনা নিয়ে নিচের গদ্যিকাটি দৃশ্যিত হলো:
সে যেন আজ কত দূরে
গণ-সাহিত্যিক: বিকাশ চক্রবর্তী, মধুচন্দ্র নারায়ণ, দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, বিজন রত্ন, কালাচাঁদ মৃত্যু
সমুদ্রের দিকে আমি ব্যস্ত- প্লাবিত মন;
ওড়ে গাংচিল।
মাধূর্যের আঁচলে বাঁধাপড়া জীবন- এই তো প্রেম!
অনন্ত প্রেমে খুঁজি পুরাতন মুখ নতুন করে-
খুঁজেই আমি ব্যস্ত।
পাহাড়ের গায়ে সমুদ্রের ঢেউ,
উঁকিমারা সূর্য দেখে নাকি কেউ?
ভেতরের সূর্যটা জ্বলন্ত ফুলের মতো;
খুঁজি যারে পাই না তারে-
সে যেন আজ কত দূরে।
প্রত্যেকের চিন্তা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় লেখার মান, গতি ও অর্থ কী হবে, কেমন হবে- লেখাটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে অনিশ্চিত ছিলাম। কিন্তু ম্যাজিকের মতো অল্প সময়ের মধ্যেই একটি গভীর অনুভবসম্পন্ন, নান্দনিক ও রোমান্টিক গদ্যিকা রচনা সম্পন্ন হলো। আমরা কিন্তু কেউই সেদিন ভাবিনি- পাঁচজনে মিলে বাংলা সাহিত্যভাণ্ডারে এমন একটি চমৎকার গদ্যিকা সংযুক্ত করতে পারব।
গত সপ্তাহে, কোটালিপাড়ায় কবি মিন্টু হক সম্পাদিত কাশবন সাহিত্য পত্রিকার ২৭ তম আড্ডা শেষে উপস্থিত লেখকগণের দ্বারা গণসাহিত্যের সূত্রে নিম্নোক্ত গদ্যিকাটিও পুষ্পিত হয়।
অস্তিত্বের মন্ত্র
গণ-সাহিত্যিক: সৌরভ শেখ, সুমন দাশগুপ্ত, নাদিম শিকদার, জাহাঙ্গীর হোসেন খান, মো. সেলিম মণ্ডল, কালাচাঁদ মৃত্যু
জীবনের মন্ত্র এক দৃষ্টিতে দেয় না ধরা;
অনিশ্চয়তার মহাসড়কে তার নিরন্তর ছুটে চলা আজীবন—
পথিকের চোখে অস্তিত্বের অদৃশ্য নোঙর:
নগরের খোঁজে সময় অস্থির, দৃঢ়-মুষ্টিবদ্ধ;
চলুক সমতালে বৈতালিক সময়ের দাপুটে শাসন;
কাঁপুক অন্যায়ের আসন,
হানুক অগ্নিঘা
হোক নাশ অধর্মের
হোক অনিবার্য পতন অসভ্যতার—
পৃথিবীকে অন্য মোড়ে গড়িয়ে নিতে পথিকই গড়ুক গতিশীল আশ্চর্য!
তারপর, মনুষ্যত্বের তীর-ধনুকের মহাঝঙ্কারে
নড়ে উঠুক মহাবিশ্ব;
অহঙ্কার-শিখরে উড্ডীন হোক কৈবর্তের মানবতা
জ্বালুক নতুন সূর্য।
এমন উদাহরণ-সৃষ্টির অভিজ্ঞতাই গণসাহিত্যের মহাশক্তির প্রত্যক্ষ প্রমাণ; এটি এখন আর নিছক কল্পনাপ্রসূত ধারণায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং একটি কার্যকর ও পরীক্ষিত সাহিত্যচর্চা-পদ্ধতি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। এ পদ্ধতিতে পৃথিবীর যে কোনো স্তরের মানুষ সাহিত্যসৃষ্টির অংশীদার হতে পারে। এখানে লেখক হওয়ার কোনো পূর্বশর্ত নেই; চিন্তাশীল হওয়াটাই যথেষ্ট।
এখন নিঃসন্দেহে বলা যায়- গণসাহিত্য সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে উন্মোচিত হওয়া এক নতুন দিগন্ত; যা ব্যক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে সমষ্টির চেতনা-নির্ভর সাহিত্যচর্চার এক অভিনব অভিযাত্রা। এই অভিযাত্রায় অবহেলিত গণমানুষের নীরব ও অবচেতন চিন্তার প্রকাশ ঘটাতে মানবসভ্যতার জন্য উন্মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি এক সর্ববৃহৎ সাহিত্যভাণ্ডার নির্মাণের পথ। এই পথে গণমানুষের ভাবনাকে সংরক্ষণ ও সংবর্ধনের মাধ্যমে মানবচেতনা নির্মাণই একমাত্র লক্ষ্য ও সাধনা। সেই সাধনা-নির্মিত গণসাহিত্য কেবল সাহিত্যই নয়- এটি গণমানুষের সম্মিলিত চিন্তার এক স্থায়ী দলিলও বটে।
গণসাহিত্যের এই অভিনব সূত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে সাধারণ মানুষকে নিয়ে সম্মিলিত সাহিত্যিক সংঘ গঠনপূর্বক গণমানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাবনাকে একত্রিত করার নির্ভরতায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে বিশ্বব্যাপী বৃহৎ ও অমর গণসাহিত্য নির্মিত হওয়া এখন কেবল সময়ের দাবি।
ABOUT THE AUTHOR : Kalachand Mrityu, Bangladesh: পত্রিকায় প্রকাশিত, লেখক, সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, পন্ডিত ব্যক্তিত্ব ফিরোজ খান, রঞ্জনকুমার সরখেল ও নুরুল ইসলাম বাদশা’র রচনা থেকে তথ্য অনুযায়ী যে লেখা আমাদেরকে লেখক পাঠান, লেখকের অনুমতিতে সেই তথ্যের অবস্থান নিয়ে আমাদের দ্বারা পূর্ণ সহায়তা দিয়ে আমাদের লিখতে হচ্ছে এত বড় কবি ও আদর্শবান মানুষটির জীবন, তাঁর রচনার প্রকাশ সহ। যখন যেটুকু সম্ভব।
বাংলাদেশ মানেই সাহিত্য, শিল্প-সংস্কৃতি ও নানা মৌলিক চিন্তার পটভূমি, সে দিক থেকে ভাবলে অবাক করার কী আছে। কবি চন্দ্রাবতী, মাইকেল মধুসূদন, সুচিত্রা সেন, অসংখ্য পুরানো সময় ও আধুনিক সময়ের বিশ্ব উজ্জ্বল করা মানুষেরা এই মাটিতেই জন্মেছেন, বা এই রক্ত ধারা থেকে জন্মে বিশ্বের নানা প্রান্তকে আলোকিত করেছেন ও করছেন। নানা রকম বিপন্ন অবস্থা এসেছে বাংলাদেশ, তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান হয়ে ওঠার সময় থেকে। তবুও হাজার বিপন্নতা কাটিয়েও বাংলা বারবার উঠে দাঁড়ায়।
এবার আসি মূল মানুষটিকে নিয়ে কিছু আলোচনা।
এবার জানাই যে, এই সময়ে বাংলা ভাষার একজন প্রথম সারির অনুসরণযোগ্য শক্তিমান তরুণ কবি তথা কবিপ্রজন্মের পথিকৃৎ-খ্যাত বাংলা সাহিত্যের ছন্দসম্রাট কবি কালাচাঁদ মৃত্যু বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার পশ্চিমপাড় গ্রামে ২ পৌষ, ১৩৮৯ বঙ্গাব্দে (১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮২ খ্রি.) জন্মগ্রহণ করেন। কবির পিতা মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং মাতা চৌধুরী সুমি বিবি। ইনি বর্তমানে পরিবার-পরিজনসহ পিত্তলপাড়া গ্রামের নতুন বাড়িতে বসবাস করছেন। বর্তমানে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক নামে জাতীয় বিশ্বাবিদ্যালের অধীনস্ত কাজী মন্টু কলেজে (উচ্চশিক্ষা বিভাগ, অনার্স-মাস্টার্স শাখা ) বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পদে কর্তব্যরত।
কালাচাঁদ মৃত্যুকে বুঝে লেখার জন্য ঐ রকম সমালোকের লেখার সহায়তা নেওয়া ছাড়া এই প্রকাশকে সহজ করার বিকল্প ছিল না।
অনেক বছর ধরেই কালাচাঁদ মৃত্যু বিশ্বের প্রচলিত, অপ্রচলিত কাব্যরীতি ও ছন্দের চর্চাসহ গবেষণায় লিপ্ত রয়েছেন। তিনি আবিষ্কার করেছেন ছন্দপরিমাপক মানদণ্ড। বাংলা কাব্যসাহিত্যে সংযোজন করেছেন বিস্ময়কর কিছু ছন্দ, ছন্দরীতি ও নতুন ধারার কবিতা-কাঠামো। আশ্চর্যজনক আলোড়ন সৃষ্টিকারি তাঁর আরেকটি আবিষ্কার: তিনি সাহিত্যকে মালিকানার ভিত্তিতে দুইভাগে ভাগ করার পথ দেখালেন। অর্থাৎ, যে সাহিত্য একজন সাহিত্যিকের হাতে সৃষ্টি তাকে ব্যক্তি-সাহিত্য এবং যা একাধিক ব্যক্তির অংশগ্রহণে সৃষ্টি তাকে অংশীবাদী গণসাহিত্য নামে প্রতিষ্ঠা করে চর্চায় এনেছেন- এই গণসাহিত্য ইতোমধ্যে বিশ্বসাহিত্যকে নতুনভাবে গতিশীল করে তুলেছে।
তাঁর যোগ্যতা ও মেধা আমাদের চমকিত করে।
তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্যে বেষ্টন শাখাভুক্ত বর্ণবেষ্টন, বর্ণপরিবেষ্টন, শব্দবেষ্টন, শব্দপরিবেষ্টন, ছড়াবিতা, শব্দোল্টরথ (ভাবোল্টরথ, সমার্থোল্টোরথ, পুনরুল্টোরথ), ম্রৈত্যুয়িকী, দ্বাদশিকা, ত্রিপঞ্চকী, ষটষ্টাদশী, দশপ্তকেন্দু, চন্দ্রৌনিশি, বর্ণাদ্যক্রম, বর্ণান্ত্যক্রম, স্বরাদ্যক্রম/কারাদ্যক্রম, স্বরান্ত্যক্রম/কারান্ত্যক্রম, মুক্তক অমিত্রাক্ষর, মুক্তক সনেট, সমাক্ষরাদ্য/সমবর্ণাদ্য, ক্রমযোগাক্ষরা, ক্রমহ্রাসাক্ষরা, বর্গাক্ষরা, স্বরাক্ষরা, সমোচ্চারাদ্য, একান্ত্যানুপ্রাসিকীসহ বহু নতুন ধারার কবিতা বহুলভাবে চর্চিত। তাঁর ছন্দতত্ত্ব অনুসরণ ক’রে কাব্যচর্চাসহ ভারত-বাংলাদেশের নানা পত্রপত্রিকায় গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশ করেছেন অনেক কবি, লেখক ও গবেষক।
বাংলা কবিতার জগতে সারা বিশ্বে তাঁর নাম ও কাব্যরীতি আবিষ্কারের অনেক ধারা আমাদের অজান্তেই জায়গা করে নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় তিনি উত্তরাধুনিকতার দোহাই দিয়ে কবিতার মতো দেখতে লেখা ছন্দহীন গদ্যকে কবিতা না বলে একে সাহিত্যের নতুন একটি শাখা ‘গদ্যিকা’ নামে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পরপর সেই সব তথ্য আমরা হাতে পাচ্ছি।
অথচ ২০২০-২০২১ সালে করোনার সময়ে এই মানুষটির পরিবার ছিলো চরম দারিদ্র্যসীমার নীচে। উনি ভারতস্থ এক লেখিকা, যিনি উনার কাছে ফেসবুকে মৈত্যুয়িকি ছন্দ শিক্ষা করে অন্যদের শেখাতেন, উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষিকা মুর্শিদাবাদের ওয়াহিদা খাতুনকে সেই চরম অবস্থার কথা জানিয়েছিলেন। ওয়াহিদাকে নিয়ে প্রাসঙ্গিকতায় কিছু বলতে গেলে, ওয়াহিদা বিখ্যাত গীতিকার, কলিকাতার বিখ্যাত Zodiak Muzik কোম্পানির একজন ব্যস্ত স্টাফ গীতিকার, সিনেমারও গীতিকার, এবং বিখ্যাত কবি ও সনেট লেখিকা তথা প্রকৃতি ও জীবপ্রজাতি প্রেমি।
সেই ওয়াহিদাকে কবি কালাচাঁদ মৃত্যু জানিয়েছিলেন, “জানেন ওয়াহিদা, করোনার দ্বারা পরিস্থিতি এমন যে, আমার ছোট্ট শিশুকে একটা চকোলেটও কিনে দিতে পারছি না। এই নির্মম জীবন আমি একজন শিক্ষাবিদ ও কবি লেখক তথা বাবা হয়ে সহ্য করছি।”
এই সব তথ্য আমাদের জানিয়ে দেয়, কতটা প্রতিকূলতা সহ্য করেও কালাচাঁদ মৃত্যু বিশ্ব সংসারের কথা ভেবে চোখের জলকে নির্মমভাবে লুকিয়ে আবিষ্কার ও লেখায় নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। এই কাহিনী, অনেক কাহিনীর একটি ঘটনা মাত্র।
যাইহোক, বাংলা ছন্দের একটি সর্বজনবিদিত ইতিহাস: অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত— প্রচলিত ছন্দের এ তিনটি নামই রেখেছিলেন প্রবোধচন্দ্র সেন। পক্ষান্তরে, দীর্ঘ ৪৩ বছর পর (১৯২২-১৯৬৫) তিনি “নূতন ছন্দ পরিক্রমা” গ্রন্থে নিজেই নিজের ভুল স্বীকার ক’রে নিজের রাখা নামকেই অবশেষে ভুল ব’লে বর্জনও করেছিলেন। প্রবোধচন্দ্র সেনের এই অনুভবকে সামনে রেখে বাংলা সাহিত্যের ছন্দসম্রাট কবি কালাচাঁদ মৃত্যুই পুনরায় যুক্তিপূর্ণভাবে উক্ত তিন ছন্দের নামকরণকে গঠন-বৈচিত্র্য ও ছন্দপরিমাপক মানদণ্ডের বিচারে ভুল প্রমাণ ক’রে বৈজ্ঞানিক নামকরণ করেন। তিনি অক্ষরবৃত্তকে ‘দৃশ্যাক্ষরবৃত্ত’, মাত্রাবৃত্তকে ‘বর্ণাক্ষরবৃত্ত’, স্বরবৃত্তকে ‘শ্রুত্যাক্ষরবৃত্ত’ নাম দেন। এমনকি তিনি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘বিমানবিহার’ তথা প্রস্বরা বা প্রাস্বরিক ছন্দকে ‘প্রস্বরবৃত্ত’ নামে প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সাথে তিনি ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য আরোপ ক’রে কাব্যজগতে নতুন ভাবে সংযোজন করেন শব্দবৃত্ত, বর্ণক্রমবৃত্ত, শব্দক্রমবৃত্ত, শ্রুতিবৃত্ত ও স্বরারোপবৃত্ত নামক ছন্দধারাকেও। [স্বরারোপবৃত্ত ছন্দের প্রচলন বাংলা কবিতায় আদিকাল থেকেই রয়েছে: অথচ এর কোনো নামকরণ ছিল না] তিনি মুক্তাক্ষর, বদ্ধাক্ষর ও দৃশ্যাক্ষরকে নতুনভাবে বিভাজন ক’রে দ্বিবিধ প্রক্রিয়ায় বর্ণক্রমবৃত্ত-ছন্দ-নির্ভর ভিন্নমাত্রিক ধ্বনি-সঙ্কেত নির্মাণ করেন।
বাংলা, ইংরেজি, আরবি, সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষায় প্রচলিত ছন্দরীতি— যা বাংলা ভাষায় সিলেবলক্রমিক ‘প্রস্বরবৃত্ত ছন্দ’ নামে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত: তার প্রতিটি গঠনকে বর্ণক্রমবৃত্ত ম্রৈত্যুয়িকী ছন্দ-ধারার মাধ্যমে তিনি সুনিয়ন্ত্রিত হাজার হাজার কাঠামোয় সুসজ্জিত করার অভিনব কৌশল উদ্ভাবন করেন। এ ছাড়াও স্বেচ্ছাসজ্জিত স্বাধীন গতিসম্পন্ন বর্ণক্রমবৃত্ত ছন্দের সংখ্যাতীত নতুন গঠন-কাঠামোর আঙ্গিকে বাংলা কবিতাকে তিনি করেছেন সমৃদ্ধ। কবিভাষার শ্রুতিমাধুর্য রক্ষার হেতু উদ্ভাবন করেছেন শব্দ-সংস্থাপনবিধি নামক এক আশ্চর্য ধ্বনিক্রম রীতি।
তিনি বর্ণক্রমবৃত্ত ম্রৈত্যুয়িকী ছন্দের জনক হিসেবে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে ‘নজরুল স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার’ এবং ২০২০ খ্রিস্টাব্দে ‘সৈয়দ আলী আহসান সিএনসি পদক’ অর্জন করেন। উক্ত বছরে কবি কালাচাঁদ মৃত্যুর সাথে আর যাঁরা “সৈয়দ আলী আহসান সিএনসি পদক”-এ ভূষিত হয়েছেন তাঁরা হলেন বিখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, চলচ্চিত্র পরিচালক হাফিজ উদ্দিন, ইতিহাসবিদ মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, ডা. শাহ মো. বুলবুল ইসলাম এবং কবি জাকির আবু জাফর। তিনি ২০২১ খ্রিস্টাব্দে স্বপ্ন সাহিত্য চর্চা গ্রুপের পক্ষ থেকে “ছন্দবিশারদ” সম্মাননায় ভূষিত হন। এ ছাড়াও ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে ‘কাব্যরত্ন’ সম্মাননা প্রদান করে শতরূপা সাহিত্য পরিষদ এবং ছন্দ সম্রাট উপাধিসহ “কাব্যরত্ন” সম্মাননা প্রদান করে “কবি ও কবিতার ভুবন সাহিত্য পরিষদ”। তিনি গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, সঙ্গীত রচনা করেন। তিনি একাধারে ছন্দগবেষক, ধ্বনিবিজ্ঞান গবেষক, বিজ্ঞান ও গণিত গবেষক, দার্শনিক, নাট্যকার, চিত্রকর, সুরকার ও শিল্পী।
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘চেতনার বাণ’ অনলাইনে রকমারি’তে পাওয়া যায়। কলেজিয়েট পাবলিকেশন্স, বাংলাবাজার থেকে প্রকাশিত তাঁর সম্পাদিত ইংরেজি গ্রন্থ RULLS Of FILL-IN-THE BLANKS (2008), BASIC ENGLISH GRAMMAR (2012), AN ESSENTIAL BOOK OF Paragraph, Composition, Letter & Application (2012) এবং Shortcut Way To Pass English (for SSC) সারাদেশব্যপী চলমান রয়েছে
কালাচাঁদ মৃত্যু
বিভাগীয় প্রধান
উচ্চশিক্ষা, বাংলা বিভাগ
কাজী মন্টু কলেজ, কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশ
০১৯১৫৫৩২০৬১
বাংলাদেশের লেখক, গবেষক, অধ্যাপক, কালাচাঁদ মৃত্যুর জীবন ও তাঁর আবিষ্কৃত গন কবিতা তৈরির ধারা মানব সভ্যতাক নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। এই দার্শনিক লেখক ও গবেষক তথা সাহসী সজ্জনের উপরে কাজ করে kabyapot.com তথা এর সম্পাদক বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার কবি শ্যামল মন্ডল আমাদেরকে অনেক জ্ঞান ও বিরাট জীবন বোধ উপহার দিলেন। সম্পাদকের সার্বিক মুক্ত দৃষ্টি বহু লেখকদেরকে উপকৃত করে, আমরা জানি। এটিও আরেকটি প্রমাণ। কালাচাঁদ মৃত্যুর এইসব আবিষ্কার তথা জীবন চেতনা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেলে সাহিত্য শুধু নয়, সমগ্র মানব মনন উপকৃত হবে। এবার আমরা দ্বিভাষী লেখক কালাচাঁদ মৃত্যুর ইংরেজি রচনাও পড়তে চাই। কারণ, ইংরেজি রচনাতেও তিনি এক দক্ষ লেখক। অবস্যই বাংলা ছেড়ে নয়। বাংলাও চাই।
আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি দাদাভাই