আমরা বাঁশ
সেখ আব্দুল মান্নান
তোমরা সদর্পে করছ বিরাজ মুম্বাইয়ের বুকে
উদ্বাহু হয়ে দিচ্ছো জানান রয়েছো মহাসুখে,
তলার পর তলা উঠছো উপরে গগনচুম্বী হয়ে
তোমাদেরই বজ্রভার বসমাতা চলেছে বয়ে।
একবারও কি পড়ে মনে তোমরা বিকলাঙ্গ
আমাদের কাঠামোয় তোমাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ?
খিলানের পর খিলানে দাঁড়িয়ে অস্থি পিঞ্জরে
আমরা ছাড়া তোমরা নিমেষেই পড়তে ঝরে।
সন্ধ্যে নামলে খোপে খোপে জ্বলে বিজলি বাতি
সার্শিতে উঁকি দিয়ে মানুষ করে মাতামাতি,
দেখো তোমাদের পদতলে হাজার বস্তিবাসী
টিন আর তিরপলে তারা রয়েছে দারুণ খুশি!
আমাদের পাঁজরে গড়া তাদের সুখি আস্তানা
নেই কোনো ভেদাভেদ নেই কোনো হারমানা,
আমাদের সমাদরে তাদের নেই কোনো দ্বিধা
শাকভাত যাপনে তারা একেবারেই সিধা।
বাঁশ ছাড়া জীবনে তোমাদের কী আছে মূল্য
তবুও কংক্রিটের গৌরবে তোমরা কর কেন তুল্য,
নিষ্প্রাণ হয়েও ভাবো দুরন্ত প্রাণের আধার
তোমাদের ফাঁপা আওয়াজ কি নয় অনর্থক অসার?
জন্মের উৎসবে ম্যারাপের কাঠামোয় আমাদের চাই
মৃত্যু শোকের বিষাদ বেদির আমরাই বাঁধি ঠাঁই,
মরনের পরে কারো দেহ শশ্মানে আমরা পোড়াই
কারো বা দেহ কাফনে ঢেকে শান্ত গোড়ে শোয়াই।
আমাদের নাম বাঁশ হলেও কাউকে দিইনা বাঁশ
শয়নে স্বপনে জাগরণে আমরাই বাঁচার শ্বাস,
অযথা আর গর্ব কোরো না গগনচুম্বী তোমরা
সুখে দুঃখে বন্ধু জেনো এই বাঁশই আমরা।
_____________
আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি দাদাভাই
বাংলাদেশের লেখক, গবেষক, অধ্যাপক, কালাচাঁদ মৃত্যুর জীবন ও তাঁর আবিষ্কৃত গন কবিতা তৈরির ধারা মানব সভ্যতাক নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে…
আমার রচিত কবিতা প্রকাশ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
"ঝড় এলেও ভাঙবে না", এই বহু অভিজ্ঞতার গদ্যে কবি, লেখক ও ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল মন্ডল খুব টানটান করে নানা অভিজ্ঞতার গল্প…
আমার এই কবিতাটি প্রকাশ করার জন্য মাননীয় সম্পাদক মহাশয়, এবং কাব্যপট পত্রিকার সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক প্রীতি, শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ।