সুগন্ধে লেখা স্বপ্ন
সুমিত মুখার্জী

কলকাতার একটা ছোট গলির ভেতরে, টিনের চালের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা একটা পুরোনো বাড়ি—সেখানেই থাকে সুমিত মুখার্জী।ছোটবেলা থেকেই ওর স্বপ্ন ছিল বড় কিছু করার… নিজের একটা পরিচয় তৈরি করার।
B.Com (H) পাশ করার দিনটা আজও ওর মনে আছে।হাতের সেই সার্টিফিকেটটা ধরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই বলেছিল—“এবার আমার সময় শুরু…”
কিন্তু সময়টা যেন ওর জন্য তৈরি ছিল না।
দিন যায়… সপ্তাহ যায়…একটার পর একটা ইন্টারভিউ দেয় সুমিত।
“আমরা জানাবো…”“Experience নেই?”“Currently vacancy নেই…”
এই কয়েকটা কথাই যেন ওর জীবনের soundtrack হয়ে দাঁড়ায়।
ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসটা ভেঙে পড়তে থাকে।বন্ধুরা একে একে চাকরি পেয়ে যায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের success story ঘুরে বেড়ায়…
আর সুমিত?ও শুধু স্ক্রল করে… তারপর ফোনটা বন্ধ করে দেয়।
বাড়ির ভেতরেও চাপ বাড়তে থাকে।বাবা সন্ধ্যায় চুপচাপ বসে থাকেন, মা বারবার জিজ্ঞেস করেন—“কিছু হলো?”
সুমিত শুধু মাথা নেড়ে দেয়—“না…”
এই “না” শব্দটা যেন দিন দিন ভারী হয়ে উঠছিল।
একসময় ও বাড়ির বাইরে বেশি সময় কাটাতে শুরু করে।রাস্তায় রাস্তায় হাঁটে… চায়ের দোকানে বসে থাকে…কেউ দেখে বলত—“ছেলেটা কেমন যেন হয়ে গেছে…”
হ্যাঁ, সুমিত বদলে যাচ্ছিল।স্বপ্ন দেখা ছেলেটা ধীরে ধীরে ভবঘুরে হয়ে উঠছিল।
একদিন রাতে বাড়িতে বড়োদের মিটিং বসলো।কাকা, জেঠু, পাড়ার কয়েকজন—সবাই একসাথে।
“এভাবে চলতে থাকলে ছেলেটা একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে…”“একটা দায়িত্ব দরকার ওর জীবনে…”
শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো—👉 সুমিতের বিয়ে দেওয়া হবে।
সুমিত প্রথমে শুনে হেসে ফেলেছিল—“আমি নিজেই দাঁড়াতে পারছি না… বিয়ে?”
কিন্তু কেউ ওর কথা শুনলো না।সবাই ভেবেছিল—👉 সংসারের দায়িত্ব ওকে বদলে দেবে।
কয়েকদিন পর, এক বিকেলে সুমিত প্রথমবার দেখলো ঐশ্বরিয়াকে।
সবুজ শাড়ি, মুখে শান্ত হাসি…চোখে এক অদ্ভুত স্থিরতা।
সুমিত চুপচাপ বসে ছিল, কোনো আগ্রহই ছিল না।
কিন্তু ঐশ্বরিয়া ধীরে বলল—“আপনি কি কিছু বলতে চান?”
সুমিত একটু অবাক হলো।এর আগে কেউ ওকে এমনভাবে জিজ্ঞেস করেনি।
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর ও বলল—“আমি এখনও কিছুই করতে পারিনি… চাকরি নেই… ভবিষ্যৎও স্পষ্ট না…”
সোজাসাপ্টা কথা।
ঐশ্বরিয়া একটু হেসে বলল—“সবাই তো শুরু থেকেই সফল হয় না… কেউ কেউ একটু দেরিতে শুরু করে।”
এই কথাটা খুব সাধারণ ছিল…কিন্তু সুমিতের ভেতরে কোথাও যেন একটা নরম জায়গায় গিয়ে লাগলো।
ও অনুভব করলো—👉জীবনে এই প্রথমবার কেউ ওকে শুধুমাত্র ওর আর্থিক অবস্থা দেখে judge করছে না।
বিয়েটা ঠিক হয়ে গেল।সুমিত না চাইলেও, কোথাও যেন একটা শান্তি পেয়েছিল।
হয়তো কারণ—ঐশ্বরিয়ার চোখে ও প্রথমবার নিজের জন্য কোনো অবিশ্বাস দেখেনি।
বিয়ের রাত…চারদিকে আলো, শব্দ, লোকজন…
কিন্তু সুমিত এক কোণে দাঁড়িয়ে ভাবছিল—“এটা কি সত্যিই আমার নতুন শুরু?”
ওর হাতে তখনও কোনো চাকরি নেই…কোনো নিশ্চয়তা নেই…
শুধু একটা সম্পর্ক—যার ওপর ভরসা করে ওকে আবার দাঁড়াতে হবে।
রাতের শেষে, যখন সব শান্ত হয়ে গেল—ঐশ্বরিয়া ধীরে বলল—
“আমি জানি না ভবিষ্যতে কী হবে…কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, তুমি পারবে।”
এই একটাই লাইন…সুমিতের জীবনে প্রথম “সুগন্ধ” হয়ে ঢুকেছিল।
একটা নতুন গন্ধ—👉 বিশ্বাসের গন্ধ।
বিয়ের পরের প্রথম সকালটা ছিল অদ্ভুত শান্ত।ঘরের জানালা দিয়ে সূর্যের আলো ঢুকছিল, আর রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছিল চায়ের গন্ধ।
সুমিত বিছানায় বসে ছিল চুপচাপ।এখন সে একা নয়…তার পাশে একটা মানুষ আছে—যে ওর ওপর বিশ্বাস করে।
ঐশ্বরিয়া ট্রে হাতে ঘরে ঢুকে মৃদু হেসে বলল—“চা খাবে?”
সুমিত একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেল।এত যত্ন, এত স্বাভাবিক ব্যবহার—ও যেন অভ্যস্ত না।
“হ্যাঁ…” শুধু এটুকুই বলতে পারল।
কয়েকদিন সবকিছু যেন নতুন নতুন লাগছিল।কিন্তু বাস্তবতা খুব বেশি দিন দূরে থাকেনি।
বাড়ির খরচ, বাজার, ওষুধ, বিদ্যুৎ বিল—সবকিছু একে একে সামনে আসতে লাগল।
এক সন্ধ্যায় বাবা গম্ভীর গলায় বললেন—“এবার কিছু একটা করতেই হবে সুমিত…”
সুমিত মাথা নিচু করে বসে ছিল।ঐশ্বরিয়া পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে সব শুনছিল।
সেদিন রাতেই সুমিত সিদ্ধান্ত নিল—👉 সে টিউশনি পড়াবে।
পরের দিন থেকেই শুরু।পাড়ার দু-একটা ছেলেমেয়েকে নিয়ে ছোট্ট করে পড়ানো…ধীরে ধীরে খবর ছড়িয়ে পড়ল।
“ভালো পড়ায় ছেলেটা…”“B.Com (H) করেছে…”
স্টুডেন্ট বাড়তে লাগল।
কিন্তু তার সাথে সাথে বাড়তে লাগল চাপও।
সকাল ৭টা—প্রথম ব্যাচদুপুরে আবারসন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টানা ক্লাস
এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি…একটা রাস্তা থেকে আরেকটা গলি…
ঐশ্বরিয়া মাঝে মাঝে বলত—“একটু বিশ্রাম নাও…”
সুমিত হেসে বলত—“এখন থামলে চলবে না…”
ওর চোখে তখন শুধু একটা জিনিস—👉 দায়িত্ব।
ধীরে ধীরে ওর শরীর ভেঙে পড়তে শুরু করল।ঠিক মতো খাওয়া হয় না, ঘুম কম…
অনেকদিন শুধু চা আর বিস্কুট খেয়েই দিন কাটাতো।
একদিন দুপুরে, এক ছাত্রের বাড়িতে পড়াতে পড়াতেহঠাৎ মাথা ঘুরে গেল সুমিতের।
সবকিছু ঝাপসা হয়ে এল…আর তারপর—অন্ধকার।
চোখ খুলতেই দেখে সে নিজের বাড়ির বেডরুমে শুয়ে রয়েছে ।ঐশ্বরিয়া মাথার পাশে বসে আছে, চোখ কান্নায় লাল হয়ে গেছে।
“তুমি ঠিক আছো?”ঐশ্বরিয়ার গলা কাঁপছিল।
সুমিত কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু পারল না।শরীরটা একদম দুর্বল লাগছিল।
ঐশ্বরিয়া হঠাৎ একটু জোরে বলল—“এভাবে চলতে পারে না সুমিত!”
ওর চোখে জল জমে উঠেছে।
“তুমি কি নিজেকে শেষ করে দিতে চাও?”
সুমিত অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।ঐশ্বরিয়াকে সে কখনো এভাবে দেখেনি।
“আমি চাই না তুমি শুধু টাকার জন্য নিজের জীবন নষ্ট করো…”ঐশ্বরিয়া ধীরে বলল।
ঘরে নিস্তব্ধতা নেমে এল।শুধু একটা কথাই বারবার ঘুরছিল সুমিতের মাথায়—
👉 “আমি কি সত্যিই ভুল করছি?”
সেদিন রাতে, খাওয়ার টেবিলে কেউ তেমন কথা বলল না।সবাই চুপচাপ।
খাওয়া শেষে, ঐশ্বরিয়া সুমিতের পাশে এসে বসল।ধীরে বলল—
“তুমি এত পড়াশোনা করেছো… শুধু টিউশনি করার জন্য?”
সুমিত একটু থেমে বলল—“তাহলে কী করব? চাকরি তো পাচ্ছি না…”
ঐশ্বরিয়া ওর দিকে তাকিয়ে রইল।চোখে সেই একই বিশ্বাস—যেটা প্রথম দিন দেখেছিল সুমিত।
“চাকরি না… নিজের কিছু করো।”
এই কথাটা শুনে সুমিত চুপ হয়ে গেল।মনে মনে একটা ভয় কাজ করছিল—
👉 “নিজের কিছু? কিন্তু কিভাবে?”
ঐশ্বরিয়া ধীরে বলল—“আমি জানি, তুমি পারবে…”
সেদিন রাতটা সুমিত ঘুমাতে পারেনি।মাথার ভেতর হাজারটা চিন্তা—
টাকা নেই…experience নেই…risk অনেক…
কিন্তু সব চিন্তার মাঝেও একটা গন্ধ ভেসে আসছিল—
👉 ঐশ্বরিয়ার বিশ্বাসের গন্ধ।
রাতটা যেন শেষই হচ্ছিল না।ঘরের অন্ধকারে ছাদের দিকে তাকিয়ে শুয়ে ছিল সুমিত।
ঐশ্বরিয়ার কথাটা বারবার কানে বাজছিল—👉 “নিজের কিছু করো…”
কিন্তু “নিজের কিছু” মানে কী?কী দিয়ে শুরু করবে?টাকা কোথায়?
ভোরের দিকে একটু ঘুম এসেছিল।কিন্তু ঘুম ভাঙতেই বাস্তবতা আবার সামনে এসে দাঁড়াল।
ঐশ্বরিয়া চুপচাপ চা এনে পাশে বসে বলল—“ভাবলে কিছু?”
সুমিত হালকা হেসে মাথা নেড়ে বলল—“ভাবছি… কিন্তু কিছুই clear না…”
ঐশ্বরিয়া একটু থেমে বলল—“তুমি সবসময় বলো, তুমি আলাদা কিছু করতে চাও… তাহলে সেইটাই করো না?”
এই কথাটা সুমিতকে থামিয়ে দিল।“আলাদা কিছু…”
হ্যাঁ, ও তো সত্যিই চাইত—👉 এমন কিছু করতে, যা অন্যদের মতো না।
সেদিন বিকেলে, টিউশনি থেকে ফেরার পথেএকটা ছোট দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে গেল সুমিত।
দোকানটা পারফিউমের।ছোট ছোট কাচের বোতল, ভেতরে নানা রঙের তরল…
দোকানদার একটা পারফিউম স্প্রে করতেইহালকা একটা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল বাতাসে।
সুমিত হঠাৎ থমকে গেল।
এই গন্ধটা…কোথায় যেন আগে পেয়েছে…
হঠাৎ মনে পড়ল—বিয়ের দিন, ঐশ্বরিয়ার গায়ে এমনই একটা মিষ্টি সুগন্ধ ছিল।
সেই মুহূর্তে মাথায় একটা চিন্তা এল—
👉 “গন্ধ কি শুধু গন্ধ? নাকি একটা অনুভূতি?”
সুমিত দোকানদারকে জিজ্ঞেস করল—“এইগুলো কোথা থেকে আসে?”
দোকানদার হেসে বলল—“ব্যবসা করতে চাইছো নাকি?”
সুমিত একটু লজ্জা পেল, কিন্তু বলল—“হ্যাঁ… ভাবছি…”
দোকানদার বলল—“পারফিউম শুধু product না… এটা emotion।যে একবার ভালো গন্ধ পায়, সে আবার ফিরে আসে…”
এই কথাটা সুমিতের মাথায় গেঁথে গেল।
সেদিন বাড়ি ফিরে সুমিত অনেকক্ষণ চুপ করে ছিল।ঐশ্বরিয়া বুঝতে পারছিল—ওর মাথায় কিছু চলছে।
“কি ভাবছো?”
সুমিত ধীরে বলল—“আমি একটা পারফিউমের দোকান খুলতে চাই…”
ঐশ্বরিয়া একদম অবাক হলো না।বরং মৃদু হেসে বলল—“আমি জানতাম, তুমি কিছু আলাদা ভাববে…”
কিন্তু পরের মুহূর্তেই সুমিতের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল—
“কিন্তু টাকা?”
ঘরে নীরবতা নেমে এল।
ঐশ্বরিয়া ধীরে সুমিতের হাতটা ধরল—
“তোমার টিউশনের কিছু টাকা তো জমা আছে…আর বাকি আমরা লোন নেবো।”
“লোন?”সুমিত একটু ভয় পেল।
“হ্যাঁ…”ঐশ্বরিয়ার গলায় দৃঢ়তা ছিল।
“ঝুঁকি না নিলে কিছুই পাওয়া যায় না…”
সুমিত চুপ করে রইল।মনে ভয়, সন্দেহ…
👉 “যদি fail করি?”
ঐশ্বরিয়ার চোখে তখন জল এসে গেছে—
“আমি তোমাকে এভাবে প্রতিদিন ভেঙে পড়তে দেখতে পারছি না…”
এই এক মুহূর্ত…সবকিছু বদলে দিল।
সুমিত ধীরে বলল—“ঠিক আছে… আমি চেষ্টা করব।”
এরপর শুরু হলো নতুন লড়াই।
ব্যাংকে যাওয়া, কাগজপত্র…লোনের জন্য দৌড়ঝাঁপ…
অনেক বাধা এল।কেউ বিশ্বাস করল না—একটা টিউশনি পড়ানো ছেলে পারফিউমের ব্যবসা করবে!
কিন্তু সুমিত থামেনি।কারণ এবার ও একা না—👉 পাশে ঐশ্বরিয়া আছে।
অবশেষে, একদিন—ছোট্ট একটা দোকান ভাড়া নেওয়া হলো।
দোকানটা খুব বড় না…কিন্তু ওদের স্বপ্নের জন্য যথেষ্ট।
প্রথম দিন, সুমিত আর ঐশ্বরিয়া মিলে দোকান সাজাচ্ছিল।কাচের বোতলগুলো একে একে সাজানো হচ্ছে…
ঐশ্বরিয়া একটা বোতল তুলে নিয়ে হেসে বলল—“এটার নাম কী রাখবে?”
সুমিত একটু ভেবে বলল—
👉 “Aishwarya…”
ঐশ্বরিয়া চুপ করে গেল।চোখে জল এসে গেল।
“এই গন্ধটা… তোমার মতোই,”সুমিত মৃদু হেসে বলল।
দোকানের প্রথম দিন…কোনো কাস্টমার নেই।
দুজনেই চুপচাপ বসে আছে।
হঠাৎ এক ভদ্রলোক ঢুকলেন—“নতুন দোকান?”
সুমিত একটু নার্ভাস হয়ে বলল—“জি…”
ভদ্রলোক একটা পারফিউম ট্রাই করলেন…কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন…
তারপর বললেন—“প্যাক করে দিন।”
👉 প্রথম বিক্রি।
সুমিত আর ঐশ্বরিয়া একে অপরের দিকে তাকাল।কিছু না বলেও অনেক কিছু বলে ফেলল সেই দৃষ্টিতে।
সেদিন রাতে দোকান বন্ধ করার সময়সুমিত ধীরে বলল—
“আজ থেকে আমাদের নতুন জীবন শুরু…”
ঐশ্বরিয়া হেসে বলল—“আর এই গন্ধ… একদিন অনেক দূর যাবে…”
সুমিত আকাশের দিকে তাকাল।মনে মনে বলল—
👉 “এটা শুধু ব্যবসা না… এটা আমাদের গল্প।”
সেই ছোট্ট দোকান থেকেএকটা নতুন স্বপ্নের জন্ম হলো—
👉 সুগন্ধে লেখা স্বপ্ন।
📖 Chapter 4: এক ব্র্যান্ডের জন্মছোট্ট সেই দোকানটা…যেখানে প্রথম দিন শুধু দুটো মানুষ আর কিছু স্বপ্ন ছিল—আজ ধীরে ধীরে ভরে উঠছে মানুষের ভিড়ে।
প্রথম কয়েক মাস সহজ ছিল না।অনেক দিন এমন গেছে, যখন একটাও কাস্টমার আসেনি।আবার এমন দিনও এসেছে, যখন একসাথে পাঁচজন দাঁড়িয়ে—
“দাদা, ওই নতুন গন্ধটা দেখান…”
সুমিত শিখে ফেলেছিল—👉 পারফিউম শুধু বিক্রি করতে হয় না, অনুভব করাতে হয়।
কাস্টমার এলেই সে বলত—“এইটা ট্রাই করুন… এটা একটু soft, evening-এর জন্য perfect…”
ঐশ্বরিয়া পাশে দাঁড়িয়ে হাসত।মাঝে মাঝে নিজেই suggest করত—
“এইটা নিন… এটা long lasting।”
দুজনের teamwork ধীরে ধীরে দোকানটাকে আলাদা করে তুলছিল।
একদিন, এক পুরোনো কাস্টমার এসে বলল—“ভাই, তোমাদের পারফিউমে একটা আলাদা feeling আছে…”
সুমিত হেসে বলেছিল—“কারণ এটা শুধু product না… এটা emotion।”
এই একটা লাইনই হয়ে গেল তাদের পরিচয়।
সময়ের সাথে সাথে, দোকানের নাম ছড়িয়ে পড়তে লাগল।পাড়ার বাইরে, শহরের অন্য জায়গায়…তারপর ধীরে ধীরে—👉 অন্য শহরেও।
সুমিত একটা বড় সিদ্ধান্ত নিল—👉 নিজের brand launch করবে।
অনেক ভাবনার পর নাম ঠিক হলো—“LUXORIA PERFUMES”
এই নামটা শুধু একটা brand না—এটা ছিল তাদের স্বপ্ন, তাদের ভালোবাসা, তাদের সংগ্রামের প্রতীক।
নতুন প্যাকেজিং, নতুন fragrance…প্রতিটা পারফিউমের একটা আলাদা গল্প।
👉 “Struggle” – মাটির গন্ধ, প্রথম দিনের কষ্ট👉 “Hope” – হালকা fresh fragrance👉 “Aishwarya” – ভালোবাসার গন্ধ👉 “Success” – strong, bold scent
Brand launch-এর দিন…একটা ছোট্ট event রাখা হয়েছিল।
সবাই বলছিল—“কোনো model বা actress আনো…”
কিন্তু সুমিত শুধু হেসে বলেছিল—“আমার model তো আমার পাশেই আছে…”
সেদিন, মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিল ঐশ্বরিয়া।সবুজ শাড়ি, মুখে সেই চেনা হাসি…হাতে নতুন পারফিউমের বোতল।
সুমিত মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলল—
“এই ব্র্যান্ডের প্রতিটা গন্ধে একটা গল্প আছে…আর সেই গল্পের শুরু—এই মানুষটা…”
সে ঐশ্বরিয়ার দিকে তাকাল।
চারদিকে করতালি বেজে উঠল।ক্যামেরার ফ্ল্যাশ একের পর এক জ্বলছে…
কিন্তু সেই মুহূর্তে,সুমিতের চোখে শুধু একটা ছবিই—
👉 সেই দিনটা…যখন সে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে ছিল,আর ঐশ্বরিয়া বলেছিল—“নিজের কিছু করো…”
আজ, সেই কথাটাই তাকে এখানে নিয়ে এসেছে।
সময়ের সাথে সাথে,LUXORIA PERFUMES হয়ে উঠল দেশের অন্যতম বড় brand।
নতুন নতুন launch, বড় বড় showroom…কিন্তু একটা জিনিস কখনো বদলায়নি—
👉 প্রতিটা নতুন পারফিউমের উদ্বোধনঐশ্বরিয়ার হাত দিয়েই হয়।
একদিন, এক সাংবাদিক প্রশ্ন করল—“আপনি কখনো কোনো celebrity-কে brand face করেননি কেন?”
সুমিত মৃদু হেসে বলল—
“কারণ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় celebrity—আমার স্ত্রী।”
ঐশ্বরিয়া লজ্জা পেয়ে হেসে ফেলল।
সুমিত আবার বলল—
👉 “এই ব্র্যান্ডের প্রতিটা সুগন্ধে আমার স্ত্রীর বিশ্বাস মিশে আছে…”
এই একটা লাইন…সবার মনে গেঁথে গেল।
রাতের শেষে, দোকান বন্ধ হওয়ার পরদুজনেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল।
সুমিত ধীরে বলল—“মনে আছে… প্রথম দিন?”
ঐশ্বরিয়া হেসে বলল—“হ্যাঁ… একটা কাস্টমারও ছিল না…”
দুজনেই হেসে ফেলল।
সুমিত আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল—
👉 “আমরা পেরেছি…”
ঐশ্বরিয়া ধীরে উত্তর দিল—👉 “না… আমরা একসাথে পেরেছি।”
সেই ছোট্ট টিউশনি পড়ানো ছেলেটাআজ একটা empire তৈরি করেছে।
কিন্তু এই গল্পটা শুধু সাফল্যের না…এটা বিশ্বাসের, ভালোবাসার, আর একসাথে লড়াই করার গল্প।
🌸 শেষ কথা:-
জীবনে সবসময় টাকা বা সুযোগ দরকার হয় না…কখনো কখনো, শুধু একটা মানুষের বিশ্বাসই যথেষ্ট—👉 নতুন একটা স্বপ্নের জন্ম দেওয়ার জন্য।
✨ সমাপ্ত
The dol festival of Nabadwip, a column by Shyamal Mondal is an wonderful english writing. We as readers need his…
অমর প্রেম: স্বার্থহীন বন্ধনের এক মানবিক উপাখ্যান মানবজীবনের সবচেয়ে গভীর ও পবিত্র অনুভূতির নাম প্রেম। এই প্রেম কখনো রোমান্টিক সম্পর্কের…
কবি ফরিদ হোসেন হৃদয় এর "মিলে মিশে ঈদ করব" কবিতায় হাতটা বড় মিষ্টি, কবি প্রমান করলেন। আমি আগেই বলি, আমি…
শ্যামল মণ্ডল রচিত "ছেলের চিঠি" কবিতার পর্যালোচনা পর্যালোচনায় : শংকর হালদার শৈলবালা আলোচনা কাল : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ◆ ১.…
শংকর হালদার শৈলবালা রচিত “পণ্যের হাটে ঈশ্বর" কবিতার পর্যালোচনা পর্যালোচনায় : ভাষাবিদ অপরাজেয় আলোচনা কাল : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ◆…