যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই
– সম্পাদকীয়

মানবসভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসে যুদ্ধের গল্প নতুন নয়। প্রাচীনকাল থেকে আধুনিক যুগ প্রতিটি সময়েই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, ভূখণ্ডের লোভ, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতভেদের কারণে পৃথিবী বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি যুদ্ধের শেষে মানুষ যে সত্যটি উপলব্ধি করেছে তা হলো যুদ্ধ কখনো স্থায়ী সমাধান এনে দেয় না; বরং ধ্বংস, দুঃখ আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়া ফেলে যায়।
আজও বিশ্বরাজনীতির মানচিত্রে সেই একই বাস্তবতা আমরা দেখতে পাই। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা, আবারও বিশ্ববাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়; বহু বছর ধরেই এই উত্তেজনা বিভিন্ন সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কিন্তু প্রতিবারই প্রশ্ন জেগেছে এই সংঘাতের শেষ কোথায়?
যুদ্ধের ইতিহাস বলছে, যুদ্ধে জয়ী বা পরাজিত যেই হোক না কেন, প্রকৃত ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারায় তরুণ সৈনিকরা, যারা হয়তো স্বপ্ন দেখেছিল স্বাভাবিক জীবনের। ধ্বংস হয় শহর, গ্রাম, ঘরবাড়ি; ভেঙে পড়ে অর্থনীতি, শিক্ষা এবং সামাজিক কাঠামো। যুদ্ধের আগুনে পুড়ে যায় শুধু ভবন নয়, মানুষের আশা এবং ভবিষ্যৎও।
বিশ শতকের দুটি বিশ্বযুদ্ধ মানবসভ্যতাকে এই কঠিন শিক্ষা দিয়েছিল। কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু, অসংখ্য শহরের ধ্বংস এবং মানবতার বিপর্যয় বিশ্ববাসীকে বুঝিয়েছিল যে যুদ্ধের পথ আসলে আত্মবিনাশের পথ। সেই কারণেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বনেতারা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সংলাপের ওপর জোর দিয়েছিলেন।
তবু বাস্তবতা হলো মানুষ এখনও সেই শিক্ষা পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেনি। আধুনিক পৃথিবীতে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অগ্রগতি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে যুদ্ধের অস্ত্রকেও করেছে ভয়ঙ্কর। আজকের যুদ্ধ মানে শুধু সীমান্তে বন্দুকের গুলি নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সাইবার আক্রমণ এবং এমন সব অস্ত্র যা মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা শুধু একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়; এটি বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়। কারণ এই অঞ্চল বিশ্বের জ্বালানি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। যদি বড় আকারের সংঘাত শুরু হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, তেলের বাজার এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় মানবিক ক্ষেত্রে। যখন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন সীমান্তের দুই পাশে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটায়। শিশুদের শিক্ষা বন্ধ হয়ে যায়, হাসপাতালগুলো আহত মানুষে ভরে যায়, এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। যুদ্ধ তখন আর শুধু রাজনৈতিক ঘটনা থাকে না; এটি হয়ে ওঠে মানবিক বিপর্যয়।
এই কারণেই বিশ্বজুড়ে শান্তির আহ্বান এত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক কূটনীতি, সংলাপ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াই পারে সংঘাতের আগুনকে নিভিয়ে দিতে। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে যেখানে যুদ্ধ সমস্যার সমাধান করতে পারেনি, সেখানে আলোচনার টেবিল অনেক বড় সংকটের সমাধান করেছে।
শান্তি প্রতিষ্ঠা শুধু সরকার বা নেতাদের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি মানুষের দায়িত্বও। সমাজে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা যুদ্ধের মানসিকতাকে দূর করতে সাহায্য করে। যখন মানুষ অন্য মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট বলে মনে করতে শেখে, তখন যুদ্ধের চিন্তাই অমানবিক বলে মনে হয়।
আজকের পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো মানবতার চেতনা। জাতি, ধর্ম, ভাষা বা ভৌগোলিক সীমারেখা আমাদের পরিচয়ের অংশ হতে পারে, কিন্তু মানবতার ঊর্ধ্বে নয়। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন প্রায় একই- নিরাপদ জীবন, শান্তিপূর্ণ সমাজ এবং উন্নত ভবিষ্যৎ।
যুদ্ধ সেই স্বপ্নকে ভেঙে দেয়। শান্তি সেই স্বপ্নকে বাস্তব করে।
তাই আজকের এই উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে বিশ্ববাসীর একটাই আহ্বান- যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। শক্তির প্রদর্শন নয়, সংলাপের পথ চাই। কারণ ইতিহাসের প্রতিটি ধ্বংসস্তূপ আমাদের একই শিক্ষা দেয়: যুদ্ধের শেষে কেউ জয়ী হয় না; জয়ী হয় কেবল শান্তি।
এই পৃথিবীকে যদি সত্যিই বাসযোগ্য রাখতে হয়, তাহলে আমাদের মনে রাখতে হবে- মানবতার চেয়ে বড় কোনো বিজয় নেই, আর শান্তির চেয়ে মূল্যবান কোনো অর্জন নেই।
যুদ্ধ নয়, শান্তিই হোক মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ পথ।
The dol festival of Nabadwip, a column by Shyamal Mondal is an wonderful english writing. We as readers need his…
অমর প্রেম: স্বার্থহীন বন্ধনের এক মানবিক উপাখ্যান মানবজীবনের সবচেয়ে গভীর ও পবিত্র অনুভূতির নাম প্রেম। এই প্রেম কখনো রোমান্টিক সম্পর্কের…
কবি ফরিদ হোসেন হৃদয় এর "মিলে মিশে ঈদ করব" কবিতায় হাতটা বড় মিষ্টি, কবি প্রমান করলেন। আমি আগেই বলি, আমি…
শ্যামল মণ্ডল রচিত "ছেলের চিঠি" কবিতার পর্যালোচনা পর্যালোচনায় : শংকর হালদার শৈলবালা আলোচনা কাল : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ◆ ১.…
শংকর হালদার শৈলবালা রচিত “পণ্যের হাটে ঈশ্বর" কবিতার পর্যালোচনা পর্যালোচনায় : ভাষাবিদ অপরাজেয় আলোচনা কাল : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ◆…