FB IMG 1770479676280

লোহার ভিতর দিয়ে হাঁটা ✓ ধারাবাহিক গল্প – ১ম পর্ব – শ্যামল মণ্ডল

Spread the love

লোহার ভিতর দিয়ে হাঁটা

ধারাবাহিক গল্প – ১ম পর্ব
– শ্যামল মণ্ডল

FB IMG 1770479676280
দেড় বছর হয়ে গেছে শ্যামল কোম্পানি বদলেছে।
কারণটা খুব সোজা পদোন্নতি আর বেতন।
অভিজ্ঞ মানুষের জীবনে কখনও কখনও সিদ্ধান্তগুলো আবেগের হয় না, হয় প্রয়োজনের।
নতুন কোম্পানিতে প্রথম কয়েক মাস শ্যামলকে কেউ ঠিক চোখে দেখেনি।
নতুন লোক মানে সন্দেহ।
কাগজে ভালো সিভি থাকলেও মাঠে না নামলে বিশ্বাস আসে না এটাই সাইটের নিয়ম।
শ্যামল তাই চুপচাপ কাজ করে গেছে। কথা কম, কাজ বেশি। ধীরে ধীরে লোকজন বুঝতে শুরু করল
এই লোকটা জানে।
সবকিছু মোটামুটি ঠিকঠাক চলছিল।
কিন্তু যেটা সে ভাবেনি, সেটাই আঘাত করল সবচেয়ে গভীরে।
এইচ আর।
নিয়মের বাইরে, অথবা নিয়মের আড়ালে লুকোনো এক ধরনের ঠকানোর পদ্ধতিতে শ্যামলকে প্রায় চার মাস বেতন ছাড়া থাকতে হয়।
কখনো বলে “প্রসেস চলছে”,
কখনো “হোল্ড পিরিয়ড”,
কখনো “হেড অফিস ক্লিয়ারেন্স”।
কাগজে সব ঠিক, বাস্তবে পকেট ফাঁকা।
সমস্যাটা শুধু বেতন না পাওয়া ছিল না।
সমস্যাটা ছিল হঠাৎ বেতন বেড়ে যাওয়ার পর জীবনটা অন্য ছকে চলে যাওয়া।
ভাড়া বেড়েছে।
ছেলের স্কুল বদলেছে।
মাসের শেষে যে টাকাটা বাঁচত, সেটা আর বাঁচে না।
বেতন বন্ধ হওয়ার পর প্রথম মাসে শ্যামল ভেবেছিল,
“একটু সামলে নেব।”
দ্বিতীয় মাসে সে ভেবেছিল,
“আর একটু লোন নিলেই চলবে।”
তৃতীয় মাসে ছোট ছোট লোন বড় হয়ে উঠতে শুরু করল।
একটার কিস্তি মেটাতে আরেকটা।
বন্ধুর কাছ থেকে ধার, অ্যাপ লোন, পরিচিত দোকানদারের বাকিতে চাল।
চতুর্থ মাসে সে বুঝল—
সে শুধু সংসার চালাচ্ছে না,
সে ধীরে ধীরে ঋণের জালে আটকে যাচ্ছে।
রাতে শুয়ে শ্যামলের ঘুম আসে না।
স্ত্রী কিছু বলে না এটাই সবচেয়ে ভারী লাগে।
চুপচাপ থাকা মানুষটা যেন প্রতিদিন একটু একটু করে নিজেকে ভাঙে।
অথচ সাইটে দাঁড়িয়ে সে একই রকম শক্ত।
হেলমেট পরে নির্দেশ দেয়,
নিরাপত্তা নিয়ে ছাড় দেয় না,
কাজে কোনো দুর্বলতা দেখায় না।
কেউ জানে না এই লোকটার পকেট ফাঁকা,
কিন্তু মেরুদণ্ড সোজা।
শ্যামল তখনো জানে না,
এই ঋণের চাপ, এই অপমান, এই নীরব লড়াই—
একদিন তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে
যেটা আর ফেরার রাস্তা রাখবে না।

সেদিনটা কোনো বড় দুর্ঘটনার দিন ছিল না।
সাইটে কিছু ভাঙেনি, পাইপ লাইন ঠিকই চলছিল, কাজ থামেনি।
ভেঙেছিল শুধু শ্যামল।
সকালটা শুরু হয়েছিল ফোনের শব্দে।
অচেনা নাম্বার না চেনা।
লোন অ্যাপের কল।
…… “আজ কিস্তি না দিলে পেনাল্টি লাগবে।”
শ্যামল বলেছিল,
…… “দু’দিন সময় দিন।”
ওপাশ থেকে গলার স্বর বদলে গেল।
ভাষা বদলাল।
সম্মানটা নেই।
ফোন কাটার পর সে অনেকক্ষণ হেলমেট হাতে বসে ছিল।
পরার শক্তি পেল না।
সাইটে ঢুকতেই সাব-কন্ট্রাক্টরের সুপারভাইজার এসে বলল,
…… “দাদা, গত মাসের বিলটা না পেলে লোক ধরে রাখতে পারছি না।”
শ্যামল মাথা নাড়ল।
সে জানত এই বিলও আটকে আছে।
তার কথার কোনো ওজন নেই এখন।
দুপুরে হঠাৎ এইচ আর থেকে মেসেজ এল—
“Salary issue under review. Please cooperate.”
‘Please cooperate’
এই দুটো শব্দ যেন কানে বাজতে লাগল।
খাওয়ার সময় সে ভাতের থালার দিকে তাকিয়ে রইল।
খিদে ছিল, কিন্তু গলা দিয়ে নামছিল না।
ঠিক তখনই বাড়ি থেকে ফোন এল।
স্ত্রীর গলা কাঁপছে।
…… “স্কুল থেকে ফোন করেছে… ফি বাকি।”
ওই একটা বাক্যেই সব শেষ হয়ে গেল।
শ্যামল কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল।
তারপর বলল,
……. “আমি দেখছি।”
ফোন কেটে দেওয়ার পর সে আর বসে থাকতে পারল না।
ওয়াকওয়ে ধরে হেঁটে গেল সাইটের পেছনের ফাঁকা জায়গাটায়
যেখানে কেউ আসে না।
হেলমেটটা মাটিতে নামিয়ে রাখল।
চোখের কোণ ভিজে উঠেছিল, কিন্তু সে কাঁদছিল না তখনো।
হঠাৎ বুকের ভেতর থেকে যেন কিছু ভেঙে পড়ল।
একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল
যেটা সে বহু মাস ধরে আটকে রেখেছিল।
সে বসে পড়ল।
হাঁটু জড়িয়ে ধরল নিজেকে।
এই প্রথমবার শ্যামল ভাবল
“আমি কি সত্যিই পারছি?”
সে মনে করল
চার মাসের বেতনহীন দিন,
রাত জেগে হিসাব,
স্ত্রীর নীরবতা,
নিজের অপমান গিলে নেওয়া।
সজল দুচোখ।
চুপচাপ।
শব্দহীন।
কেউ দেখেনি।
কেউ জানেনি।
কিন্তু ওই মুহূর্তেই শ্যামল ভাঙার সাথে সাথে
একটা অদ্ভুত উপলব্ধি পেল—
সে আর আগের মতো চুপ করে থাকবে না।
সেদিন সে উঠে দাঁড়িয়েছিল ঠিকই।
হেলমেটটা আবার মাথায় পরেছিল।
সাইটে ফিরে গিয়েছিল আগের মতোই।
কিন্তু ভিতরে ভিতরে সে বদলে গিয়েছিল।
কারণ মানুষ একবার ভেঙে পড়লে
সে হয় শেষ হয়ে যায়,
নয়তো
নতুন করে তৈরি হয়।
(চলবে)

2 Comments

  1. শ্যামল মণ্ডল রচিত “লোহার ভিতর দিয়ে হাঁটা” (১ম পর্ব) গল্পের পর্যালোচনা

    ◆ পর্যালোচনায় : শংকর হালদার শৈলবালা
    ◆ আলোচনা কাল : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

    ◆ ১. মূল সম্পূর্ণ গল্পের পর্যালোচনা : “লোহার ভিতর দিয়ে হাঁটা” গল্পের প্রথম পর্বটি করপোরেট ও শিল্পক্ষেত্রের নির্মম বাস্তবতা এবং এক মধ্যবিত্ত মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের এক জীবন্ত আখ্যান। গল্পের নায়ক শ্যামল, একজন অভিজ্ঞ পেশাদার, যে পদোন্নতির আশায় কোম্পানি বদলে এক ভয়ংকর সংকটের মুখে পড়ে। চার মাস বেতনহীন থাকা, ঋণের জাল এবং লোন অ্যাপের অসভ্য আচরণের মধ্য দিয়ে তার জীবনের ছন্দপতন লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। গল্পের মূল সংঘাতটি কেবল আর্থিক নয়, বরং তা আত্মসম্মানের। একাধারে সাইটের কঠোর পরিশ্রম এবং অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের নিঃশব্দ ভাঙন—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে শ্যামল চরিত্রটি পাঠকের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে।

    ◆ ২. গল্পের সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা : বর্তমান সময়ে করপোরেট ব্যবস্থায় ‘স্যালারি হোল্ড’ বা এইচআর-এর দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বহু মানুষ যে মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়ে, গল্পটি সেই রূঢ় সত্যকে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে লোন অ্যাপের হেনস্তা এবং বেতনহীন অবস্থায় মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার বিপর্যয় সমকালীন প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

    ◆ ৩. গল্পের দর্শন ও জীবনবোধ : গল্পের দর্শনের মূলে রয়েছে ধৈর্যের সীমা এবং রূপান্তর। শ্যামলের চরিত্রটি দেখায় যে, মানুষ চরম অপমানের মুখে পড়লে তার সামনে দুটি পথ থাকে—হয় নিঃশেষ হওয়া, নয়তো নতুন করে জেগে ওঠা। “মানুষ একবার ভেঙে পড়লে সে হয় শেষ হয়ে যায়, নয়তো নতুন করে তৈরি হয়”—এই আপ্তবাক্যটিই গল্পের মূল জীবনবোধ।

    ◆ ৪. গল্পের শৈলীগত নিরীক্ষা : শ্যামল মণ্ডল অত্যন্ত নির্মেদ ও সংহত গদ্যে গল্পটি বর্ণনা করেছেন। ছোট ছোট বাক্যে পরিস্থিতির গুরুত্ব ও মানসিক চাপ ফুটিয়ে তোলার কৌশলটি প্রশংসনীয়। গল্পের আবহ তৈরিতে যান্ত্রিক সাইট ও ভেতরের মানবিক ভাঙনের তুলনাটি বেশ শৈল্পিক।

    ◆ ৫. গল্পের আন্তঃপাঠীয় সম্পর্ক : এই গল্পের শ্যামল চরিত্রের মধ্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অনুবর্তন’ উপন্যাসের আদর্শবাদী শিক্ষক বা আধুনিক যুগের সমরেশ মজুমদারের সাধারণ মানুষের লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। পেশাগত জীবনের সংকটের বর্ণনায় বিমল করের গল্পের সেই গম্ভীর আবহ লক্ষণীয়।

    ◆ ৬. গল্পের দৃশ্যমান ও শ্রুতিগত আবেদন : সাইটে হেলমেট পরে দাঁড়িয়ে থাকা, লোন অ্যাপের কর্কশ ফোন কল এবং ভাতের থালার দিকে তাকিয়ে থাকার দৃশ্যগুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে চিত্রিত। প্রতিটি শব্দ যেন এক ধরণের মানসিক চাপ (Stress) তৈরি করে, যা পাঠকের ইন্দ্রিয়কে স্পর্শ করে।

    ◆ ৭. গল্পের দুর্বলতার উদাহরণসহ : প্রথম পর্ব হিসেবে গল্পের বুনন ভালো হলেও কিছু জায়গায় বর্ণনার গতি অনেক বেশি দ্রুত।
    উদাহরণ: শ্যামলের চার মাসের বেতনহীন অবস্থার প্রতিটি মাসের যন্ত্রণার বর্ণনা আরও একটু বিস্তারিত হলে তার ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ার তীব্রতা আরও বেশি অনুভব করা যেত। এছাড়া ধারাবাহিক হওয়ার কারণে কিছু প্রশ্ন অমিমাংসিত থেকে গেছে।

    ◆ ৮. গল্পের উন্নতির পরামর্শ উদাহরণসহ : এইচআর বা ম্যানেজমেন্টের সাথে শ্যামলের সরাসরি কোনো উত্তপ্ত সংলাপ থাকলে সংঘাতটি আরও জোরালো হতো।

    পরামর্শ: “Salary issue under review” মেসেজটির বিপরীতে শ্যামলের মানসিক প্রতিক্রিয়াটি কেবল নীরবতায় সীমাবদ্ধ না রেখে কোনো এক সহকর্মীর সাথে তার ছোট কোনো কথোপকথন যোগ করা যেতে পারত।

    ◆ ৯. গল্পের সামাজিক প্রভাব : গল্পটি কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক ও কর্মীদের অধিকার এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি করে। এটি দেখায় যে, একজন মানুষের পেশাগত অনিশ্চয়তা কীভাবে তার পুরো পরিবারকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

    ◆ ১০. গল্পের মান নির্ণয় : প্রতিটি বিষয়ের উপর দশ নাম্বার করে মোট একশ নাম্বার।
    লেখক শ্যামল মণ্ডল রচিত “লোহার ভিতর দিয়ে হাঁটা” (১ম পর্ব) গল্পটি “বাঙালি লেখক সংসদ” কর্তৃক আন্তর্জাতিক গল্প সমীক্ষা-২০২৬ অনুসারে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮৫/১০০ মান প্রাপ্তির যোগ্যতা রাখে।

    ◆ ১. ভাব ও বিষয়বস্তু (০৯/১০) : মধ্যবিত্তের অর্থনৈতিক সংকট ও পেশাগত লাঞ্ছনার বিষয়বস্তু অত্যন্ত জোরালো ও বাস্তবমুখী।
    ◆ ২. আবেগ ও অনুভূতির গভীরতা (০৯/১০) : শ্যামলের নিঃশব্দ কান্না এবং সন্তানের স্কুলের ফি দিতে না পারার যন্ত্রণা পাঠককে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
    ◆ ৩. শব্দ ও ভাষার ব্যবহার (০৮/১০) : ভাষা আধুনিক, ঝরঝরে এবং যান্ত্রিক জীবনের সাথে মানানসই।
    ◆ ৪. গল্পের গতি ও প্রবাহ (০৮/১০) : ঘটনার পরিক্রমা অত্যন্ত দ্রুত এবং কৌতূহল উদ্দীপক।
    ◆ ৫. চিত্রকল্প ও বর্ণনা (০৮/১০) : সাইটের রুক্ষতা ও ঘরের ভেতরের নীরবতা—এই দুই বিপরীত চিত্রকল্প চমৎকার।
    ◆ ৬. সৃজনশীলতা ও মৌলিকতা (০৮/১০) : লোন অ্যাপের হেনস্তা ও স্যালারি হোল্ডের মতো আধুনিক সমস্যা নিয়ে গল্পের উপস্থাপনা মৌলিক।
    ◆ ৭. পুনরাবৃত্তি ও বাহুল্য (০৯/১০) : অহেতুক কোনো মেদ নেই, প্রতিটি পংক্তি কাহিনীর প্রয়োজনে ব্যবহৃত।
    ◆ ৮. গঠন ও বিন্যাস (০৮/১০) : প্রথম পর্ব হিসেবে সমাপ্তির মোচড়টি (Cliffhanger) পাঠককে পরের পর্বের জন্য আগ্রহী করে তোলে।
    ◆ ৯. সামাজিক বার্তা (০৯/১০) : করপোরেট শোষণ ও মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ের এক বলিষ্ঠ বার্তা এখানে আছে।
    ◆ ১০. পাঠকের উপর প্রভাব (০৯/১০) : শ্যামলের মেরুদণ্ড সোজা রাখার জেদ পাঠকের মনে এক মিশ্র অনুভূতির জন্ম দেয়।

    ◆ ১১. বিশিষ্ট ৫ জন গল্পকারের সাথে তুলনা :

    ১. সমরেশ মজুমদার: তাঁর “উত্তরাধিকার” বা “কালবেলা” উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের জীবনসংগ্রামের যে কঠোরতা, শ্যামল চরিত্রের মধ্যে সেই একই মেজাজ পাওয়া যায়।

    ২. অমিয়ভূষণ মজুমদার: তাঁর গল্পে যেভাবে যান্ত্রিক পরিবেশ ও মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকে, এই গল্পের সাইট ও শ্যামলের ব্যক্তিজীবনের দ্বন্দ্বে তার মিল পাওয়া যায়।

    ৩. বিমল মিত্র: তাঁর “একক দশক শতক” উপন্যাসে যেমন করপোরেট ও প্রশাসনিক শোষণের রূপ পাওয়া যায়, এখানে এইচআর-এর কূটচালের বর্ণনায় সেই ঘরানার রেশ আছে।

    ৪. সুবোধ ঘোষ: তাঁর “ফসিল” বা অন্যান্য মানবিক গল্পে যেভাবে প্রতিকূলতার মুখে মানুষের অস্তিত্বের লড়াই চিত্রিত হয়, শ্যামলের মেরুদণ্ড সোজা রাখার জেদ সেই ধারারই অনুসারী।

    ৫. শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়: তাঁর সংবেদনশীল ছোটগল্পে যেভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যবিত্ত মানসিকতা ও অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে, শ্যামলের স্ত্রীর নীরবতার বর্ণনায় সেই শৈলীর ছোঁয়া আছে।

    ৬. শংকর হালদার শৈলবালা: তাঁর রচিত “শিক্ষিত অমানুষ” গল্পের সাথে এই গল্পের তুলনা করলে এক করুণ বৈপরীত্য ধরা পড়ে। শংকর হালদার শৈলবালার গল্পে দেখানো হয়েছিল কীভাবে উচ্চবিত্তের অহং মানুষকে অমানুষ করে, আর শ্যামল মণ্ডলের এই গল্পে দেখা যায়—এক শিক্ষিত মানুষ কীভাবে ব্যবস্থার শিকার হয়েও নিজের মনুষ্যত্ব ও আত্মসম্মান রক্ষার লড়াই চালিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

💬 Chat on WhatsApp
Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/kabyapot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493