ভুলে যাবো – ভালবাসা

মুক্তি সাধন বসু
কতবার ভেবেছি ভুলে যাবো
সেদিনের অবনত মুখ নিভৃত সন্ধ্যায়
তুলসীতলায় প্রদীপের সি্নগ্ধ আলোয়
যখন প্রথম দেখি একরাশ অবিন্যস্ত চুলে
আষাঢ়ের মেঘ বুকে ধরে সামনে দাঁড়িয়ে ।
কতবার ভেবেছি ভুলে যাবো
বর্ষার নতুন জলে ভোরের আলোয়
লাল শালুকের পাপডি মেলার খেলা
গোপনে সংগোপনে ভ্রমরের আমন্ত্রণ
পরাগ রেণুর হোলি, বাতাসে গুঞ্জন ।
ভেবেছি ভুলে যাবো কুঁড়চির কাঁচা গন্ধ
পথের দুপাশে সদ্য ফোটা ভালবাসা
মহুয়ার মাতাল হাওয়ায় চঞ্চল আঁচল
মাথায় খোঁপার কনক চাঁপার অহঙ্কার
পড়ন্ত বেলার পলাশের রঙে রাঙা ঠোঁট ।
আজ সেই আবির খেলার বেলা
হলোনা এখনো ভোলা শেষ অভিসার
ঝরা শিমুলের ফুলে আলতা পায়ের ছবি
বাসন্তী রঙের শাড়ি সবুজ আঁচলে মোড়া
লাল পাড়ে সোহাগে জড়ানো কত স্মৃতি ।
চেয়েছিতো ভুলে যেতে কতবার
জমে থাকা বসন্তের ব্যাথা বিগত দিনের
দক্ষিন হাওয়ার না বলা কথার অভিমান
ঘুরে ফিরে আসে উত্তরের হিমেল হাওয়ায়
বুকে ধরে একরাশ শীতলতা কান্নার পাহাড় ।
অস্ফুট উচ্চারণ ‘উষ্ণতা’ ভালবাসা খোঁজে ।।
****************************”
লেখক পরিচিতি: মুক্তি সাধন বসু
(তাঁর সম্পর্কে লিখতে গেলে উইকিপিডিয়া হয়ে যাবে, তবুও লিখতে হবে। এটাই তো কাব্যপট পত্রিকার দায়িত্ব)
🔷 মুক্তি সাধন বসু: বিজ্ঞান, সাহিত্য ও মানবকল্যাণের এক অনন্য সংমিশ্রণ
মুক্তি সাধন বসু, যিনি Dr. M. S. Basu নামে অধিক পরিচিত, একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী—একাধারে বিজ্ঞানী, কৃষি বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা এবং সংবেদনশীল সাহিত্যিক। তাঁর জীবনের পথচলা প্রমাণ করে যে জ্ঞান, নিষ্ঠা ও মানবকল্যাণের প্রতি দায়বদ্ধতা একসাথে মিলেই গড়ে তোলে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব।
🔷 শৈশব ও শিক্ষাজীবন
শৈশব থেকেই মুক্তি সাধন বসুর মধ্যে ছিল জ্ঞানার্জনের প্রবল আগ্রহ এবং প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ। কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি তাঁর আকর্ষণ তাঁকে উচ্চশিক্ষায় কৃষিবিজ্ঞানের দিকে পরিচালিত করে। ধীরে ধীরে তিনি এই ক্ষেত্রেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং গবেষণার মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নে অবদান রাখতে শুরু করেন।
🔷 পেশাগত জীবন ও বৈজ্ঞানিক অবদান
তিনি Indian Council of Agricultural Research-এর ডিরেক্টর এবং অল ইন্ডিয়া গ্রাউন্ডনাট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র ছিল গ্রাউন্ডনাট (বাদাম) চাষের উন্নয়ন, বিশেষত পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি ও রোগমুক্ত উৎপাদন।
তাঁর কর্মজীবনের এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো Defence Research and Development Organisation-এর সঙ্গে যৌথভাবে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে গ্রাউন্ডনাট চাষের সফল উদ্যোগ।
Leh-এর প্রায় ১১,০০০ ফুট উচ্চতায় তিনি পরীক্ষামূলকভাবে বাদাম চাষ শুরু করেন, যা আগে প্রায় অসম্ভব বলে বিবেচিত হতো। Bhabha Atomic Research Centre-এর উন্নত জাত ব্যবহার করে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তিনি সফল ফলন (প্রায় ৯২৪ কেজি/হেক্টর) অর্জন করেন।
পরবর্তীতে Turtuk ও Khaltse অঞ্চলেও এই চাষ সম্প্রসারিত হয়। এই উদ্যোগ দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
🔷 আন্তর্জাতিক ভূমিকা
মুক্তি সাধন বসু শুধুমাত্র দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি United Nations Industrial Development Organization-এর আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন। বিশেষ করে আফলাটক্সিন (Aflatoxin) নিয়ন্ত্রণে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
🔷 সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীলতা
বিজ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন সংবেদনশীল সাহিত্যিক। তাঁর কবিতা ও লেখায় মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ এবং জীবনের গভীর অনুভূতি প্রকাশ পায়। “ভুলে যাবো ভালবাসা”–র মতো রচনায় তাঁর অন্তর্লোকের আবেগময় প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
🔷 ব্যক্তিত্ব ও দর্শন
মুক্তি সাধন বসু বিশ্বাস করেন, বিজ্ঞান ও সাহিত্য—দুটিই মানবকল্যাণের জন্য কাজ করা উচিত। তাঁর জীবনের প্রতিটি কাজেই এই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি মনে করেন, প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নই টেকসই ভবিষ্যতের পথ।
🔷 মুক্তি সাধন বসুর জীবন আমাদের শেখায়—একজন মানুষ একই সঙ্গে বিজ্ঞানী, চিন্তাবিদ ও শিল্পী হতে পারেন। তাঁর কাজ শুধু গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের কল্যাণে নিবেদিত।
তিনি প্রমাণ করেছেন, উচ্চতা শুধু পাহাড়ের নয়—মানুষের চিন্তা ও কর্মের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে।
Very nice composition. L