🇦🇹 চরম সত্য এটাই, লেখক শংকরের মৃত্যুতে এই নিবেদন। পুরো সাহিত্য জগতের রহস্য ও রাষ্ট্রের রহস্য নিয়ে ভাবুন। 🇦🇹
ঋদেনদিক মিত্রো

লেখক শংকর বা মনিশংকর মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে আমরা সবাই শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। একথা তো মানতে হবে, লেখাকে পেশা করে তোলার আধুনিক স্বপ্ন ও ধারার জনক জননী এঁরা, নইলে আমরা আজকে এই পথ পেতাম না।
🥇
যদিওবা সাহিত্য হল সেরা সম্মানের পেশা, এটা প্রাচীন কাল থেকে। সব ধর্মের রাজা ও জমিদারদের সেরা সভারত্ন হতেন কবি লেখকগন। তারপরে থাকত মন্ত্রীগন।
তাই সাহিত্য কোনোদিন শখের হল্লা ছিলনা। এবং রাজ কবি, জমিদার কবি হতে না পারলে বাকি কবিগন দ্বিতীয় নিয়মে বড় কবি হতেন, রাজ অফিসে লেখা জমা দিয়ে, পাতার পুঁথি জমা দিয়ে। এবং এই বিষয়ে তখন হাতে লেখা পুঁথির প্রকাশক ছিল। তারা হাতের লেখা ভালো এমন লোকদেরকে চাকুরি দিত।
এইভাবে লাখলাখ বই লেখা ও স্বীকৃতি পেত, আবার বাইরের শত্রু বা প্রতিবেশি রাজ্যের আক্রমনে বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সেগুলি নষ্ট হত। সেটা আলাদা দিক।
কিন্তু, পেশায় ছিল লাখলাখ কবি লেখক। কারণ পান্ডিত্বের প্রমান হিসেবে লেখক হিসেবে গন্য হতে হত। এখনকার ডক্টরেট হবার মত। এগুলি কি আমরা জানি?
আরো মজার ব্যাপার, এই যুগে যে কেউ শিক্ষিত হবার জন্য প্রতিষ্ঠানের থেকে প্রমানপত্র নিলেই হয়, সেই সব পুরানো সময়ে, এই গত ২০০ বছর আগে অবধিও ছিল, কেউ কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি নিলেই হবে না। তাকে পাকাপোক্তভাবে শিক্ষিত প্রমাণ করতে হলে কোনো না কোনো গ্রন্থ রচনা করতে হবে।
আর এইভাবেই গড়ে উঠেছিল প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় নালন্দা। নব্বুই লাখ গ্রন্থ ছিল সেখানে লাইব্রেরীতে। তাহলে সারা ভারতে কত পুস্তক ছিল, কত নষ্ট হয়েছিল, ও নষ্ট হবার পরেও অস্তিত্ব টিকে ছিল। সেটা কত কোটি।
এই রকম কত বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় ছিল তার হিসেব নেই। তাহলে, সাহিত্য বা যে কোনো সৃষ্টিশীল লেখা ছিল পেশা শুধু নয়, শিক্ষিত হয়ে ওঠার জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রমানপত্র।
এগুলি না বুঝে, লোক বর্তমান সমাজে প্রথামাপিক একটা ডিগ্রি নিয়ে কবি লেখকদেরকে হেয় করেই তার শিক্ষার বাস্তব গুরুত্ব বাড়াতে চায়।
এইসব সভ্যতার অস্পৃষ্টদেরকে যে রাষ্ট্র সঠিক উপলব্ধি দিয়ে গড়ে তুলতে চায় না সেই রাষ্ট্রিয় ব্যাবস্থা কতটা সঠিক বা জনদরদী, সেটা সবার মনেই জিজ্ঞাসা থাকতে পারে।
মানুষের বুদ্ধিকে ভুল চিন্তায় ঢুকিয়ে রাখাই যদি শিক্ষাব্যবস্থা ও রাষ্ট্রিয় পরিকাঠামোর কাজ হয়, সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ও সমাজের কোনো উন্নতি যে ভিতর থেকে হচ্ছে না, সেটা কি সত্য নয়? আমার জিজ্ঞাসা এটা থাকতেই পারে।
এখন বেশিরভাগ লেখক কবিদেরকে দেখি, লেখা শখ বা অবসর, এইভাবে Biodata করেন। এবং পাশে একটা বিরাট চাকুরি বা পদের পরিচয় দেন। এর মানে, সাহিত্যের মত অসহায়কে এঁরা সঙ্গ দিয়ে ধন্য করেন, তাই সাহিত্য শখের।
আমি এঁদের অনেককে বলেছি, আপনারা লিখুন যুগ্ম কাজ সাহিত্য, যাদের পেশা সাহিত্য হয়ে ওঠেনি এখন, তারা এটা লিখুন, তখন পাঠক গুরুত্ব দিয়ে পড়বে। কিন্তু, শখ বা অবসরের লেখক বললে পাঠক ভাববে যে দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়ে এরা সাহিত্য করে তাই এদের পুস্তকের মুল্য ততটা নেই।
আর, এই কারণে, অনেক অনিয়মিত কবি লেখক অনেক ভালো সাহিত্য রচনা করেও পাঠক ও সমালোচকদের গুরুত্বের চোখ এড়িয়ে যান।
আমার এই যুক্তি দেখানোর পরে অনেকেই নামের পাশে লেখেন যুগ্ম কাজ সাহিত্য।
এতে তাঁদের সামাজিক সম্মানে লোভ হয়েছে, অনেকে স্বীকার করেছেন।
এবার বলি, পূর্বে, রাজা, সম্রাট, জমিদারদের সময়ে রানী, রাজকন্যা ও জমিদারদের স্ত্রী ও কন্যাদের সাথে ঘনিষ্ট হয়ে কথা বলার অধিকার ছিল একমাত্র প্রতিষ্ঠিত কবি বা লেখকের। আমি এখানে কবির দৌরাত্ম্য দেখাচ্ছি না, ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে ঘটনাগুলি বলছি মাত্র। এবং পেশায় লেখকগন অনেক জমি ও সম্পদ পেতেন। এসব শিক্ষিতগন পড়ে এসেও মাথায় খেয়াল রাখেন না।
তাই এক শ্রেনীর ছোটলোক বুদ্ধির শিক্ষিতরা কবি লেখকদেরকে পেশাগত দিকে অবহেলার চোখে দেখে। এইসব দুর্বল বুদ্ধি বা অতি সেয়ানা সবল চতুররা সমাজে এত প্রভাব ফেলে যে, সব দিকে অতিষ্ট করে তোলে। আর এদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেক কবির পরিবার কবিদের উপরে চাপ দিয়ে ছোটলোকি ভাবনায় ভাবিত হতে বলে। রাষ্ট্রের আইন দ্বারা সমাজ থেকে এইসব ছোটলোকদের আলাদা করে চিহ্নিত না করলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক সুস্থতা আসতে পারে না। এই সত্যটা সব ক্ষেত্রেই সত্য। কিন্তু, সেই কাজ করবে কারা, যারা করার দায়িত্বে, তারাই তো সিংহভাগ ছোটলোকি চিন্তায় ও আগ্রাসী প্রাপ্তির লোভে মশগুল। তারা পদবীতে দাস হোক, দাশগুপ্ত হোক, মুখপোড়া হোক আর মুখার্জী হোক, আলী হোক আর হুসেন হোক। চারিত্রিক অভ্যেসে এরা তো স্থুল চিন্তায়, সহজলভ্য পথে প্রাপ্তি নিয়ে স্থুল চাহিদার ভোগী হয়ে বাঁচতে চায়। আর রাষ্ট্রের ভুল শাসন ব্যবস্থা তথা অন্যান্য দুরুহ জটিল রহস্য নিয়ে নির্বিকার হয়েও জ্ঞান ফলাতে বা প্রাথমিক অন্তর্দহনের জ্বালায় কিছু উন্নত ব্যাখ্যা মুলক সমালোচনা করে, কিন্তু বাস্তবে যেটার বিষয়ে ও যাদের বিষয়ে বলে, তাদের প্রতি আবার চাটুকারিতা করে সমর্থন দেয়।
নিরপেক্ষতার বোধকে স্থায়ী করে মাথায় রাখতে পারেনা, স্বভাবেও ধরে রাখতে পারেনা।
আমিও একজন নাগরিক। নাগরিক বা জনগন পরিচয় থেকেই কবি, লেখক, বিজ্ঞানী, সমাজ সংষ্কারক, বিশ্বশান্তি কর্মী ইত্যাদি। কিন্তু, আমি কলকাতার শহরতলিতে একজনের বাড়িতে পুরাণ গান হচ্ছে দেখে, বাস রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম সেটা। তখন সেই পুরান গায়ক বলছেন, জনগনের বুদ্ধি কেমন জানেন, গরুর শিংয়ে যত সর্ষে ঢালুন সেটা মুহুর্তকাল স্থির থেকে গড়িয়ে পড়ে। তেমনি জনগনের বুদ্ধি, এদেরকে যত ভালো বুদ্ধি দিন, মুহুর্তকাল স্থায়ী থেকে সেটা গড়িয়ে পড়ে।
আমি শুনে চমকে গিয়েছিলাম। কী দুরূহ ব্যাখ্যা।
এর মানে তিনি জনগনকে অপমান করেননি। কারণ তিনিই জনগন। তিনি অপমান করেছেন সিংহভাগ স্থুল চিন্তার মানুষদেরকে। যাদের মানসিক দুর্বলতাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে ও চলতে থাকে দুর্বল শাসন ব্যাবস্থা।
অর্থাৎ, আমরা সতর্কজনেরা যেন তেমনটা না হই। এই বার্তা আমাদেরকেও দেওয়া হল।
✍️
এবার যে বিষয়ে বলে এই নিবন্ধ শেষ করব, সেটা হল তথাকথিত লেখকদের কাজের বিষয়। এঁরা খুব কষ্ট করে সাহিত্য ও সাংবাদিকতাকে ( যে যেমন করে কাজ করেন। ) পেশা নিয়ে আমাদেরকে এই স্বপ্নে সফলতা পেতে পথ সহজ করে দিয়েছেন, সেদিক থেকে এঁরা জীবন্ত ইতিহাস।
কিন্তু, ব্যাপার হল, রাষ্ট্রের ভুল শাসন নিয়ে এঁদের চিন্তা ও দায়িত্ব কতটা ছিল বা জীবিতদের আছে, সেটা খুব বড় প্রশ্নের সম্মুখীন হতেই পারে।
আসলে, বাংলা সাহিত্য করে সাহসী হতে পারা যায় না ভারতে। কারণ, এটা রাষ্টের স্বীকৃত চব্বিশটি ভাষার মাঝে একটা আঞ্চলিক ভাষা। সম্প্রতি এটা রাষ্ট্রের ধ্রুপদী ভাষা হলেও, দিল্লিতে এই ভাষার একটা অফিস প্রতিষ্ঠা পেলেও, সেটার প্রসার কি রাতারাতি হবে? অন্যদিকে, অধিকারের ভিত্তিতে তো এটা আঞ্চলিক ভাষা। কিন্তু বাংলাদেশে তো এটা রাষ্ট্রীয় ভাষা। তাই তাদের কবি লেখকগন রাষ্ট্রের ভুল বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে সেটার ঘটনা বিশ্বে ছড়ায়, কিন্তু ভারতে বাংলা কবি লেখকদের দ্বারা কোনো মুক্ত সাহসী চিন্তা ও কথা মুহুর্তে আড়ালে চলে যায় বহুভাষী বহু নাগরিকদের ভিড়ে। এবং অন্যদিকে, আঞ্চলিক ভাষা হওয়ায়, প্রসারিত হাঁটাচলা সম্ভব নয়। তাই রাজনীতির আয়ত্বে থেকে অস্তিত্ব সঙ্কটে টিকে থাকতে হয়।
সেটা যে কোনো সৃষ্টিশীলতার পেশা হোক বা সাধারণ নিয়মে ডিগ্রি বা কোনো ট্রেনিং এর প্রমানপত্র নিয়ে চাকুরি করা হোক। সব জায়গায় গনতন্ত্রের নামে মুখবন্ধ রাখার অলিখিত চাপ ও সেটাকে বোবা-কালার মত হয়ে মেনে চলতেই হবে।
তাহলে, এই নিয়মে বিশেষ চিন্তাশীল ব্যাক্তিগন যদি দৈনন্দিন আচরণে বোবা-কালা হন, বাকি শিক্ষিত চিন্তাশীল নাগরিক, অল্পশিক্ষিত, অশিক্ষিত নাগরিকগন কী করবেন?
রাষ্ট্রের বিকৃত ব্যাবস্থার পরিবর্তন কারা আনবে? কিছু পুরষ্কার ও সম্মাননার প্রমানপত্র নাকি রাজনীতিবিদের ডাকে বুদ্ধিজীবীর মিছিলের ছবি, নাকি মন্ত্রীদের কাঁধে হাত রেখে বসা বা দাঁড়ানোর ছবি।
এবার কি আমরা বুঝতে পারছি, লেখকদের মৃত্যুতে এই শ্রদ্ধা জানানোর ধারা বা উপলব্ধিটাও আর কতদিন সতেজ রাখতে দেবে এই রাষ্ট্রিয় ও সমাজ ব্যাবস্থা।
রাষ্ট্রের ভুল শাসনকে বদলাতে চাওয়া, সমাজের দুর্বল চিন্তাকে সংশোধন করতে চাওয়া কিন্তু রাষ্ট্রদ্রোহীতা নয়, বরং এটাই রাষ্ট্রপ্রেম।
এই সত্য কে কাকে বুঝাবে। কিন্তু আমাদেরকে বুঝতে হবে, বাইরের পদ দিয়ে নয়, রাষ্ট্রের ভুল ও ক্ষতিকারকদিকগুলিকে বদলাতে হবে, অতি সুক্ষ্ম আত্ম উপলব্ধি দ্বারা, ও সেটা দ্বারা অন্যদেরকেও তৈরি করতে হবে। তার আগে সেই দায়িত্ব পালন করে সফলতা আনতে হবে নিজের বাড়ি থেকে।
বাড়ির লোকদেরকে নীচু অভ্যেসে, নীচু চিন্তায় রেখে বাইরে কারা সমাজ সভ্যতার ভুল সংশোধন করতে যান?
ভাবুন তো, কত ভুল হিসেবে আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম। নিজেকে ব্যাখ্যা করুন, আমার এই নিবন্ধের বিষয় উপলব্ধি করে আমার উপরে ক্রুদ্ধ হবেন না। আশা করি।
সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বের শিক্ষা জগত পুরোটাই কবি লেখকদের লেখা পড়েই চলে, শিক্ষক জগত এই করেই বেতন ও সম্মান পান, আবার সেখান থেকে শিক্ষিত হয়ে নাগরিকগন সামাজিক সম্মান পান ও কাজ পাবার যোগ্যতা অর্জন করেন, বিবাহের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন, আবার সেই কবি লেখকদেরকে অবাস্তব বা সময়ের যোগ্য চিন্তা করেনা — এমন বিরক্তি সূচক গালাগাল শুনতে হয়। এর চেয়ে হাস্যকর ব্যাপার আর কী থাকতে পারে!
কী, এরপরেও কেউ কবি লেখকদেরকে হেয় করতে গেলে কতটা বেইমান বা মুর্খতার পরিচয় দেবেন বুঝতে পারছেন?
কবি লেখক রাজা মন্ত্রী হতে দরকার বোধ করেনা, কিন্ত রাজা মন্ত্রীরা কবি লেখক হতে চেষ্টা করেন।
এর কারণ, আমি রাজা, মন্ত্রীদেরকে হেয় করছি না, আমি বলতে চাই, কবি লেখকদের কাজে আছে পূর্ণ জ্ঞানের আনন্দ, আর এদের পেশায় আছে কোথাও যেন নিরপেক্ষ গৌরবের মুক্ত সুখ।
তা বলে সবাই কি কবি লেখক হবেন? না তা নয়। কিন্তু, এই কাজের প্রতি সকলের গোপন ইচ্ছে।
এই সত্যকে ঢাকতে, অনেকে কবি লেখকদেরকে নানা অছিলায় হেয় করতে চান।
আরে দাদা, আরে দিদি, রাজা, ভিখারী, সকলের বাড়ির আভিজাত্য প্রমান করতে তো বই দিয়ে সাজানো হয় জানালার তাক, আলমারি, এইসব।
এর পরেও কার ক্ষমতা আছে কবি, লেখকদেরকে হেয় করে?
এদের সহায়তায় সিনেমা, থিয়েটার, রেডিও, টিভি, রাজনীতির বক্তৃতার ভাষা, বিপননের বিজ্ঞাপন, দুনিয়ার সব চলে, আর এদেরকে ঠেসে রেখে কলংকিত করে বলা হয়, কবি লেখকের পেশা, ইস, এসব করে কী হয়!
অবাক হই, সভ্যতার দুর্দশা কেন কাটছে না।
যেদিন পাড়ায় কবি লেখক দেখে সব ঘর থেকে আগ্রহ নিয়ে খাদ্য, বস্ত্র, অর্থ, এসব আসবে, সেদিন নাগরিকগন সঠিক উন্নত হয়েছে প্রমান পাওয়া যাবে।
অবশ্যই, পশুপাখি, কীট, অসহায় সৎ মানুষ, এদেরকে যত্ন নেওয়াও মানুষের উচ্চ গুণ।
সব রকম উন্নত আচরণ ও উপলব্ধি নিয়েই তো মানব দেহের সঠিক পরিচয়।
আসুন তো, আমরা তেমন হয়ে উঠি।
তবে, কোন কবি লেখক, ভুল আচরণে নিজের অবস্থান খেলো করেন, সেটা তাঁর নিজস্ব আয়তন, সেটা কবি লেখক চরিত্রের আদল নয় তো।
এটাও সবাইকে মনে রাখতে হবে।
আর এটাও মনে রাখতে হবে, বিশ্বের সব দেশ ও সরকার, সব ধর্ম ও সব রকম পরিচয়ের মানুষদের দ্বারা স্বীকৃত মেলা হল বইমেলা। এবং এই মেলায় না যাওয়াটা পারিবারিক নীচতার পরিচয় হিসেবে গণ্য হয় সমাজে, যে সমাজ বলে, বই লিখে কী হয়!
আরো মজার ব্যাপার, বইমেলাকেই সব দেশে আন্তর্জাতিক মেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এবং এই মেলা, গ্রাম ও শহরতলির প্রত্যন্ত অঞ্চলে হয়, মহকুমা নিয়ে হয়, জেলা নিয়ে হয়, রাজ্য ও দেশ নিয়েও হয়।
বইমেলায় গিয়ে কিছু খাওয়াটা খুব শান্তির বলে মানুষ মনে করে।
বই কিনুক না কিনুক, সেখানে গিয়ে একটু ঘুরে আসাকে সেরা মানসিক শান্তি বলে বিবেচনা করে।
আর বইমেলাতে লেখক লেখিকাদের বক্তৃতা শোনাকে সেরা মর্যাদাবহ সময় কাটানো বলে মানুষ মনে করে।
আর, সেই বই জিনিসটার লেখক যাঁরা, তাঁরা কিকরে অবহেলার পাত্র হন?
আসুন, নিজেরা একটু ভাবি। আর, পরিবারকে কিকরে বুঝিয়ে, ভাবিয়ে, গড়ে তুলব সেটা চিন্তা করি। যে কোনো কবি লেখকদের প্রতি কেমন আচরণ করতে হয় সেটা শেখাই।
নইলে, পারিবারিক গৌরব যে ঢিলে হয়ে যাবে।
————————–
লেখক: ঋদেনদিক মিত্রো Ridendick Mitro

অসাধারণ ও মানসম্মত এ পত্রিকাটির উত্তরোত্তর উৎকর্ষতা ও প্রচার বৃদ্ধি হোক।
Very nice composition. L
অশেষ ধন্যবাদ
খুব সুন্দর। কবিতা গুল নতুন ভাবের।
খুব সুন্দর লেখা