সবার উপরে মানুষ সত্য
তপন তরফদার।

বেশকিছু স্থান আছে তারা স্থান মাহাত্মেই বিখ্যাত ও নামের সুনাম বজায় রেখে চলে। শিয়ালদহ অঞ্চলে বৈঠক খানা বাজার। এই অঞ্চলে অনেক মেস বাড়ি আছে। এই মেসের বাসিন্দাদের রাতে ঘুমতে যাওয়ার আগে এক বিশেষ বৈঠক বসে। মুক্ত রাম স্ট্রীটের মেসে আরামে থাকতেন শিবরাম। মুক্ত বাতাস খেয়ে আর বিয়ের বাতাসা খাওয়ার চেষ্টা করেন নি। এই থেকে বোঝা যায় এই মেসের বাসিন্দারা কতটা দিলখুশ হয়ে থাকে। ঘন্টার পর ঘন্টা কোথা থেকে গলে যায় কেউ বুঝতে পারেনা। কি বিষয়ে তোলপাড় হবে তা আগে থাকতে বোঝা যায়না। সজীব সঞ্জীব চাট্টুর্যে ফসকরে শিবরামকে প্রশ্নকরে, আচ্ছা দাদা আপনি বিয়ে কেন করলেন না। শিবরাম নিজের টাকমাথায় টরে টক্কা বোল তুলে, বিরহের সুরে বলে, ওই আশায় আশায় বড়মাছ ধরবো বলে টোপ ফেললাম আশাপূর্ণার সামনে। আমার মনে হলো টোপ গিলেছে। ওমা। একদিন দেখি বিমল করের সঙ্গে কর ধরেই রঙ্গ-রসিকতা। আমি শিবঠাকুরের মতো রেগেমেগে তান্ডব নৃত্য করতে করতে স্থান ত্যাগ করলাম। রাগ কমলে এক সপ্তাহ বাদে বৃহস্পতিবারের বার বেলায় আশার সঙ্গে দেখা করলাম ওর লেখা নেবো ছুতো করে। ওরে বাবা। ও মেয়ে আরো সরেস। সিক্সথসেন্স অন্য মেয়েদের থেকে আরো বেশি। আশা নিজেই বললো, অশায় বাঁচে চাষা। সেদিন মনে হয় আপনি খুবই রাগ করেছেন। বোকামি করবেন না। করদা আমার কাকা হয়। আশার মাথায় গোঁজা গোলাপ ফুলটা সর্ষেফুল হয়ে গেল। আমি কি এতোই “ফুল” প্রেমিকার চোখের ভাষা, মুখের পরিভাষা পড়তে পারিনা। লীলা কর কিন্তু খোলামেলা লীলা কর-তে ভয় পেতনা। সরাসরি রায় দিতো, রায় পরিবারের মেয়ে বলে কথা।
সেদিন অবশ্যই আশা আমাকে “কাকু”দের নিয়ে এক অন্য আলোর সন্ধান দিয়েছে। আমাদের শাস্ত্রে রক্তে মামা-ভাগনে নিয়ে অনেক আলোচনা, গালভর্তি গল্পকথন আছে। মহাভারতটাই লেখা হতোনা যদিনা মাতুল শকুনি থাকতো। সেই থেকেই আমার মাথায় ঘুরছে ওই কাকা-ভাইপো বা পিসি-ভাইপোর কাহিনি অন্দর থেকে আমদরবারে এনে হিন্দোল সহযোগে আলোকিত করা, আলোচিত করে আলোড়িত করা।
শিবরাম রকের দেওয়ালে আরাম করে বসার জন্য ঠেস দিয়ে বলে, -ছোট বেলায় ভয় দেখানো হতো, মিথ্যেকথা বললে কালীঘাটের কুকুর হয়। কুকুর আর কাকু এক নয়। সৈয়দ মুজতবা আলী লেখে কম, আড্ডায় ও কথা বলে কম। আলিকে যখন প্রভা দেবি প্রশ্ন করে ছিল, “আপনি কেন কম লেখেন।“ আলী উত্তর দিয়েছিলেন, “বাঘদের বাচ্চা হয় কম, ভেড়াদের বাচ্চা হয় অগুনতি।“ সেই থেকে আলীর কানের কাছে অলির মত গুণ গুণ কেউ করেনা। ও নিজের ইচ্ছা হলে বলে, তা না হলে মুখ হাঁড়ি করেই বসেই থাকে। আলী গম্ভীর হয়ে বলে, কাকাবাবু’কে নিয়ে সুনীল কিছু লিখেছে। কিন্তু প্রথম থেকেই পিছিয়ে, প্রতিবন্ধী। তারাপদ রায় অনেক্ষন চুপচাপ বসে গলির মাথার উপর দিয়ে, ওই পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে দেখতে মনে ধাক্কা দিল- ওই বাঁশ বাগানের মাথার ওপর চাঁদ উঠেছে ওই, মাগো – বলতে বলতে বিচারপতির মতো তাড়াহুড়ো করে রায় ঘোষণা করে বলে উঠলো, “আমাদের সবার আশাপূর্ণ করে ওই “মাতাশ্রী”র থেকে কাকু”শ্রী ইতিহাস গড়বে। সাহিত্য, সিনেমায়, নাটকে, যাত্রায় “কাকু”দের রমরমা কেউই ঠেকাতে পারবেনা। কারণ মহাতীর্থ কালিঘাট জুড়ে গেছে এই কাকুর নামে। পৈতৃক নাম জানতো মমতাময়ী কাকিমা। কাকুর কাকিমা গত হয়েছে। এখন টেলিভিশনের ওই ঘন্টা খানেক সুমন্দ’র দৌলতে, ওই ক্ষেপা শিক্ষকের কপচানিতে সবাই জেনে গেছে, সেই শেক্সপিয়রের কথা, যিনি বলে গেছেন, -ওই নামে কি আসে যায়।
কালিঘাটের কাকুর কাহিনি কোনো অংশেই মহাভারতের থেকে কমতি নয়। তারাপদ গলগল করে বলতে থাকে, সাজানো কাকু ও সাজানো মালিক। কালিঘাটের কাকু। এই কাকু গর্ব করে জোর গলাতেই বলে আমি আসল মালিক নই। মালিকের টিকি তোমারা ছুঁতে পারবেনা। এমন কাকুটি কোথাও খুঁজে পাবেনাকো তুমি, সে যে আমার দেশের রাণীর – -“ যতো বিভাগের চুরি তার ভাগের মালামালের হিসেব রাখে এই কালিঘাটের কাকু। দেবী চৌধুরাণীর মত মমতাময়ী রাণী সবাইকেই সন্তুষ্ট করতে ভাগ বাঁটোয়ারা করে দেয়। ওই শুভ বুদ্ধিমান ব্যক্তির ভাগে কম পড়ায় ও জার্সি বদল করে হাটে হাড়িঁ ভেঙে দেয়। ফলস্বরূপ আদালত দায়িত্ব পেয়ে, এক তদন্ত কমিটি তৈরি করে দেয়। কালিঘাটের কাকু তদন্ত কমিটিকে বগল বাজিয়ে বলে, আমার কাছে এসেছো বেশ করেছো! কিন্তু আমার মালিকের নাগাল তোমরা পাবে না, পাবে না, যা যা বেহায়া পাখি অন্য কোথা যা না কেউ করেনি মানা।
তদন্তকারী অফিসার অনেক ঘাটের জল খেয়েছে। কিছু একটা করতেই হবে। ও তখন কাকুর অফিসের সব কমপিউটার ঘেঁটে ঘেঁটে শালীর মেয়েকে উচ্চশিক্ষার জন্য কোথায় চালান করা যায় তা খুঁজে বার করলো।
খবরের কাগজে এই খবর ছাপতেই শুভদা রেগে কাঁই। গালভরা বক্তব্যে বললো, বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষে আস্থা হারাবে। শুভকে সন্তুষ্ট করতে বিচারপতি তদন্ত কমিটিকে বলে, নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমলে চলবেনা। অপরাধীকে ধরতে হবে। তদন্ত কমিটির প্রধান ঝুনঝুন কুমার জেনে গেছে বাদি-বিবাদী নিজেদের মধ্যে সেটিং করে নিয়েছে, ওই যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা চালিয়ে যাবে। ওদিকে পিসি ভাইপোকে কানে কানে পরামর্শ দেয় এই সময়ে কিছু নগদা-নারায়ণ ওই ঝুনঝুনের ঝোলায় পুরে দে। ওই ঝুনঝুন কুমার তোকেই জোরদার ঝুমঝুমি বাজাবার সুযোগ করে দেবে।
ঝুনঝুন কুমার সমস্ত টিভি চ্যানেলর সাংবাদিকদের ডেকে বলল, কাকুর উপযুক্ত ভাইপোকে দিল্লীর দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে। সবচোরকে, দোষীকে সেঁকা রুটি বানিয়ে ছাড়বো। দিল্লীতে সাজ সাজ রব। সবাই উদ্বিগ্ন, “কি হয় কি হয়।“ পিসির ভাইপো ফুলহাতা কালো গেঞ্জির সঙ্গে মানান সই জিন্সের প্যান্ট, পায়ে সাদাজুতো পরে বিড়ালের মতো টুকুস করে গুহায় প্রবেশ করলো। জিঞ্জাসাবাদ চলছে তো চলছেই। সবাই ধরে নিয়েছে এবার নিশ্চয়ই জেলের লপসি খাওয়াবে।
ওমা। সারাভারতে টিভির প্রাইম টাইম রাত আটটা। ঠিক ওই সময়েই যুদ্ধজয়ীর মত হাত নাড়তে নাড়তে বেরিয়ে এসে সাংবাদিক সন্মেলন করে জানিয়ে দিল ওরা আমার সময় নস্ট করেছে। কাপের পর কাপ, ব্ল্যাককফি খাইয়ে আমার সঙ্গে খোশগল্প করছে। আমি ওখানে ওদের মুখের উপরে বলেছি, আপনাদেরকেও বলছি, কোনো দুর্নীতির দুর্নাম আমার উপরে আনবেন না। ওই বিচারক এলিজা ইম্পো কে দিয়ে নন্দকুমারের ফাঁসির অর্ডার করানো হয়েছিল। আমার জন্য কিছুই করতে হবেনা। আপনারা ফাঁসিকাঠ রেডি রাখবেন আমি ওই “দেখবে ভারতবাসী” গানটা গাইতে গাইতে ঝুলে পড়ব।
গুলি খেয়ে প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী মারা গেলে শায়িত শবদেহের প্রতি ভারতবাসীর যা নেকনজরে ছিল তার দশগুণ বেশি জনগণ জানতে পারলো ও প্রতক্ষ্য করল দেশপ্রেম কাকে বলে। কুমারঠুলির কারিগরিবিদ্যা সংগঠন ঘোষণা করলো আমরা বিনা বাক্য ব্যয়ে আবক্ষ মূর্তি করে দেব।
কুনালের পরামর্শে কালিঘাটের কাকু সরাসরি সাংবাদিক সন্মেলন করে ছিনালি গলায় বললো, টাকাই ধর্ম, টাকাই সব। টাকাই সবার মুখে সেলোটেপ হয়ে এঁটে যাবে। টাকাই তদন্ত মাঝপথের পাতালে হারিয়ে যাবে। লোক জড়ো করলে ঠেঙিয়ে শান্তিনিকেতনের অপার বাড়ি পার করে দেবো।
কালিঘাটের কুকুররা লজ্জায় লাল হয়ে মাথা নিচু করে ঘোরাফেরা করলেও কালিঘাটের কাকুর কোনো হেলদোল নেই। কাকু ওই চোরে চোরে মাসতুতো ভাই”কে ম্লান করে, পিসি-কাকু-ভাইপোর কতটা দৃঢ় গাঁটবন্ধন তা প্রমান করে ইতিহাস তৈরির জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সব চোরদের সঙ্গে সদ্ভাব। চোর কমিটির সক্রিয় সদস্য করে নিয়েছে। ফোনে ফোনে কথা তার সঙ্গে। সাংকেতিক ফোনে, সাংকেতিক নামে, সাংকেতিক অক্ষরে টাকা পয়সা লেনদেন হয়। তদন্তকারী আদালতে বারবার বলে কালিঘাটের কাকুর খোঁজ পাওয়া গেলেও তার স্যারের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীর নায়ক, আসলে তদন্ত ধামাচাপা দিতে টাকা খেয়ে ব’সে আছে!
এক ভদ্রমহিলা বিচারকের এজলাশে কাকুর কেস চলে আসে। কাকু মহানন্দে নেত্য করতে করতে বাজাতে বলে, হাতি ঘোড়া গেল তল। মশা বলে কত জল। মেয়ে জজ ও আমার াল ছিঁড়তে পারবেনা।
ওই কথায় বলে না ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। দশচক্রে ভগবান ও ভূত হয়ে যায়। সেই মহিলা বিচারক তার মাসিমা কনিকার সঙ্গে দেখা করতে সন্দেশখালি যায়। মাসির বাড়িতে রান্নাবান্নার কাজ করে কুসুম। কুসুম কয়েক বছর আগে বেশ কিছু টাকা ধার নিয়েছিল আবার শোধ ও দিয়ে দিয়েছিল। বিচারপতি কনিকা মাসির সঙ্গে গল্প করছে সেই সময়েই কনিকা মাসির কাছে কুসুম আবার টাকা ধার চায়। মাসি বলে, তোকে তো টাকা ধার দিয়েছিলাম। বলেছিলিস এইবারের বিপদ থেকে রক্ষা পেলে আর কোনোদিন টাকা ধার করতে হবেনা। কেন ধার চাইছিস তাও জানতে চাইনি। মহিলা মালকিন, মহিলা বিচারপতির সামনেই নিতান্তই কৌতূহলী হয়ে জানতে চান টাকা কেন দরকার। কুসুম বলে কাউকে বললে আমাদের পাড়ার সৎরঞ্জন আমাদের মেরে ফেলবে। আমার মেয়ে মাস্টারি পরীক্ষায় ভালো পরীক্ষা দিয়েছে। ওই সৎরঞ্জন বলেছিল একলাখ টাকা না দিলে ওর নাম কাটা যাবে। নাম কাটার আগেই কালিঘাটের কাকুর কাছে টাকা পৌঁছে দিতে হবে। আমরা টাকা দিই। ও চাকরি পায় এক আজ পাড়াগাঁয়ে, বাড়ি থেকে ছয় ঘন্টার রাস্তা। এখন বলেছে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিলে বাড়ির কাছাকাছি কোনো স্কুলে বদলি হয়ে যাবে।
কুসুমতো ঘুণাক্ষরে ও জানেনা এই সাদামাটা শাড়ি পরা ভদ্রমহিলা বিচারপতি, যার ক্ষমতা অনেক।মহিলা বিচারপতি সবকিছু ছানবিন করে বুঝতে পারলেন স্বয়ংপুলিশমন্ত্রীর হাত ওই কালিঘাটের কাকুর মাথায়।
কাকুকে ধরে এনে মহিলা বিচারপতি তদন্ত করতে গিয়ে পাওয়া কিছু কন্ঠস্বর কালিঘাটের কাকুর কন্ঠের সঙ্গে মিলছে কিনা জানার জন্য নোটিশ জারি করে দিলেন। কালিঘাটের কাকু এবার বেকায়দায়। উদ্ধার করে দিল ওর নাম না জানা স্যার ওকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেয়। গোপন রোগে আক্রান্ত, মুখ দিয়ে নাকি কথা বের হচ্ছে না? তদন্ত কমিটি আসে,আর হাসপাতাল তাকে ঘিরে রাখে। হাসপাতালের বড়কর্তা। চামচে ডাক্তাররা, প্রেসক্রিপশনে কাকুর কঠিন অজানা অসুখের জন্য হাসপাতালের বেডে শুয়ে বিশ্রাম করার সুপারিশ পত্র লিখে দেয়।
ওরা চলে ডালে ডালে মহিলা বিচারপতি চলে পাতায় পাতায়। নিরুপায় হয়ে তদন্তের গতি বাড়াতে, ওই তদন্ত কমিটির কর্তাকে মহিলা বিচারপতি ডেকে পাঠালেন। রুদ্ধদ্বারে ওই গৌরকান্তি সুঠাম যুবক পুরুষ কে কি নির্দেশ দিল কেউ জানতে পারলোনা। পেটোয়া সাংবাদিকরা রটিয়ে দিল, ওনারা কিছুক্ষণের জন্য “গোয়ার সুমদ্র সৈকত” পরিভ্রমণ করে এলেন। বিচারপতির স্বামী যে অসৎ তা প্রমাণ করতে অনেক তথ্য পুলিশ যোগাড় করেছে।
কোনো রাখঢাক নেই সবাই জেনে গেছে পিসির অনুপ্ররেণায় হাসপাতালের সঙ্গে কাকুর মনিবের অটুট গাঁটছড়া বন্ধন। তদন্ত কমিটির কর্তা দলবল নিয়ে হাসপাতালে ঢুকতে দেখেই সুপার ইর্মাজেন্সী হটমেইল করে “প্যঁক প্যঁক”কে। ওরা পরামর্শ দেয় তড়িঘড়ি কালিঘাটের কাকুকে এক মহিলার বেডে শুইয়ে দাও। তদন্তকারী যুবক বাকরুদ্ধ। হাতকাটা এপ্রোন পরে মহিলা নার্সরা ইনজেকশন নিয়ে ঘুরছে। যে কোনো সময়ে ওকে জড়িয়ে ধরে একটা ফটো তুলে নিলেই আমার জীবন শেষ হয়ে যাবে। সব বেগতিক দেখে অফিসার সরাসরি সব কথাই বলে দেয় মহিলা বিচারপতিকে। এটাও বলে দেয় এইজন্য আমাকে “কেস দেবেন না প্লীজ।“
মহিলা বিচারপতি সরাসরি সুপারর্ব সুপার হাসপাতালের স্বাস্থ্য সচিব কে ফোন করে জানতে চায়, কার সুপারিশে কাকুকে পিসিদের বিছানায় শোওয়ানো হচ্ছে। জন্মগত স্থান ও ভাষা তামিলনাডু এবং তামিল। বাংলা খেয়ে খেয়ে কোনো রকমে কিছু বাংলাকথা রপ্ত করে রপ্তানি করেছে ভেন্কটেশ রাও। ও বুঝতে না পেরে ইল্লে করতে থাকে। তখন বিচারপতি শুদ্ধতম ইংরেজিতে বিষয়টি বুঝিয়ে দেয়। সচিব সুপারের কাছে জানতে চায় এই জঘন্যতম সুপারিশ কে করেছে। সুপার বলে, সবইতো বুঝতে পারছেন। ওই গোয়েন্দার হাত থেকে বাঁচাবার কোন উপায় নেই। সব ঝালতো আমার উপরেই পড়বে। আমাকেই সন্দেশখালি বদলি করে দেবে ওই সন্দেশ খেতে।
ওই কথায় আছেনা যেখানেই বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যে হয়। ফোন ছাড়তেই রিংটোন বেজে উঠলো,”আমার আশা না পুরিল – – সকলই বিফলে যায় মা।“ ফোনটা ধরে হ্যলো বলতেই ও প্রান্ত থেকে প্রশ্ন? কালিঘাটের কাক্কুকে মহিলা বেডে আরও এক মহিলার সঙ্গে বেড শেয়ার করে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে কেন। সুপার বলে বেডের সংখ্যা কম, তাই জরুরি ভিত্তিতে ডাবল শেয়ারিং করা হয়েছে। বেড না পেলে রোগির পার্টির লোকজন হাসপাতাল ভাঙচুর করতো। আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি।
গম্ভীর গলায় ও প্রান্ত থেকে ভদ্রমহিলা বলে, ননসেন্স। আমি জাস্টিস ### বলছি। মাথাটা ঘুরেযায় সুপারের, তোতলাতে তোতলাতে বলে এখুনি আই সি ইউ তে শিফট করে দিচ্ছি। ও প্রান্ত থেকে বলে, যেখানেই শিফট করুন ওর ভয়েস রেকর্ড করার সব ব্যবস্থা করতে হবে। আমি অর্ডারে লিখে দিয়েছি। না করলে সুপারিশ করেছি, সুপারকেই চালান করে দেবে। মমতাময়ী মাকালির শরনাপন্ন হয়েও কোনো ফুল ফুটবে না। সুপার নিজের প্যান্ট ভিজিয়েই সব ব্যবস্থা করে দেয়।
তারাপদ রায়, রায় দিয়ে বললো,- এখন লাখ টাকার প্রশ্ন, “সবার উপরে মানুষ সত্য” কবে প্রমাণিত হবে।
তপন তরফদার। প্রেমবাজার, (আই আই টি) খড়্গপুর 721306
Very nice composition. L
অশেষ ধন্যবাদ
খুব সুন্দর। কবিতা গুল নতুন ভাবের।
খুব সুন্দর লেখা
একজন লেখক এর সব থেকে বড় প্রাপ্তি তার লেখা যদি পাঠক দের হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারে, যদি তাদের হৃদয়ে সেই…