কবিতা ঃ নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ ও নবাব আলীবর্দী খাঁ ঋদেনদিক মিত্রো ( ভারত )

Spread the love

কবিতা ঃ নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ ও নবাব আলীবর্দী খাঁ

ঋদেনদিক মিত্রো ( ভারত )

[ সবার নীচে কবিতা। আকর্শনীয় স্টাইলের ছন্দে অন্তমিলে ৪২৯ লাইন কবিতা। মাঝে-মাঝে বিজ্ঞাপনের জন্য ফাঁক বা বিজ্ঞাপন দেখে কবিতার শেষ ভাববেন না। ওয়েবসাইটে যে কোনো লেখা পড়তে হলে আগে পুরো ফাইল দেখে নেবেন শেষ অব্দি গিয়ে। তারপর পড়বেন। চোখও সেট হয়ে যাবে। ভালো লাগবে। লেখনির কোনো অংশ কারোর কাছে বিতর্কিত মনে হলে, বা অনুচিত মনে হলে সেটা কবি দায়ী। কিন্তু তা বলে তিনি অপরাধী নন। বরং বিপরীত চিন্তা কারোর থাকলে তিনি বা তাঁরা সেটাও যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করবেন।

কবিতাটি শুধু শিরোনামের সাথে মিলিত বিষয় নয়, ইতিহাস ও মানব জীবনের বিষয় নিয়ে লেখা। পড়তে-পড়তে জীবনের শ্বাসে আসবে একরকম সুস্থতা। ৪ দিনরাত প্রায় ১০০ (একশ) বার নানাভাবে কবিতাটাকে এদিক ওদিক করে গড়েছেন, বিরাট ইতিহাসকে কী করে মনোহারী সামঞ্জস্যতায় আনা যায়। অসম্ভব পরিশ্রমের এই সফলতাকে পাঠ করে কবিকে ধন্য করুন।]

|| কথিত আছে, নবাব মুর্শিদকুলি খাঁকে তাঁর অনুগত সাহায্যকারী আলীবর্দী খাঁ হত্যা করে নবাব হয়েছিলেন। ঘটনাটি মিথ্যা বলে ইতিহাসের তথ্য প্রমাণ সহ এই কবিতা লিখে প্রমাণ করেছেন।

কিন্তু হাওয়ায় ওড়া গল্পটি ছিল এটাই। দিল্লী থেকে একটি বেকার ছেলে চাকুরির জন্য নবাবের কাছে এলে, নবাব তাকে একশত টাকা বেতনের চাকুরি দেন। কিন্তু, পরে সেই ছেলে লোভি হয়ে সম্রাটকে কয়েকবার খুন করা চেষ্টা করে। এবং বারবার ধরা পড়ে। তবু নবাব তাকে ক্ষমা করে রাখেন। এর ফলাফল, তাঁকে তাঁর সাহায্যকারী ছেলেটির হাতে মরতে হয়। আর সেই ক্ষমতা লোভী ছেলেটা হল, নবাব আলীবর্দী। এই কাহিনী ২০২৩ সাল থেকে ঋদেনদিকের কাছে আসে, যখন তিনি নবাব সিরাজের ইতিহাস ও সেই ইতিহাস রক্ষার উপরে প্রচুর লিখে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান লাভ করেন। আর সেটা ২০২১ সাল থেকে করে আসছেন। ২০২৩ সালে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ ও নবাব আলীবর্দী খাঁ নিয়ে এই কাহিনী জেনে তিনি এই নিয়ে গবেষনায় ভাবতে থাকেন, চেতনে, অবচেতনে। তারপর সেটা এক সময় থিতিয়ে গিয়েছিল। তারপর নানা অবস্থানের মধ্য দিয়ে চলে আসে এই কাজ, প্রচুর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে এই সফলতা। ||

||A BENGALI POEM, NAWAB MURSHIDKULI KHAN-O-NAWAB ALIVARDI KHAN, 429 lines, by Ridendick Mitro, West Bengal, India, A poem on the debatable part of history, ever written in poem thus, by Ridendick Mitro, professionally, in Bengali, English, Spanish, a poet-novelist-lyricist-columnist, also a scientist in many subjects, made HISTORY MATH, MATH POETRY, LARGEST LINED SONNETS IN THE WORLD, and so on. A social reformer and a worker in world peace.

He started works on this subject since in the middle of 2021, with the enthusiastic support by Journalist-researcher Manas Sinha, and erudite woman Samarpita Dutta, including more journalist-researchers Wasim, Nil, and Sovan Sarkar and equally others, and movement makers. All of their supports made his structure wonderful on this ocean like wide subject. Also with the support of “Nawab Siraj-ud-daulah Mukta Vidyaloy Khoshbag”.

At the same time, other researcher-journalist of Bangladesh, Salahuddin Sumon, and many others from both Bangladesh and India, have given various feelings, knowledge, and inspiration which led to the success of this work.

But, this particular thought on 2 senior Nawabs for this subject came in 2023, after repeatedly seeing the propaganda that “Nawab Murshid kuli Khan was killed by his servant Alivardi, who then became Nawab.”

For so many years, consciously and subconsciously, he kept thinking about it — what is the real truth? After gathering various facts, understanding them, and working day and night on 15,16,17 July 2026, he presents this poem as a gift to all of us.

The author’s other work on Nawab Siraj and the related history and the movement to protect that history — a rhymed poem “EL POEMA DEL NAWAB SIRAJ UD-DAULAH DE INDIA CON LOS INGLESES” of nearly one hundred lines in the Spanish language — was published earlier in a world-famous periodical “AZAHAR”, bi-monthly, Issue -136, June, 2025, Page 443/512, in Spain. Editor : Jose Luis Rubio.

He is the first to take this subject to the Spanish-speaking world — the world’s second largest language group. That is the information we have so far.

Beyond this, there is also a 10,000-line epic, side by side novels, songs and much more — published and yet to be published — solely on this subject.

This poem is the fruit of that experience and expertise in all those creations. That must be understood. You will find more details in the bio below.

The problem of Bengal, he is giving the first gift to Bengal itself. Later, he will think about and work on how to write this poem in English securing its actual taste, he said to the editor.||

কবিতা ঃ নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ ও নবাব আলীবর্দী খাঁ
[ ৪২৯ লাইন কবিতা ]
ঋদেনদিক মিত্রো ( কলকাতা, ভারত )


আমরা পড়ি সবাই ইতিহাস,
কেউ কি ভাবি, কে কিভাবে বানায় বোকা দাস?
যুগে-যুগে এমনি করে —
কত যে বই ভুলে ভ’রে —
ছিল, আছে, থাকবে আরো, কত বছর মাস,
কেউ কি ভাবি, কে কিভাবে বানায় বোকা দাস?

এসো এমন করে আনি একটি ঘটনা,
সত্যি সেটা কতখানি, কিংবা রটনা,
মুক্ত হয়ে বিচার করে —
সিদ্ধান্ত নেবো গড়ে,
জানব জানার মতো করে, বোকার মতো না।


সত্য কী, বলব পরে, আগের গল্প হোক :

নবাব মুর্শিদকুলির কাছে দিল্লি থেকে যুবক —
চাকরি খুঁজে এসে দাবি করে বাঁচার পথ,
নবাব তখন নেন মানিয়ে,
একশো টাকার বেতন দিয়ে —
ভুখা ছেলেটাকে বাঁচান, বুঝেন যখন সৎ।

সেই ছেলেটি পরে-পরে হল চতুর ধূর্ত,
সেই ছেলেটি তার প্রভুকে করে দিতে লুপ্ত,
কয়েকটা বার চেষ্টা করে —
খুনের চেষ্টা — সুযোগ ধরে,
নবাব তাকে ক্ষমা করে, কাজে রাখেন যুক্ত।

সেই ছেলেটি আলীবর্দী খাঁ বলেই খ্যাত,
তিনি নবাব সিরাজেরই দাদু বলে জ্ঞাত,
সেই ছেলেটি অবশেষে
সফল হলো কার্যে এসে,
প্রভুকে খুন করে নাকি, পদ নিয়ে বিখ্যাত।

সেই পদটা নবাবি, আর আলীবর্দী তিনি,
নবাব মুর্শিদকে মেরে, নবাব নাকি যিনি।
এই কাহিনী হাওয়ায় উড়ে
আমাদেরই মাথার চূড়ে
বসে গিয়ে খেলছে কেমন আচ্ছা ছিনিমিনি।


এবার বলি আমার জানা কাহিনী এক টানে:

আমার জানা সত্য যেটা, ঢুকিয়ে নাও প্রাণে,
ঘটনাটা খুলে বলি এখন এখানে।
মুর্শিদকুলির জন্ম নাম
কৃষ্ণদাস, বৈশ্য-মান,
জন্ম ১৬৭০-এ দাক্ষিণাত্যে, দেবগিরি, দেক্কানে।

গরিব বলে বিক্রি হলেন কৃতদাস হয়ে,
তখন ছিল দুর্ভিক্ষ, সেই জ্বালা কার সহে,
পারসিয়ান এক বনিক এসে
ছেলেটিকে কিনে, শেষে —
ইসলামেতে এনে কাছে টানেন রয়ে সয়ে।

হাজি শফি, পারসিয়ান সেই বনিকের নাম,
কার দ্বারা কে কোথা কী পায়, কোনখানে হয় স্থান,
এসব গল্প থেকে বুঝি,
যে যা করো পেটের রুজি,
সঠিক এবং সতর্কতায় বাঁচাই আসল দাম।

কৃষ্ণ দাস না, কেউ বলে সূর্যনারায়ণ মিশ্র,
ব্রাহ্মনেরই ছেলে ছিলেন, অতি গরীব নিঃস্ব,
গল্প যেটা যেমনি হোক,
হিন্দু ঘরে জন্মের ছক,
কোনো ঘটনাতে হলেন ইসলামেতে স্পৃশ্য।

কেউবা বলে এই ছেলেটি এতটাই সুন্দর,
কুঁয়াতে জল আনতে এসে হাজির মেয়ে বিভোর,
বাবার কাছে দৌড়ে গিয়ে —
দাবী করে করবে বিয়ে —
যে ছেলেটি কুয়ার আছে, দাঁড়িয়ে আছে ঘোর।

দৃশ্যগুলি কেমন ছিল, সেই কালে সেই রূপে,
কল্পনাতে গড়ে তুলি দৃশ্যগুলি সুখে,
তারপরে যা ঘটল সবি,
চোখে যেন হচ্ছে ছবি,
সব কথা কি যায় গো বলা, ভাষা দিয়েই মুখে।


হাজি শফি ইসলামে ধর্মান্তর করায় —
কৃষ্ণ বা সূর্য — মুহাম্মদ হাদি নাম পায়,
আওরঙ্গজেব তাকে যখন
বাংলায় দেওয়ান করেন তখন —
মুর্শিদকুলি খাঁ উপাধী দিয়ে পাঠান বাংলায়।

সম্রাট ফারুকশিয়ার যখন করেন নবাব,
নবাব নাজিম জুড়ে দিলেন, যেটা পদের প্রভাব,
মনে রাখো পরে-পরে —
কোন্ নামে কী বদল করে —
শেষে কোথায় কী দাঁড়ালো, থেকো তুমি সজাগ।


পরে-পরে ছেলেটিকে আরো বুঝে চিনে–
হাজি শফি বড় করে তোলেন দিনে-দিনে।
ছেলেটিও বুদ্ধি বলে —
একটা সময় গেল চলে —
মুগল দরবারে, এবং মনগুলো নেয় কিনে।

সতেরশো সালে সম্রাট আওরঙ্গজেব তাকে
বাংলার দেওয়ান করে পাঠান বাংলাতে,
পরে সম্রাট ফারুকশিয়ার
১৭১৭-য় তার —
পদটা দিলেন নবাব নাজিম, বাংলা-বিহার-উড়িষ্যাতে।


এই ফারুকশিয়ার কে, ইতিহাস জানায়,
জন্ম, ২o আগষ্ট ১৬৮৩ সালটায়
আওরঙ্গাবাদ দাক্ষিনাত্যে,
সম্রাট আওরঙ্গজেবের সাথে —
সম্পর্ক কেমন করে বলি দু কথায়।

আওরঙ্গজেবের পুত্র প্রথম বাহাদুর শাহের
মৃত্যুর পর ঝগড়া শুরু হয় পুত্রদিগের,
সিংহাসনে কে বসবেন,
জাহান্দার সাহ আসেন,
মাত্র এগারো মাসের আয়ু, তাঁর শাসন কালের।

আওরঙ্গজেবের অন্য পুত্র আজিম উস শান,
বাংলারই নবাব রূপে শুনেছি যাঁর নাম,
তাঁরই ছেলে ফারুকশিয়ার
তিনিই খুনি নিজ কাকার,
মানে জাহান্দারকে মেরে, সম্রাট হয়ে যান।

ফারুকশিয়ার সম্রাট হন, পেলেন না তো সুখ,
তাঁকে আবার মেরে দিতে বাকিরা উন্মুখ।
সম্রাট হয়ে সাথে-সাথে
পড়েন ভাতৃচক্র-পাকে,
ভাইয়েরা তাঁকে মারে, যখন ৩৫ বছর।


৯ই এপ্রিল ১৭১৯-এ তিনি খুন,
ভালো মানুষ হয়ে ওঠায় ভাইয়েরা আগুন।
অন্তরীণে রেখে, পরে —
নিষ্ঠুরতায় হত্যা করে,
সেসব কাহিনী শুনলে, ভাঙে রাতের ঘুম।

আসলে এক বোকা কথায় মানুষ দেখি মজে,
বাবার হইল আবার জ্বর সারিল ঔষধে,
এর মধ্যে অল্প ক্ষনে
কারা কবে সিংহাসনে
এসে বসে হারিয়ে গেছেন, নেই হিসেবে যোগে।


এবার আসি ঘটনাতে কোথায় হীতাহীত —

তখন বড়, পরিনত নবাব মুর্শিদ,
নানা ভালো কাজেই যে তাঁর চেষ্টা এবং জিদ,
প্রজাদিগে সুখে রাখা,
শাসনেতে কঠোর থাকা,
ক্ষিপ্র মেধায় বুঝে ওঠেন রাজ্যে নানা দিক।

কিন্তু তিনি মুঘলদেরই প্রতি বিরক্ত,
কেমন করে প্রজাদেরই টাকায় ভোগে মত্ত,
মুঘলদের ওই হাতের ছড়ি,
লাল চক্ষুর চড়াচড়ি —
এড়িয়ে যেতে বুদ্ধি খাটান, বাঁচাতে অর্থ।

বাংলা, বিহার, উড়িষ্যাকে পরপর দিন-দিন —
করতে থাকেন কায়দা করে এক-এক পা স্বাধীন,
ভোর চারটায় উঠে এবার
সময় মেপে কাজটা করার
রুটিন মেনে চলা ছিল, নিখুঁত ও সৌখিন।

সকল হিসেব খাতা তিনি দেখে যেতেন সোজা,
খাবার খেতেন খুব সাধারণ, যেন তিনিই প্রজা।
সময় মত শুতে যাওয়া,
সময় মতো নাওয়া, খাওয়া,
কোনো দিকেই ছিলনা তাঁর জোড়াতালি গোঁজা।


এলো সেদিন, ৩০শে জুন সতেরোশো সাতাস,
নবাব মুর্শিদকুলি খাঁয়ের হল শেষ নিঃশ্বাস,
তখন জামাই সুজাউদ্দিন —
নবাব হলেন সুদীর্ঘ দিন,
সতেরোশো উনচল্লিশ, বারো বছর দু মাস।

ছাব্বিশে আগষ্ট সুজাউদ্দিনেরই শেষ,
মুর্শিদকুলি খাঁয়ের নাতি সরফরাজও বেশ
সহজ পথে নবাব হলেন,
ভোগ বিলাসে তিনি চলেন,
মানেন না তো কোনোভাবেই কারোর উপদেশ।

দাদু মুর্শিদকুলি খাঁয়ের নাতি হয়েও বা কী,
দাদুর সুনাম ডুবিয়ে দিয়ে দেশের কাজে ফাঁকি।
এবার শোনো দুকান খুলে
তথ্যগুলো না যাও ভুলে,
আলীবর্দী নামে কেউ বিহারে পাকাপাকি —

নায়িব নাজিম হয়ে তিনি সরফরাজের অধীন,
সরফরাজকে বুঝিয়ে চলেন প্রায় প্রতিটি দিন,
সরফরাজের নিষ্ঠুরতায়
প্রজারা সব তীব্র জ্বালায়
অসহায়তায় দিন কাটে, অতীব সঙীন।

১০
আলীবর্দী প্রজাদেরই জন্য ভেবে দেখেন,
সরফরাজ তবুও যখন অনুরোধ না শোনেন,
সতেরশো চল্লিশ সাল,
১০ই এপ্রিল, তারিখটা কাল,
গিরিয়ার যুদ্ধে সরফরাজকে মেরে ফেলেন।

সেই গল্প উল্টো হলো, নেই কোনো তার জবাব,
আলীবর্দী মুর্শিদকে মেরে নাকি নবাব।
কবে গেলেন মুর্শিদকুলি,
কবে এলেন আলীবর্দী,
অংকটা না কষে দেখা, আমাদেরই স্বভাব।

১১
এবার বলি, আলীবর্দী নিয়ে আরো তথ্য,
বেকার ছেলের মুর্শিদাবাদ আসাটা নয় সত্য,
আলীবর্দী নাম পরে পান —
নিজের পরিশ্রমেরই দাম,
কী করে যে নবাব হলেন, সেই ইতিহাস অস্ত।

১২
তাঁরই আসল নামটা মির্জা মুহম্মদ আলি,
জন্ম খুলনা জেলার মাঝে গ্রামটা বুরুখালি,
ষোলশো একাত্তর সাল,
সময়টা আন্দাজকাল,
জন্মেছিলেন ধনী বাড়ি, নয় বাগানের মালি।

সঠিক জন্ম স্থানটা হল দৌলতাবাদ, বিহার,
কর্মসূত্রে তিনি হলেন আধিকারিক, পাটনার।
তবে এটা সঠিক জানি,
তাঁকে ধনীর ছেলে মানি,
কারণ যে তাঁর বাবা ছিলেন বড় অফিসার।

১৩
তাঁর বুদ্ধিমান কাকা ভাইপোতে খুব টান,
সঙ্গে নিয়ে দিল্লি দরবারে তিনি যান,
ভাইপোকে সাজিয়ে নিয়ে
কথাবার্তা বুঝিয়ে দিয়ে —
দিল্লি দরবারে গেলেন, যেভাবে সন্ধান।

সেথায় থাকার কথা নবাব আজিম উস শানের,
আজিম ছিলেন বাংলা-নবাব, মনটা উঁচু ঢের,
তাঁকেই যুবক আলীবর্দী
জমিয়ে দিয়ে সোজাসুজি —
কাকার সামনে চাকুরি পাওয়া, কী যে আনন্দের।

১৪
মুর্শিদকুলির ঢের আগে নবাব আজিম শান,
এই কথাটা রাখবে মনে, সতর্ক থাক কান,
শানের দ্বারা যে ছেলেটি
চাকরি পেয়েছিল, সেটি
মির্জা মুহম্মদ আলী, মানে আলীবর্দী খাঁন।

১৫
এবার গুলাবে না আর, মাথায় এলো স্বস্থি—

সেই চাকুরি ছোট পদের, কিন্তু আলীবর্দী —
পরিশ্রম ও সততাতে জমিয়ে তোলেন সত্যি।
নবাব আজিম খুশি হলে,
মির্জা আলির নাম বদলে
আলীবর্দী নামটা রাখেন, হয়ে স্নেহবর্তি।

১৬
সতেরশো বারো সালে আজিম মারা যান,
পরে খুরশিদ জঙ্গ, অন্য সরফরাজ, ও জাফরখান —
স্বল্প সময় থেকে-থেকে,
সময় ঘুরে এঁকে বেঁকে
মুর্শিদকুলি নবাব হলেন, পেলেন নিজের দাম।

পরে নবাব মুর্শিদকুলি মারা যাবার পরে,
জামাই সুজাউদ্দিন নবাব পরের ধারা ধরে,
বারে-বারে বুঝিয়ে বলা,
কাহিনীটার যেমন চলা,
বুঝতে হবে, খেয়াল রেখে অক্ষরে-অক্ষরে।

বুঝা গেল, মারা যেতে মুর্শিদকুলি খান,
জামাই সুজাউদ্দিন এবার নবাব হয়ে যান,
আলীবর্দীকেই টেনে
নায়িব নাজিম পদে এনে —
বিহারেই রেখে দিলেন কর্মে অবস্থান।

১৭২৮ সাল, তখন, রাখো হিসাব,
বিহারেই আলীবর্দীর কর্ম স্থল লাভ,
কাহিনীটা ঘুরে-ঘুরে —
হচ্ছে যেন কাছে দূরে,
চিন্তা করে ধরে-ধরে তথ্যে থাকো সজাগ।

আলীবর্দীর প্রথম কাজ আজিম-দরবারে,
পরে উনি বিহার গেলেন পদটা অফিসারে,
ছোট অফিসারে ছিলেন,
সুজাউদ্দিন নায়িব দিলেন,
সেটাও ফের বিহারে হয়, দায়িত্ব-ভারে।

কারণ আলীবর্দী খাঁ মারাঠা আর চুয়াড় —
এই দুইটি বিদ্রোহকে ঠেকিয়ে বারবার —
দক্ষতাতে সফল হয়ে —
বারেবারে তীব্র জয়ে —
জনপ্রিয় হয়েছিলেন আগেই চমৎকার।

১৭
এখন একটা প্রশ্ন, মুর্শিদকুলি খাঁর সাথে —
দেখা যদি না হয়েছে আলীবর্দীর সাক্ষাতে —
আলীবর্দীর সঙ্গে কেমন
সুজাউদ্দিনের এমন
সম্পর্ক হয়ে পদটা দিলেন হাতেনাতে।

এর পিছনে কাহিনীটা আরো একটু গভীর,
বিহারেই কাজ করতেন, মূল দুই সের বীর,
মুর্শিদকুলি উঁচু পদে–
আলীবর্দী নীচু পদে,
পার্থক্যে সমুদ্রের দুই দিকে দুই তীর।

দুই জনেতে দেখা কথা, হয়নি কোনো দিন,
হয়েও যদি থাকে, সেটা মুহুর্ত ও ক্ষীণ,
সুজাউদ্দিন যোগ্য দেখে
লোককে খুঁজে বুঝে, চেখে,
আলীবর্দীকেই আনেন নিজের কাছে অধীন।

১৮
এর মধ্যেও আছে জটিল আর কয়টা কী কী,
নবাব আজিম উসের পরে মুর্শিদ আসেননি।
দিল্লী থেকে অস্থায়ী তিন
ভাড়া নবাব বেশ কিছুদিন
চালানোর পরেই আসে মুর্শিদ নামটি।

খুরশিদ জঙ্গ, ১৭১২ থেকে ১৩,
অন্য এক সরফরাজ, মাত্র ক’মাস এঁরও,
সতেরশো চৌদ্দ সালেই
জাফর খান আসার সাথেই
সতেরো সতেরো ‘বধি, লাভ হয় মানুষেরও।

জাফর ঠিক ভাড়াটে নন, অভিজ্ঞ একজন,
নবাব হবার আগে দেওয়ান ছিলেন, নরম মন,
ছিলেন প্রজার উপকারেই,
কিন্তু তিনি বয়েস ভারেই
মারা যেতে মুর্শিদ খাঁ তখন নবাব হন।

১৯
ঘটনাটা বোঝা গেল, আর হবে না ক্রুদ্ধ—

এই ঘটনার অনেক পরে গিরিয়ার যুদ্ধ,
আগেই সেটা বলেছি তো, হয়েছিলে মুগ্ধ,
এটাই হল সত্য আসল,
বুঝলে এবার, কী বেনোজল —
ইতিহাসে ঢুকে করেছিল চিন্তা রুদ্ধ।

এবার বোঝো, মুর্শিদকে চাকর আলীবর্দী —
কী করে আর কবে কেমন খুন করে পান উর্দি।
আমারও ভুল হলো যদি —
প্রমাণ আনো সঠিক ছবি —
ইতিহাসের তথ্যে কোথায় ভুল হল এই অব্দি।

২০
যারা বলেন, আলীবর্দীর নাতি সিরাজউদ্দৌলা,
তাঁকে নিয়ে কিসের এত প্রেমের রসোগোল্লা,
মুর্শিদকুলি খাঁয়ের নাতি
থাকলে হতো আরো খ্যাতি,
তাঁরা নাতি সরফরাজে দেবেন কি আর তোল্লা?

২১
জ্ঞান চর্চায় পক্ষপাত সেটাই অজ্ঞানতা,
ভুলকে নিয়ে শান্তি হলে, বোধের অক্ষমতা,
মুক্ত হয়ে ভাবি এসো,
বিবেক থেকে জাগি এসো,
যে যেমনি করে গেছেন, তেমনি বলি কথা।

ইতিহাসকে পড়া যাদের নাকি সহজ কাজ,
তাদেরই আর যাই থাকনা, নেই তো কোনো লাজ,
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের
মতন মাথা সত্যি তাঁদের,
ইতিহাসে থাকেন যাঁরা, তাঁরাই জ্ঞানের রাজ।

ইতিহাসের গবেষকে যদি এমন মাপি,
বিশ্বে সেদিন শিক্ষা হবে, শুদ্ধ এবং খাঁটি।

লোকে বলে অংকে ভোঁতা, পড়ুক ইতিহাস,
এখন কী টা মনে হলো,
সারেন্ডারে দু হাত তোলো,
অংকে মাথাই খেলতে পারে ইতিহাসের তাস।

২২
সবাই কি আর কথা বলে — পক্ষপাতের মন্ত্র?
আসলে সব ভুল রটনায় ছিল ষড়যন্ত্র,
নবাব সিরাজ বিশ্ব জুড়ে
সুনাম পেলেন পাহাড় চূড়ে,
তাঁকে ছোট করার দায়ে ছিল অনেক চক্র।

সিরাজ প্রাসাদ মন্সুরগঞ্জ, নাম আজ হীরাঝিল,
সেই জায়গা লুকিয়ে রেখে উল্টে গেল চিল,
ভাগীরথীর পশ্চিমেতে
সিরাজ-প্রাসাদটাকে রেখে —
পূর্ব দিকে হাজারদুয়ারিটায় দিলো মিল।

২৩
নবাব সিরাজ হত্যা হবার কয়েক দশক পর,
নবাব নাজিম হুমায়ুম শাহ, বংশ মিরজাফর,
হাজারদুয়ারিকে গড়েন —
বিদেশী স্থাপতিরা করেন,
সেটাই সিরাজেরই প্রাসাদ, বলেই প্রচার জোর।

২৪
এত খেলা যারা খেলে এত বছর ধরে,
তারাই তো বেশ সিরাজকে কলংকিত করে,
সিরাজ মানুষ, জীবন পথে–
দোষত্রুটি তো ছিল বটে,
তাই বলে কি গুণগুলিও দোষের রূপ ধরে?

এমনভাবে প্রচার চলে সিরাজ যেন তুচ্ছ,
তিনি ছাড়া আর যদি সব সকল গুণে উচ্চ,
তাঁদের নামের তালিকা কই,
সেটাই তো আর পাচ্ছি না ওই,
তাঁরই মুকুট থেকে শুধু ছিঁড়ছে ময়ূর-পুচ্ছ।

২৫
নবাব সিরাজের ইতিহাস রক্ষা নিয়ে কেমন —
সুবিখ্যাত হীরাঝিল Save আন্দোলন,
কবর স্থান যে খোসবাগ,
সেটাও রক্ষাতেও সজাগ —
খোসবাগ রক্ষা করার জন্য আয়োজন।

কত সংস্থা একত্র, আর কেউ বা পৃথক মতো,
এই ইতিহাস নিয়ে কাজে রয়েছে জাগ্রত,
দেশবিদেশের কত হৃদয় —
জ্ঞান চর্চায় করছে বিজয়,
নবাব সিরাজ সহ আরো কত দিকেই ব্রত।

পলাসির প্রান্তরেতে কত আলো, আধাঁর,
কত ছবি ভেসে ওঠে, অনুভূতির আহার,
সিরাজ নিয়ে আরো কত
চারিদিকে স্মৃতি যত —
তাছাড়াও আরো নানা ইতিহাসের পাহাড়।

তাদের উপর সূর্য পড়ে ওই করে ঝিলমিল,
ভারত, বিশ্বে সব ইতিহাস খোঁজো তো তিল-তিল,
যে ইতিহাস হোক না সেটা,
অনুভূতির সুদূর রেখা —
নিরিবিলি সমুদ্রেরই মতন অনাবিল।

সিরাজেরই সহ যোদ্ধা, তাঁদের ত্যাগের কথা,
শুনলে যেন লাগবে চোখে ভোরের রোদের চ্ছটা,
তোমার পাড়ায় কোন্ কাহিনী,
তার কাছেও তুমি ঋণী,
অনুভূতির গভীরতায় বোধের আলোকলতা।

বড় কাজে বড় বাধা, বড় কাজের কারণ,
প্রতি পদে সুক্ষ্ম বিচার, ধৈর্যটাকে ধারণ,
পর্বতেরই শিখরেতে,
বা, সমুদ্রের মাঝেতে —
যত যাবে, কত বাধা, কত রকম তাড়ন।

সবাইকে তো এড়িয়ে গিয়েই তোমারই বিজয়,
বড় কাজে বড় আশির্বাদ তো আছে, কী ভয়!
কত রকম ফলাফলে —
ভরে যাবে চোখের জলে,
সেটাই তোমার চলার প্রমাণ, প্রমান দেয় সময়।

নবাব সিরাজকে নিয়ে যেসব আন্দোলন,
প্রতত্নত্ব বিভাগ দিল মনের সমর্থন,
মানুষ থাকে চুপিচুপি —
ভালো কাজেই হয় সে সুখি,
এমন মানুষ না থাকলে, থাকতো কি এ-জীবন!

এই ইতিহাস রক্ষা করার জন্য আন্দোলনে —
কাছে দূরে যাঁরা আছেন কাজে, সমর্থনে,
তাঁরাই চান মুক্ত সত্যে
দেশ, বিশ্বে সকল অর্থে —
সব ইতিহাস রক্ষা করা, হোন নবজাগরণে।

নবাব মুর্শিদকুলি খাঁয়ের বংশধর যাঁরা,
নবাব আলীবর্দী নিয়ে ক্ষোভে আত্মহারা,
খুব স্বাভাবিক ছিল কারণ,
এবার হবে অপসারণ —
ভুল ইতিহাস মুক্ত হবেন এই কবিতার দ্বারা।

২৬
সবার জন্য বলি, ফলের আগে কুঁড়ি ফুল,

ইতিহাসে নেই যদি মন, তোমার শিক্ষা ভুল,
যেখানে হোক, ইতিহাসে হও যদি আকুল,
সেটাই তোমার শিক্ষা প্রমাণ,
তখন হবে সত্যি মহান,
বুঝবে তুমি মানব জন্ম কিসের সমতুল।

পশু, পাখি, কীট, বৃক্ষে আসবে ভালোবাসা,
অনুভূতি যদি থাকে ইতিহাসেই ভাসা,
রাষ্ট্র কেমন করে চলে,
কেন কোথায় কী ফল ফলে,
এসব নিয়ে বুঝবে তখন বিশ্বে সকল পাশা।

তাই ইতিহাস নয় কো শখের ভাবের চলাফেরা,
ইতিহাসে দরদ মানেই জীবনটাকে গড়া,
মানুষ রূপ ও জ্ঞান-এর মিলে —
জীবনটাকে কী সুখ দিলে,
পূর্ণ জ্ঞানী হতে হলে, চাই ইতিহাস পড়া।

যে বিষয়েই পড়ে তুমি, নাও হে বিরাট ডিগ্রি,
ইতিহাসের চর্চা ছাড়া হয়না বোধের বৃদ্ধি,
ইতিহাসই দূরকে টানে —
অনুভূতির চরম জ্ঞানে,
ইতিহাসের বোধ ছাড়া নেই সুদূর জ্ঞানের সিদ্ধি।

২৭
এই ইতিহাস নিয়ে আদৌ দিইনা বিজ্ঞাপন,
এই কয়জন কি শুধু ঐতিহাসিক ধন,
এঁরা নানা কারণ দ্বারায় —
বিশেষ ইতিহাসের ধারায় —
বারেবারে আলোচনায় হয়েন জাগরণ।

ভারতবর্ষ কত কালের ইতিহাসে ভরা,
সারা জীবন জেনেও শেষ হবে না বই পড়া,
মুর্শিদাবাদ জেলাটাতেই
কত ইতিহাস যে আছেই,
রাজা শশাঙ্কক যে কত গৌরবেতে ভরা।

নবাব সিরাজ হলেন এমন মাঝেরই মাধ্যম,
তাঁর পিছনে মধ্য এবং প্রাচীন শিহরণ,
তাঁর সামনে যুগ আধুনিক,
বলছি কি ভুল, নাকি সঠিক,
আরো নানা কারণেতে, বিশেষ জাগরণ।

অন্যদিকে তাঁর যে দাদু নবাব আলীবর্দী,
একই সাথে মিশে নবাব মুর্শিদকুলির ছবি,
তাঁদের নিয়ে চর্চা এসে
আর বাকিদের দূর উদ্দেশ্যে —
বিষয়গুলির প্রতি দিশা হয় যে মনযোগী।

যাঁরা বলেন, সিরাজকে করি কেন হিরো,
তাঁদের বলি, সিরাজকে তো করেই দিও জিরো,
জিরো থেকেও শুরু সবই,
এটাও সত্য মানো যদি,
সিরাজ থেকে শুরু করা ভুল করেছি, কি গো?

ইতিহাস নিয়ে বহু তর্ক আছে বেশ,
কত সত্য খুঁজে পাই, ও কত নিরুদ্দেশ,

সেসব কথা অনেক আছে, জানবে পরে-পরে,
প্রশ্নমালা ছুঁড়ে দিলে কাদের ধরে জ্বরে?

ইতিহাসে ভালোবাসা, ইচ্ছে কি নেই তোমার,
নিজের প্রতি ভালোবাসা, সেটা তো দরকার।
সেই কারণেই ইতিহাসে —
আসতে হবে মন-বিকাশে,
সেজন্যই প্রয়োজন, চর্চা — দূরুহতার।

দেখো কাছের ভবিষ্যৎ, সামনে দুচোখ দিয়ে,
পিছনের গল্পগুলি দেখবে কী নিয়ে,
সেটাই হল চেতনা-চোখ,
যার যতটা বাড়ে আলোক,
সামনে সুদূর দেখবে তখন দূরবীন লাগিয়ে।

ইতিহাসকে পড়া, বোঝা, আভিজাত গৌরব,
সবাই কি আর পারে এসব করতে অনুভব,
রক্ত তত শুদ্ধ প্রমাণ,
ইতিহাসে যতটা টান,
ইতিহাসের চর্চা কাটায় রক্ত দুষন সব।

ইতিহাসের মানে তুমি জানো তা কি ঠিক,
ইতিহাসের মানে হলো বিজ্ঞানের লিরিক।

 

————————————–
(১৫, ১৬, ১৭, ১৮ জুলাই, শুভ রথযাত্রা কাল, ২০২৬)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

💬 Chat on WhatsApp