
পঞ্চকোট পাহাড়ের কোলঘেঁষে বিরিঞ্চিনাথ ধাম
*************
(ভ্রমণগদ্য)
রাজকুমার সরকার
ঝাড়খণ্ড
———–
‘বিরিঞ্চিনাথ ধাম’ নামটা শুনেছিলাম বন্ধু অসীম কুমার দে-এর কাছে অনেকদিন আগেই। একবার যেতেই হবে এ চিন্তা মাথার মধ্যে ছিলই…
অসীম ঠিক একদিন (৮ই নভেম্বর,২০২৫)
ফোন করে বললো বিরিঞ্চিনাথ ধাম যাবে নাকি?
আগামীকাল উৎসব আছে?
সঙ্গে সঙ্গেই হ্যাঁ বলে দিলাম। আসলে জায়গা দেখার শখ আমার চিরদিনেরই।বাবা বলতেন বই-এ পড়া এক জিনিস এবং স্বচক্ষে ঘুরে দেখা আলাদা জিনিস। জায়গা ঘুরে দেখলে সব বুঝতে পারা যায় এবং তা চিরকাল মনে থাকে।তাই সাধারণত চেষ্টা করি কাছেপিঠের জায়গাগুলো ঘুরে দেখার।
৯ই নভেম্বর,২০২৫ ঠিক সকাল বেলায় স্নান সেরে মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম বিরিঞ্চিনাথ ধামের পথে…
মোকো গ্রাম থেকে দুধিয়া মোড় হয়ে শালুকচাপড়া গ্রাম পৌঁছে গেলাম। সেখানে বন্ধু অসীমকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম। পিন্ড্রাহাট,কেলিয়াশোল হয়ে চিরকুণ্ডামুখী রাস্তায় চলতে লাগলাম। পাতলাবাড়ি মোড় পৌঁছে ডানদিকে পাঞ্চেত ড্যাম পার হয়ে পুয়াপুর, রানীপুর হয়ে সরবড়ি মোড় পৌঁছলাম। সেখান থেকে ডানদিকের পথটি ধরলাম যে পথ সোজা পুরুলিয়া যাচ্ছে। খানিকটা দূরে গিয়ে ডানদিকে দেখতে পেলাম শাকম্বরী ইস্পাত কারখানার গেট। শাকম্বরী ইস্পাত কারখানার গেটে লেখা রয়েছে বিরিঞ্চিনাথ ধাম গেট। সবাই হয়তো চমকে যাবেন এ আবার কি?
এটা তো একটা ইস্পাত কারখানার গেট। এখানে তো কারখানা রয়েছে,আমিও ঠিক তাই ভেবেছিলাম। আসলে জানা না থাকলে যা হয় আর কি…
কারখানার গেট দিয়ে রাস্তায় ঢুকে পড়লাম। দুধারে কারখানা; মাঝে রাস্তা। বিশ্বাস হচ্ছিল না ঠিক পথে যাচ্ছি তো?
যেতে যেতে কারখানার এলাকাটি শেষ হতে না হতে দেখা মিললো পঞ্চকোট পাহাড়ের। একটু আঁকা বাঁকা পথ ধরে পাহাড়ের কোলে এসে হাজির।
এলাকাটিকে বলে মদনডি। বাঁদিকে একটি সুন্দর মঞ্চ রয়েছে।এখানে অনুষ্ঠান হয়।প্রতিবছর দোল উৎসবে এখানে মেলা বসে।চব্বিশ প্রহর কীর্ত্তন হয়।শ্রাবণ মাসে অজস্র পূন্যার্থী বাবার মাথায় জল ঢালেন।হারমাড্ডি,দীঘা,
বড়তোড়িয়া,
কাশীডাঙা,পর্বতপুর সহ বিভিন্ন ধারে পাশের গ্রামের মানুষজন এ মেলায় সমবেত হন।জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই এই মেলায় এসে মিলিত হন।এ প্রসঙ্গে একটি কথা জানিয়ে রাখি– বিরিঞ্চিনাথ ধাম নিতুরিয়া থানার অন্তর্গত।সামনেই সরবড়ি মোড়।রঘুনাথপুর থেকে প্রায় কুড়ি বাইশ কিলোমিটার। সোজা সিঁড়ি নজরে এলো।সুন্দর একটি তোরণ।সিঁড়ি দিয়ে উঠেই বিরিঞ্চিনাথ ধাম। বাঁহাতি যোগমায়া মন্দির, তারপর অতিথি ভবন।ডানদিকে কালভৈরব মন্দির।
দুটি পাহাড়ী ঝরনা নজরে এলো।শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সব সময়ই জল ঝরে পড়ে।শীতল জল। খরার সময় যখন পুকুর, জোড়, নদী শুকিয়ে যায় তখনও কিন্তু এই ঝর্না দুটিতে জল ঝরতে থাকে।গাছের ডালে ডালে বাঁদর ঝুলছে।
ডানদিকে শিব মন্দির। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয়।স্টিলের পাড় বাঁধানো।একটি মঞ্চ আছে বাঁহাতি প্রশস্ত জায়গা।ডানদিকে একটি সান বাঁধানো বটগাছ।বসতে পারেন মনের আনন্দে খানিকক্ষণ। পাহাড়ে উঠতে উঠতে এক জায়গায় নজরে এলো ধূপকাঠি, সিঁদুর,ফল- ফুল এক পাথরের গায়ে।স্বাভাবিকভাবেই প্রণাম করলাম। ওটা বনদেবী।অজস্র লতাগুল্ম; ঔষধীয় গাছ। কবিরাজ বা বৈদ্যরা এলে তাঁদের ভালোই লাগবে।সাধারণ মানুষ হয়তো অনেক গাছের সম্পর্কে কিছু জানেন না।এক অজানা সুন্দর ফুল দেখে মন ভালো হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল ক্যামেরায় বন্দী করলাম। আর পাহাড়ে উঠলাম না।নীচে নেমে এলাম।রয়েছে রাধাকৃষ্ণ মন্দির। হরিমন্দির ঠিক মধ্যিখানে।এখানে এলে ধুতি পরা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে হরি মন্দিরে উঠলে।যেহেতু আমি ধুতি নিয়েই গেছিলাম তাই ফুল প্যান্টের উপরেই জড়িয়ে নিলাম। আসলে হরিমন্দিরে উঠলেই ধুতি পরা দরকার। ধুতি না পরলে নিজেকে অপরাধী বলে মনে হয়।উচিতও নয়।কিছুক্ষন আমিও হরিনাম করলাম সকলের সাথে। মাঝে মধ্যে ‘নাম’ করি। আসলে যদি ভুলবশত:কোনো পাপকর্ম করে থাকি তাহলে খানিকটা খণ্ডন হবে এই ভরসায়…….শুনেছি রবীন্দ্রসঙ্গীত ফুল প্যান্ট পরে গাওয়া ঠিক নয়।অনেক জায়গায় পরিধানেরও একটা ব্যাপার স্যাপার থাকে…
অসাধারণ ও মানসম্মত এ পত্রিকাটির উত্তরোত্তর উৎকর্ষতা ও প্রচার বৃদ্ধি হোক।
Very nice composition. L
অশেষ ধন্যবাদ
খুব সুন্দর। কবিতা গুল নতুন ভাবের।
খুব সুন্দর লেখা