Spread the love

স্বার্থ বনাম মানুষ
পথিক রায়

     আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যায় মানুষ  গর্বিত। মানবিক চরিত্রের বিস্কোরণে  মুগ্ধ। তাই 

শিক্ষা ও সভ্যতার আলো বাতাসে ভেসে বেড়ানো
অফুরন্ত চাহিদা মেটাতে গিয়ে প্রেমের স্বাদ বেসুরো হয়ে ধরা পড়ছে। মানুষ মানুষের জন্য, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় সমাজের বুকে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
পরনিন্দা, পরচর্চা, পরশ্রীকাতরতা, পরস্পরের বিদ্বেষ, মান অভিমান, ঝগড়া, কলহ , বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়ে মানুষের মনুষ্যত্ব ক্রমশ বিকিয়ে যাচ্ছে। একান্ত যে আপন ,সে অতি সহজে অত্যন্ত স্বার্থপরে রুপ নিয়ে,প্রিয়জনকে ভুলে যাচ্ছে। অহংকার ও লোভে
মনের খুশিতে ,একাকী নির্জনে দিন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। পারস্পরিক সম্পর্ক ,সখ্যতা, বন্ধুত্বের
মরীচিকায় দূরত্ব বাড়াচ্ছে।
আজকের সভ্যতার নিরিখে নৈতিকতা লুপ্ত
হয়ে যাচ্ছে। দৈনন্দিন জীবনে সংসারে, সমাজের সর্বস্তরে, মানুষ পরিবেশ পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে
স্বার্থপর, বেইমান ও অমানুষে রূপান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছে। সুদূর অতীতের জীবন , যৌবনের খোলস পাল্টে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় সম্পূর্ণ এক পরিপূর্ণ আমেজ অনুভব করছে।
জনসংখ্যার নিরিখে শিক্ষা ও সভ্যতার আলোয়
পুরুষ, প্রকৃতির সমন্বয়ে নিজের ইচ্ছাকে ভিন্ন রূপ দিয়ে ,সাবলীল ছন্দের অধঃপতন হওয়ার ফলে, পরিবার ও সমাজের সর্বস্তরে অভাবনীয় অসাফল্য
এক নাটকীয় অস্থিরতা সৃষ্টির সাথে ,অপরিবর্তিত
অবক্ষয়ের সূচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সমগ্র দেশ ও জাতির অভ্যন্তরে যতই জন চেতনার প্রাদুর্ভাব ঘটুক না কেন মানুষ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই অহোরাত্র ছায়ার মতো জড়িয়ে আছে। স্বার্থ বনাম মানুষ চিরকাল লড়াই ছিল, আজ আছে, কাল ও থাকবে। এ বিষয়ে এতটুকু দ্বিধা বা সংশয় নেই।

                    -----------‐----------

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।