Spread the love

রাখি, তুমি কোথায়!

বিধান চন্দ্র হালদার

আমি তখন ক্লাস টেন
তুমি নাইন
একই স্কুল
একই মাস্টার মশাই
অঙ্ক করা
গল্প করা
এই ভাবেই কয়েক মাস
হঠাত্- —
তুমি বললে,
“রাখি পূর্ণিমার দিনে
সবাই কে রাখি পরাবে “

আনন্দে টগবগ করছিলাম
শুভ দিন উপস্থিত
তুমি, প্রথম রাখি স্যারকে বাঁধলে
তারপর- –
একে একে সবাই কে ।
আমার ডান হাতের রাখি
সূর্যের মতো উজ্জ্বল
চাঁদের ন্যায় স্নিগ্ধ ।

মা বললে,
” রাখিটা বেশ সুন্দর হয়েছে
কে পরালো রাখি “

আমি বললাম ,
“মাগো, আমরা যেখানে অঙ্ক পড়তে যাই
মা বললে,
“বুঝেছি, আর বলতে হবে না “

দেওয়াল ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি- –
বারোটা বাজে
স্নানের সময়
এত সুন্দর রাখি
জলে নষ্ট করতে ইচ্ছে করলো না
ভাবলাম- —
খুলেই ফেলি
খুলতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ !

রাখির ভিতরে ছোটো চিরকুট
অজানা কৌতূহলে
পড়তে লাগলাম
কয়েকটি মাত্র শব্দ–
” ভালো বাসি , জীবন সাথি হিসাবে
পেতে চাই”

এই লাইন কয়েক শো বার পড়েছিলাম ।
ভুল বললাম, কয়েক হাজার বার।
আমার মনের মধ্যে কী এমন হলো
রাতে ঘুমাতে পারলাম না।

সকালে উঠে স্যারের কাছে গেলাম

স্যার বললেন,
“তোমার অঙ্ক কোথায়? “
—-ভুলে গেছি স্যার

সত্যি কী আমি ভুলে গিয়েছিলাম!

স্যার নতুন পড়া দিয়ে ছুটি দিলেন

সেই মেয়েটি হঠাত্ এসে আমায় বললে,
“তুমি কিছু বললে না “

আমি বললাম,
“সামনে ফাইনাল পরীক্ষা
ভালো করে পড়াশোনা করো
পরে দেখা যাবে “

মেয়েটির কান্না আর থামে না

আমি যখন কলেজ
কত করে খুঁজলাম
কোথাও পেলাম না

সেই দিন কান্নার সুর বুঝতে পারিনি
আজ কাঁচের মত স্বচ্ছ ।

তুমি এখন কোথায়?
জানা নেই
জানতে পারলে ও
উপায় নেই
তবু দেখতে ইচ্ছে করে ……..

রাখি নামটি খুবই সুন্দর
তুমি এখন সবার হাতে হাতে ।

বিধান চন্দ্র হালদার
ফেলে আসা স্মৃতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।