লেখক পরিচিতি:
ঋদেনদিক মিত্রো ( Ridendick Mitro) কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত, পেশাগতভাবে একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার ও কলামিস্ট। বাংলা, ইংরেজি ও স্প্যানিশ—এই তিন ভাষায। পাশাপাশি তিনি বিজ্ঞান গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত। সমীকরণভিত্তিক পদ্ধতিতে তিনি “HISTORY MATH” নামে একটি নতুন ধারণার উদ্ভাবন করেছেন। এছাড়া মহাকাশবিজ্ঞান, বিভিন্ন উপপাদ্য, রোগ নিরাময়ের ব্যতিক্রমী পদ্ধতি এবং আরও নানা বিষয়ে তাঁর গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।
২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত একক গ্রন্থের সংখ্যা ২২–২৩টি। আরও বহু গ্রন্থ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে কেন্দ্র করে তাঁর রচিত প্রায় দশ হাজার পঙ্ক্তির একটি মহাকাব্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। প্রুফ দেখা হলেও বারবার এত বড় কাজকে দেখা দরকার। সঠিক সময়েই প্রকাশিত হবে। জাতীয় ও বিশ্ব-ইতিহাসভিত্তিক বিপুলসংখ্যক কবিতা, গান ও গদ্য রচনার মাধ্যমে তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলা নিয়ে ইতিহাস-সংরক্ষণ আন্দোলনে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেন এবং একজন “Movement Poet” হিসেবে স্বীকৃতি পান। যদিওবা এই আন্দোলনের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে অনেকের সৃষ্টি অনবদ্য ও আন্তর্জাতিকতা বহন করে। তিনিও তাঁদের মাঝে একজন ছিলেন। এই অবদানের জন্য নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্মৃতি সুরক্ষা ট্রাস্ট তাঁকে “International Sabuj Sena Samman–2023” প্রদান করে।
সিরাজকেন্দ্রিক ঐতিহাসিক গবেষণায় গবেষক-সাংবাদিক মানস সিনহা ছিলেন তাঁর প্রথম পথপ্রদর্শক। একই সাথে এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের অন্যতমা বিদুষী গবেষক-সাংবাদিক সমর্পিতা দত্ত। এছাড়াও আরও বহু গবেষক-সাংবাদিক এবং ইতিহাসপ্রেমী এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আছেন, যাঁদের দ্বারা ঋদেনদিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উপকৃত। গবেষক-সাংবাদিক ওয়াসিম, নীল, শোভন সরকার, সহ অনেকেই। তুলনা নেই।
ঋদেনদিক মিত্রো Art Mother Earth Foundation থেকে “International Gem of The Earth Award” লাভ করেন। এই আন্তর্জাতিক শান্তি-প্রতিষ্ঠানটি জাতিসংঘ, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা সরকারের সমর্থন ও আশীর্বাদ লাভ করেছিল।
এছাড়া শান্তিতে নোবেলজয়ী পরমপূজ্য দালাই লামা, কলকাতার মেয়র, নিউজিল্যান্ডের শহরের মেয়র, বাংলাদেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, দেশ-বিদেশের অসংখ্য গণমাধ্যম, ব্যক্তি, নেটিজেন, নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতা এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া তিনি মুর্শিদাবাদ থেকে “সৈয়দ আহসান আলী স্মৃতি সম্মান”-সহ আরও বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।
তিনি “Math Poetry”-এর স্রষ্টা, যা কলকাতার একটি স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থার মাধ্যমে স্বীকৃত হয়েছে এবং গবেষকদের গ্রন্থ ও বিভিন্ন গবেষণা-জার্নালেও স্থান পেয়েছে। এমনকি UGC বা ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রান্ট কমিশনের পত্রিকাতেও ঋদেনদিক মিত্রোর নাম প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখযোগ্য কবি হিসেবে। অন্যদিকে তিনি, বিশ্বের বৃহত্তম পংক্তির সনেটের স্রষ্টা। এগুলি সবই প্রকাশিত। তিনি চলচ্চিত্রের গীতিকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর রচিত কয়েকটি গান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যালয়ের থিম সঙ ও প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি একজন সমাজসংস্কারক, সমকালীন চিন্তার প্রবক্তা এবং বলিষ্ঠ বক্তা।
আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তাঁর স্প্যানিশ ভাষার কবিতা স্পেনে প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি বহু ব্যতিক্রমধর্মী সৃজনশীল কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। জীবনের অকথ্য প্রতিকূলতা অতিক্রম করেও তিনি তাঁর স্বপ্ন ও সাধনার পথে অবিচল থেকেছেন।
ঋদেনদিক মিত্রো প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ভারতের সংবিধানের বিভিন্ন অন্তর্নিহিত ত্রুটি চিহ্নিত করার দাবি করেন। তাঁর মতে, শতাধিক যুক্তির মাধ্যমে তিনি ড. বি. আর. আম্বেদকর ও তাঁর সহকর্মীদের প্রণীত সংবিধানের নানা ত্রুটি তুলে ধরে জাতি ও বিশ্বের সামনে তা উপস্থাপন করেছেন। তাঁর এই লেখাগুলি সরকারি নথি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাময়িকীতে আলোচিত হয়েছে।
দেশ-বিদেশে তাঁর চিন্তাধারা, গবেষণা ও কর্মপ্রচেষ্টা বহু মানুষকে সমাজ ও বিশ্বকে নানা সংকট থেকে মুক্ত করার নতুন পথ নিয়ে ভাবতে অনুপ্রাণিত করেছে।
ঋদেনদিক মিত্রোর মতে, অসহায় প্রাণীর প্রতি যত্ন ও ভালোবাসা ছাড়া বিশ্বে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কারণ, এই মানবিক গুণ না থাকলে মানুষের নেতিবাচক অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটে না। বৃক্ষ ও পরিবেশ সম্পর্কেও তাঁর মূল্যবান মতামত রয়েছে।
মজার ব্যাপার, আজকে যে “ভারতীয় ন্যায় সংহিতা” তৈরি হয়ে আম্বেদকরের ত্রুটি সংবিধানকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এই জয় তাঁর আম্বেদকরের ভুলের বিরুদ্ধে লেখালিখির বাস্তব সত্যতা। হতে পারে, বিকল্প সংবিধান হয়েছে ঋদেনদিকের এইসব লেখালিখির সত্য না জেনে, কিন্তু ঋদেনদিকের কথা তো লাগল। এবং পরপর আম্বেদকরের সংবিধানের
প্রায় সব কিছুকেই সরিয়ে দেওয়া হবে পরপর। এগুলি উনি বলেছিলেন। আগে থেকে এগুলি চিন্তা করলেও ২০১১ সাল থেকে সংবাদপত্রে এগুলি বের করেন। পরে ২০১৬ সালে বাংলা গ্রন্থে ও পরে ইংরেজি গ্রন্থে এগুলি বের করেন। দেশ ও বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে লেখা তথা আম্বেদকরের চিন্তা ভুল প্রমাণ করে লেখা বাংলা উপন্যাস “দংশন”, ২০১৬, ৩৮৪ পৃষ্ঠা, পড়েছিলেন তখনকার মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কমুনিষ্ট নেতা বিমান বসু, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, এরা অনেকেই।
ঋদেনদিক মিত্রো দাবি করেন, ভারতীয় উপমহাদেশে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি নির্ভীকভাবে “আর্য” বা Aryan শব্দটি নিজের জাতিগত পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর মতে, জাতিভেদ মূলত ব্যক্তি-স্বার্থ, শাসনব্যবস্থার চাপ এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন সামাজিক রীতির ফলে গড়ে উঠেছে; এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, প্রকৃত “আর্য” হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি প্রগতিশীল চিন্তা, উন্নত আচরণ, নিরপেক্ষ বিচারবোধ, যুক্তিবাদী দর্শন, বৈষম্যহীন মানবিকতা এবং মুক্ত জ্ঞানচর্চাকে ধারণ করেন। তাঁর মতে, এমন ব্যক্তিদের একটি স্বতন্ত্র সমাজ থাকা উচিত; অন্যথায় প্রকৃত প্রগতিশীল মানুষের বিকাশ অন্তর্ভুক্তির নামে বাধাগ্রস্ত হয়। এই ধারণা বিশ্বে বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবং নানা মহলে গ্রিহীত হয়েছে।
তিনি আরও মত প্রকাশ করেন যে, যদি কোনো ব্যক্তির চরিত্র ও আচরণ তথাকথিত আর্য বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ধরে নেওয়া যেতে পারে যে তাঁর বংশপরম্পরায় সেই উত্তরাধিকার বিদ্যমান। অতএব, এই পরিচয় ধারণ করা তাঁর মতে যুক্তিসঙ্গত। এর বাইরে কোনো আরোপিত ইচ্ছা বা মানবসৃষ্ট আইন সত্যের বিকল্প হতে পারে না।
ঋদেনদিক মিত্রোর বক্তব্য, সৎ, সাহসী ও মুক্তচিন্তার মানুষ যদি সমাজে প্রচলিত অযৌক্তিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারেন, তবে তাঁরা নিজেদের মর্যাদা ও মূল্যবোধ রক্ষা করতে পারবেন না।
জাতিভেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি দেশে বিভিন্নভাবে জাতিভেদকে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তবে সেটিকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো অন্যায় কেন? আর যদি সত্যিই বৈজ্ঞানিক বিভাজন করা হয়, তবে কে পিছিয়ে পিছিয়ে, কেন পিছিয়ে এবং তার উদ্দেশ্যই বা কী?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—”কোন যুক্তিতে, কার সিদ্ধান্তে, কীভাবে কোনো জাতিকে উচ্চ বা নিম্ন বলে নির্ধারণ করা হয়? আর “জাত” পরিচয়ের উৎসই বা কী। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী? কবে এবং কেন তা শুরু হয়েছিল, ও তা পরিবর্তিত হয়? এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না; বরং জনগণের ওপর একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং নানা কৌশলে তা গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়। একজন নাগরিক হিসেবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার অধিকার কি আমাদের নেই? রাষ্ট্র বা পৃথিবী কি সবার নয়? কে কাকে কোন অধিকারে নিয়ন্ত্রণ করে?”
তাঁর যুক্তিনিষ্ঠ বিশ্লেষণ ও নির্ভীক অবস্থান দেশ-বিদেশে এই বিষয়গুলি নিয়ে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।
২০২৬ সালের মে মাসে তাঁর ইংরেজি কবিতা “Premchand, A Phenomenon in India”-এর জন্য তিনি “Munshi Premchand Literary Award” লাভ করেন। এই সম্মান প্রদান করে ঝাড়খণ্ড-ভিত্তিক এবং বর্তমানে অসমেও শাখা-কার্যালয়সম্পন্ন Jullie Publication।
ঋদেনদিক মিত্রোর জীবনের বহু স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে তাঁর মায়ের অসীম ত্যাগ ও প্রেরণায়। তাঁর মা রীতা মিত্র, বাংলা সাহিত্যে এম.এ., ছিলেন সাহিত্য ও কবিতার একনিষ্ঠ অনুরাগী, বৃহৎ স্বপ্নের সমর্থক এবং এক অমর আত্মত্যাগী ব্যক্তিত্ব। তিনি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ সালে পরলোকগমন করেন। তাঁর অকালপ্রয়াণের পেছনের কাহিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং মুক্তচিন্তা, আত্মসমালোচনা ও বিশ্বপ্রেমে বিশ্বাসী এই পরিবারের বিরুদ্ধে নির্মম বাস্তবতার সাক্ষ্য বহন করে। রীতা মিত্র মূলত একজন বিপ্লবী নারী ও শহীদের মৃত্যু হয় তাঁর। সেটাও বিরাট ইতিহাস।
ঋদেনদিক মিত্রোর পিতামহ ছিলেন ইংরেজি শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, কবি ও কলামিস্ট চুনীলাল মিত্র (১৮৯৯–১৯৮৬) এবং পিতামহী ছিলেন কবি প্রমীলা দেবী (মিত্র) (১৯১১–১৯৮৫)। এঁদের মৃত্যুও স্বাভাবিকভাবে হয়নি। সেসব কাহিনীও মর্মান্তিক। মূলত এঁরা পুঁজিপতি সমান ধনী ও নানা উচ্চ পদ সহ সমাজ সেবা, শিক্ষা ব্যাবস্থ্যা, বিচার ব্যাবস্থা, কেন্দ্রিয় ও রাজ্যের নেতানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী, মহাত্মাগান্ধী, বিধান চন্দ্র রায়, আন্তর্জাতিক বিবিধ ব্যাক্তিদের সাথে প্রাসঙ্গিক মাত্রা মেনে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেন ও অজয় মুখার্জী, দুজনে চুনীলালের বাড়ি এসে ঋদেনদিক মিত্রোর মাতামহী কবি প্রমীলার হাতের রান্না খেয়ে উচ্চ প্রসংসা করে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে গিয়েছিলেন। একটি শাস্ত্র, জ্যোতিষ শাস্ত্রকে মানুক বা না মানুক, প্রমীলা মৃত্যুর কয়েক বছর আগে এই শাস্ত্রর দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। ইংরেজদের সাথেও চুনীলালের ভালো সম্পর্ক ছিল। আবার গোপনে আন্দোলন করায় ব্রিটিশ শাসনে অপদস্ত হতে হয়েছিল।এদিকে অতি উদারতায় সর্বস্য দান, সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে অসর্তকতা, জটিল মানুষদের খপ্পরে বারবার পড়ে দারিদ্র সীমার নীচে অবস্থায় চলে এসেছিলেন। সেইসব ব্যাখ্যার বাইরে সময়েকে সহ্য করেছেন ঋদেনদিকও।
মাতামহীর বাড়ির সাথেও প্রত্যক্ষ ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল পর্তুগিজ ও ইংরেজদের। তাঁদের সাথেও যুক্ত ছিল বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী, লেখক, বিখ্যাত রাজনীতিবিদ, জার্মানির বিখ্যাত ডাক্তার ও গবেষকদের। ঐতিহাসিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, কে নয়।
তবে মাতামহীর পিতার বাড়ির অবস্থা আগে ছিল এই রকম। খুব দরিদ্র ছিলেন। এরা পর্তুগিজদের কাছে লাইট হাউসে আগুন জ্বালানোর চাকুরি পেয়ে পরে আরো কিছু কাজ পেয়ে আয় করতেন। পরপর পারিবারিকভাবে পর্তুগিজদের সাথে মিশে গিয়েছিলেন। খুব বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। পরে পর্তুগিজ দ্বারা প্রচুর জমি ও ধন লাভ করে ধনী হন। যদিওবা এইসব গতি চিরন্তন নয়। পরপর সেগুলি হয়ে গেছে বিবর্ণ। হয়ে গেছে গল্প। আসলে কে কী হয় সেটার নিজস্ব ইচ্ছা, লক্ষ্য ও নিজস্বতা। এটাই আসল। নইলে তো ওই সব তকমা নিয়ে বাকিরাও সবাই বিরাট কিছু হত। তবে, পরিস্থিতি চরমভাবে বদলালেও কত নির্মমতা সয়েও বড় স্বপ্নকে পুরণ করা সম্ভব, সেই উদাহরণ হিসেবে এইগুলি আলোচ্য হল। এর বাইরে এসব আলোচনা দরকার নেই।
এদিকে পিতামহ চুনীলাল মিত্র ও পিতামহী প্রমীলা দেবীর বিক্ষিপ্ত হয়ে থাকা সাহিত্য রচনাগুলিকে ঋদেনদিকের পিতা দীপক রঞ্জন মিত্র কিছু রক্ষা করতে পেরেছিলেন। চুনীলালের অনেক সাহিত্য উদ্দেশ্যমুলকভাবে অপব্যাবহার হয়েছিল। সমাজে কত রকম লোক থাকে। বিক্ষিপ্ত ও নষ্ট হয়েছিল অনেক। নাতি ঋদেনদিক মিত্রো সেইগুলি থেকে উপযুক্ত কাজ যে টুকু বাঁচানো সম্ভব, সেগুলি আন্তর্জাতিক সংকলনে বের করছেন।
ঋদেনদিক মিত্রোর পিতা দীপক রঞ্জন মিত্রোও একজন কবি। লেখেন অতি কম। কিন্তু কবি।
তাঁর পিতামহ ও পিতামহী জীবদ্দশায় প্রাপ্য স্বীকৃতি ও খ্যাতি লাভ করেননি। বর্তমানে তাঁদের ছবি, জীবনী ও সাহিত্যকর্ম আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকলনে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের সঙ্গে তাঁর পিতার রচনা ও প্রকাশিত হচ্ছে।
——————————