Painting of Khudiram Bose by Haripada Das it is kept at Mahajati Sadan Kolkata 1

বিষয়-শহীদ ক্ষুদিরাম <<লেখক-অভিজিৎ দত্ত

Spread the love

বিষয়-শহীদ ক্ষুদিরাম
লেখক-অভিজিৎ দত্ত

এ বছর(২০২৫ ) শহীদ ক্ষুদিরামের ১১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ও ১১৮ তম প্রয়াণ দিবস। তিনি ছিলেন বাংলা তথা ভারতবর্ষের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ।মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।মানুষের সবচেয়ে প্রিয়তম সম্পদ তার জীবন। সেই জীবনকে যারা মৃত্যভয় না করে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গ করেন তার সম্বন্ধে জানা আজকের প্রজন্মের কাছে খুবই জরুরী। আজ যখন মানুষ ভোগবাদের সুরায় আচ্ছন্ন, দুর্নীতি ও অপসংস্কৃতিতে লিপ্ত সেইসময় ভাবতে অবাক লাগে ১৮বছরের এক কিশোর দেশের জন্য প্রাণ দিতে দৃঢ়বদ্ধ।সকলেই জানেন অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে মারার জন্য বাংলা থেকে দুজন বিপ্লবীকে বাছা হয়েছিল তারা হলেন ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকি। তারা জানতেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই মানে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা।অথচ কী এমন মানসিকতায় তারা তৈরী হয়েছিলেন যে মৃত্যভয়ও তাদের বিচলিত করতে পারতো না।কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে বিপ্লবীরা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। পালাতে গিয়ে ক্ষুদিরাম ধরা পড়ে যান ইংরেজবাহিনীর হাতে। আরেক বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকি ইংরেজদের হাতে ধরা না দিয়ে নিজের রিভলবারের গুলিতে মারা যান। এরপর আলিপুর বোমার মামলায় ক্ষুদিরামের বিচার শুরু হয়।কম বয়সের ক্ষুদিরামকে ইংরেজরা অনেক চেষ্টা করেছিল মুখ খোলানোর। এমনকি অনেক প্রলোভন ও দেখানো হয়েছিল কিন্ত কিশোর ক্ষুদিরামকে টলাতে পারে নি।শেষে বিরক্ত হয়ে ইংরেজরা তার ফাঁসি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আসলে ক্ষুদিরাম ছোট থেকেই ছিলেন অকুতোভয়,পরোপোকারী,কুসংস্কার বিরোধী, দেশপ্রেমী তরুণ।বড়দি অপরূপা তাকে তিন মুঠো খুদ দিয়ে কিনেছিল বলে তার নাম হয়েছিল ক্ষুদিরাম। পিতা ত্রৈলোক্যনাথ বসু ও মাতা লক্ষীপ্রিয় দেবী। অল্প বয়সে ক্ষুদিরাম তার পিতা,মাতাকে হারান ও বড়দির কাছে মানুষ হন।প্রথমে হ্যামিলটন স্কুলে, পরবর্তীতে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। মেদিনীপুরে থাকাকালীন তার বৈপ্লবিক জীবনের শুরু।তার বিপ্লবী জীবনকে সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত করেছিল শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও পরবর্তীতে হেমচন্দ্র কানুনগো।ক্ষুদিরাম বোমা তৈরির কৌশল শিখেছিলেন এই হেমচন্দ্র কানুনগোর কাছেই। ক্ষুদিরামের ফাঁসি কার্যকরী হয় ১৯০৮ সালের ১১আগষ্ট। বাংলার প্রথম শহীদ ও ভারতের কনিষ্ঠ শহীদ ক্ষুদিরামকে বিচারক ফাঁসির আগে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তার শেষ ইচ্ছা কী? ক্ষুদিরাম জবাবে বলেছিলেন বোমা তৈরীর কৌশলটা সকলকে শিখিয়ে যেতে চাই। নির্ভীক, দেশপ্রেমী ক্ষুদিরামকে হাসি মুখে মৃত্যুবরণের জন্য প্রস্তুত দেখে বিচারক অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। আজ ক্ষুদিরাম নেই কিন্ত তার আদর্শ রয়ে গেছে।আজ ভারতবর্ষের তরুণ প্রজন্মের উচিত বিপ্লবীদের জীবন থেকে শিক্ষা নেয়া ও তাদের আদর্শে জীবন গঠন করা।তবেই সার্থক হবে ক্ষুদিরামের মত বিপ্লবীদের দেশের জন্য আত্মবলিদান করার সেই প্রয়াস।আসুন সোনার ভারত গঠনের জন্য সকলে অঙ্গীকারবদ্ধ হয় তবেই ক্ষুদিরামের মত বিপ্লবীদের দেশের জন্য জীবন দান সার্থক হবে।

IMG 20260615 000656

গোবিন্দ মোদক

Spread the love

কবি ও প্রাবন্ধিক

লেখকের প্রোফাইলে দেখুন →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

💬 Chat on WhatsApp
Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/kabyapot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493