প্রতীক্ষা
( একটি বাড়ির কথা….)
লেখক:- সুজিত কুমার মাজি
আলুঠিয়া,আসানসোল।
—–‐———
সালটা 1984 খ্রিস্টাব্দ আমার সাত পুরুষের ভিটামাটিতে বাবা পুরোনো মাটির বাড়ি ভেঙে দালান বাড়ি নির্মাণ করেন।
নানান ঘাত-প্রতিঘাত, আশা- নিরাশা, অভাব অভিযোগ, ঘৃণা ,শ্রদ্ধা ভালবাসার অনেক স্মৃতি রয়েছে এই বাড়িতে। আমি এবং আমার দুই বোন, এক দিদি, মা, বাবা আমাদের বাড়ি ।পাশের বাড়ি কাকা জ্যাঠাদের ।
দিদির খুব স্বল্প বয়েসেই বিয়ে দিয়ে দেন বাবা। তখনকার দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভাল ছিল না। দিদির বিয়ে হয়েছিল ঝাড়খণ্ডের জামতাড়াতে। আমাদের বাড়ি থেকে 3 কিমি দুরে বাসস্ট্যান্ড বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যেত প্যাডেল রিকশায় করে তারপর দুটো বাস চেঞ্জ করার পর পৌঁছত জামতাড়া, তার পর 4 কিলোমিটার পথ হেঁটে পৌছাত দিদির শশুরবাড়ি শিউলিবাড়ি গ্রাম।যখন তখন মোটেই আসা সম্ভব হত না।
বাবার পর কাউকে ভয় করতাম সে হল দিদি।দিদির বিয়ের পর আমার বেপরোয়া জীবন যাপন শুরুহল।দেখার কেউ না থাকলে হয় আরকি।
দিদি বছরে দুবার আসত — বৈশাখ মাসে কীর্তন, শরতের কালীপুজো।এই দুটো দিনের জন্য আমি এবং আমরা সবাই অপক্ষা করতাম। মনে হত ইট কাঠের বাড়িটাও অপক্ষা করত আর অপেক্ষা করত দিদিও। পুজোর দিন শেষ হলে সবার মন খারাপ করত। মনে হত আরো কতদিন অপেক্ষা..।.1999 সালে কারখানাতে বাবার এক্সিডেন্ট হয়, দু মাস ধরে বার্ণপুর, কোলকাতার মেডিক্যাল কলেজ, ধানবাদের সরাইঢালা হসপিটাল যেতে হয় হসপিটালের বেডে শুয়ে সবার কথা এবং বাড়িটার কথা মনে পড়ত খুব। দীর্ঘদিন হসপিটাল থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে দরজার সামনে সেদিন কেঁদে ফেলেন বাবা, বলেছিলেন “অনেক প্রতীক্ষার পর জীবন যুদ্ধ জয়লাভ করে ফিরলাম, গৃহলক্ষ্মীকে জানাই প্রণাম”।
পুরোপুরি 100% ফিট না হওয়ার জন্য কারখানার আগের জায়গাতে জয়েনিং হলনা। মেডিক্যাল বোর্ড লাইট জবের নির্দেশ দিল। কাকা জ্যাঠাদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিবাদ ও কর্মক্ষেত্র যোগাযোগ অসুবিধার অশান্তির জন্য ভিটামাটি ছেড়ে ইস্কো কোয়ার্টার নিতে বাধ্য হলাম। এখান থেকেই দুই বোনের বিয়েও হল। বাবা রিটায়ার্ড হলেন। আবার পুরোনো ভিটামাটিতে ফিরলাম,যেন অনেক প্রতীক্ষার অবসান হল। সেদিনে বাড়িতে দিদি বোনদের
মনে হচ্ছিল আমাদের জন্য বাড়িটাও এতদিন প্রতীক্ষা করছিল। সেদিনে আলোচনা করছিলাম— আত্মীয়,পরিজন, পাড়া, প্রতিবেশী যারাই বাড়িটার অসম্মান করে গেছেন তারা পরবর্তীতে ফিরেছেন।
ভগ্নদশা বাড়িটাকে রিপেয়ার করে পুনরুদ্ধার করা হল। বাড়ির বাইরের দরজার পাশে সাদা মার্বেলপাথর সাটানো হল। যাতে খোদাই করে লেখা ….”প্রতীক্ষা”!
এরপর পিসি, বোনেরা যখন বাপের বাড়িতে আসে এবং বাড়ি ফিরে মার্বেল পাথরটাকে ছুয়ে ভাবুক হয়, হয়তো মনে মনে বলে আবার কতদিনের “প্রতীক্ষা”…………
Very nice composition. L
অশেষ ধন্যবাদ
খুব সুন্দর। কবিতা গুল নতুন ভাবের।
খুব সুন্দর লেখা
একজন লেখক এর সব থেকে বড় প্রাপ্তি তার লেখা যদি পাঠক দের হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারে, যদি তাদের হৃদয়ে সেই…