Spread the love

বি পরিচিতি :

আমি বিমান প্রামানিক,আমার পিতা আনন্দ প্রামানিক এবং মাতা বাণী প্রামানিক। মুর্শিদাবাদ জেলার খড়গ্রাম থানার অন্তর্গত মাড়গ্রামে আমার নিবাস।
    ১৯৯২ সালের ১৬ অক্টোবর মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। প্রথম শিক্ষা শুরু হয় গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৮ সালে। ২০০৮ সালে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পাশ এবং ২০১০সালে কলা বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ, ২০১৩ সালে নগর কলেজ থেকে বাংলা অনার্স, ২০১৯ ডি এল এড ট্রেনিং, বর্তমানে নেতাজি সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটিতে বাংলায় এম এ পাঠরত।
কর্মজীবন- পেশায় প্রাইভেট শিক্ষক।
সাহিত্য চর্চা – বিভিন্ন পত্রিকায় একটু লেখালেখি।


কবিতা –“স্বাধীনতা ফিরে দাও”
কলমে– বিমান প্রামানিক

বাড়ি থেকে একা বের হতে ভয় পায়
পথের চারিদিকে নর পিশাচ ঘুরছে তাই।
আমরা নারী, এক অসহায় নারী, কি উপায়?
সমাজ যেন রেখেছে বেঁধে অদৃশ্য জালিকায়।

তবুও যদি পথে যেতে হয় বিশেষ প্রয়োজনে
নর রাক্ষস থাবা পেতে বসে থাকে পথের কোনে।
ঝাপিয়ে পড়ে ক্ষুধার্ত সিংহের মতো নারীর ঘাড়ে।
ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়ে শেষে শরীরটাও টুকরো করে।

আমি একা নারী ,পথ হতে যতই চিৎকার করি
পায় না সাড়া কোথাও নিজের জীবন ধরি।
পিশাচের দল মাথা উঁচে ঘোরে আইন যেন অন্ধ
কব্জা গত করে নেয় গোটা সমাজের মুখ করে বন্ধ।

আমরা নারী বলে কি আমরা পাব না নায্য বিচার?
আইনকে যারা গ্রাস করে সবেতে তাদেরই অধিকার।
ফিরে এসো দেশে প্রীতিলতা, মাতঙ্গিনী নারী আজ
পথে প্রান্তরের নারী পিশাচদের করতে বিনাশ।

ত্রিশূল ধারী দুর্গা হয়ে ফিরে এসো সব নারী
পথের যত অসুরদের বধ করে সুস্থ সমাজ গড়ি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।