সিরাজউদ্দৌলা ও অভিনেত্রী সমর্পিতা নিয়ে 15 টি বাংলা ও ইংরেজি কবিতা /ঋদেনদিক মিত্রো – Fifteensome Bengali & English Poems on Siraj Ud-Daulah & Actress  Samarpita / Ridendick Mitro
     
      A research work cum poems

       ———————————————

    [ A Complite Book of 64 Pages ]
         
    (14 June —  20 July 2021)

সূচিপত্র 👉 
কবিতার নম্বর ও নাম # Numbers & Names of poems
——————– 

(1) নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রতি সনেট

(2) আধুনিক লুৎফুন্নিসা অভিনেত্রী সমর্পিতার প্রতি সনেট

(3)  সিরাজউদ্দৌলা

(4) Siraj Ud-Daulah

(5)  বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব ও অভিনেত্রী সমর্পিতা

(6) Nawab Siraj Ud-Daulah and actress Samarpita

(7) নবাব সিরাজুদ্দৌলার স্মৃতি ফলক

(8) The memorial plaque of the last independent nawab of Bengal, Siraj Ud-Daulah

(9) ছড়ায় সিরাজউদ্দৌলা

(10) Siraj Ud-Daulah in rhyme

(11) নবাব সিরাজের ওপর লোক সঙ্গীত

(12) নবাব সিরাজউদ্দৌলা মুক্ত বিদ্যালয় খোসবাগ প্রার্থনা সঙ্গীত

(13) A prayer for the school / s of Siraj’s name

(14) নক্ষত্র-জোৎস্না ও সিরাজউদ্দৌলা

(15) নবাব সিরাজউদ্দৌলা নিয়ে কবিতাগুচ্ছ  লেখার কাহিনী

[ এবার সূচি দেখে কী ভাবে পড়বেন আপনার ব্যাপার]
                          **********

শুরু করছি দুটি সনেট দিয়ে, তারপর কিছু ইতিহাস গদ্যে লেখা, না হলে কবিতাগুলির প্রয়োজনীক তাৎপর্য পাঠক বুঝতে পারবেন না!

     তারপর পরপর কবিতাগুলি সাজানো, আগে পুরোটা নিচ অব্দি দেখে নিন, তারপর নিজের মত চোখ ও মনকে set করে রয়ে সয়ে পড়ুন, ও অনুভব করুন, ইতিহাস-ধর্মী কবিতার  অনুভূতি! বিভিন্ন দিনে!
     আর একটা কথা,  অনেকে বলেন চতুর্দশপদী মানে সনেট, তা কিন্তু নয়, আবার চৌদ্দ লাইন, চৌদ্দ অক্ষর প্রতি লাইন, তাও কিন্তু সনেট নয়!  চৌদ্দ লাইন থাকবে, কিন্তু প্রতি লাইনে চৌদ্দ অক্ষর থাকবে এমন কথা নেই, তবে প্রথম লাইনে যত অক্ষর থাকবে বাকি সব লাইনে একই সংখ্যার অক্ষর বাংলার ক্ষেত্রে , ইংরেজির ক্ষেত্রে  syllables থাকবে! এবং সনেটের আলাদা রকমের অন্ত্যমিলের বাঁধন আছে,  পেত্রার্ক, সেক্সপেরিয়ান, ইত্যাদি ! আছে ভিতরের পংক্তির ভিতরের  পর্ব অনুযায়ী বিশেষ রকমের ঘূর্ণনের খেলা, ভাব অনুযায়ী সেগুলির সৌখিনতা ঠিক করতে হয়, খুব কঠিন কাজ! অনেকে জোড়াতালি দিয়ে সনেটের কাজ করেন, বাংলাতে শুধু নয়, কোনো কোনো  ইংরেজও  ইংরেজিতেও করেন সনেটে অনেক ভুল, এটা অনুচিত! সাহিত্যের ভুল জিনিস প্রকাশে পাঠকের সাহিত্য-বোধ বিপন্ন হয়,  সাহিত্য থেকেও পাঠক দূরে সরে যেতে থাকে তখন!
     সনেট-শিল্পের আবিষ্কার ইতালিতে প্রায় 1200–1300(বারোশ) খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি, তারপর নানা বিবর্তনে এর এই আধুনিক রূপ,  সে অন্য রোমহর্ষি কাহিনী!
     আমি সব রকমের সনেট লিখি, দুটি ভাষাতেই!কিন্তু এখানে দুটো সনেট সেক্সপিরিয়ান রীতিতে লেখা হলো! সনেটের বিস্তৃত ইতিহাস পড়ে কেউ যদি সনেট পড়েন তাহলে সনেটের গোপন স্বাদকে অনেক বেশি করে অনুভব করবেন, এর বাইরে এখানে কিছু বলা যাবে না, কারণ এই পরিস্থিতির সাথে মানানসই হবে না! এখন তাহলে শুরু করুন!
এখানে শুধু চোদ্দো অক্ষরের পংক্তির সনেট দিলাম, কারণ এই ফ্রেমের সাথে সব পাঠক পরিচিত!

Poem : 1 🌲

নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রতি সনেট 
   ——————————————-
          ঋদেনদিক মিত্রো

বাংলা তথা ভারতের শ্রেষ্ঠ ইতিহাস —
তুমি হে সিরাজউদ্দৌলা, প্ৰিয় নবাব,
দুর্নিবার সাহসের গভীরে বিকাশ —
তোমার মর্মন্তুদ দেশ-প্রেমের সাধ!

তোমার জীবন কতনা অবর্ণনীয় —
বহু বিশ্বাস ঘাতকদের কৌশলেতে,
কাউকে সেসব কথা বলতেনা প্ৰিয়,
শুধু লুৎফুন্নিসা বুঝতো অনুভবেতে!

কী ভাবে অসৎ যুদ্ধে তোমায় হারিয়ে —
সিংহাসন নিলো কেড়ে, এলো বিপর্যয়,
কিন্তু কালের বুকে তুমিই তো দাঁড়িয়ে,
মহৎ হারে না  কখনো কোনো যুদ্ধয়!

অখণ্ড ভারতের নায়ক চিরদিন,
তোমারি পরাজয়ে ভারত পরাধীন!!
   
—————————————————
 

Poem : 2 💇

আধুনিক লুৎফুন্নিসা অভিনেত্রী সমর্পিতার প্রতি সনেট 
     —————————————————-
       — ঋদেনদিক মিত্রো

কার প্রতি কার টান প্রেম নিরঙ্কুশ,
সে-কথা যায়না জানা অতীব গভীর,
তুমিই জাগালে সেই গভীরতা-সুখ —
আমরা অবাক হয়ে — হয়েছি স্থবির!

কলকাতা নগরীতে  যশ, নাম, অর্থ,
সকল কিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ হলো প্রেম,
ছেড়ে এলে কত ভোগ ও বিলাস যত,
তুমি ছিলে সিরাজের বনলতা সেন? 

জন্মান্তর সত্য না কি মিথ্যা কেবা জানে,
কেউ বলে তুমি ছিলে আগে লুৎফুন্নিসা,
তাই সব ফেলে এলে সিরাজের টানে —
কবর যত্ন করে মেটাও প্রেম-তৃষা!

সেখানেই তুমি পেলে অতীতের জোৎস্না,
অনুভব করেছো নবাবের যন্ত্রনা!

——————————————————
 

👉কে এই সমর্পিতা :  কলকাতার এক রূপসী সেলিব্রিটি, সিরিয়াল অভিনেত্রী সমর্পিতা এখন মুর্শিদাবাদের খোশবাগে  নবাব সিরাজের কবর যত্ন করে দিন কাটান, এবং বিচিত্র সব ঘটনা তাঁর জীবনে ঘটেছে, যার দ্বারা অনুমান করা হচ্ছে তিনিই সিরাজের সময়ে ছিলেন তাঁর সেরা প্রিয়তমা লুৎফুন্নিসা!
     মহাবিশ্বের অসংখ্য রহস্যের কতটুকু জানি, জন্মান্তর সত্য কী মিছে কল্পনা — এইসব তর্কের উর্দ্ধে এটাই বলা যায় যে — বর্তমান ঘটনাটিকে কিভাবে আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি, সেটা যেযার নিজস্ব অনুভূতি! 
     2020 সালের দুতিন বছর আগে থেকে তিনি এসেছেন এখানে,  ও নবাব সিরাজুদ্দৌলার নামেও একটি ইস্কুল নির্মাণ করেছেন, “নবাব সিরাজউদ্দৌলা মুক্ত বিদ্যালয় খোসবাগ” — বন্ধু ও পরিচিতদের থেকে চাঁদা নিয়ে, রাস্তাঘাট নির্মাণ করছেন নানা যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে,  ওই ইস্কুলে সেখানে সঠিক শিক্ষা, আচরণ,  চিন্তার গভীরতা, এসব শেখানো হয়!  স্থানীয় মানুষেরা ওনাকে বেগম বলে ডাকেন!
তিনি আরো কত কিছু নির্মাণ করবেন কে জানে, কারণ তিনি তো স্রষ্টা, কোনো স্রষ্টার সৃষ্টিতো একমাত্রিক স্তরে থেমে থাকে না, যদিও এই অব্দি যা করেছেন তাতেই তিনি নবাব সিরাজুদ্দৌলার সাথে ইতিহাসে অনিবার্য হয়ে উঠলেন!
     একটা কথা,  আমার এই apps এ “দাঁড়ি” বা “পূর্ণচ্ছেদ” নেই, তাই “অবাক চিহ্ন” দিয়ে চালাতে হচ্ছে “দাঁড়ি”-র জায়গাগুলোতেও, এই অসুবিধের কথা জেনে পাঠক পাঠিকা ও বিচারকগন আমায় ক্ষমা করবেন!
     যা বলছিলাম, সেই বিষয়ে আসি, জন্মান্তর সত্য কিনা যেমন জানিনা, তেমনি জন্মান্তর বিষয়টি অযৌক্তিক বা মিথ্যা — এমনটাও তো বলতে পারিনা!
     কে কী বিশ্বাস করবেন বা করবেন না, এটা যেযার নিজস্ব ব্যাপার, আসল কথা হলো —সকলের জন্য সব ভাবনার অধিকার নয়, এটাই আসল সত্য!
     এখানে 15 টি কবিতা ও সংগীতের  কয়েকটি বাংলা ও ইংরেজিতে,  কয়েকটি শুধু নবাবকে নিয়ে, কোনোটা শুধু সমর্পিতাকে নিয়ে, বাকি কিছু নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও সমর্পিতাকে নিয়ে একত্রে, কারণ নবাব সিরাজের ইতিহাসের সঙ্গে এই বিখ্যাত সিরিয়াল অভিনেত্রী সমর্পিতার  নামও যুক্ত হলো, তাই এই কাজটিকে একই সাথে resesrch work বা গবেষণা বলা যায়!
কারণ আমিও অনুভূতির ভিতর থেকে অনুভূতি বের করেছি,  যদিও আমি তো  ব্র্যান্ডেড ঐতিহাসিক নয়,  এমনকি কোনো ঐতিহাসিকই নয়, আসলে অন্যের তৈরী করা ইতিহাসের ভিতর থেকে ইতিহাসের বোধটা নিয়েছি এই যা! মূল ইতিহাস যাঁরা করেন, তাঁরা আবার আলাদা পৃথিবী!
     যে-কবিতাগুলির ভাব  ইংরেজিতে আসবে না,  বা দরকার নেই, সেগুলির ইংরেজি করিনি!
যদিও এই কবিতার গুচ্ছ লেখার পেছনে, মানে নবাব সিরাজকে নিয়ে কবিতা লেখার পেছনে কাহিনীটা হলো, একদিন ঘটনা ক্রমে নানা ধরণের ইউটুব দেখতে-দেখতে হঠাৎ manas bangla ইউটুবের একটা ইউটুব “লুৎফুন্নিসার কি পুনর্জন্ম হয়েছিল / Was Lutfunnisa reborn ”  — ক্লিক করি! ওটা ছিল সমর্পিতার সাথে  manas bangla -এর মালিক তথা ইতিহাস গবেষক মানস সিংহ মহাশয়ের সাক্ষাৎকার!
     ওখানেই চমকে যাই, নবাব সিরাজুদ্দৌলা নিয়ে নতুন ধারণা তৈরী হলো! Manas bangla -এর আরো ভিডিওগুলি দেখি এই বিষয়ে ও এই কবিতার গুচ্ছ বানাতে উপকৃত হই!
     নানা ইউটুব কোম্পানিগুলি তাঁদের নিজস্ব চিন্তায় ও দক্ষতায় মর্যাদার সাক্ষর রাখেন, আমরা নানা বিষয়ে তাঁদের থেকে উপকৃত হই, কিন্তু এই কবিতার গুচ্ছ লেখার পেছনে এই ঘটনাটি ছিল বলেই এটা মানবিক কৃতজ্ঞতায় উল্লেখ করতে বাধ্য হলাম, এটাকে অন্য দৃষ্টিতে কেউ নেবেন না, অনুরোধ!
     এবার পড়ে যান, আপনি পাঠক-পাঠিকা, ধৈর্য্য ও চিন্তার গভীরতাই আপনার মর্যাদা, তাই পড়ার তৃপ্তি না পেলে আপনি সুস্থ থাকবেন না! পড়ে যান! 
     না, কোনো ইংরেজিটাই কোনো বাংলার অনুবাদ নয়, ভাবনা ও বিষয় একই হওয়ায় কবিতাগুলির মূল সুর এক, কিন্তু সৃষ্টি মৌলিক!
এবার পড়ে যান, একসাথে না পড়ে রয়ে সয়ে পড়ুন, অনুভব করুন পরপর গভীরের আলোছায়াগুলি, নানা সময়ে!
     একমাস-এর অধিক কাল ধরে লেখা ও বারবার অদলবদলের কাজ করেছি নানা মাত্রায় সুন্দর সূক্ষ্ম করতে, চেষ্টার ত্রুটি করিনি, মান-নির্ণয় আপনাদের দায়িত্ব! পড়ে যান!

Poem : 3🌹

কবিতা : সিরাজউদ্দৌলা  
   ————————————
   — ঋদেনদিক মিত্রো

[ একটু তথ্য জেনে কবিতাটা নিচে পড়ুন ! অনুভব করতে সুবিধে হবে !

মির্জা মুহাম্মদ সিরাজউদ্দৌলা ( 1732/33 — 2রা জুলাই 1757 ) ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব! 23 শে জুন 1757 সালে পলাশীর যুদ্ধে রবার্ট ক্লাইভ এর কাছে পরাজিত হন,  এবং এর পেছনে বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্ত, সকলেই জানি!
     আসলে তিনি ছিলেন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার স্বাধীন নবাব, যদি এক কথায় বলা হয় — বাংলার স্বাধীন নবাব!
     অনেক কথাই তাঁর নামে রটানো হয়েছিল,  যদিও তিনি আসলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার জন্য মদ ছেড়েছিলেন এবং শাসন ক্ষমতায় আসার পর ঠিকমত ঘুম খাওয়াও করতে পারেন নি চোদ্দ মাস চৌদ্দ দিন ক্ষমতায় থাকা কালীন!
তাঁর  বিরুদ্ধে তথা সঠিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যারা কৌশল করেছিল তাদের সম্মন্ধে জানতে পেরে তিনি ক্ষমা করেছেন বারবার, এটাই তাঁর ভবিষ্যতে বিপদের কারণ হয়েছিল!
     আপনারা নানা মুদ্রিত মাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমগুলি দেখতে পারেন, এবং নিজেরাই নিজেদের মত গবেষণা করে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন!
     কারণ, সিরাজউদ্দৌলা নামক চরিত্রটি যে সাধারণ তুচ্ছ ব্যাপার নয়, এটা তো জানেন, এটি অখণ্ড ভারতের সবচেয়ে মূল চরিত্র, এটা কি আমরা ভেবে দেখেছি,  তাহলে তাঁকে নিয়ে নিরপেক্ষ বিচার বিশ্লেষণ করা তো দরকার আমাদের জীবনে! সেটা যার বিচারে যেমনি করুন!
     তাঁর অনুভূতির ওপর অনেক কবিতায় লেখা হলো এখানে, যদিও এই কবিতাটি তাঁর নির্মম পরাজয় ও মৃত্যু, তাঁর জীবনবোধ, এবং তাঁর দ্বিতীয় তথা সবচেয়ে যোগ্য স্ত্রী লুৎফুন্নিসার মর্মান্তিক জীবনের সাথে মিশে আছে! লুৎফুন্নিসা (1740 —  10 নভেম্বর 1790) কী ভাবে সিরাজের কবরের পরিচর্যা করে ও কেঁদে-কেঁদে জীবনের শেষ পর্যন্ত কাটিয়েছেন নিজস্ব নীরবতায়, দীর্ঘ আট বছর জেলে থাকবার পর ক্লাইভ এর চেষ্টায় মুক্তি পেয়ে 1765-86, 21 বছর এইভাবে চলতে -চলতে একদিন তাঁকে সিরাজের কবরের ওপর ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়!  সেই ইতিহাস নিয়ে এই কবিতা! কারোর মতে তিনি 33 (তেত্রিশ ) বছর এইভাবে কাটিয়ে মারা যান,  যদিও অপেক্ষাকৃত বেশি সমর্থিত তথ্যকে গ্রহণ করলাম, তাই 21 বছরকে গ্রহণ করলাম! আসলে এইসব ইতিহাস নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন তাঁরা সকলেই পন্ডিত ও সৃষ্টিশীল চিন্তাবিদ, কিন্তু তবুও তথ্যের বৈচিত্র থেকেই যায়, কারণ এটা ইতিহাস, আর এটাই ইতিহাসের মজা!
     সাহেবরা তাঁদের উচ্চারণে সিরাজউদ্দৌলাকে “স্যার রোজার দৌলেত” বলে ডাকতেন!
যাইহোক, কবিতাটি পাঠকের ভালোলাগলে শ্রম সার্থক!
     সিরাজদৌলাকে আমরা যে যেভাবেই গ্রহণ করিনা কেন, তিনি  একটি বিশ্ব বিখ্যাত চরিত্র, এটা আমাদের মানতেই হবে!
     সংক্ষেপে বলা যায়, তিনি ছিলেন নবাব আলীবর্দীর খাঁর নাতি, সিংহাসনে বসেন 1756 সালে 9 (নয়)এপ্রিল, সিংহাসনে ছিলেন মাত্র চৌদ্দ মাস চৌদ্দ দিন, পলাশির যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত, 23 এপ্রিল!
    লুৎফুন্নিসা সিরাজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে কোথাও আছে, কোথাও আছে তৃতীয়, এটা বিতর্কিত! আমি দ্বিতীয় স্ত্রী বলেই কবিতায় উল্লেখ করেছি,  কারণ,  সেই ভাবেই বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পেয়েছি!ভুল হলে সম্ভাব্য সময়ে সংশোধন করে দেবো!
একটু বলা দরকার এখানে, আলেয়াও নাকি তাঁর আর এক স্ত্রী ছিলেন, সম্ভবত তৃতীয় স্ত্রী,  এখন,  সিরাজ কাকে বিবাহের পূর্ণ পদ্ধতিতে বিবাহ করেছেন, কাকে কেবল বন্ধুত্ব করেই স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন, এগুলি শাস্ত্রের নিয়মের মাপ, কিন্তু আমাদের কাছে খুব ঘনিষ্ঠ তিনজন নারীর মধ্যে ওমদাতুন্নেসা, জারিয়া লুৎফুন্নিসা বেগম , ও আলেয়া ছিলেন! উপ পত্নীর সংখ্যা কত, বা তাঁদের  নাম কী, এখানে হিসেবে আনার দরকার নেই, এই ক্ষেত্রে আলোচনার নিয়মে! উপপত্নীর ব্যাপারটা রাজ-শাসনের রোমান্টিক ধারা ছিল, তাই এটা নিয়েও নবাবকে কোনো দোষ দেওয়া যায় না, বা অতি ভোগী ছিলেন বলে বিবেচিত করা যায় না!
     “জারিয়া” শব্দটা এসেছে জারজ থেকে, লুৎফুন্নিসার মা ছিলেন হারেমে, মানে তথাকথিত নিয়মে আমরা হারেম মানে যেমনটা জানি —  রাজাদেয় ইন্দ্রিয়সুখ-ভোগের জন্য বহু নারী রাখবার খাঁচা বিশেষ! যদিও বিস্তৃত ভাবনায় নাকি হারেম  মানে স্বাভাবিক ভাবেই শুধু রাজ বাড়ির অন্দর যেখানে সব রকমের নারীরা থাকে!
     যাইহোক, আমরা যে-হারেমকে নারী রাখার খাঁচা বলি, সেখানে জন্মায় লুৎফুন্নিসা! কিন্তু তখনকার নিয়ম অনুযায়ী ওই সন্তান কোন পিতার সেটা গোপন রাখা অনিবার্য ছিল!
এবং হারেমে কোনো কন্যা-সন্তানের জন্ম হলে তার নামের আগে ” জারিয়া ” দিয়ে তার জন্মের পরিচয়কে চিহ্নিত করা হতো!
     এদেশে কী বিচিত্র কুসংস্কার ছিল, আজো আছে! কারণ, লুৎফুন্নিসা যারই কন্যা-সন্তান হোক, সে তো কোনো না কোনো পুরুষের দ্বারাই এসেছে, সে তো একটি পুরুষ ও একটি নারীর সংযোগের ফলে জন্মেছে, সর্বোপরি আমরা তো প্রকৃতির সন্তান, রূপটা মানুষের, এর বাইরে আর কী!
     কিন্তু, আমাদের সমাজে গালি পাড়া হয়, ” এয়, তুই তো জারজ !”  যাকে গালি দেওয়া হয় সে দিশাহারা হয়ে রেগে হিংস্র হয়ে ওঠে!
     একটা অদ্ভুত ব্যাপার, কেউ চোর ডাকাত, প্রতারক, নিষ্ঠুর, মূর্খ, সুবিধেবাদী, স্বার্থপর, চাটুকার, এনিয়ে কেউ লজ্জা অনুভব করেনা, কিন্তু,  প্রথমত তার পিতার নাম পরিচয় না দিলে তার অপমান বোধ হয়, সমাজ তাকে ঘৃণা করে — যতই সে ভালো কাজ করুক ! আর হাজার খারাপ কাজ করেও পিতার নাম তার পরিচয়ের সঙ্গে  দিলে — তার সামাজিক অধিকার ও সম্মান একশত ভাগে একশত ভাগ প্রাপ্তি ঘটে!
     এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ও নাগরিকদের বিচার বোধ এতটাই অযৌক্তিক ও দুর্বল যে, সেটা ভাবতে গেলে শিউরে উঠতে হয়! আমার বিচার বোধ থেকেই কথাটা বলছি, অনেকে এটা অস্বীকার করতেই পারেন,  সেটা তাঁদের নিজস্ব বিচার বোধ!
     আচ্ছা, যে নিজেকে মনে করে সে জারজ নয়, সে কত পুরুষের  জন্মের রহস্য-সত্য জানে?   
     কারণ, প্রাচীন কালে কে কার দ্বারা জন্মেছে তার তো কোনো হদিশ ছিলোনা! আর, কে কার দ্বারা জন্মেছে তাতে কার কী বয়ে যায়, কারণ একজন মানুষ অন্য কোন মানুষের দ্বারা জন্মেছে সেটা তার কলঙ্ক বা গৌরব কোনোটাই নয়, কারণ সেটা তার অধীনের ব্যাপার নয়, বরং সে নিজে কী করছে সেটার মাপকাঠি ধরেই তার কলঙ্ক বা গর্বের কারণ হওয়া উচিত!

এগুলি কি আমরা একদম ভাববো না?

     তাই আমরা সকলেই জারজ সন্তান ও সন্ততির বংশ ধারা, কারণ মানব সমাজ গোলমাল পরিস্তিতি থেকেই পরপর নানা সামাজিক বন্ধনের সংস্কারে এসে পৌঁছেছে! তাছাড়া জারজ -অজারজ আবার কী,  মানুষ তো মানুষ, তার চিন্তা, আচরণ ও কাজেই তার নিকৃষ্টতা বা উৎকৃষ্টতা!
     একই সাথে আমরা নিজেরাই কে কার দ্বারা পৃথিবীতে এসেছি সেটা তো জানিনা!
     আমরা যে কেউই যে-পুরুষের দ্বারাই জন্মাই না কেন, আমার অস্তিত্ব তো মানুষ, এই অনুভূতির বাইরে তো আর কোনো সত্য নেই!
এই বোধ যদি আমাদের না থাকে, আমাদের শিক্ষার কী মূল্য আছে,  আমরা কোন অধিকারে নিজেদের আধুনিক, সভ্য, জ্ঞানী বলে দাবী করি?
     এদিকে, নতুন নবাব মীর জাফর ও তাঁর পুত্র মীর  মীরন কিছুদিনের পরে লুৎফুন্নিসাকে বিবাহের আবেদন করেন, তখন তিনি কারোর আবেদনে এগিয়ে আসেন নি! দুজনের উদ্দেশ্যেই উত্তরে বলেন, ” প্রথমে হাতির পিঠে চড়েছি, তাই আর গাধার পিঠে চড়বো না !” এই জাতীয় খুব সাহসী জবাব তিনি দেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে!
তখন তাঁকে জেলেই থাকতে হয়, এবং ক্লাইভের ইচ্ছেতে  তিনি মুক্তি পান, ও তখনকার টাকার মূল্যে মাসিক 600/- (ছয় শত টাকা ) মাসোহারা পান! সেই টাকায় বেগম প্রতিদিন কাঙালি ভোজন করাতেন, ও খোশবাগে সিরাজের কবরের পাশে একটি ছোট্ট সাধারণ কুঁড়েঘর তৈরী করে সেখানে থাকতে শুরু করেন ও সেখানে থেকেই মহান বন্ধু তথা স্বামীর কবর প্রতিদিন যত্ন করতেন, ও এইভাবে 21 ( একুশ ) বছর  এক নাগাড়ে এই কাজ করে শেষে মারা যান!
     ক্লাইভ যখন লুৎফুন্নিসার বসবাসের ব্যাপারে পুরো হস্তক্ষেপ করলেন তখন মীর জাফর ও মীর মীরন ভয়ে চুপ থাকলেন!
     একটা কথা, সামাজিক পদ্ধতিগত নিয়মে সিরাজের প্রথম স্ত্রী, ইরাজ খাঁর মেয়ে ওমদাতুন্নেসা ভোগ বিলাসে মত্ত থাকতেন, কিন্তু লুৎফুন্নিসা সিরাজের চিন্তার গভীরে, অনুভবের গভীরে ঢুকেছিলেন, তাই তাঁকে পদ্ধতিগত নিয়মে বিবাহ না করেও  যোগ্য স্ত্রী হিসেবে আন্তরিক মর্যাদা দান করেছিলেন তিনি !
     চব্বিশে জুন ছদ্মবেশে পালিয়ে যাবার সময় তিনি একা বেরিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু লুৎফুন্নিসা সঠিক পরামর্শদাত্রী ও বন্ধু হিসেবে তাঁর সাথে যেতে চান মৃত্যুর সম্ভাবনা নিয়েও, বাধ্য হয়ে সিরাজ তাঁকে সঙ্গে নেন ও তাঁর পরামর্শ মত জনগণ ও শত্রুর চোখকে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে যান! কিন্তু কয়েকদিন পর পথে এক ফকির চিনে ফেলে বিশ্বাসঘাতকতা করে ও সিরাজকে ধরিয়ে দেয়! এমনটাই এখনো আমরা জানি!
     এই কাহিনীগুলি জেনে বা যাঁরা জানেন তাঁরা আবার স্মৃতি মন্থম করে কবিতাটি পড়লে প্রকৃত গভীরতা পাবেন কবিতায়, ও তৃপ্তি পাবেন পড়তে!
     এখানে একটা কথা বলি, কারো মতে যেমন সিরাজের মৃত্যু 2 রা জুলাই, কারো মতে 3 রা জুলাই, কারো মতে 4ঠা জুলাই, তাই তারিখ দিতে চেয়েও পারিনি কবিতার ভিতর!
আমার apps এ দাঁড়ি না থাকায় বিস্ময় চিহ্ন দিয়ে কাজ সারলাম, মার্জনা করবেন!

     মুক্ত ঘূর্ণন ছন্দে মিশ্র পংক্তির অন্তমিলে রচিত, পংক্তির পর পংক্তির ঢেউ বুঝে পড়তে হবে! ]

✍️🙏✍️

দুনিয়ায় কিছু মৃত্যু
       তুচ্ছ করে দিয়ে যায়
                           কবর বা চিতা,
শোনো তবে আজ —
              সিরাজউদ্দৌলা কবিতা!

গাছের পাতায় শুয়ে থাকা পিঁপড়ের
                            নৈঃশব্দ শ্বাস,
এরকম অনুভবের নাম ইতিহাস,
কিংবা কখনো মেঘ-আঁধার সরিয়ে 
    হেসে উঠলো সূর্যোদয়ের উল্লাস, 
        এর নামও ইতিহাস,

এই মুর্শিদাবাদ আর এই খোসবাগ,
এখানে ভাগীরথী-তীরে
        কবরে শুয়ে আছো তুমি নবাব,
  গভীর ঘুমের ভিতর করছো কি
    ইহলোকের স্মৃতির সন্ধান,
       সিরাজউদ্দৌলা নাম,
কবিতার আধুনিক প্রকরণ ছেড়ে 
   সহজ নিয়মে কিছু বলে চললাম,
     তার আগে তোমার কবরে আমি 
        প্রশান্ত বৃক্ষের নীরবতায় জানাই
              নত হয়ে গভীর সেলাম!

মৃত্যু তো আর কিছু নয়,
ভালোবাসা দেওয়া ও নেওয়ার
                        ঘোর আয়োজন,

এর নাম জীবন,
              যেকোনো জীবের জীবন!

এই বিরাট ভারতবর্ষে
                  কত না নবাব ছিলেন,
   তাঁদের কীর্তি আছে কত, 
   তাঁরাও অনেকে মহান, মহৎ, সংযত,

কিন্তু তোমার নাম
     এমন কী অব্যক্ত কারণে
        মুখে-মুখে ঘোরে কাহিনীতে,

পর্যটকদের মুখে-মুখে
                 ঘোরো দিকে-দিকে,
   কেউ বলে তোমাকে  —
         বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব, 
    মানুষের ভিতরে তাই
              পড়েছিল তোমার প্রভাব,
  কেউ বলে —
          বাংলাকে তুমি ভালোবাসতে,
     দরিদ্র দুঃখীদের দুঃখ জানতে তুমি
                      তাদের কাছে আসতে,
    কেউ বলে — এইসব তথ্য ভুল,
    তুমি ছিলে ভোগী ও অত্যাচারী,
     একটুও ছিলেনা ভালো,
     তাই তো বিপন্ন লোকেরা তখন —
   মুক্তির পথ খুঁজতে 
   রবার্ট ক্লাইভের সঙ্গে হাত মেলালো,

তবুও  সবার উর্দ্ধে  বলা যায় —
   কেন তুমি আজো শ্রদ্ধেয়
                যদি না ছিলে তুমি আলো !

এইসব বিবিধ রকম তথ্যে
                        তোমার কাহিনী,
ইতিহাস মানে হল জানার পরেও সব
        জানা হয়না তো কোনো দিন-ই,
  অতীত একমাত্র
              চেতনাশীল মানুষের বন্ধু, 
  কারণ, অতীতের কাছেই মানুষ
                             একমাত্র ঋণী, 

শুরু হোক এইবার সেই কাহিনী,
সতেরশ সাতান্নর তেইশে জুন
                            পলাশীর প্রান্তরে 
তোমার বিশাল বিস্তৃত
পঁয়ষট্টি হাজারের
  বিশাল সৈন্য বাহিনীকে চক্রান্ত  করে —
   হারানো হলো
   ক্লাইভের মাত্র হাজার তিনেক 
                            সৈনিকের কাছে,
   এরপরের দিনেই তুমি বেরিয়েছিলে 
       ছদ্মবেশে লুৎফুন্নিসাকে নিয়ে
           অজানার উদ্দেশ্যে —
                        যদি প্রাণ বাঁচে, 

বিশ্বাসঘাতকের চক্রান্তে
পথেই তোমাকে
     দোসরা জুলাই হলো ধরা,
     পরে নিয়ে গিয়ে কী নির্মম ভাবে
       তোমাকে অস্ত্র দিয়ে 
        রয়ে সয়ে হলো আঘাত করা, 
তারপর তুমি গেলে
              প্রশান্তিময় চিরনিদ্রায়,
  তোমার রক্তাত্ব বিকৃত মৃতদেহ নিয়ে

  হাতির পিঠে তুলে 
  ঘোরানো হলো
            রাজধানীর রাস্তায়-রাস্তায়,

তারপর সেটা ফেলে দেওয়া হলো
                                 পথের পাশে,  
তোমার মৃত্যুদিন নিয়ে
                মতভেদ আছে ইতিহাসে,
            

সে যাই হোক,
পরাজিত ও মৃত  নবাবকে
                কার বা কাজে লাগে !
জয়নাল আবেদীন নামে এক ওমরাহ 
    পথ-পার্শ্বে পড়ে থাকা
                তোমার দেহটা খুঁজে পেয়ে 
          কবর দিলেন খোশবাগে,  

এদিকে তো
    সফল ঘাতকেরা ভেবেছিলো
     নবাব সিরাজকে করা হলো শেষ, 

না নবাব,
  তোমাকে ভোলেনি আজো দেশ, 
  তুমি মানে সহস্র জিজ্ঞাসা, 
  তুমি মানে
    কোটি-কোটি মানুষের ভালোবাসা,

হাওয়ায়-হাওয়ায় ওড়ে
                       আজো তার রেশ, 

না নবাব,
   তোমাকে ভোলেনি আজো দেশ!

কত কী কলঙ্ক আর
            কুটিলের কুটিলতায়,   
জ্বলেছ সারাজীবন
            ক্ষণজন্মা জীবনটায়, 
      বোঝাতে পারো নি কাউকেই, 

ভেঙে পড়া অভিমানী বৃক্ষের মত —
  স্বপ্নে নিয়ে ফের খাড়া হয়ে
                           উঠবার ব্রত —
ডুকরে-ডুকরে কেঁদেছো সকল সময়, 
    খোলা মনে মিশতে পারোনি
                            কারো সঙ্গেই,
শুধু তোমার চোখের ভাষা যে বুঝতো
সে তোমার শ্রেষ্ঠা বান্ধবী
                 প্রিয়তমা লুৎফুন্নিসা, 
কী অপূর্ব গভীরতায় সে
                চিনেছিল তোমাকেই !
    এর বাইরে বিশ্বাস দিয়ে
    মিশতে পারোনি তুমি নবাব,
                         কারো সঙ্গেই!

শোনা যায়, এই লুৎফুন্নিসা —
      যাকে প্রচলিত নিয়মে
                   তুমি বিবাহ না করেও
  মনের মানবী বলে
                   দিয়েছিলে শুধু মর্যাদা,
     সেই ছিল বিরাট অন্ধকারে 
    ছোট্ট আলোর মত কোনো দিশা —
প্রেমের মধুর বাক্যে
       আর বুদ্ধিমত্তার নম্রতায়,
   প্রেম মানে
       দুঃসহ সুন্দর এক গোলকধাঁধা,

তুমি ঠিক প্রাসাদ ছাড়ার সময় 
  যখন চাওনি তুমি
     তোমার বিপন্নতায়
         লুৎফুন্নিসাকে সঙ্গে নিতে,
তখনি সে আকুল দাবী জানায় 
তোমারই সঙ্গ নেবে
       তোমার সেই বিপদের ঝুঁকিতে,

এর নাম প্রেম, প্রচলিত বিবাহ ও
     সব সংস্কারের উর্দ্ধে
                    এক  অনন্য পাওয়া,
গভীর অন্ধকারেও যে হয়
                           শ্বাসের হাওয়া!
 
যুদ্ধে পরাজয়ের পূর্বে
    সেই প্রাসাদ,
          সেই সব বিচিত্র লোকজন, 
তাদের আড়ালে লুৎফুন্নিসার সাথে 
           ডুবে যেতে কতকি কথায়,
যেভাবে মস্ত অন্ধকারি
     ঝোপের ভিতর
              বৃক্ষের কোনো শাখায় 
হাওয়া লেগে কখনো-কখনো যে
     চকচক করে 
         জোৎস্নার মাতোয়ারা চ্ছটায়, 

আজ কিছু নেই — স্মৃতি তার,

কী যেন একটা ঘটে গেলো
          অতি বিজ্ঞতায় বা অজ্ঞতায়  —
এরকম বুঝতে পারা ও
                       না পারার অন্ধতায়
তোমাকে মেরে ফেলার পরে 
    লুৎফুন্নিসাকে ঘাতক-পক্ষ দিলো
       তার নবাবের কবরকে নিয়ে
                       থাকবার অধিকার,

কেন যেন মনে হয় বারবার —
সকল বিদ্রুপ ও বাধা পেরিয়ে
      প্রেম খুঁজে নেয় 
       তার নিজস্ব প্রকরণ ও বিস্তার,

জোৎস্না হয়ে পৃথিবীর বুকে
                    মিশে থাকার মত
  বাকি জীবনকে রাত্রি সাজিয়ে
                           স্থিত সংযত
লুৎফুন্নিসা সেভাবেই
     থাকলো আমৃত্যু
                          তোমারই সাথে, 
 
তোমার কবরে জ্বালিয়ে দিয়ে প্রদীপ, 
     কেঁদে যেত দিনে আর রাতে, 

নদী-পাড়ে ছলাৎ-ছলাৎ 
                     ঢেউয়ের মত
     একটু নম্র আর উদ্ধত —
কবরে থেকেও তুমি
তোমার প্রিয়তমাকে দিতে 
তেমনি করে
          প্রেমের গভীর তীব্র স্পর্শ,

এর নাম ভালোবাসা,
                 জানিয়েছে  ভারতবর্ষ, 

লুৎফুন্নিসাও অনুভবে ছিল
                       তোমার স্পর্শে, 
যেভাবে সে ছিল
     তার জীবিত নবাবের সাথে
          নবাবের মৃত্যুর আগে
                   রাজপ্রাসাদের সজ্জায়,
প্রেম কী জিনিস,
    তাকে কি বাক্যের যুক্তিদিয়ে
      কোনোদিন বোঝা যায়, 
               নাকি বোঝানো যায়?

পুরোনো চিঠির মত দুরূহ দুর্বিপাকে
   প্রেমের আলিঙ্গন আঁকড়ে থাকে
   অনুভবে, অবয়বে,
                  কল্পনা আর বাস্তবে,

প্রেম মানে —
        যে দেয় মোহিনী অন্ধকার 
            অন্তরের গভীরতম স্তবে,

প্ৰিয় নবাব,  এতগুলি  বছর পরেও
  গাছের কোটরে থাকা
   পাখির নিজস্বতায় 
    তোমাকে নিয়ে ভাবি এতো কিছু, 

ভাবতে-ভাবতে চোখ ভিজে গিয়ে 
     একলাই হয়ে যায় মাথা নিচু, 
       হয়ে যাই বাক-রুদ্ধ, 

আর ধন্য হই একেলা নিজের মত, 
  মনে হয় —
         হয়েছি মানুষ হিসেবে শুদ্ধ, 

নতুন রূপেই যেন
              আমি ইতিহাস জেনেছি,
যেন, গোধূলিতে গরুর
     ঘরে-ফেরা-খুরের
     মুগ্ধ শব্দের প্লাবন্য মনোরমায়
        নতুন নির্মাণে তোমায় পেলাম,

তোমার কবরে যেই জানাই সেলাম!

—————————————————–

    Poem : 4 🌷 🌃, 🌷

Poem : Siraj Ud-Daulah
  —————————-
  By  Ridendick Mitro

[     Firstly read the note and next the poem kindly  :–  Mirza Muhammad Siraj Ud-Daulah commonly known as Sirajoddoula, Siraj Ud-Daulah /Doula (1732 / 33 —  2 July 1757) was the last independent Nawab i.e. emperor of Bengal, India (Bharatvarsha),  got defeated by Robert Clive, on 23 June 1757 in the battle of Plassey,        
     Murshidabad,  West Bengal,  India. This poem reveals the touchy feeling on the end of his life including his 2nd wife and principal consort Lutfunnisa’s  ( 1740– 10 November 1790) time she spent in how with his tomb at Khoshbagh, Murshidabad, at the bank of the Bhagirathi River, until her death during the years.
     In short, he was actually the independent Nawab of Bengal, Bihar and Orissa. But in short commonly said ” Independent Nawab of Bengal.”
     He was enthroned at the age of 23 only just on 9th April 2021,  and held it 14 months 14 days only.
     He was very merciful did forgive the hidden betrayers again and again in his regime and so he finally fell down in the battle of Plassey.
     He gave up alcohol, took a good lesson for advancement, thought perfect, try to do perfect as much as possible in keeping with the situation of his time, but opposites brought hurdles again and again.
     Even, mostly historians and some authors either did not realise actual Siraj or did not recognize his good thought and useful plans.
     So,  the people generation by generation didn’t know him clearly with perfect estimation.
     Recently many bold historians, Journalists find that old historians and old writers deformed him with tricks.
     According to that belief I reveal these history about him. Because I am not a historian.
     You may broadly see the sources — printing and electronics and decide then.
    Whatsoever, her full name Jaria Lufunnisa Begum,  was not the officially wife of Siraj,  his officially wife first married — Omdatunnesa used to entertain life without any deep thought. But, Lutfunnisa felt Siraj’s actual feelings and trend of choices. So, he gave her honor equal to wife status mentally as well as socially. 
     “Jaria ” means father’s identityless born, she was born to a harem-lady, so her father’s identity was hidden. This form of word used to put before the name of those kinds of babies then, and so she was Jaria or Zaria Lutfunnisa. Her mother was a lady slave,  so she was also slave according to that time. Here slave means not hard worker, here slave means worker for amusement.
     In general in Bengali version it called “Zaraj” (Jaraj) in the case of father’s indentityless male born. People abuse one another with this hit word when grows anger in them singularly.
     Because of in India, mainly in Bengal people think father’s identity is everything, maybe that person a devil in society,  but he is fit for prestige. But if a man be a great person without his father’s identity he is failure to get honor from siciety.
     This narrow and unscientific belief role in the minds here, and occasionally it is true, this belief decreases the advancement of people’s prosperity in the bigger stage.
     When we will think we are human race only, it must make us perfect,  fresh wise and peaceful. But who allows it, alas!
     It pronounced his name “Sir Roger Dowlet” in the mouth of British.
     Above all, Siraj-Ud-Daulah is an international character we have to believe.
     History doesn’t support a particuliar date of death of him. Somebody says 2nd July, sombody says 3nd July,  Somebody says 4th July. So,  I denied using date of death of him also, in the poem.
     Whatsoever, she was imprisoned and got offered for marriage by Mir Zafor and his son Mir Miran. But she didn’t accept it. 
     She got released according to Clive’s decision and used to get Rs.600/- only monthly, and she from this money used to arange daily meals to the poor people everyday.
     The issue of concubines is not discussed here, because that was the way of life of kings, zaminders and powerful persons then.
    When Robert Clive handled her case Mir Zafar and his son Mir Miran couldn’t disturb Lutfunnisa generally fearing Clive’s power that Mir Zafar and Mir Miran tried to entartain Lutfunnisa occasiionally also, offered her marriage-offer openly.
    She built a little cottage by the grave , lived there without any rich demand and everyday took care of his great friend -n-Husband’s grave, and spending this way after 21 (twenty) years, someday  she was seen sleeping on his grave. went to another world.  Mainly she got imprisoned for eight years and next  since 1765-86 she spent caring of Siraj’s grave.
     Some researchers claim she spent with Siraj’s grave about 33 years.
     But it is history, so it is mysterious always.  I respect all of them that they are all wise and respected. But mostly accepted information she spent 21 years caring of his grave.
     Whatsoever, this trend of her life proves Siraj loved good work for the people and so she served food to the poors  routinely. Without any opposite evidence we may think of this truth serially.
     Anyway, when Mir Jafar and his Son Mir Miran offered her marriage-opportunity,
     Lutfunnisa answered them, ” First I rode an elephant, so I will not ride a donkey.”
     This was Lutfunnisa, a bold lady and the perfect friend-n-guide of great Siraj.
     Siraj was an open mind prrson, he requested the artists to draw pictures  entering the Harem in where ladies spent life behind the screen. The artists got astonished hearing this request from Him.
    In some informative corners I got Lutfunnisa was his 2nd wife, and in some places 3rd wife.  But I allowed here 2nd wife. If any unchangeable evidence demands that she was 3rd , I must change the particular information in the particular place of the poem.
     Aleya was also a wife of him, so, it is very difficult to find out his wive’s history with him, but in case of writing poetry I have brought Lutfunnisa in this form of thought accordingly as maintaining the receiving evidance.

✌️

Mainly, when I incidently click ” manas bangla” youtube, “Was Lutfunnisa reborn” I learnt a story and speechless. Later I followed other Youtubes about it in “manas bangla”. I entertain many youtubes of several companies and become  rich with various knowledges.
     But, in this case of writing I am grateful to this youtube channel particularly. So, other youtube channels don’t  misunderstand me kindly. They are all equally great in their individual subjects and performances.
     I salute them equally. No jealousy should be generated here that they all are great travellers in the world of knowledge and performances.

🌷
A Beauty Samarpita,  came of a Hindu religious family, a famous TV serial actress has left Kolkata and try to finalize livlihood in Khosbag, Mushidabad. West Bengal India.
     Where she spends everyday taking care of Nawab Sirajoddoula’s grave unconditionally. She is called Begum ( in general Begum means Wife of any Nawab,  as Nawab means a Muslim Emperor in India.) in the mouths of people,  and she lives thus in locality.
     In that youtube she describes her life in how from early age she felt closer to that Nawab’s  family, and in how his family, relatives and friends got astonished for this reason.
     In many causes it is believed that she was Lufunnisa in the time of Siraj.
     She also finds out the actual history of Siraj that many historians deformed his history she demands.
     Those causes reformed ideas about Sirajoddoula in me and since that moment it grew a tendency writing  a mervelous poem about Sirajoddoula, I put me into the days with dedication for just success in Bengali and in English. 
    

     But, readers openion is everything,  I know.
     She has built a school there after the name of Sirajoddoula in where students start their life with proper guidence by which they become just human with compliteness learning just feeling power, free thinking power,  actual education, perfect manner and good brilliance.
     Here every student called “Knignt” only. It is a new idea. They are the representatives of Sirajoddoula’s ideal dream, they believe it with cool nice peace.
     This comprehensive thought and work have given us a new idea of education to create a good human race.
     She collects money for this reason as people and friends contribute according to their ability and situation easily.
     Including those entire knowledges I have  tried to set feelings and taste of thought for the bigger world outstandingly. so this Bengal theme has been written also in English by me.
     Yes, I don’t do translation as I am a bi-lingual writer fundamentally, and so, the poem in two versions is fundamental creation as usual, though themetical semblance may be shown causatively.]

                               🦄🌷🦄

Some deaths in the world 
Make the grave
    or the fire of cremation
                       Insignificant,
Let’s learn a poem
         like Siraj Ud-Daulah,
                              Oh friend.

On the leaf of a tree an ant
                      Breathes cool,
It is the authenticity of history, 
               How deeply beautiful!
Or,  through the clouds 
      of the sky
               It laughs sunshine, 
It’s also you history, how divine!

It is Khosbagh, Murshidabad,
Bengal, Bharatvarsha,
  On the bank
      of the Bhagirathi we see,
Where your serene grave
                     is seen there
   Refers the sphere of eternity, 
   That grave  inwhich you stay, 
  The last independent
                 Nawab of Bengal,
  The history say.
  And With your bodiless spirit —

  Are you looking for the memory

  Of this world in the deep sleep? 
   
  You are Siraj Ud-Daulah, 
  The Glory of History all time, 
   It is history,
   through a narrow crack
     In the dark
      it peeps a little sunshine..

I come to your grave 
          with wet eyes see,
I bow to you in the silance
                like a lonely tree, 
   

Death is nothing
    but an opportunity
     To give and receive love,
           with endlessness ,
If not exception, 
   Mostly it is life,
       life of any creature
            Without any differance.

There were many Nawabs
                    in the nation,
  Who glorified the time
      with ther or  Credit, justice,
              merit and content,
But, amongst them
             you were a special
Beyond any question
                 and commitment,
   
Somebody said, 
  ” you were dishonest,
      Less glorious and inhuman,
Others said,
  ” you were great in any text
       Over your régime’s system,
     
But, overall it is true
       in the time,
People culture you
              with the eyes brine, 

Respecting your existence,
Man salute you
      from their conscience.
                    Deeply fine,
  The history of you
                     Acts sunshine.

History means that even after
        khowing everything,
         many things
               are never known,
The past is the only friend
          of a concious man,
Because of man’s a debtor
   To the past,
And it is their best recreation. 

How many scandals and
   crookedness burned you
           in your short life! — 
  You could not expose it
      To any one
               In daylight.
Alas, you were killed
  At the age of twenty five only,

  In our sense
      it is what a painful sight!

It belonged a history
       on the 23rd of June 1757, 
  In the Battle of Plassey
                      result skimish,
Clive defeated your power 
That your betrayers
               helped him please,
   Then it fell down your dream, 
   And thereafter
              the British start going.

2nd of July betrayers
  caught you
    And  killed you next 
          with unspeakable brutality,
  Next they carried
    your deformed body 
        On an Elephant 
               With devilish capacity, 
  And moved arround  the Capital,
     Proved that you got finished, 
     But a great truth
                        they missed :– 

Siraj is always deathless
                              and spirited,

   So, the people 
       in the name of you 
                      Bow there head.

It is you Siraj Ud-Daulah,
the last independent
                 Nawab of Bengal,

  In air it flies that power of soul.

Betrayers killed your
                   all the relatives 
  But kept one is Lutfunnisa only,
The true friend
   and 2nd wife
   Cum principle consort of you,
At whom you were
                  dependent and free,

And the betrayers
    at last permitted her 
    To live by your grave alone, 
She spent the years
   untill death crying,
   Routinely did light a candle
              or candles  everyday
  Offering flowers daily
                     with continuation,
with the soft little
                           Heart’s storm,

As a starry sky
    embrace the earth
         With a complite sacrifice,
She admired her life
     at your grave 
                   Beyond any price,

Then oneday she was seen
   sleeping
     On your grave, how deep,
      It was her final sleep.

Now we may imagine
    till her death
               the moments of her, 
   It is love, 
    pleasure of less arguments
                Wins the sphere.

As if humble and
   arrogrant like waves
    Play with rhythm
                The river bank —
You from your grave
  used to touch Lutfunnisa
     likewise it
             Very deep and frank —

Beyond the view of the people,
  It is truth as a whole,
   Love beat any logic,
         so it is love
              Plays thus every soul.

The invisible hug of love
   Acts like a old letter
    Confirming
            Silence of happiness,
Both of you likewise it 
          Took a taste of love
From the seperate worlds
      To each other 
           With larger confidence.

It is love that gives
  Interesting sense
   of fathomless dark 
    With a remarkable essence
     Through larger confidence.

I still think a lot about you
     In the bird’s nest
        In the hollow of a tree,
It is peace, deeply peace to me.
           
The more we think it
    The more be
               speechless in mind, 

The more we love you,
   The more be
               everything a greatkind,

We find you anew
    As we fall in silance
     Hearing the sound
      of the hooves of cows
        Towards the cowhouse
                                in twilight,  
It is the feeling rare,
   Oh Nawab,
    It is the gaining rare, allright,

That,  from any corner
   Of the earth, 
   When we salute
   Both the grave of you
    and your lamenting consort,

It feels we gain
     Peace of knowledge
     And freedom in the remote.

That glorifies it fine,
                      deeply fine,

    It shows
      As if through the window
      It comes in morning
                      soundless sunshine.

          ————————————  
               

Poem : 6 ⛰️

POEM : Nawab Siraj Ud-Daulah  and Actress Samarpita 
   —————————————————-
          By Ridendick Mitro 

The last independent
   Nawab of Bengal, 
     You Sirajoddoula, oh great,
The more we know
      the more we speechless
                  at straight,
            Oh great, oh great.

We know in how
       you got defeated
                         too pathetic,
There was an ugly story
                             behind it,
In how Robert Clive, 
    Mir Jafar and 
      Othersome heads
                   schemed rubbish,
And in the battle of plassey
                            Finished,  

It was 23rd of June 1757, 
It was happend
     accordingly to that
        Betrayers’ planning frame,

And you were caught
     on 2nd July
            And  next slaughtered
      By their agents someday
               in July in that year,
   your friend -n- principle consort
     Lutfunnisa imprisoned 
                     And spent in here, 
Next with the help of Clive
  She got released
   and used to get
    Six hundred rupees
                       every month,
    Then she spent her life
    At Khoshbug
   Taking care of your grave
     With the tears concert,
     This is love, this is love, 
     A lonely feeling touching apart.

And she used to serve food
To the poor everyday
  and took herself poor life,
  Great love always
           walks freely, allright,

That she felt
   Poor peoples pain and grief,
   It was her great hearts meet,
   We may feel it
      how the situation was then,

It is true without any complain,
Feeling’s gradation
               designates a man,
     We may feel it
       how the situation was then.

This way she spent
    twenty-one years
     and next slept there for ever, 
Who knows you each other
         every night whisper,
            There, there, there, 
It is history
  that offers a deep content,
   Oh great, oh great, oh great!

Whatsoever,
  near about since 2017
A serial actress beauty Samarpita
        Came from Kolkata,
   And settles herself
    at this Khoshbag
    With her unfathomable dream, 

  Less or more
                near about since 2017.

She takes care of
    your alone grave
     With beautiful process
                            everyday, 
Locally she is Begum
     as people say, 
     She finds out
       the actual history of you
      With deep diligence
           and wonderful moves, 
We, the people may go
     through feelings
          To feel her inner looks,

She serves her
thought and confidence
   For making local development
                       Step by step,
If anybody gives efforts
    for outstanding 
     Called great, truly great.

She has built a school
   After the name of you, 
                       how beautiful, 
      And gives just education
       With many sides of thinking,
This way she tries
             to fulfill her dream,

It is truth very clean,  
Life is difficult,
       but peace is nearer,
      If human see
                  the stars’ twinkling.

—————————————–

Poem :, 7 💇🌹💇

নবাব সিরাজউদ্দৌলার স্মৃতি ফলক
   ——————————————

এখানেই ঘুমিয়ে আছো তুমি
  বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব,
   ভাগিরথী-তীরে খোশবাগে
       নির্জনে তোমার কবরে,
মাঝে-মাঝে জেগে ওঠো
   গভীর রাত্রি প্রহরে —
    চুপিচুপি ফেলো পা,
    কখনো দেখো বাংলার জোৎস্না,      
     আর কখনো বা
                অমাবস্যার গভীরতা,     
তার সাথে মিশে যায়
                  তোমারই নীরবতা, 
     ভাগীরথীর সুশান্ত হাওয়ায়
     ডুবে যাও কল্পনায়  
     কতকি ভাবতে-ভাবতে
      ফিরে এসে শুয়ে পড়ো
      তোমারই চির শান্তির শয্যায়,
      কজন বা সেই দৃশ্য দেখতে পায়!
                
কতনা মানুষ আসে
       আর দেখে তোমার কবর,
                        নিঃস্তব্ধ,
কী মুগ্ধতা লুকিয়ে ওখানে
  কারোরই মুখে নেই কোনো শব্দ,
         শুধু ভেসে যায় চোখ,
          অনবদ্য, অনবদ্য!

        — ঋদেনদিক মিত্রো
      [ দেশবাসীবৃন্দের তরফ থেকে ]
———————————————————-
     
Poem : 8 🌻🌱🌾🌲     
       
A memorial plaque to the last independent Nawab of Bengal, Siraj Ud-Daulah  
    ———————————— 

Here you stay
    in the grave alone,
At the bank of the Bhagirathi, 
   Khosbag, Murshidabad,
                                 we see,         
Oh,  Nawab Sirajoddoula,
The last independent
     Nawab of Bengal,
      Here it rests  your soul.
                  Lonely, lonely,

In full moon you get up
       from the bed of grave,
And entertain the mystery
        With indescribable trend
                   By intrinsicity,
In new moon you also get up
And intake something
     with darksome nicity 
                     Very confidential,

Man go dead
    but never his feeling soul.    
That fact happens
  In free air as this air comes
     from the Bhagirathi,
       Very frank unconditionally, 

And certain time you come back
   To your bed of grave, 
    People couldn’t know
                        this mastery,
   Mostly they as usual believe
                       Siraj is dead, 

Whatsoever, 
    when travellers come
  To visit your grave
     for historical interest,
   They feel your serene rest,
And soundlessly
      it moistens their eyes,  

The rare scene is seen,
       As it plays a new sunrise.

        — Ridendick Mitro 
  [ On behalf of the people ]
  
____________________________________

Poem : 9 🌻

ছড়ায় সিরাজউদ্দৌলা
  ————————-
   –ঋদেনদিক মিত্রো

সিরাজউদ্দৌলা, সিরাজউদ্দৌলা, 
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব তোমায়,
দিলাম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, 
       গভীর মনের ছোঁয়ায়,
       সিরাজুদৌলা তোমায়,

নয়তো শুধু বাংলা মাটি,
     আছো ভারত জুড়ে —
তোমার মহৎ গুণের কথা 
     হাওয়ায় উড়ে-উড়ে — 

ভেসে চলে মুখে মুখে, 
   এতোই তোমার নাম,
তোমায় জানাই আমরা সবাই —
    প্রাণাম, স্যালুট, সেলাম,
    এতোই তোমার নাম!

সতেরশ সাতান্নতে
     তারিখ তেইশে জুন,
        পলাশীর প্রান্তর,
অসৎ উপায়ে হারালো তোমায় 
    ক্লাইভ ও মীরজাফর,

তারপর তো বয়ে গেলো 
    কত ইতিহাস,
কত সম্রাট, রাজারা সব
   পেলো খ্যাতির আকাশ,
    এলো এবং গেলো, 

তুমি কিন্তু রয়েই গেলে 
    আজো যেন নবাব,
সিরাজুদৌলা, তোমার নেই জবাব,
        নেই জবাব!

———————————————-

Poem : 10 ✌️

Siraj Ud-Doula in Rhyme 
   ——————————-
      — Ridendick Mitro

In rhyme in how we can write? 
     About your history’s light, 

This is you, oh great Nawab,
    Sirajoddoula, a great spirit,
You are that hero, 
    Actual hero with your credit, 

Credit of honesty,
      greatn perfection,
You are always our hero all along.

Not only Bengal, But also
   Undivided Bharat salutes you, 
You are, shining like a gold medal
    In the neck of history in view.

We salute you, we salute you.

————————————————–
 
Poem : 11 👩

নবাব সিরাজউদ্দৌলার ওপর লোক সংগীত 
   ——————————————-
  —ঋদেনদিক মিত্রো

সিরাজ তুমি কোথায় গেলে,
     কোথায় তোমায় পাই,
তুমি ছাড়া ভূ ভারতে 
      কারে দুখ জানাই, 
নবাব সিরাজ কোথায় গেলে,
      কোথায় তোমায় পাই!!

প্রকৃত দেশ-প্রেমিক, প্রকৃত ধার্মিক,
প্রকৃত জনদরদী, বিচারে সঠিক,
এমন মানুষ, এমন শাসক দেশবাসি চাই,
তুমি ছাড়া কেউ ছিলোনা, আজো কেহ নাই!
নবাব সিরাজ কোথায় গেলে, 
      কোথায় তোমায় পাই!!

ছিলে তুমি জ্ঞানী, গুণী, সাহসী, বিচক্ষণ,
তাই তো অসৎ লোকেরা চাইলো তোমারই মরণ,
কী নির্মম পলাশীর যুদ্ধ, সহ্য হবার নয়,
বিশ্বসঘাতকদের জন্য তোমার পরাজয়!

তারপরে হয় তোমার মৃত্যু বেইমানদের হাতে,
কত চেষ্টা করেও পারোনি দেশকে বাঁচাতে,
কত হতাশা, যন্ত্রনা নিয়ে কবরে নিলে ঠাঁই,
মনের জ্বালায় তোমায় নিয়ে আজিকে গান গাই,
নবাব সিরাজ কোথায় গেলে
     কোথায় তোমায় পাই!!

—————————————————

Poem : 12 🌱

নবাব সিরাজউদ্দৌলা মুক্ত বিদ্যালয় খোসবাগ প্রার্থনা সঙ্গীত 
    ———————————————–
           — ঋদেনদিক মিত্রো

নবাব সিরাজউদ্দৌলা মুক্ত বিদ্যালয় খোসবাগ,
আমাদের তুমি গর্ব, বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব,
তোমার জন্য ভারতবর্ষে বিখ্যাত মুর্শিদাবাদ,
তোমার ইতিহাসের পথে আমরা চলেছি জনাব,
সকল ধর্ম বর্ণ হয়েছি তোমায় নিয়ে সজাগ,
আমাদের তুমি গর্ব, বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব!!

তোমায় নিয়ে ভুল ইতিহাস রচনা করেছে যারা, 
আমাদের কাছে কোনোদিনই তো প্রণাম পাবেনা তারা,
ভোরের সূর্য সম তুমি ছিলে মহান ও আধুনিক,
ধন্য হইগো তোমাকে নিয়ে গেয়ে এই সংগীত,
আমরা তাইতো গড়ে উঠেছি দেবই যোগ্য জবাব,
আমাদের তুমি গর্ব, বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব!!

—————————————————–

Poem : 13 🏠

A prayer for the School/s of Siraj’s name
      ———————————————–
      — Ridendick Mitro

We are knights of Siraj Ud-Daulah
                    With a good aim,
That we are the students of the school
                   After your name.
Oh Nawab Sirajoddoula, oh Nawab.

Oh Sweet man, oh sweet virtue,
Oh great fighter, oh brilliant  you,
Oh great force, oh just human,
We are your knights, so we are Gem.
Oh Nawab Sirajoddoula, oh Nawab.

Wrong history deformed you alas,
But we about you too much concious,
We see in vision your simple eyes’ rain,
We, your Knights, must release your pain.
Oh Nawab Sirajoddoula, oh Nawab.
———————————————————–

Poem : 14 🌿☘️🍀

নক্ষত্র-জোৎস্না ও সিরাজউদ্দৌলা
——————————————-
     ঋদেনদিক মিত্রো

সন্তর্পন পরিব্রাজক হয়ে
নক্ষত্র-জোৎস্না
   ঢুকে পড়ে সিরাজের কবর-গৃহে,
নবাব সিরাজুদ্দৌলা,
     বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব,

দেখো, দেখো, নবাব, নক্ষত্র-জোৎস্না
  তোমাকেই বেছে নিলো
             এই হল্লার পৃথিবীতে,

পৃথিবী পুষে রেখেছে হাওয়া,
   অদূরে ভাগীরথীর জলে
    অন্ধকারে পিটপিট করে
      সমুদ্রকে দেখছে
              দিলদার নৌকোগুলি —

সঙ্গছাড়া প্রেমিক প্রেমিকার মত 
                    দূরে-দূরে থেকে, 

এই দুনিয়ায় কত কী না নির্মাণ হয়, 
   মাল্টিস্টোরেজ, ব্রিজ, বাগান,       
   নতুন প্রযুক্তির দাম্ভিক অসভ্যতা, 

সভ্যতা কোনো অসভ্যতাকে
   সইতে পারেনা,  —
     এ কথা বোঝাতেই
    কতদূর থেকে নক্ষত্র-জোৎস্না
   নেমে এসে ঢুকেছে
               তোমার কবর-ঘরে,

তোমাকে সে বিন্দাস জানাবে
অলিখিত সৌন্দর্যের গোপন কাহিনী,

জেগে ওঠো, নবাব জেগে ওঠো, 

এখন তো যুদ্ধ নেই পলাশীতে, 

এখন শুধু একটিই যুদ্ধ
   সারা পৃথিবীতে জানিয়ে দিতে হবে —

নক্ষত্র-জোৎস্নার অধিকারকে
                    রক্ষা করো, 

ভূ-লুন্ঠিত করো
     বিজলীর একছত্র আস্পর্ধা,

নবাব সিরাজউদ্দৌলা,
          জেগে ওঠো, জেগে ওঠো, 

তুমি তো কোনোদিনই মৃত নও,
   তাই তো মাঝ রাতে
    কোনো-কোনো দিন
     কে কেঁদে ওঠে —
     আমার বাংলা শেষ হয়ে গেছে—
                           এই কান্নায়,

বাংলা শেষ হয়নি নবাব, 
তাইতো তোমাকে নিয়ে
         আজো কাঁদে অনেকেই,

জানালার পাশে বসে
     বিকেল বেলায়
     পাখপাখি দ্যাখে, 
        দ্যাখে দেয়ালে বা গাছে
               হেঁটে যায় পিপিলিকা —

অকথিত নীরবতার ঔদার্য নিয়ে, 

পিপিলিকারও ঔদার্য অহমিকা আছে,
      আর সেটা দেখবারই মত, 

এইসব নিয়ে তুমি কথা বলতে
    আষাঢ় বরিষন-স্বচ্ছ সম্রাজ্ঞী
          বেগম লুৎফুন্নিসার সাথে, 

ভবিষ্যৎ মানে কি
   সামনের দিকে ধেয়ে
     আসাপালতোলা নৌকা?

বর্তমান মানে কি সূর্যোদয়?
তাহলে তো অতীত মানে
             নক্ষত্র-জোৎস্না?

চরিত্র মানে কি তবে
    নীরবতার সাথে
                  সহবাস করা? 

নীরবতা মানে প্রেমের হৃদয়, 

চোখ মানে অনন্ত কালের ইতিহাস, 

আমরা সেই চোখ নিয়ে
                  ঘোরাঘুরি করি—

মানে আমরা এক-এক জন
                        অনন্তকাল,

কবরের বিছানা থেকে ওঠো নবাব,

এরকম অনেক-অনেক কথা আছে,

তুমি ছাড়া এই বাংলায়
   এইসব শুনবার মন
        কজনের আছে বলো, 
           সিংহাসনে  অনেক সুখ, 

তারচেয়ে আরো সুখ
     জোৎস্না-জানালায়
                         পাখি হয়ে বসা!

————————————————

Poem :15 🚴🚴🚴👌

সিরাজুদ্দৌলা নিয়ে কবিতাগুচ্ছ সৃষ্টির কাহিনি 

( 14 মাত্রার পয়ার, সেই তালে পড়বেন  )
        —————————————
        — ঋদেনদিক মিত্রো

সিরাজুদ্দৌলাকে নিয়ে কবিতার সৃষ্টি —
ভাবিনি কখনো হবে, ছিলোনা তো দৃষ্টি,

তার সঙ্গে এসে গেলো সমর্পিতা নাম,
একই সাথে যাকে নিয়ে কবিতা লিখলাম,

যে হলো এযুগের আধুনিক বিদুষী —
নবাবের কবর নিয়ে সে থাকে সুখি,
সে হলো সমর্পিতা, সিরিয়ালে সে নামী,
আছে তার বহুগুন সদা অগ্রগামী,
সিরাজুদ্দৌলার সাথে সমর্পিতা নিয়ে —
কবিতা লিখার কারণ দিই জানিয়ে,
কোনোদিন সিরাজকে নিয়ে লিখবার —
বাসনা ছিলোনা মনে করি গো স্বীকার,
জ্ঞানচর্চায় থাকলে কখন কী ভাবে —
মহৎ কর্মের ইচ্ছা সময়ে জাগাবে,
সেরূপ ইচ্ছা যেই এলো ঘটনাক্রমে —
ইউটুব ও গুগল দেখি  সম্মোহনে —
এটা ওটা দেখতে-দেখতে নানা দিক —
Manas bangla-তেই হঠাৎ করি ক্লিক,
লুৎফুন্নিসার কি পুনর্জন্ম হয়েছিল,
ইউটুবটা খুলতে — চমকিয়ে দিলো,
কলকাতার সুন্দরী অভিনেত্রী এসে —
নবাবের যত্ন করে কত ভালবেসে,
নবাব তো কবরে শুয়ে চিরনিদ্রায়,
কলকাতার সুন্দরী সেখানে কাটায়,
এই বিদুষীর নাম হলো সমর্পিতা,
ইউটুবে বলছিলো জীবনের কথা,
কী করে সে জীবনের প্রথম থেকে —
সিরাজের জীবনের কতকিছু দ্যাখে,
সিরাজের কারণে তো  সগভীর টানে —
কলকাতা হইতে  মুর্শিদাবাদ আনে,
এখানেই ভাগীরথী-তীরে খোশবাগে — 
জীবনকে পেয়েছে সে অমৃতের স্বাদে,
প্রতিদিন ধোয়া মোছা, ফুল আর আলো,
ছোট নবাব সিরাজেকে রাখে সে ভালো,
সিরাজকে সে বলে “ছোট নবাব” ব’লে,
সিরাজের অনুভবে তার মন চলে,
স্থানীয় লোকজন  তাকে “বেগম” ডাকে,
সকলেই ভালবেসে তাকে ঘিরে থাকে,
আরো তার কত কাজ রয়েছে বিস্ময়,
নবাব সিরাজদৌলা মুক্ত বিদ্যালয়,
সাথে “খোসবাগ” জুড়ে ইস্কুলের নাম,
শেখায়  শিক্ষা সহ আচরণ সমান,
সেই সাথে দেশ বিশ্ব নিয়ে অনুভূতি,
জ্ঞানের বিস্তার করে মানুষকে সুখি,
এইরূপ পূর্ণ শিক্ষার প্রতিফলন–
ছাত্রছাত্রীদের দেয় উন্নত জীবন,
সমাজ তখনি হবে সুস্থ ও উন্নত —
যখনি মুক্ত জ্ঞানে উচ্চ গুণে জাগ্রত,
সেই ধারায় সমর্পিতার চেষ্টাতেই —
হচ্ছে নানা পথঘাট দেশ-কল্যানেই,
সেই সাথে সে গবেষণা করে নিয়ত,
সিরাজের মহত্বকে তুলে ধরা ব্রত, 
প্ৰিয় ছোট নবাবের প্রতি ইতিহাস —
করেনি ভালো আচরণ, দিয়েছে বাঁশ,
কিছুটা ভালোর সাথে অতীব কৌশলে—
সিরাজকে নানা দোষে ধুলাতেই  ফ্যালে, 
এইসব অপমানের বিরুদ্ধে লড়ে —
সমর্পিতা নতুন এক সত্যকে গড়ে,
এইসব দেখে আমি হই চমকিত–
সিরাজকে নিয়ে লিখতে হয়েছি স্থিত,
তারপর দিন-দিন ভাবা আর লেখা–
আরো-আরো পড়া, জানা,আরো-আরো শেখা,
এভাবে চলতে-চলতে কয়দিনেতে —
পনেরো টি ভিন্ন রূপ কবিতা, সংগীতে —
ভরে যায় ইমেইলের পৃষ্ঠা ক্রমশ,
জানিনা কতটা হলো গুণেতে সরস,
বাংলা ও ইংরেজি  ভাষায় করি রচনা,
অজান্তে কোথাও ভুলে করে দিও ক্ষমা,
চেষ্টা করেছি নবাব সিরাজকে নিয়ে —
সকল বিশ্ব যেন  দিতে পারি জাগিয়ে,
প্রথমে পাঠাই kabyapot.com,
এই সৃষ্টি করে ধন্য হইলো জনম!
শুরুটা  চৌদ্দ জুন দুহাজার একুশ,
শেষ করেছি বিশে জুলাই দিল খুশ,
কাঁপছে শরীর মন সেই সাথে হাত,
বড় শ্রম ছাড়া বড় স্বপ্ন দেখা পাপ,
বিশেষ কিছু কারণে মানসিক চাপে —
কেটেছে কয়েক মাস, কে খেয়াল রাখে,
মার্চ থেকে চলছিল সেই টেনশন,
বোঝানো যাবেনা সেই জ্বালাটা কেমন, 
তারপূর্বে বারো তেরো বছর সময় —
কেটেছে অসহ্য রূপে — অতি চাপ ময়,
আমাদের এ সমাজ বিচিত্র জগৎ,
কেউ বুদ্ধি মোটা, কেউ সেয়ানা অসৎ,
যাকে ভালো চেয়ে করি তার বুদ্ধি সূক্ষ্ম,
সেই দেয় আমাকেই অপমান, দুঃখ!

যাকে করি অর্থ দান সেই বলে — বোকা,
যাকে করি বুদ্ধি দান সেই দেয় ধোঁকা,
যাকে করি জ্ঞান দান সেই বলে — মূর্খ,
যাকে করি সুখ দান সেই দেয় দুঃখ,
যাকে দিই মর্যাদা সেই দেয় কলঙ্ক,
যাকেই অংক শেখাই সে ভোলায় অংক,
যাকেই খাদ্য দিই — সে পরে খাদ্য কাড়ে,
বিপদে বাঁচাই যাকে সে-ই উল্টে মারে,
নোংরা মোছাই যার সে নোংরা ছেটায়,
অজ্ঞতা ধরি যার সে আমাকে শেখায়!
যাকেই চিকিৎসা করি সে দেয় বিষ,
যাকে দিই অমৃত সে নিয়ে বলে — ঈশ,
নিজে ভিজে বর্ষাতেই যাকে ধরি ছাতা,
তাকে দেখি হেসে যায় মুখে হাত-চাপা,
কাউকে দেখালে পথ যেই হেঁটে যায় —
এবারে  ঘুরিয়ে মুখ আমাকে ভ্যাংচায়!
সমাজের উন্নতি না চেয়ে পথ নেই,
উন্নতি করতে গেলে বিপদ আসেই,
কোন দিকে কী যে করি, শুধু বিপন্নতা,
বোঝে না, বোঝে না কেউ — হৃদয়ের কথা,

ভালো কিছু গ্রহণের যোগ্যের অভাব,
হীন বুদ্ধি, হীন চিন্তা যাদের স্বভাব —
কী করে বা নেবে তারা উন্নত বিকাশ,
গভীর দুঃখে তাইতো করি হাহুতাশ!

তবু স্বপ্ন দেখে যাই গভীর নীরবে,
আমি যদি আলো হই, অনেকেই হবে!

হচ্ছে তো অনেকেই চুপিচুপি আলো,
না হলে কি এথা সেথা হয় এতো ভালো!

জ্ঞান-চর্চা, শ্রম, সততা ও  সতর্কতা,
এই সঙ্গে ধৈর্য্য নিলে আসে সফলতা!
সেই সঙ্গে চাই সূক্ষ্ম কল্পনা-ক্ষমতা,
একই সাথে প্রকৃতি ও জীবে মমতা,
সেই সাথে পরিচ্ছন্ন থাকবার গুণ,
একা-একা তুমি হবে মস্ত নিদারুণ!
পিপিলিকাকেও দেখে অনুভূতি নাও,
তবেই মহা বিশ্বের সুখ খুঁজে পাও!

সুখ মানে বাহিরের পদ, ধন নয়,
সুখ মানে অনুভবে বিশ্ব করি জয়!

বহু মানসিক চাপ নিয়ে থেকে চুপ,
কী করে যে লিখে যাই, মনে নেই সুখ,
নয় অর্থ, অথবা দাম্পত্যের ব্যাপার,
আসলে এই সমাজ নয়তো ক্ষমার,
তাদের জন্য আমি যে বছর বছর — 
বিপদে ও যন্ত্রনায় হয়েছি কাতর, 
নতুন-নতুন রূপে ধেয়ে আসে তারা,
এতো কূটিল, নিষ্ঠুরদের সাথে পারা — 
সম্ভব হয়না তো যে অনেক সময়,
ইতরদিগের জন্য কত কিছু ক্ষয়,
এমন নানা কারণ — বিপন্নতা নিয়ে —
কী করে যে করছি কাজ  মগ্নতা দিয়ে —
ঘুম নেই সময়ে, অসময়ে খাওয়া,
দিনের পর দিন — হয় নাতো নাওয়া,
এভাবেই কেটে যায় দিন আর রাত,
অক্ষরের অন্ধকারে কে চালায় হাত!

এতো কথা বললো ঋদেনদিক মিত্রো,
সৃষ্টির জন্য যার জীবন অভিষিক্ত!

🌺 🌺🌺🌺🌺🌺🌺 

বিঃদ্রঃ :– ঋদেনদিক মিত্রো (Ridendick Mitro, ) কলকাতা, ভারত, পেশায় কবি-ঔপন্যাসিক-গীতিকার-কলামনিস্ট,  ( Poet-novelist-lyricist-columnist by profession, in both English & Bengali, seperately, not translation.) ইংরেজি ও বাংলাভাষায় পৃথক ভাবে ( অনুবাদ নয় ),  একটি বিশ্বজাতীয় সংগীত ” World anthem — we are the citizen of the earth, “,  ” Corona anthem 2020 official bengali song” (আগ্রাসনের নেশার সাথে হিংসা সীমাছাড়া) প্রভৃতি বিশেষ ধরণের সংগীতের রচয়িতা (Lyrist),  এবং 2020 পর্যন্ত বিবিধ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় 20 (কুড়ি) টি. About 20 (twenty)volumes Published from several publications upto 2020.

কবিতাগুলিতে  তথ্যের কোনো ভুল আছে কেউ প্রমাণ দিলে কবি কতৃক সংশোধিত করে সেই অংশ কাব্য রস বজায় রেখে আবার কবি কতৃক  পুনর্লিখন করা হবে, অন্যথায় পূর্বেরটাই সঠিক বলে চলতে থাকবে. (If any type of mistakes found in informative sides, or any portion if found type mistakes,  the poet must rewrite the marking part setting the taste of poetic value, otherwise everything correct if protest not comes to.)

এই কবিতাগুলি  বিশেষ প্রয়োজনে অন্য কোনো সংস্থা পুনঃ প্রকাশ বা পুনঃমুদ্রণ করতে পারেন,  তবে অবশ্যই কবির থেকে অনুমতি নেওয়া বা কবিকে আগে থেকে জানানো বিধিসম্মত ভাবে প্রয়োজন,  এবং প্রথম যে-সংস্থা প্রকাশ করেছে তার নামটিও উল্লেখ করা একটি সৌজন্য.

If any corner/s want to re-publish it, they should inform the poet as per system.

কবিতাগুলি বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ নয়, যদিও বিষয় ও তথ্য এক হবার জন্য দুটি ভাষাতেই ভাবনার খেলা একই রকম মনে হতে  পারে, কিন্তু এক্ষেত্রে কবির কিছুই করার ছিল না.

The  poems are  not translated from a language to other ( that he is a bi-lingual writer )  that poet wrote it seperately, though incidentally the two are same in thematical side.

If there is any controversy in the writing, it is the responsibility of the poet,  but not of the Magazine or the editor. 
       —  Editor : Kabyapot.com

Spread the Kabyapot

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *