শিরোনামহীন কবিতা ✓ মুকলেসুর রহমান

Spread the love

 

শিরোনামহীন কবিতা

মুকলেসুর রহমান

FB IMG 1770657357171

(১)

যখন তোমার একটা নির্দিষ্ট আকাশ হবে

তখন আমায় একবার ডেকে নিও

স্থায়ীভাবে জায়গা না দিলেও ভাসমান মেঘের মতো ভাসতে দিও। তোমায় ভালোবাসবো তোমার আকাশ স্পর্শ করে।

যদি আকাশবলয়ের জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ি মেঘ হয়ে , সিলিং ফ্যানটা চালিয়ে দিও না বরং তোমার ব্যালকনি জুড়ে ঝরতে দিও বৃষ্টি হয়ে।

তারপর এলোপাথালি চুল গুলো ভিজে কোমর চুয়ে জল পড়বে তখন আমায় তাড়িয়ে দিও ভেজা তোয়ালের ঝাপটা মেরে।

আমি আবার কোথায় চলে যাবো ফিরে আসবো আশ্বিনের আগেই।

****************

(২)

এখন তোমার আয়তনের বাহান্ন বাই বাহান্ন ফিট আকাশ পেয়েছো,যেখানে তুমি দিন রাত উড়তে পারো।

তোমার নতুন পর গজিয়েছে যে পরে কেউ সেপ্টিপিন লাগবে না,

তুমি অর্ধাঙ্গিনী!

এখন আমার উঠোনে দুটো লাল কবুতর রোজ দানা খেয়ে যায়।

চাঁদের ওপর মেঘগুলো নেমে আসে সঙ্গে কিছু নীল

সমাধির ওপর একটা গোলাপ ফুটেছে

আমাদের সেক্সের নাপাক পানি কুয়াশার মতো ঝরে পড়ে, এখন দিনের চেয়ে রাত খুব রোমাঞ্চক

*********************

(৩)

রাত শেষ হয়ে এলে গোসুল ফরজ সেরে তুমি

চুলে কয়েবার গামছার আঁচড় দিয়ে সাজঘরে ঢুকে পড়ো

তোমার নাভিপদ্মে মেতে উঠেছে প্রেম।

তখনো ঘুম ভাঙ্গেনি আমার ,দিবাস্বপ্নে বিভোর হয়ে নিকোটিনের আগুনে ঝলসানো ঠোঁট , গোলাপি ঠোঁটে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

আমাদের কোনো লজ্জা ছিলো না সেই রাতে

যে রাতে দু-জোড়া ঠোঁট জড়িয়ে ধরেছিলো

তোমার নরম স্তন আমার হৃৎপিণ্ডে আছড়ে পড়েছিল

রাত গভীর হলেই প্রেমের বীর্য ঝরে পড়তো।

এখন তোমার দেহ আমি ছুঁতে পারিনা

যে কালো বিড়ালটা তোমার যৌনাঙ্গ চেটে দেয়

এখন সে রাত হলেই চুষে চুষে খায় প্রেমের নরম দেহ

*********************

(৪)

তোমার হাতে যে লাল টকটকে মেহেন্দির রং

সেই মেহেন্দি আমার কবরের পাঁজর থেকে তোলা হয়েছিলো,

এখন কেউ মেহেন্দি পাতা তুলতে আসে না।

তুমি চলে গেছো জেনেও কিছু স্মৃতি ফিরে আসে বারবার,

আবার ফিরে যায় ধুলো মাখা পায়ের নিশানা ধরে।

বাড়ির উত্তরের পথে তোমার পায়ের ছাপ কখনো পড়েনি তবুও একটা পায়ের ধুলো মাখা ছাপ ঢুকে পড়ে শোবার ঘরে।

এখন ঘুমাতেও খুব ভয় হয়,গত রাতে তোমার একটা স্বপ্ন আমায় খুব কাঁদিয়েছে তাই রাত হলেই আমি নিশাচর হয়ে যাই।

*********************

(৫)

আমার কবরে কোনো গাছ জন্মায়নি

এখন ছাদ চুয়ে জল পড়ে, আমি ভিজে যায়

প্রেমের কোনো জাত নেই!

তোমার প্রস্থান নয়, বিচ্ছেদও নয়

তোমার দেহ জুড়ে রাতের রোমান্টিকতা

এখন কোনো ভয় আর কাজ করে না

তোমার মন উঠানে পরপুরুষের আনাগোনায়

আমার উঠানের মাটি বাহান্ন গজ ধসে যায়।

এখন রাত হলে আমি উঠে বসি

কবরের শহর টা বেশ ছোটো , আমার একটা পূর্ণ শহর চাই।

************************

(৬)

নদীর পাজরে.. ভাঙা সেতুর ওপারে ..একটা বেগুনি সন্ধ্যায়..

সর্বত্র শুষে নিচ্ছে নির্জনতার শূন্যতা

আমার প্রেমের আল-জিভে তোমার শ্বেত নাভিতে আত্মগোপন

করেছিল..

এখন রিসাইকেল করতে পারিনা, তোমার অপূর্ণতা

তোমার শরীরের প্রত্যেক খুপরিতে আমি বিচ্ছেদ ঢেলে দি

*********************

1 Comment

  1. শিরনামহীন কবিতা, এই গুচ্ছে কবি মকলেসুর রহমান, নতুন ভাষায় কথা বলতে চান, সন্দেহ নেই। ভাষার আদল গড়তে চান নতুন করে। দক্ষতা আকর্শনীয়। কিন্তু অনেক অনেক বানান ভুলে কবিতার অর্থ বদলায়,,বা মানে খুঁজে পেতে অসুবিধে হয় নির্দিষ্ট কোনো-কোনো লাইনের। নইলে বিদেশিরা অনুবাদ করে পড়তে গেলে বা তারা সরাসরি বাংলা পড়তে গেলে অনেক বাক্যের মানে উলটে যাবে, বা বুঝতে পারবে না। ভালো কবিতা লেখার সাথে বানানে পারিবারিক বা আঞ্চলিক অভ্যেস ছাড়াতে হবে। এত ভালো কবি, এই দায়িত্ব তো পালন করতে হবেই। পাঠক হিসেবে তো দাবী রাখি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

💬 Chat on WhatsApp