Spread the love
★বিশ্ব মহামারী ★
✍️মনালি বসু✍️
বিশ্ব মহামারী ¡¡
‘হু’ নাকি এরকমই বলেছে! 
অত ভারিক্কি কথা বুঝি না বাপু,
সোজা কথায় এটুকুই বুঝি
আজ মানুষের ভারী বিপদ। 
একটা অণুজীব নাকি আমাদের মতো 
বুদ্ধিমান শ্রেষ্ঠ জীব কে
গৃহের মধ্যে বেঁধে রেখেছে! 
ভারত তথা বিশ্ব এর বিরুদ্ধে লড়ছে।
আমাদের নেতা তথা শাসকদল
সকলেই ত্রস্ত, সন্ত্রস্ত।  
বিশ্ব মহামারী দেখার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য 
কোনোটাই এতদ্ সময়ে হয়ে ওঠে নি।
কেউ কেউ নাকি বলছেন
কোরোনা আমাদের অনেক শিক্ষা দিল!
দিল বই কি,
মানুষ হবার শিক্ষা। 
তাই দেখি সব ভৌগোলিক দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়ে 
এক দেশের চিকিৎসক 
ছুটে যায় অন্য দেশে,
চিকিৎসকের ধর্ম পালন করতে।
এক দেশ অন্য দেশকে পাঠায় ত্রাণ, 
ভুলে যায় সব ভেদাভেদ। 
রাম- রহিম, হরি-হ্যারি,
মিচেল-মিশেল-মিখাইল- মাইকেলের তফাৎ। 
তাহলে কেন আমরা লড়ছি?
কিসের তাগিদে? 
আমরা তো এটাই চেয়েছি,
ভেদাভেদ মুক্ত ভারত তথা বিশ্ব। 
প্রকৃতির ওপর নির্মম হয়েছি বারংবার, 
নিজের অস্তিত্ব সংকট জেনেও,
তাই আজ প্রকৃতির নির্মম খেলায়
মানুষ আজ খাঁচায়।
প্রকৃতির বন্ধুসম সব জীবকুল 
বাইরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।
আর গৃহবন্দী দশা?
সে কি কিছুই শেখাল না আমাদের? 
শেখাল বই কি।
বহির্মুখী উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যার কবলে পড়ে 
আমরা ভুলেছিলাম আমাদের গৃহকোণ কে।
নতুন করে পারিবারিক বন্ধনে
আবদ্ধ হলাম আমরা।
শেখাল যে সব পুৃঁথিগত শিক্ষাই অসম্পূর্ণ। 
শিক্ষা যদি আলো না দেখায়,
উত্তাপে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়
তাহলে সে শিক্ষার কোনো দাম ই নেই। 
আজ দেখছি প্রাণের মায়া ত্যাগ করে
শাসক তথা প্রশাসন, 
ফোর্স,মেডিকেল টিম,জরুরী পরিষেবা, 
সকলে একসাথে লড়ছে।
আবার দেখলাম পৃথিবীর সর্ববৃহৎ 
শক্তিকেও নত হতে,
নিতান্ত উন্নয়নশীল দেশের কাছে,
শুধুমাত্র ওষুধের প্রয়োজনে।
এই দিনটাই তো দেখতে চেয়েছিলাম আমরা, 
কুর্নিশ করি এঁদের সকলের আত্মত্যাগ। 
তাই আজ মনুষ্য জাতি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। 
এ লড়াই যে তাদের জিততেই হবে,
প্রমাণ করতে হবে 
মনুষ্য জাতি শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান জীব,
সে সকলকে নিয়ে বাঁচতে চায়,
এ ধরার বুকে
আরও অনেকটা পথ হাঁটতে হবে।
একসাথে।। 
                              #মনালি#
One thought on “বিশ্ব মহামারী ।। মনালি বসু।।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।