Spread the love
আমি কৃষ্টি, আমি সেই নারী 
                    স্মরজিৎ দত্ত
                    🌱 🌱 🌱 🌱 
আমি কৃষ্টি,
সৃষ্টির ঊষা লগ্ন থেকে সইছি
দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে –
তারপর, তারপর জন্ম দিয়েছি তোমায়
পৃথিবীর চরম বেদনার সাক্ষী হয়ে
অনাবিল আনন্দ প্রকাশ করে
দুহাতে তুলে
চুম্বনে ভরিয়ে দিয়েছি
তোমার মুখমন্ডল।
সেদিনও সয়েছি।
তোমার সারাদিন কর্ম লড়াইয়ের পর
রাতের সজ্জায় আনন্দ দানে
ক্লান্ত কৃষ্টি ক্লান্ত ঘোমটার আরালে তোমায় দেয় আনন্দ;
তখনও সেই আমি , তোমায় নিয়ে যায় আনন্দের
মহা ভেলায়,
আমি সেই নারী
আমি সেই কৃষ্টি।
সৃষ্টির ঊষা লগ্ন থেকেই
আমরা ধারক
ছিলাম, আছি, থাকব।
কেবল একটু অনুরোধ
কৃষ্টির এই দেহ মন্দির কে
একটু ভালোবেসো,
সৃষ্টি মানব সৃষ্টি করেই
করেছেন উৎসর্গ
তোমাদের তরে আমাদের,
জগতের দিশায়।
আমি সেই কৃষ্টি,
আমি সেই নারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।