Spread the love

কবিতা : বিষন্নতার আঁচে দগ্ধ হচ্ছে সময়কলমে : শেখ আব্বাস উদ্দিন
ইঞ্জিনের ঘর্ষণ আর রেললাইনের নিস্পৃহ শুয়ে থাকা দেখতে দেখতে ক্ষয়ে গেল অনেকটা জীবন,কিশোরী সকাল ঘড়ির কাঁটায় অপেক্ষমান পেটাই পরোটার সুঘ্রাণে;
পুরনো অবেলায় নামতার সিঁড়ি বেয়ে”আলিফ লায়লা” কিংবা ধারাবাহিকের কুশীলবেরা ফিরে আসে নতুন অবতারে
ঘামে সিক্ত, ক্লান্তির স্পষ্ট ছায়া শরীরে মনের বিস্তীর্ণ আকাশে; উত্তীর্ণ জীবন পিছনে ফেলে আসে তপ্ত অবসন্ন পথ।পুড়ে যাওয়া পায়ের সংলাপ স্বগতোক্তি আর সাদৃশ্যতা মুখের মর্মরেখায় রেখায় বেঁচে থাকেশিকড়ে শিকড়ে অনুভূত হয় অনন্ত টাননিরীহ সকালগুলো পরতে পরতে সাজানো বটেপ্রতিটা দিন সপ্তাহ মাসের সরণিতেঅন্ধকার গৃহকোনে মাকড়সার সহবাস; জীবনের আগামীর স্পষ্ট আভাস লেখা হয় দীর্ঘশ্বাসেরোদ্দুরে শুয়ে আছে অনন্ত প্রলয়,প্রলয়ের শেষ প্রহরে এলোমেলো প্রলাপে মেতেছে জনহীন প্রান্তর…
আমি কেন দুঃখবাদী হব, নিবিড় সন্ধ্যার গায়আমি কেন সীমান্ত হব?কাঁটাতারের বেড়া হব দুই হৃদয়ের মাঝে?বরং আমি সাম্য হব দুই পৃথিবীর বিভেদ বেড়ার ফাঁকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।