আমার পল্লি গাঁয়ে
আবু সাঈদ
শেরপুর সদর শেরপুর
>বাংলাদেশ<
=========
মাঠ আর কৃষকের মিতালি
দেখতে যদি চাও,
তোমরা সবে ভাই আমার
পল্লি গাঁয়ে যাও।
মৃগী নদীর দক্ষিণ পাড়ে
বিশাল একটা বন,
সেই বনেরই নানান রুপে
আকুল করে মন।
এ বনেরই বুক চিড়ে বয়
মৃগীর পুত্র হারি,
বৃষ্টি হলেই যৌবনে পায়
নতুন শ্বশুর বাড়ি।
দেখবে সেথায় বান এলেই
কৃষক বানায় ঘর,
একে একে মাচাঁ বানায়
সাঝাঁয় থরে থর।
সারি সারি সিপ জালেরই
বসায় যেন মেলা,
সেথায় যেন জমে উঠে
দেশি মাছের খেলা।
দেখবে সেথায় সোনার কৃষক
কাটছে সোনার ধান,
রোদ পুড়িলেও মনের সুখে
গাইছে মধুর গান।
দেখবে সেথায় এঁকে বেঁকে
গায়ের বধু চলে,
নেয় যে রেঁধে খাবার গুলো
কাঙ্কের ভিতর তুলে।
খাবার খেয়ে বিড়ি টেনে
এক সাথে ধরে গান
সোনার ফসল ঘরে তুলে
আসার আগেই বান।
দেখবে সেথাই পল্লিবালা
মাঠে চড়ায় ছাগল,
সন্ধ্যা হলেই কেউ বা আবার
খোঁজে হয়রে পাগল।
দেখবে সেথায় বন কখনো
সবুজ রাঙা হয়,
ফসল যখন একাধারে
যৌবনেতে রয়।
বন কখনো হয় যে আবার
হলদে সোনালী,
ফসল কাটার পরে দেখায়
মরু ভূমির বালী।
রুপ দেখিতেই দিন চলে যায়
মিটেনা মনের স্বাদ,
প্রাণ ভরে নেই নির্মল বায়ু
ভাঙ্গে দুঃখের বাঁধ।
দেখবে সেথায় শেষ বেলায়
আলো ছায়ার খেলা,
দূর আকাশে সূর্য কিরণ
বসায় রঙের মেলা।
পাখপাখালি আহার করে
ফিরছে  আপন নীড়ে,
কাঁধে নিয়ে কাস্তে কোদাল
কৃষক ফিরে ঘরে।
কারো হাতে ছাগল গরু
কারো মাথায় মাটি,
কারো হতে ঘাসের খাঁচা
ভাঙে বাঁধা আটি।
এমন রুপের রুপ বাহারি
দেখতে যদি চাও,
তোমরা সবে ভাই আমার
পল্লিগাঁয়ে যাও।
আমার গাঁয়ে যাবে ভাই
হাতে রাখো হাত,
তোমার কাছে রইলো আমার
গাঁয়ে যাওয়ার দাওয়াত।
কথা দিলে যাবে ভাই
আমার পল্লি গাঁয়ে,
বর্ষা কালে ঘুরবো দুজন
বেলা নামের নায়ে।

Spread the Kabyapot

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *