কবিতা: মহর্ষি পাণিনি

(Photo created by AI)
[ A Bengali poem like “MAHARSHI PANINI”. Panini was an scholar and language scientist born in undivided India around 700–350 BC. His record of vast work makes us overwhelmed. This biographical poem written by Ridendick Mitro, West Bengal, India, professionally a poet, novelist, lyricist, columnist in Bengali, English, Spanish, and a scientist in several subjects, a social reformer and world peace worker. Poet brings back that time and air into our periods of time to feel everything of them. ]
ঋদেনদিক মিত্রো
(পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
[ ১ ]
ভারতবর্ষ এমনি মাটি,
কী ভাগ্য, তার উপরে হাঁটি,
কী ভাগ্য, তার মাঝেই থাকি,
ভারতবর্ষ, এমনি মাটি।
কেউ যদি হই বাইরের দেশে জন্ম,
রক্তে আমার ভারতবর্ষ, চুপিচুপি হই ধন্য।
কত পন্ডিত, যুগযুগ ধরে
জন্মেছিলেন লাখো ঘরে-ঘরে,
সুপ্রাচীনকাল থেকে সেই ধারা
বয়ে এনেছেন, সেই জ্ঞানী যারা,
তাঁদের মাঝেও পাণিনি একজন,
স্বল্পে কি হয় এঁদের মূল্যায়ন?
রচেছেন কত দুর্লভ গ্রন্থ,
তাঁর জন্ম খ্রিষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ থেকে ৪র্থ,
সিন্ধু নদের কাছে শালাতুর গ্রামে,
পাকিস্তানের আটক বা চারসাদ্দা, বর্তমানে।
মা দাক্ষী, তাই তো দাক্ষীপুত্র,
লেখেন ৩,৯৫৯টি সূত্র,
আটটি অধ্যায়ের গ্রন্থ নাম অষ্টাধ্যায়ী,
ভাষাকে বাঁধেন বিজ্ঞান অনুযায়ী,
ধ্বনিতত্ব, রূপতত্ব ও বাক্যতত্বকে
সংস্কৃতে ব্যাখ্যা দিয়ে বেঁধেছেন এক ছকে,
ভাষাবিজ্ঞানে প্রাচীনতম এ-গ্রন্থ,
বিষ্ময়কর কত জ্ঞান অফুরন্ত,
ঋণ উল্লেখ করেন পূর্বসূরিদের,
আপিসলি, কাশ্যপ, গার্গ্য, শাকটায়ন ও যাল্কের,
এর সঙ্গে আরো অনেকের নাম,
সেই সে প্রাচীন কালে, জ্ঞানীদের কত মান,
কেউ বা বলেন তাঁর জন্ম-সময়েতে আছে জট,
খ্রীষ্টপূর্ব ৭ম, ৬ষ্ঠ, বা ৪র্থ শতক,
কেউবা মুদ্রা সংক্রান্ত তথ্যে —
তাঁর জন্ম-সময় ধরেন ৩৫০ খ্রিষ্টপূর্ব শতকে।
পাণিনির পিতা, নাম পরিচয়পত্র,
এই নিয়ে আছে পন্ডিতে মতানৈক্য।
অতিদূর কাল, কতকি যে হয় হাওয়া,
তার মাঝে হয় কিছুকিছু খুঁজে পাওয়া।
আসলে কে পিতা, কে মাতা, কী দরকার,
মানুষের দ্বারা মানুষ জন্মে, এটাই সত্য সার।
[ ২ ]
সকলের আদি পরিচয় হল, আলো, হাওয়া, জল, মাটি,
এই চার মিলে এসেছে প্রাণীর জাতি।
অজানা অনেক নিয়মের দ্বারা প্রাণীর নানান রূপ,
তার মাঝে আছে সব কাজ পারা এই জাতি মানুষ।
মানুষের আছে দুটি জাত, সেটা ধূর্ত এবং ভালো,
ভালোর কীর্তি পৃথিবীকে দেয় মুক্ত সুখের আলো।
তেমনটা হতে এসো তো যে যার চেষ্টায় হই রত,
জীবনের সেরা সুখ কী জানো, ভালো কর্মের ব্রত।
কে কার দ্বারা হয় স্বীকৃত, কোন্ পরিচয়, জাত,
কার দ্বারা কে উঁচু, আর নিচু, কোনো যুক্তির মাপ?
অদ্ভুত সব শান্তনা নিয়ে আমাদের পরিচয়,
কে কেন উঁচু, কে কেন নিচু, প্রশ্ন করতে হয়।
কে কেন লিখি কোন্ জাত বলে, কোন্ সে প্রমাণ ধরে,
ঢপে ভরা সেই প্রমাণ কিনা, ভেবে দেখ চুপ করে।
চিন্তা, স্বভাব, কার্য, লক্ষ্য, যদি অনার্য রূপ,
তার মাঝে তবে উঁচুনিচু জাত-ভাবনায় কার সুখ। আঁটোসাটো সব ধাপ্পা নিয়েই আমাদের শান্তনা,
সেগুলি আঁকড়ে হই আধুনিক, এটা কি ভ্রান্ত না?
[ ৩ ]
দু-আড়াই হাজার বছরের এত পরে
তাঁদের গ্রন্থ রাখতেই ভয় আমাদের ঘরে-ঘরে,
সেসব গ্রন্থ পড়তেই পারি নাতো,
কত গভীরতা ও আবিষ্কার নিয়ে সেই জ্ঞান স্নাত,
এসো ভাবি সেই যুগ আর পরিবেশ,
কত কম জনসংখ্যা, প্রায় ফাঁকা সারা দেশ,
শুদ্ধ হাওয়া, সোনার ফসলি মাঠ,
পুকুরেতে ছিল কাঠ দিয়ে বাঁধা ঘাট,
কাঠ, পাথর ও গাছের পাতায় পুঁথি,
সেইগুলি ছিল গ্রন্থ আকার আদলে মোটামুটি,
সেসব মানুষ, সেসব পোশাক, সেইসব গ্রাম, শহর,
কল্পনাতে ভেসে গিয়ে হই মুগ্ধ অহর-অহর,
সেই সময়ের শিক্ষাদীক্ষা কেমন ছিল তা ভাবি,
এসব ভাবলে, চুপ হয়ে যায় সকল দম্ভ দাবী।
তাঁদের কাছেতে আমাদের সব জ্ঞান, গুণ হলো তুচ্ছ,
তাঁদের আড়াল করে রেখে বলি, আমরা হলাম উচ্চ।
এসব ভাবলে, মনে হয় কোথা যাচ্ছি,
তাঁদের সঙ্গে হাঁটছি, আমি হাঁটছি।
সেই যুগে কত কঠিন শিক্ষা, তবু এত জ্ঞানী তাঁরা,
আমরা এযুগে রাখতে পারিনা, তাঁদের জ্ঞানের ধারা,
ধিকধিক এই বর্তমানের মানব জন্মটাই,
স্বল্প জ্ঞান ও স্বল্প কর্মে কতকি যে সব চাই।
স্বভাবে চতুর, প্রভাবে ধূর্ত, জ্ঞান চর্চায় সীমিত,
সত্যভাষীর অভ্যেস থেকে দূরে সরে হই স্থিত।
পুরো বিশ্বটা বদলাবে, যদি বদলাই চল-ধরন,
প্রাচীন গুণী জ্ঞাণীদেরকে করলে অনুসরণ।
————————————————–
[ রচনা ঃ ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ ]
লেখক পরিচিতি :
ঋদেনদিক মিত্রো (Ridendick Mitro), কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গের একজন বহুমুখী প্রতিভাধর সাহিত্যিক—কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার ও কলামিস্ট। তিনি বাংলা, ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় লেখালেখি করেন। পাশাপাশি তিনি একজন বিজ্ঞান-গবেষক এবং ‘History Math’ ও ‘Math Poetry’-এর মতো ব্যতিক্রমী ধারণার উদ্ভাবক।
২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর ২২–২৩টি একক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে তাঁর রচিত দীর্ঘ মহাকাব্য প্রকাশের অপেক্ষায়। ইতিহাসভিত্তিক সাহিত্যচর্চার জন্য তিনি ‘Movement Poet’ হিসেবে পরিচিত এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল সবুজ সেনা সম্মান-২০২৩’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে সম্মানিত।
তিনি সমাজসংস্কারক ও মুক্তচিন্তার প্রবক্তা। তাঁর লেখা ও গবেষণা দেশ-বিদেশে আলোচিত হয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও স্বীকৃতি পেয়েছে।
Very nice composition. L
অশেষ ধন্যবাদ
খুব সুন্দর। কবিতা গুল নতুন ভাবের।
খুব সুন্দর লেখা
একজন লেখক এর সব থেকে বড় প্রাপ্তি তার লেখা যদি পাঠক দের হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারে, যদি তাদের হৃদয়ে সেই…