কবিতা: নীলাদ্রি

কাছেন রাখাইন
_________________
নীল আকাশের গভীর থেকে নেমে আসা
একটি নাম— নীলাদ্রি,
যেখানে মেঘেরা প্রার্থনার মতো ঝরে পড়ে
আর নীরবতা শেখায় অপেক্ষার ব্যাকরণ।
তুমি পাহাড়— তবু পাথর নও,
তোমার বুকে জমে থাকে অনুচ্চারিত প্রেম,
চন্দ্রালোকে জেগে ওঠে হাজার না-বলা কথা,
নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে কাঁপে দূরের গান।
আমি যতবার হারাই নিজেকে,
ততবারই ফিরে আসি তোমার ঢালে—
হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলা যায় না,
তবু দৃষ্টির শেষ সীমানায় তুমি।
নীলাদ্রি,
তুমি শুধু নীল রঙের পাহাড় নও,
তুমি আমার সমস্ত না-পাওয়ার ঠিকানা,
সমস্ত আকাঙ্ক্ষার শেষ চূড়া।
যদি কোনোদিন নাম ধরে ডাকো,
আমি মেঘ হয়ে ভেঙে পড়বো তোমার বুকে—
চিরনীরব এক ভালোবাসার মতো।
___________________
কবি-পরিচিতি
🌺 কাব্যপট পত্রিকা পরিবারের পক্ষ থেকে কবি পরিচিতি পর্বে সবাইকে স্বাগতম।
🌷 লেখকগণের লেখা এবং পরিচিতির পোষ্টে লাইক-কমেন্টের মাধ্যমে আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসায় আমরা নিয়মিত কবিপরিচিতি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে পারছি।
এই ধারাবাহিকতায় আজকে আছেন প্রতিভাবান কবি কাছেন রাখাইন ।
★ নাম – কাছেন রাখাইন (Kyaw Shen Rakhine) ১৯৭৩ সালের ১১ অক্টোবর কক্সবাজার জেলাধীন চকরিয়া উপজেলা, হারবাং রাখাইন পাড়ার এক সম্ভ্রান্ত রাখাইন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই, দুই বোনের মধ্য কবি ৪র্থ।
★পিতা মাতাঃ পিতার সুইচিং রাখাইন।
তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী।
মাতার অংবাচিন রাখাইন।(তিনি গত ১আগস্ট,২০১৫ সালের মারা যান।)
★★শিক্ষা ও কর্মজীবনঃ
কবি নিজ গ্রামের হারবাং বার্মিজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন সূচনা করেন।প্রাইমারী শিক্ষা শেষ করে রাংগামাটি পার্বত্য জেলা,বরকল উপজেলা, বরকল সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন।৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়ন কালে তাঁর সাহিত্যের জীবন সূচনা ঘটে।তিনি ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়ন কালে ‘মহান স্বাধীনতা দিবসের’ ‘বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটকের অভিনয় করে সকলে নজর কাড়েন।এবং তাঁর লেখা কবিতো স্থানীয় বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকাতে প্রকাশিত হতে থাকে।তাঁর প্রতিভা দেখে স্কুলের শিক্ষকরা মুগ্ধ হন।নানান মহল থেকে প্রশংসা পেতে থাকেন।তিনি ১৯৯১ সালের এস এস সি পাস করে কলেজে ভর্তি হন।কলেজে অধ্যয়ন কালের ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এবং নানান সামাজিক ও সাহিত্য সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হন।সমাজের বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তিনি হুমায়ুন আহম্মেদের নাটকের “কোথাও কেউ নেই” বাকের ভাই চরিত্রের মতো “বাকের ভাই” হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।১৯৯৩সালের তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক “ওরা তিন জন” নাটক কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ছাত্র-ছাত্রীর ঐক্য পরিষদের প্রযোজনায় কলেজ প্রাঙ্গণে নাটকটি মঞ্চায়িত হন।উক্ত নাটকের তিনি নিজেও অভিনয় করেছিলেন।পরিচালনায় ছিলেন, জনাব আলমগীর হোসেন।এতে তাঁর সুনাম দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বে সাথে বি এস এস পাস করেন।
★অদ্যাবধি দেশ বিদেশের বিভিন্ন অনলাইন সাহিত্য গ্রুপ থেকে “ শান্তি রত্ন, কাব্য শ্রী, কাব্য রত্ন, নজরুল সাহিত্য সন্মাননা, রবীন্দ্র সাহিত্য সন্মাননা, সেরা সাহিত্য কথক সন্মাননা, Showpnodhipnews24 এর সময়ের সাহসিক সৈনিক সন্মাননা “ সহ তিনি প্রায় ৮(আট) শতাধিক সন্মাননা সনদপত্র লাভ করেছেন। তিনি “কাব্য পরিবার” থেকে তিন তিনবার “দৈনিক কাব্য সৈনিক” নির্বাচিত হন এবং “জাতীয় কবি পরিষদ” থেকেও সনদপত্র লাভ করেন। বিগত ২৪.০২.২০১৮ খ্রিঃ তারিখে চট্রগ্রাম মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত “আন্তর্জাতিক কবি পরিষদ” কর্তৃক আয়োজিত “আন্তর্জাতিক সাহিত্য সন্মেলন-২০১৮খ্রিঃ থেকে “কাব্য জ্যোতি” পদক লাভ করেন এবং বিগত ১৪.০২.২০১৯ইং তারিখে ঢাকায় জাতীয় যাদুঘর, বেগম সুফিয়া কামাল হলে অনুষ্ঠিত “বাংলা কাব্য পরিবার” কর্তৃক আয়োজিত “আন্তর্জাতিক সাহিত্য সন্মেলন -২০১৯খ্রিঃ”থেকে বাংলা সাহিত্যের অবদানের জন্য “কাব্যপথিক” পদক লাভ করেন।বিগত ২৪.০২.২০১৯খ্রিঃ তারিখে “পশ্চিমবঙ্গ,নদীয়া, বীরপুর -৪৭১১২৬” অনুষ্ঠিত “স্বপ্ননীল সাহিত্যচর্চা পরিষদ” কর্তৃক আয়োজিত “আন্তর্জাতিক কবি মহাসন্মেলন ও গুণীজন সন্মাননা স্মারক-২০১৯খ্রিঃ থেকে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য “বিশেষ সন্মাননা স্মারক” পদক লাভ করেন।বিগত ০১.০৩.২০১৯ তারিখে পার্বত্য কাব্যের কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাহিত্য সন্মেলন ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকে বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য সন্মাননা পদক লাভ করেন।বিগত ১২.০৭.২০১৯ইং তারিখে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠিত “বিশ্ববাংলা সাহিত্য নিকেতন” কর্তৃক আয়োজিত “আন্তর্জাতিক সাহিত্য সন্মেলন-২০১৯খ্রিঃ” থেকে “সেরা কবি” পদক লাভ করেন।বিগত ১৩.০৭.২০১৯খ্রিঃ তারিখে “ঢাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে” অনুষ্ঠিত “স্বপ্ননীল সাহিত্যচর্চা পরিষদ” কর্তৃক আয়োজিত “আন্তর্জাতিক গুণীজন সংবর্ধনা-২০১৯খ্রিঃ” থেকে “সেরা কবি” পদক লাভ করেন।বিগত ০৩.০৯.২০১৯খ্রিঃ তারিখে ঢাকায় জাতীয় যাদুঘর,বেগম সুফিয়া কামাল হল,শাহবাগ এর অনুষ্ঠিত, “চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমি” কর্তৃক আয়োজিত “২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সাহিত্য আড্ডা ও গুণীজন সন্মাননা প্রদান-২০১৯”- থেকে সাহিত্য বিশেষ অবদানের জন্য “কাব্যজ্যোতি” পদক লাভ করেন। বিগত ০৩.১০.২০১৯খ্রিঃ তারিখে ঢাকায় জাতীয় গ্রান্থাগার, শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, শাহবাগ এর অনুষ্ঠিত, “কবি ও কবিতার ভুবন “কর্তৃক আয়োজিত “সাহিত্য সভা ও আন্তর্জাতিক গুণীজন সংবর্ধনা-২০১৯” থেকে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য “কাব্যশ্রেয়” পদক লাভ করেন।বিগত ২৭.১২.২০১৯ তারিখে রাঙ্গমাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অনুষ্ঠিত “পার্বত্য কাব্য” কর্তৃক আয়োজিত “কবি হাসান মনজু আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব-২০১৯”- থেকে সাহিত্য বিশেষ অবদানের জন্য “পার্বত্য কাব্য সন্মাননা” পদক লাভ করেন। পশ্চিমবঙ্গে “গড়িয়া আজাদ হিন্দ পাঠাগার”- এর অনুষ্ঠিত “সারা বাংলা কবিতা উৎসব-২০১৯” থেকে তিনি #কাব্যতরী_ভাষাসাহিত্য_সন্মাননা_পদক★অর্জন করেন।বিগত ০৩.০১.২০২০খ্রিঃ এর “কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা,৩৭/এ,সেগুন বাগিচা,ঢাকা- এর অনুষ্ঠিত “প্রিয়জন সাহিত্য পরিষদ* কর্তৃক আয়োজিত #আন্তর্জাতিক_সাহিত্য_উৎসব_ও_গুণীজন_সম্মাননা_২০২০_এর থেকে *কবি সম্মাননা স্মারক* পদক লাভ করেন।
তাঁর প্রকাশিত যৌথ কাব্যগ্রন্থগুলো হলোঃ
১।হৃদয়ের কাব্য ভেলা
২।কাব্যের পাঁচফোড়ন
৩।নীলপদ্ম
৪।শংকর শব্দমালা
৫।ঝিঙেফুল
৬।আলোকিত জাগরণ
৭।স্বপ্নের কাব্য।
৮।শোকাঞ্জলী।
৯।অরণ্য সূর্যোদয়
১০।নীলপদ্ম
১১।কাব্যতরী
১২।গহীন অরণ্যে
১৩। সোনালী সূর্য এবং
★ভারত থেকে যৌথ কাব্যগ্রন্থ
১।অন্য মধুকর-পৌষালী প্রকাশনী
২।স্বপ্ননীল।
কাব্যপট পত্রিকা পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিভাবান কবির জন্য অনেক অনেক শুভকামনা ও আন্তরিক ভালোবাসা সহ দীর্ঘায়ু ও উন্নত জীবন কামনা করছি।
আজ রবিবার অন্য কোনো প্রিয় কবির পরিচিতি পর্ব নিয়ে হাজির হবার সেই প্রত্যাশায় আজকের মতো সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এখানে ইতি টানলাম
ধন্যবাদ।
শুভেচ্ছান্তে-
শ্যামল মণ্ডল
সম্পাদক
কাব্যপট পত্রিকা।
Leave a Reply