Spread the love
৮৪ লক্ষের প্রমোশন
বুবাই দাস
promotion-এই কথাটির অর্থ হল,পদ্দোনতি অথবা ক্ষমতার বৃদ্ধিও বলতে পারেন। এই প্রমোশন শব্দটি বেশীরভাগ ব্যাবহার করা হয় চাকুরীজীবিদের ক্ষেত্রে। সে সরকারি হোক বা বেসরকারি। ডিফেন্স লাইনে এই শব্দটি বেশী ব্যাবহার হয়ে থাকে।আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে যে,promotion  সকল কিছুর হয়ে থাকে কিন্তু আমরা অন্য সকল কিছুর ক্ষেত্রে তা ব্যাবহার করি না।মুচি থেকে শুরু করে মন্দিরে চন্ডীপাঠ করা সেই ব্যাক্তিরও হয়ে থাকে।ছাত্রদেরও প্রমোশন হয়।এই পৃথিবীতে যা কিছুর অস্তিত্ব আছে সকলের ক্ষেত্রে এই প্রমোশন শব্দটি ব্যাবহার হতে পারে।অর্থাৎ  ৮৪ লক্ষ যোনির ৮৪ লক্ষ প্রজাতিরি প্রমোশন হয়।প্রমোশন তাদেরি হয় যারা,তার কর্মকে ভালোবাসে।কর্ম যাদের প্রধান লক্ষ। যে যা কর্ম করে তা যদি সৎ,নিষ্ঠা, ধৈর্য্য ও মনোযোগী হয়ে করে তবে তার প্রমোশন পাক্কা। একটা গাছেরও প্রমোশন হয়, সে যদি প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেড়ে ওঠে অর্থাৎ সে মাথা উঁচু করে বড় হয় এবং তার এটাই প্রমোশন। প্রমোশন একটা বাড়ির সিড়ির মতো।যে পাড় করতে পাড়ে সে ছাদে গিয়ে খোলা প্রকৃতির মজা নেয়।একজন ভক্ত যদি তার ধর্মের প্রতি মনোযোগ দেয়। ভগবান ভজনায় যদি তার প্রধান লক্ষ হয়,তবে ভগবান তার প্রমোশন করিয়ে দেয়।তাকে আর এই মর্ত্যের জ্বালা সহ্য করতে হয় না।সবকিছুরি প্রমোশন হয়ে আজকের এই বর্তমান। ৮৪ লক্ষের প্রমোশন হয়েছে। এই ৮৪ লক্ষ হল কিভাবে? যা কিছু আছে তারা সকলেই শেষ মুহুর্তে এসে যখন কৃষ্ণ সেবায় লাগতে পেরেছে ঠিক তখনি তারা প্রমোশন হয়ে উন্নতি স্তরে পৌঁছে গেছে।নিচু প্রজাতির প্রমোশন হয়ে উঁচু বা উন্নত প্রজাতির জন্ম হয়েছে।এই ৮৪ লক্ষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ জীব বা প্রজাতি ধরা হয় মানব প্রজাতিকে।মানুষ হল সবথেকে উন্নত জীব। যারা সকল জীবের থেকে উন্নত।এরাই সম্পুর্ণভাবে ধর্ম পালন করতে পারে। ভগবানের সেবা করতে পারে।মানুষ হল ৮৪ লক্ষের অন্তিম পর্ব। চলো একটু ৮৪ লক্ষের হিসেব করে নি।
২০ লক্ষ গাছ গাছরা-তুলশীর জন্ম হল।তা লাগলো কৃষ্ণ সেবায়।হয়ে গেলো তার প্রমোশন। 
৯ লক্ষ জলে জন্ম-শঙ্খের জন্ম হল।তা লাগলো কৃষ্ণ সেবায়।হয়ে গেলো প্রমোশন। 
১১ লক্ষ কৃমি কীট-জন্ম হল ভ্রমরের। তার মধু লাগলো কৃষ্ণ সেবায়।হয়ে গেলো প্রমোশন।
৩০ লক্ষ পশু কুল-জন্ম হল গাভীর।তার দুগ্ধ লাগলো কৃষ্ণ সেবায়। হয়ে গেলো প্রমোশন। 
১০ লক্ষ পক্ষী কুল-জন্ম হল ময়ূরের। তার লাগলো কৃষ্ণের মাথায়।হয়ে গেলো প্রমোশন। 
৪ লক্ষ বানরকুল-তারা ভগবান রামের সেবা করল এবং তাদের প্রমোশন হল।
      ইতিহাস সাক্ষী আছে যে,বানর জাতি থেকেই আস্তে আস্তে মানব জাতিতে পরিনত হয়েছে।বানর জাতিই হল মানব তৈরীর পর্ব।ডারউইন তার বির্বতনবাদে জীবের উন্নতি স্তরের কথা বলেছেন। অর্থাৎ কৃষ্ণ সেবায় না লাগতে পারলে প্রমোশন হয় না।আর মানব হয়ে কৃষ্ণ সেবা করলে তবে আর  তাকে জন্ম মৃত্যুর খেলা খেলতে হয় না।আমরা সকলেই কিন্তু প্রমোশন চায়।প্রমোশন হলেই বড়ই আনন্দ পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।