Spread the love
‘আবর্তন”
…    শ্রী শতানীক ভট্টাচার্য
সময় সত্যিই বদলেছে,
বদলেছে আবহাওয়া
মানুষ কিংবা প্রকৃতির চঞ্চল মন,
হার মেনেছে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ
কিংবা রূপকথার ওই মায়াবী জাদু দন্ড!
 নিষ্প্রভ চকমকি পাথর থেকে বিকীর্ণ হওয়া স্ফুলিঙ্গ এর মত পরিবর্তন…..
কোন টা মরুভূমির মরীচিকার মত
আবার কোনটা লোহার গায়ে ক্ষত ধরা অনড় মরচের মত,
ঘটেছে অনেক ছন্দপতন,
..কখনো ভিতরে ,কখনো বা বাইরের জগতের:
 অলস ঘুম ভাঙ্গায় সময়ের বেনিয়ম ,
গতি আটকায় রাস্তার এবড়োখেবড়ো সতর্ক তা.
কখনো বীজগণিতের সূত্র অবাধ্য অংকের
উত্তর মেলায়
কখনো তা উত্তাল সমুদ্রের বুকে হারিয়ে যাওয়া নাবিককে  পথ দেখায়.
তবু ও বারে বারে সময় পাল্টায়,
পথভ্রষ্ট হয় নিঃসঙ্গ মন
প্রশ্ন চিহ্ন জাল বুনে
তৈরি করে বেরোবার পথ
.. সময় বৃত্তে ঘুরপাক খায় 
       অশান্ত গতি, 
বারেবারে দিক পাল্টায় ঘাতক সময়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।