Spread the love

শ্বশুর বাড়িতে জামাই

ডঃ অরুণ চক্রবর্তী

******************

কিছু টিপস্। দীর্ঘ সে লিস্ট !
জামাইরা যেন আসামী,
বিনা বিচারে থাকে বন্দী;
সুখী আপেক্ষিকে, প্রাত্যহিকে দুঃখী !
বলে ওরা সরাসরি, জামাই বিদেশী,
অনাহূত যেন রবাহূত, কথা নামে;
শব্দের ফিস্ফিসে্, লুকোবার চেষ্টা ;
কি একটা! বোঝা যায়, খোলাখুলি!
এমন কি! বেড়াতে আসা যোধপুরী;
বৃদ্ধার মুখে; শুনেছে জামাই! প্রবেশের
কালে; মিটিং চলছে, এখন না এখন না!
কিন্তু কেউ, চক্ষুলজ্জায়!
বলেছিল, কি হয়েছে, আসুন আসুন না!
নিশ্চুপ কেহ কেহ, নীচু করে বসা মুখ!
চাঁদির লোভে, কারে প্রকারে, করেছে বন্ধ, নীতিবাগীশবোধহীন, মুখ!
এহেন, সংস্কারের গৃহে, হৃদয়ের কাঁচ ভাঙে প্রতিবার!
সহ্য অনেক বছরের,
মনের কেন্দ্রে ধর্মদাস, ধমকে করে সচেতন !
সন্মানহীনতা, লৌকিক মৃত্যু অপেক্ষা আরো অনেক হীন! সযত্নে, দিনু বিদায়, জীবাণু ভরা অস্তিত্ব গুলোকে।
যেন দিনে দিনে স্পর্ধার;
সীমা ছাড়িয়েছে! অবক্ষয়ের হুঁশহীন,
অকিঞ্চিতকর মানুষের!
তাই এমনই জামাই কূল করো না, পুনঃ ভুল,
বোধহয়, হয়েছে তৈরী,
তোমাদেরও হিট লিস্ট!
১. কখনো কোথাও কেউ থেকো না, শ্বশুরের ভিটে, অচিরেই হবে, দংশনে উদ্যত কালকেউটে!
২. দেখিও না টাকা বা বৈভব, পড়ে ওরা,
বৃথা লোভের ও আশার ঘুর্ণাবর্তে!
৩. তৈরী করিও এক অদৃশ্য কিন্তু সম প্রীতির মহা দূরত্ব!
৪, রেখো মুখে মুক্তি হাসি, রেখো দু’আঁখে, খুশির ঝিলিক! বাক্য সংকোচে!
৫. হতে থাক্ অতি সাধারণ অব্যক্ত দেখা,
আভ্যন্তরীণ সম্পর্কহীন।
৬. আপসে এলেও শত্রু, রেখো সতর্ক সীমায় নিজেকে, মনে রেখ, একবার হয়ে যা, বার বার ঘটাবে তা!
৭. এরা কেহ নহে, আত্মার আত্মীয় একমাত্র স্ত্রী ছেড়ে আর না দিও সম্মতি, সে যেমনই হউক, তোমার জন্য আছে শুধু তারই আকুতি।।

REGISTERED UNDER COPYRIGHT ACT 1976

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।