** শেকড় **
ইব্রাহিম সেখ, মুর্শিদাবাদ (পঃব)
*********************
পৃথিবীর শেকড় উপড়ে ফেলে —
মানুষের চাষ কীভাবে সম্ভব?
হৃদয়টাকে শতছিন্ন করে কী পাবে–
একবারও ভাবার অবকাশ হলো না!
জ্ঞানবৃক্ষের শাখা – প্রশাখা পাতাহীন
অজ্ঞানের সংক্রমণ আষ্ঠেপৃষ্ঠে বেঁধেছে,
নিরবচ্ছিন্ন ঝড়ের দাপটে উড়ে যায় বিবেক।
ছায়াহীন বনানীর তলদেশে জ্বলছে পুঁথি –
মহামানবের স্মৃতি বিস্মৃতির কবরে শায়িত,
কে জাগাবে, কে উঠবে জেগে,মানুষ ছাড়া!
মানুষের কৃষি জমি কীটের দংশনে দিশেহারা —
কয়েকটি চারা উদ্ভিদ বাঁচতে চাই,বাঁচাতে চায়
সুশোভিত সবুজের সমারোহ।
যারা মানুষ -তাদের দু- চোখে টলটলে অশ্রু
নিদারুণ ব্যথায় জর্জরিত, হৃদয় ভারাক্রান্ত!
অমানুষিক নির্যাতন যারা বুকে করে নিয়ে–
যুগে-যুগে হাঁটছে অনাদি কাল হতে,
তারাও এই ভুখণ্ডের শেকড়ের শাখা।
বিশ্ব মহিরুহের মহাসংকট, জলন্ত আগ্নেয়গিরি
জ্বলছে অবিরাম, কে নিভিয়ে দিবে —
যদি মানুষের হৃদয় সমুদ্রে প্রেমের ঢেউ না উঠে!
ঘূর্ণি ঝড়ে ঘুরছে নক্ষত্রের ছায়াপথ —
শেকড়ের সন্ধানে, আলোর উষ্ণতা পেতে
কাঁদছে একাকী পৃথিবীর অগণিত শেকড়।

রচনাকাল (১২ ই কার্ত্তিক ১৪২৮ সাল)

Spread the Kabyapot

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *