Spread the love

 পৃথা চট্টোপাধ্যায় বর্তমান সময়ে কবিতা লিখছেন এবং সাহিত্য জগতে ধীরে ধীরে সুপরিচিত হয়ে উঠছেন।  শুধু কবিতাই নয় তিনি মুক্ত গদ্য, অণু গল্প,  ছড়া এবং গ্রন্থ সমালোচনার ক্ষেত্রেও নিজস্বতা বজায় রেখে  দেশ, কবিতা পাক্ষিক, সুখবর, ডেইলি হান্ট,  শতাব্দীর কলকাতা,দৈনিক বাংলা ই পত্রিকা ,অর্বাচীন,  ব্যারাকপুর স্টেশন, মল্লসাহিত্য, যুগ সাগ্নিক, পালক,গীর্বাণ, দৈনিক বজ্রকন্ঠ, স্বপ্ন রাগ, ছায়া রোদ, ভুবনডাঙা,  সাহিত্য এখন, ক্রিয়েটিভ আই, কবিতা যাপন, এবং সইকথা,  কচি পাতা, কান্ডারি, সাহিত্যের টেক টাচ টক, অনলাইন কাব্যপট পত্রিকা প্রভৃতি  বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এবং ওয়েব ম্যাগাজিনে  নিয়মিত লিখে চলেছেন। সাহিত্যের জগতে খুব অল্প দিন আত্মপ্রকাশ হলেও তাঁর লেখার মধ্যে সাহিত্য যাপন ও পরিশীলিত মননের পরিচয় পাওয়া যায়।


লজ্জা
পৃথা চট্টোপাধ্যায়

মাটি ভেদ করে বেরিয়ে আসছে লজ্জা
অজানা শ্রাবণে ধুয়ে যাচ্ছে কান্না
একে একে যাচ্ছে খুলে  বেদনা হত পালক
পাখির ঠোঁটে অপসৃয়মান সুখ

অর্থবহ ফাঁক দিয়ে গলে যাচ্ছে  নিরন্তর  মাংসের আহার
কেঁপে উঠছে গাছপালা হরিণীর ভয়ভীত স্বরে
সূর্য থেকে সরে এসে সূর্যাস্ত দেখছে
কুণ্ঠিত  মেয়ে এক

2 thoughts on “লজ্জা – পৃথা চট্টোপাধ্যায়”
  1. অপূর্ব কবির অনুভূতি। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।