Spread the love

কবিতা :  রিমোট হাতে সবার সাথে
কলমে :    ডঃ রমলা মুখার্জী

জীবন জাগে   জোয়ার -ভাঁটায়
       মৃত্যুর সাথে লড়াই –
বন্ধুর পথে      পথ পারাবার
        পেরিয়ে চরম চড়াই।
দুঃখ-সুখের     দোলায় দুলে
      হৃদয়ে হাজার হিল্লোল
সন্তাপে শোকে   প্রাণের আলোকে
     কুহকী আশার কল্লোল।
দেহ নন্দনে    হৃদ স্পন্দনে
       ছন্দোবদ্ধ গতি-
সুর-লয়-তালে   এ জীবন দোলে
     কিছু লাভ, কিছু ক্ষতি।
হতাশা অমার      অন্ধকারে
        ডুববে যখন মন-
আঁধার শেষে    সুর্য হেসে
      ছড়াবে প্রভা-কিরণ।
মহান যাঁরা      অমর তাঁরা
       জীবনের গতিপথে-
  কর্মযোগে     অগ্র ভাগে
        স্বর্ণমোড়া রথে।
দ্রুতগামী দামী জীবন রকেটে
         উঠলে যায় না নামা-
রিমোট হাতে  অলক্ষ্যে সাথে
        জানেন তিনিই থামা।

****************************

লেখিকা পরিচিতি‌‌
ডঃ রমলা মুখার্জী

(জন্ম 23.01.1955),
সুলেখিকা ডঃ রমলা মুখার্জী বটানিতে এম এস সি ও পি এইচ ডি। তিনি বাংলায়ও এম এ করেছেন, কারণ তিনি বিজ্ঞানের শিক্ষিকা হলেও সাহিত্যচর্চা করতে খুবই ভালোবাসেন। তিনি বি. এড করেছেন ও সংগীত প্রভাকরও পাশ করেছেন।তিনি একাধারে শিক্ষিকা, কবি, ছড়াকার, ,গল্পকার, নাট্যকার। বহু পত্র-পত্রিকায় লেখিকা নিয়মিত লেখেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই লেখিকা গান,আবৃত্তি, নাটকও করেন। 2003 সালে ছড়া, কবিতা, গান,নৃত্য, নাটক ইত্যাদির মাধ্যমে বিজ্ঞান পাঠদান ও অন্যান্য সমাজ সচেতনমূলক কাজের জন্য কবি 2003 সালে তদানিন্তন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম মহাশয়ের কাছ থেকে পুরষ্কার লাভ করেন ও জাতীয় শিক্ষিকার মর্যাদা পান। বিজ্ঞানের পাঠকে খুব সহজ করে ছাত্রছাত্রীদের বুঝিয়ে দিতে তিনি অনেক বিজ্ঞানের কবিতা লিখে, আবৃত্তি করে, ছবি দিয়ে ভিডিও করে অবিরত ছাত্রছাত্রীদের জন্য বতর্মানেও কাজ করে চলেছেন। অনেক মহাপুরুষের জীবনীও তিনি ঐরূপ লিখে ভিডিও করেছেন যাতে এই ছাত্রছাত্রীরা মানসিক চাপ ছাড়াই  আনন্দের সাথে পড়াশোনা করতে পারে। পরিবেশ নিয়ে ও রোগব্যধি নিয়ে নৃত্যনাট্য ও নাটক লিখে পরিবেশন করে জনসাধারণকে পরিবেশ ও রোগ সম্বন্ধে সচেতন করার চেষ্টা লেখিকা করেন।
কবি প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা। তিনি কিছু বইও লিখেছেন। স্বরচিত ছড়া, কবিতা, শ্রুতি নাটক, গান ইত্যাদি তিনি নিয়মিত মঞ্চস্থ করে থাকেন । অনেক সাহিত্য সংস্হা থেকে অনেক পুরষ্কার ও সম্বর্ধণা পেয়েছেন ডঃ রমলা মুখার্জী।

****************************************

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।