Spread the love
# শ্রমজীবী সমাজ#
✍️বিমান প্রামানিক✍️


হে বিশ্ববাসী! তোমারে সেলাম
আজকে শ্রমদিবসে তাদের প্রণাম।
যারা চিরকাল শুধু বঞ্চনার শিকার 
কখনও পাইনা তারা নায্য অধিকার। 
বিধাতার কি করুন সৃষ্টি! 
সারা বিশ্বময় রয়েছে ছড়িয়ে যত শ্রমজীবী 
তাদের শ্রমের মুল্য দিতে কি আমরা ভাবি? 
নিজের আখের গোছানো হলেই ব্যাস!
পালিয়ে যায় আপন পথে, তাদের করে হতাশ। 
আমাদের মানবিকতা কোথায়? 

ইট ভাটার শ্রমিক বন্ধু, কিংবা কারখানার
ততক্ষনই ভালোবাসী, যতক্ষণ তাকে দরকার। 
ঠিক তার পরেই ভুলে যায় তার যত অবদান,
পারিশ্রমিক চাইলে পরে, করি তাদের অপমান। 
আমাদের মানসিকতা এমনই?

বারবার কেন আমরা ভুলে যায়? 
আমরাও তো শ্রমিক, তারা একা নয়। 
তাহলে কেন তাদের প্রতি অবহেলা? 
আমাদের সুখের আশায় তাদের এগিয়ে চলা। 
এটাই কি স্বাধীনতা? 

গ্রাম থেকে শহর জুড়ে কত শ্রমিক ভাইএর বাস
অবহেলার পদতলে পদদলিত তারা বারোমাস। 
যত সভ্যতা সৃষ্টির কারিগর তারাই,
অথচ একটুও জায়গা হয়নি ইতিহাসের পাতায়। 
এমনই আমাদের ইতিহাস।

অর্থের অহংকারে আমরা সবকিছু ভুলে গেছি
অর্থ আসে কার পরশ্ পেয়ে মনে কি রেখেছি? 
আমাদের বিলাসিতায় তাদের করি অবহেলা? 
শ্রমিকের অবদানে আমরা সুখি চারবেলা। 
একথা ভোলার নয়। 
                    **********

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।