Spread the love

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমারের ছেলে রকির হাতে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডের মেডেল ও শংসাপত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি :

“সফলতা নয় উজানের কৈ, সে তো অমাবস্যার চাঁদ, সফলতা আসে অধ্যবসায়ে কঠোর শ্রমে দিন রাত ” এই সুরেই সুরভিত ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড জয়ী নন্দকুমারের সেখ আমেদুল্লা ওরফে রকি। নন্দকুমার হাই রোড পার্শ্ববর্তী হাঁসগেড়িয়া গ্রামে বাড়ি রকির ।রকি একদিকে অভিনেতা, নির্দেশক ও অন্যদিকে সমাজকর্মী,পরিবেশ কর্মী ৷ এককথায় বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন ছেলে রকি ৷ প্রায় ১০-১১ বছর ধরে সমাজকর্মী ও পরিবেশ কর্মী হয়ে কাজ করে চলেছেন রকি৷ সেই সুবাদে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডে রকির নাম নথিভুক্ত হয়েছে। রকি সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে থাকা এক স্বপ্নের ফেরিওয়ালা৷ নন্দকুমার থিয়েটার গ্রুপের কর্ণধার ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত তাছাড়া একাধিক পদে নিযুক্ত রকি। সাথে সবুজ বাঁচানো তার নেশা। রকি ছোটোবেলা থেকেই অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সাথে ও পাশে থেকে কাটিয়েছে বেশ কয়েকটি বছর ।ফোনে অসহায় মানুষের করুন কষ্টের খবর আসা মাত্রই কখনো কখনো খাওয়ার থালা ছেড়ে দিনরাত এক করে মানুষের পাশে থেকেছে রকি ৷ গত লকডাউন এবং বন্যা পরিস্থিতিতে রকি ও তার বন্ধুরা মিলে নন্দকুমার ও নন্দকুমারের বাইরে গিয়েও বেশকিছু এলাকায় এলাকায় চাল, ডাল,সোয়াবিন,সাবান,মাস্ক,স্যানিটাইজার,ঔষধ, অক্সিজেন সিলিন্ডার, বিস্কুট ও শিশুদের বেবি ফুডও তুলে দিয়েছে বন্যাকবলিত, লকডাউনে ঘরবন্দী পরিবার ও অসুস্থ মানুষের হাতে৷
রকি ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ড ও আন্তর্জাতিক সহ একাধিক সম্মানে সম্মানিত হয়েছে।
রকির বাবা ও মা জানান , ছেলের এমন সাফল্যের জন্য পুরো পরিবার আনন্দিত ৷ এছাড়াও বলেন , আমার ছেলে রকি মঞ্চে অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজকর্মী হয়ে কাজ করায় সবসময় আমরা ওকে সার্পোট ও সহযোগিতা করতাম ৷ আমরা চাই আমার ছেলে রকি আরো এগিয়ে যাক৷ পূর্ব মেদিনীপুরের নাম উজ্জ্বল করুক ৷পরিশেষে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড জয়ী রকি নিজেই বলেন , এই রেকর্ড বা সাফল্যের পেছনে আমার মা ও বাবার পাশাপাশি সহযোগি বন্ধু-বান্ধবী , দাদা-দিদি ও আমার কাছের ব্যক্তিবর্গদের ভূমিকা অপরিসীম। উনারা না সহযোগিতা করলে আজ এই রেকর্ড বা সাফল্য আমার হাতে এসে পৌছাত না৷ তাই উনাদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাই ৷এছাড়াও রকি বলেন , আমি মানুষের হয়ে কাজ করায় এই সাফল্য ৷ আমি এই রেকর্ড করায় আমার পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীও ভীষন খুশি হয়েছে ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেও অনেকেই ৷ তাই আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সাথে ও পাশে থেকে আরো কাজ করতে চাই। আমার একাধিক সম্মানের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান বুকে রেকর্ডে নাম নথিভুক্ত হয়েছে। আমার পরবর্তী লক্ষ এশিয়া বুক অফ রেকর্ড ও গিনেস বুক অব রেকর্ড গড়া। আমরা সকলেই পারি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে। তাই চলুন আমরা সকলে হাতে হাত রেখে একা নয়, দলবদ্ধ হয়ে সমাজসেবী না হয়ে সমাজকর্মী হয়ে ও পরিবেশকর্মী হয়ে কাজ করি ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।