নগর পিরিত

:অনিরুদ্ধ সুব্রত:


ঘুঁটে পোড়ানো আঁচে
জলে সন্ধের চা-পাতা পড়লে
কলহ শোনা যেত
কতগুলো ছোটো ছোটো কাঁচের গ্লাসের
কৃষি-কথা শেষ হলে
ঝাঁপ পড়ত রাত্রি আটটায়
লেজ গুটিয়ে শুয়ে পড়ত পাড়ার কুকুর
একচালা দোকানের বারান্দায় ।


দিন ডাগর হয়
পুষ্ট সমাজের ফেটে যায় খোলস
হাত মেলে চওড়া হতে চায় রাস্তা
ছায়াগ্রাম হয়ে ওঠে বাণিজ্য-রক্ষিতা
আমাদের আত্ম-জীবনের
আইনি ছাড়পত্র পেয়ে যায় যন্ত্রের ধর্ষণ
গেরস্ত রাস্তা চায় উঠোন পর্যন্ত
সাবেক দোকান খোঁজ পায় উচ্চতার
ডানা মেলে দেয় বিকাশের দৈর্ঘ্য ।


পুড়ে শক্ত হয়েছে
যত খননের পলিমাটি
গায়ে গায়ে সমবায় গড়ে নেয় ইঁট—
এখন সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওভেনে
নতুন সন্ধের মাংস রান্না হয়
পুরনো চায়ের দোকানে ।


আজ পিছন ফিরে দেখি— বিরক্ত বিকেল
আমার পুকুরপাড়ের জন্মকাল, ইত্যাদি
চোখের চেনা ঝাপসা করেছে,
অর্থনীতি বলে, সভ্যতার লক্ষ্য বাজার
কিন্তু মাথায় ক্লিশে প্রশ্ন
হাজার হাজার মাছির মতো ওড়ে।

                              — অনিরুদ্ধ সুব্রত

Spread the Kabyapot
One thought on “নগর পিরিত- অনিরুদ্ধ সুব্রত”
  1. কবিতা “নগর পিরিত “, কবি অনিরুদ্ধ সুব্রত, আপনি একটি বিরল প্রজাতির আধুনিক মনস্ক ও আধুনিক শৈলীর কবিতা উপহার দিলেন, আপনাকে ধন্যবাদ ! নাঃ, আপনি কবিতার anatomy টা ভালোই বোঝেন !
    কবিতার পাঠক পাঠিকা, আপনার থেকে অনেক কিছু আশা করে, আপনার লেখার ধারাপাত কেমন বুঝিনা, কিন্তু নিয়মিত লেখায় থাকলে রবীন্দ্র পুরষ্কার, রাজ্য /দিল্লি একাডেমি পুরষ্কার, আনন্দ পুরষ্কার ইত্যাদি আপনার পাওয়া হতে পারে, স্কুল -বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যেও আপনার লেখা ঢুকতে পারে, এবং লেখার নিয়মিত গতি থাকলে (সব সময় বারবার দেখে এডিট করতে ভুলবেন না )পেশায় কবি-লেখক হিসেবেও জায়গা অর্জন করতে পারবেন, অন্য পেশা আগে থেকে থাকলে তখন লেখাটাকে যুগ্ম পেশা হিসেবেও গণ্য করতে পারবেন! উপদেশ নয়, Just আলোচনা করলাম !
    — ঋদেনদিক মিত্রো
    Ridendick Mitro

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *