• Sat. Jun 25th, 2022

তৈমুর খান এর গুচ্ছ কবিতা – তৈমুর খান

ByKabyapot

Nov 28, 2020

তৈমুর খান এর গুচ্ছ কবিতা

কীর্তন

ঘরে ঘরে বৃষ্টি নামবে
আজ কীর্তনের আসর বসেছে
মেঘ ছেয়ে গেছে সারা পাড়া
তুমি পড়শির মেয়ে
আমি মাখন চোরা

পাঞ্জাবিতে ফুল ফুটেছে
ততোধিক সুগন্ধ আনকোরা
সারারাত ঝরবে আলো
জ্বলবে বিষহরি

তুমি বলবে জয়দেব
আমি বলব পদ্ম
প্রেমে দামোদর ভাসবে
জগৎ হবে অন্ধ।

নৌকা নদী গান

তোমার দেহ হিল্লোলিত নদী
চোখদুটি নৌকা-ভ্রমর
আমার এখন তাই
স্বচ্ছ নাবিক হতে দেরি

চোখে ভাসে নৌকাডুবি
কান শোনে ঢেউয়ের গর্জন
তবু শান্তি পারাপার ছবি
জলজ মায়ার শীতল সোহাগ

ঠান্ডা আলো বিস্ময়ের গান
তীব্র শরীরী নিমন্ত্রণ
গতির ভাষাও শিখে নিই
সংকেত বাজাতে থাকে
নিষিদ্ধ স্বরলিপি।

শ্রীমতীকে শেষ চিঠি

শ্রীমতী, তোমাকেই লিখছি,
দুঃখের দিন, এলোমেলো হাওয়া
ভবিষ্যৎ অন্ধকার
তোমাকেই আলো ভেবে
সাধনা আমার

এখন আর তাড়া নেই
মরে যাওয়াও বাঁচা
শ্রীমতী, তোমাকেই বলছি
না পাওয়া পাওয়া

জীবনটা শূন্য বলেই গোল
যত ইচ্ছে গড়াও
অথবা দাঁড়াও
আশারও অন্যনাম যাওয়া

শুধু এক চিলতে আকাশ
আকাশের নিচে একটা বাড়ি
বাড়িতে একটা গাছ
গাছে দুটি হীরামন পাখি
তার ছায়ায় বসে গল্প করা যায়

শ্রীমতী, গাছও তো নির্জন কোনো নারী !

আসা যাওয়া

ফিরে আসব বলেই তো যাই
ফেরা হয় না তবুও কখনো

সূর্য যেতে যেতে বলে : যায়
আঁধারের কাহিনি আঁধারেই
পড়ে থাকে
গোপনে গোপনচারিনী
ঢেউ শোয় জলের বিছানায়

আসব বলেই তো এই আয়োজন
এ পারের নৌকা ছেড়ে ওই পারে যায়

মৃতদের মিছিল

পর পর মৃত্যু সাজাও
সারিবদ্ধ মৃত্যুর কাছে আমি রাখি আর্তনাদ
আর্তনাদে ভারী হয় রাত
আর্তনাদে কেঁপে ওঠে দরজা-কপাট

সাঁজবাতি জ্বলে উঠলে স্তব্ধ প্রহর পড়ে থাকে
মাথার খুলিরা হেঁটে আসে পরস্পর
জিভ নেই, চোখ নেই, শাদা-অন্ধকার

আর্তনাদ এক একটি কবর
সংগৃহীত অ্যালবামের গোপন রক্তপাত
অথবা ধূসর অপমান

খণ্ড-খণ্ড বিকেলের নীরব আহ্বান নেমে আসে
রাস্তায় হাঁটতে থাকে লাশ
তার করোটিতে ওঠে দগ্ধ চাঁদ !

শবযান

শব্দে শব্দে বুক ভাঙে
অনবদ্য মুখের গড়ন
নিঃশব্দে স্বপ্ন ঢোকে
বেজে ওঠে পাতার কাঁকন

পাথর সরলে নদী আসে
সংকেত আজ্ঞাবহ
কলোনির অন্ধকারে
শুয়ে আছে মগ্ন দেহ

ভ্রমরীতির ছিত্রপথে
মুক্ত ডানার অবাধ্যতা
জল ছবিতেই ভাসছে মানুষ
ডাকছে ক্রূর নিঃসঙ্গতা

সমাপ্তির শস্য তুলে
প্রারম্ভিক চলোৎসব
স্বয়ংক্রিয় ঘূর্ণিজলে
সবারই যান নিজের শব।

নিজের অসুখের মুখ

নিজের অসুখের মুখ তুলে নিই
নিরাময়ের গল্প শোনাই
আর সভ্যতার রুমালে
মুখ মুছে দিই

আলো এসো,সৌম্য আলো,
রামধনু এসেছিল কাল
বর্ষারা এখনো আসেনি
খরাদের চোখে শুকনো জল

কী অসুখ তোমার?
দ্রুত ভয় লুকিয়ে গেল;
বিশেষণ বাহুল্য কেবল
সর্বনাম ভেঙে চুরমার।

নিজের অসুখের মুখ ঢেকে রাখি
রুমালে অনেক তারার ফুল
ফুলের আগুনরেণু জ্বলে ওঠে
আমি তার গন্ধে বেঁচে থাকি।

?????????

Spread the Kabyapot

Leave a Reply

Your email address will not be published.