তুমি যে আমার
গল্প
কলমে ,অনাদি মুখার্জি

দাদা ফুচকা তে আর একটু ঝাল মিশিয়ে দাও, বলে চোখ ও নাক মুছে মুখের মধ্যেই পুরে দিল ফুচকা টা ! রিয়ার এই ঝাল ফুচকা খেয়ে তার নাকের জল ও চোখের জল এক অবস্থা ! তা দেখে আকাশ বললো বাবা তুমি ফুচকা খেয়ে একিই অবস্থা করেছো ,চলো , আর ফুচকা খেতে হবে না তোমাকে ! রিয়া আকাশের কথা পাত্তা না দিয়ে আরো অনেক গুলো ফুচকা খেয়ে চলছে ! শেষে একটা ফাউ ফুচকা মুখে নিয়ে আকাশকে বললো ওই চলো এই বার একটু পার্কের ভেতরে বসি ! বলে তারা দুইজনে হাত ধরাধরি করে গল্প করতে করতে দেশপ্রিয় পার্কের ভিতরে গিয়ে বসলো একটা নিরিবিলি জায়গায় ! কিছুক্ষণ নিরবতা থেকে রিয়া বললো ওই শোনো এইভাবে আমরা আর কতদিন থাকবো বলতো ? তোমার আমার কথা বাড়িতে বলো এইবার ! যাতে করে আমাদের বিয়েটা খুব তাড়াতাড়ি মধ্যেই হয়ে যায় ! আকাশ রিয়ার হাতখানা ধরে বললো হুম সেই টা ঠিক ,কিন্তু তুমি তো সব জানো আমার স্বপ্ন কি ? একটা চাকরি দরকার, চাকরি পেলে আমরা নতুন করে জীবন শুরু করতে পারবো ! রিয়া তখন আকাশের বুকে হাত বুলিয়ে বললো বাবু তুমি কখোন চাকরি ততদিন আশা নিয়ে থাকতে চাই না ! তুমি আমাকে যা দেবে তা নিয়ে ঠিক চলে যাবে ! আজকাল কি সবাই বিয়ে করছে বুঝি চাকরি করে ? আকাশ রিয়াকে খানিকটা জড়িয়ে ধরে বললো তুমি তো সব জানো বাবা রিটায়ার করেছে ,আমাদের অবস্থা খুব একটা ভালো নয় ,একটু গুছিয়ে নিতে দাও !
রাতের বেলায় জানলা ধারে বসে ভাবছে রিয়ার কথাটা আকাশ ! জানালায় ধারে এত আলো কিসের ,আকাশে দিকে তাকিয়ে দেখে আজ চাঁদ টা বেশ তার আলো দিচ্ছে ঝলমল করে ! কত সুন্দর লাগছে আজ চাঁদ টা কে ঠিক যেন রিয়ার মতোন এত সুন্দর ,রিয়া ও এইরকম সুন্দর ,হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল রিয়ার কথা ! তাদের প্রথম দিনের কথা যেদিন তাদের পরিচয় হয় !কলেজের ক্লাস শুরু হয়ে যাওয়া খুব জলদি করে কলেজের গেটে ঢুকতে গিয়ে হঠাৎ তার ধাক্কা লাগলো কার সাথে ! চোখ তুলে তাকিয়ে দেখে এই কলেজের এক ছাত্রি ধাক্কায় তার হাত থেকে বই খানি ছিটকে পড়ে গেল ! আকাশ তখন বললো সরি ম্যাডাম ! সেই তখন হেসে বললো সরি বললে বুঝি সমাধান হয়ে যায় , আকাশ দেখে তার সুন্দর চুলের বাহার আর মিষ্টি হাসি ! মাটিতে পড়ে থাকা বই টি তুলে তার হাতে দিতে সেই বললো আমার নাম রিয়া ওকে ! বলে হনহন করে চলে গেল আকাশ তাকিয়ে দেখে তার ছন্দ ! এইভাবে তাদের পরিচয় হয় ! সেই পরিচয়ের মাধ্যমে শুরু একে অপরের মনের কথা এই ভাবে তারা দুই জনের মধ্যেই ভালোবাসা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে !
রিয়া খুব বড়োলোক ঘরের একমাত্র মেয়ে ,পড়াশোনায় খুব মেধাবী ,সেই সুবাদে কিছু দিন আগে একটি সরকারি চাকরি পেয়েছে ! কিন্তু আকাশ সেই গরিব ঘরের মানুষ সেই ও খুব মেধাবী ছাত্র কিন্তু এখনো চাকরি পায়নি ! চাকরির জন্য সেই অনেক ইন্টারভিউ দিয়েছে এখনো তার কপালে জোটে নি ! ,তার একটি চাকরি চাই চাই সেই টা তার আক্ষেপ !এই চাকরি ছাড়াও তার আর একটা ইচছা লেখক হওয়া ,সেই বিভিন্ন ধরনের অনলাইন পত্রিকা তে তার লেখা পাঠায় ,,তার গল্প বিভিন্ন পত্রিকা তে ছেপেছে ! এই ছাড়াও একটা নামকরা প্রকাশনী সাথে কথাও হয়েছে আকাশের গল্প যদি ভালো হয় তবে তারা ছেপে পাবলিশ করা হবে! এই ভেবে আকাশ একটা খুব সুন্দর গল্প লিখছে !
এখন ও আকাশ রাতের আকাশের দিকে চাঁদ টা দেখছে আর ভাবছে সত্যিই কি তার স্বপ্ন পূর্ণ হবে !
জানি না রিয়া তুমি আমাকে ভুল বোঝো না আমি তোমাকে খুব ভালো বাসি ! তুমি আমার সকালের শিশির ভেজা ঘাস ,দুপুরের এক মুঠো রোদ আর বিকেলে সেই গোধূলি আলো আর রাতের বেলায় জোৎস্না ভরা চাঁদ ! তুমি আমার প্রিয়তমা আমার স্বাস !
আজ তুমি অভিমানী মেঘ হয়ে আছো একদিন আমি তোমার অভিমান ভেঙে তোমাকে বৃষ্টি তে ভেজাতে চাই !
সেই সময় তার মোবাইল টা বেজে উঠলো তাকিয়ে দেখে রিয়ার ফোন !
সারারাত জেগে আকাশ ও রিয়ার ফোনে কথা বলতে লাগলো ,শেষে রিয়া জানালো আমাদের ব‍্যাপার টা তুমি সিরিয়াস ভাবো ! কাল একবার দেখা করো সব বলবো !
পরের দিন আকাশ রিয়ার সাথে দেখা করলো ,রিয়ার আকাশে দিকে তাকিয়ে বললো ,দেখ মা আমার বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে , তুমি আমার বাবার সাথে দেখা করে একটা ব্যাবস্থা করো ! আকাশ এই কথা শুনে কিছুক্ষণ মৌনতা থাকলো ,তা দেখে রিয়া আকাশের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, কি হলো গো কিছু বলো ? জবাবে আকাশ বললো আচ্ছা রিয়া তুমি ও তো তোমার বাড়িতে বলতে পারো আমার কথা ! রিয়া জানালো ওকে কিন্তু আমার কথা কি শুনবে আমার বাবা ,মা !
রাতের বেলায় রিয়া তার মা কে বললো ,তার ও আকাশের ভালোবাসার কথা ! রিয়ার মা সব শুনে বললো আকাশ খুব ভালো ছেলে ,কিন্তু সেই তো চাকরি করে না ! আমরা চাই তোর সাথে যার বিয়ে হবে সেই চাকরি করে এবং তোকে সুখে রাখবে ! রিয়া খুব জেদ করতে লাগলো ,তখন তার মা বললো দেখছি কি করা যায় তবে এখন আকাশ কে ছেড়ে দিসনা ,আমি আকাশের জন্য কিছু একটা ব্যাবস্থা করছি ! রিয়া সেই কথা শোনার পর তার মা কে জড়িয়ে ধরে থাকলো !
খানিক বাদে মোবাইলে আওয়াজ শুনে দেখে আকাশ রিয়াকে ফোন করছে ,ফোনটা রিসিভ করে ,ওপারে আকাশ রিয়া কে বলছে তুমি কাল একবার আমার সাথে দেখা করো ,তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দেব ! রিয়া শুনে বললো কি সারপ্রাইজ শুনি ? আকাশ বললো এসোই না সুন্দরী !পরের দিন ঠিক বিকেলে বিজন সেতুর কাছে দুই জনের দেখা হলো ! রিয়াকে আজ খুব সুন্দর লাগছে ,তার গাল দুটো বেশ লালছে আভা ও চুল গুলো বেশ ফাঁপা ,আকাশ তার থলি থেকে একটা বই বের করে রিয়ার হাতে দিয়ে বললো ,আজ আমার স্বপ্ন সার্থক হলো ,আজ আমার লেখা বই প্রকাশিত হয়েছে ! তোমার জন‍্যই একটি কপি আনলাম পড়ে দেখ ! আমার লেখা প্রথম পাঠক তুমি ই !
রিয়া বই টি হাতে কিছুই বলার আগেই আকাশ বললো আমার কাজ আছে ,আমি যায় ! এইটা দেবার জন‍্য ই তোমাকে ডাকলাম ,বলে আকাশ চলে যেতেই রিয়ার মনে পড়লো ,যে কথাটা বলার ছিল সেই কথাটা বলতে পারলো না ,আকাশের চলে যাওয়ার পথে তাকিয়ে থাকলো ! আকাশের এত ব্যস্ততা দেখে রিয়া মনে একটু দুঃখ প্রকাশ হলো !
রাতের বেলায় শুয়ে রিয়া তার প্রিয়তম লেখা বইটা পড়তে লাগলো ,পড়ে তো অবাক হয় ,এই গল্প তো তাদের প্রেমের গল্প ফুটে উঠেছে ! তাই রিয়া একবার নয় দুইবার গল্প টা পড়লো ! গল্পের শেষ লাইনে লেখা আছে , আমি তোমাকে খুব ভালো বাসি রিয়া তুমি আমার কাছে হলে রাতের আকাশে তারা,তোমাকে না পেলে আমি যে হবো সাথি হারা ! ভালো বাসা হলো এমন একটা জিনিস যা চোখ দিয়ে দেখা যায় না ও মুখ দিয়ে ও কিছু বলা যায় না ! ভালোবাসা শুধু মনের অনুভূতি দিয়ে বুঝে নিতে হয় ! সেই দিন তুমি বললে যে তোমাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে ,আমি সেই দিন তোমাকে উত্তর দিতে পারেনি তার কারন কেন জানো ? আমার বিশ্বাস যে তুমি আমাকে ছাড়া সুখি হতে পারবে না ! তুমি আমাকে সেই দিন আমাকে পরীক্ষা করার জন্য বলেছিলে ,এইজন্য সেই দিন তোমাকে কিছু ই বলেনি !
তার পর লেখা আছে যদি পারো এই গল্পের শেষ টা না হয় তুমি লেখ ! রিয়ার এই লাইন গুলো পড়ে সারারাত জেগে জেগে কাটিয়ে দিল !
পরের দিন সকালে সেই গল্পের বই তার মা কে বললো পড়তে ,তার মা পড়ে বললো সত্যিই আকাশ তোকে খুব ভালোবাসে ! আমি তোর বাবাকে বলে আকাশের সাথে যেন তোর বিয়ে হয় ,এই কথা শুনে রিয়া তার মা কে জড়িয়ে ধরে বললো তুমি খুব ভালো !
সেই বিকেলে রিয়া আকাশের সাথে দেখা সব বললো ,আকাশ ও বললো তার বাবা ও মা চাইছে জলদি করে যেন বিয়ে হয় !
আকাশে আজ আতস বাজি ফুটছে ,চারিদিকে সব লোক এখন ব্যাস্ত ,তার কারন আজ আকাশ ও রিয়া বিয়ে এই উপলক্ষ‍্যে সবাই ব্যাস্ত !
এত লোকের ভিড়ে মাঝে কে একজন অচেনা লোক এসে বললো আচ্ছা আকাশ বাবু এখন কোথায় পাওয়া যাবে ,আকাশ সামনে ছিল সেই বললো আমি আকাশ ,বলুন কি বলছেন ?
তখন সেই লোকটা আকাশের হাতে একটা চিঠি দিল ,সেই সময় আকাশ চিঠিটা খুব দেখে তার একটি স্কুলের জয়েন্ট করার জন্য আবেদন পত্র এসেছে ! আর একটা চিটি তে লেখা আছে , আপনার সব লেখা কপি বিক্রি হয়েছে ,এর পর এই গল্পের পরের সংখ‍্যাটা লিখুন বলে অনুরোধ করা হয়েছে !
আকাশের মধ তখন খুশিতে ভরে গেলো একিই দিনের তার দুটো ভালো খবর সত্যিই রিয়া আজ আমার স্বপ্ন পূরণ হলো !
আকাশ দেরী না করে বরের সাজ দিয়ে গাড়ি করে রওনা হলো ,তার চিরদিনের সাথি রিয়াকে তার জীবনের অর্ধাঙ্গিনী করে নিয়ে আনার জন্য ! সত্যিই রিয়া তুমি শুধু আমার তাই তো এত আনন্দ আমার !

Spread the Kabyapot

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *