Spread the love

চিরশাশ্বত 

প্রবীর কুমার চৌধুরী

 

ব্যাক্তিস্বাতন্ত্র প্রকাশ পেলেই শ্রেণী গড়ে ওঠে।

লোকাচারেপান্ডিত্য, মৌলিক চিন্তা, মননশীলতা – তার ফলেই সৃষ্টি হয় শ্রেণীসংগ্রাম।

জ্ঞানী-গুণী, ধর্ম প্রচারক, দেশনেতা, চিকিৎসক, কবি,সাহিত্যিক –

এঁরাই সর্বোত্তম একেকটি শ্রেণী।

 

সকলের নীচে কাদের অবস্থান ?

কাদের ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে সকল শ্রেণী ও স্তর ?

নিত্য যন্ত্রণায় জর্জরিত, নিপীড়িত, দলিত অল্পপ্রাণ-

সারাটাজীবন মুখপানে করুণার দৃষ্টি হেনে যত অভাজন,

ওদের কাধেঁ পা রেখেই বৃত্তবানের সিঁড়ির পর সিঁড়ি আরোহণ।

 

নীরব অরণ্য, উত্তাল তরঙ্গ, নিষ্পাপ মাটি, পাথরানু বালি- চিরকালীন যারা মুক ও বধির ,

কোনদিন এরা কথা বলেনি,প্রতিবাদে নাই ,

পৃথিবীর সর্ব দেশেই এদের অস্তিত্ব,নিস্তরঙ্গ জলবৎ।

কোনদিন মাথা তোলেনা, চিরকাল পায়ের তলায় –

নীরবে অবস্থান, কিন্তু বিত্তের মহামূল্যবান হাতিয়ার।

 

যদিও চিরকালীন নিপীড়িত, দারিদ্র্য অসহনীয়, তবুও-

সততার ফল্গুধারায় আচ্ছন্ন প্রবাহমান মিছিলের গণদেবতা,

সাম্যবাদী, গণতান্ত্রিক মহাবিচারক মহাকালের কোলেই

পরমানন্দে বিলীন হয় ওই মানুষ দেবতা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।