✍️বহ্নিশিখা✍️
(বাংলাদেশ)
পুরো বারো ঘন্টা পরে চোখ খুলে রাজা।
এদিক ওদিক তাকায়। ঝাপসা লাগে। সম্পা তাকিয়ে আছে রাজার মুখের দিকে। বুকে আনন্দের ঢেউ উপচায়।কিছু বলে না। রাজা দেখে তার সামনে বসা সম্পাকে। দেখতে থাকে। কিছু বলে না, চোখের কোণ বেয়ে জল নামে। সম্পার চোখও উপচে আসে জলে। খুব আদরে আঁচলে রাজার চোখ মুছে দিয়ে দেয়, বলে, আপ্নে কান্দুইন কিয়্যা?
কথা বলতে সম্পার গলা ধরে আসে।রাজা সম্পার হাত চেপে ধরে। উঠতে চায়। সম্পা উঠতে দেয় না ডাক্তার না করেছে।বলে,
– ডাক্তার কইছে উঠাবসা আস্তে ধীরে করবার লাগি। নাইলে মাথা চক্কর দিব।আপ্নে পইড়া যাইবাইন।
-সম্পা,ও সম্পা!
– কন,,
– তুমি আমারে বাঁচাইছ কেরে?আমার বাঁইচ্চা থাহার অধিকার নাই গো সম্পা।আমারে ক্যান বাঁচাইছ?
এ কথা বলে কাঁদতে থাকে।আর ভাবে আমারও মন চায় আর সবার মতো ভাল থাকতে। বউ ছেলে-মেয়ে নিয়া সুখে সংসার করতে। কিন্তু মনের মইধ্যে যখন একটা সাদা তুলতুলা খরগোশ নাইচ্চা বেড়ায় তখন সেই খরগোশ টারে ধরবার লাগি জান-প্রাণ দিয়া ছুটি,ছুটতেই থাহি,যহন সব হারাইয়া শান্ত হই তখন খুব ক্লান্ত লাগে।খুব অনুশোচনা হয়। কান্দন আয়ে।
– আপ্নে আবারো কান্তাছুইন?
মৃদু শাসন করে চোখ মুছে দেয় আর বলে,
– আপ্নে আমারে কথা দেইন। আর জুয়া খেলবাইন না। আপ্নের ট্যাহা কামাই করা লাগবো না। আপ্নে বাইত বইয়া থাকবাইন।
আর পোলা দুইডারে নজর রাখবাইন।আমি শহরে গিয়া কাম কইরা ট্যাহা আনবাম। তিন ঘন্টা কাম করলে মাসে যে ট্যাহা পাইয়াম তাতে আমরার সংসার চইল্লা আরও থাকবো। সকালে রাইন্দা যাইয়াম, খাইবাইন,আর বিহালে খাওন লইয়া আইয়াম।আপ্নের কোন চিন্তা করন লাগতো না।
-তুমি অহন শহরে যাইবা কাম করতা?
– হ। পাড়াত গিয়া কাম করি তারা তো ট্যাহা দেয় না,যে বেলা কাম করি এই বেলা ভাত দিয়া দেয়। ট্যাহার কাম আছে না।পোলা দুইডারে মানুষ করন লাগতো না? আপ্নের কি হেই চিন্তা আছে? আপ্নে পারবাইন কতডা বিষ খায়া ফেলতে। কইনচে দেহি লাভ অইল কি?
-লাভ ত অইছেই তুমি বুঝ না?
– না। আমি বুঝি না।আপ্নেই কইন কি লাভ অইছে।আমার বুঝার দরহার নাই।
-এই যে,আমরা দুইজনের মইধ্যে খালি কাইজ্যা ফেসাদ, অভাব আর জুয়া, আমি হাসপাতালে না আইলে এহন যে এই মনের মইধ্যে ভালবাসাবাসির ভালালাগা এইডা কেমনে পাইতা কওছে?আমরা দুইজনে কান্দি হাসি দেখ পাশের বেডের রোগীরা কেমনে চায়া চায়া দেখতাছে।
একটু হেসে সম্পা বলে,
-হুনছি।থও।তোমার আজাইর্রা আলাপ।
আমি দেহি আইজ ছুডি দিবো-না কি করবো।
দারিদ্র্যের কষাঘাতে কংকালসার সম্পা দ্রুত হেঁটে যায়। এখন সে ছেলে দুটির জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে।এখানে আর এক মুহুর্ত না থাকতে হলেই ভাল ।একটু পরেই ফিরে এলো সম্পা।হাতে রিলিজের কাগজপত্র।
—————–
ভালোবাসার শতনাম

আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি দাদাভাই
বাংলাদেশের লেখক, গবেষক, অধ্যাপক, কালাচাঁদ মৃত্যুর জীবন ও তাঁর আবিষ্কৃত গন কবিতা তৈরির ধারা মানব সভ্যতাক নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে…
আমার রচিত কবিতা প্রকাশ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
"ঝড় এলেও ভাঙবে না", এই বহু অভিজ্ঞতার গদ্যে কবি, লেখক ও ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল মন্ডল খুব টানটান করে নানা অভিজ্ঞতার গল্প…
আমার এই কবিতাটি প্রকাশ করার জন্য মাননীয় সম্পাদক মহাশয়, এবং কাব্যপট পত্রিকার সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক প্রীতি, শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ।