Spread the love

Find the attachment
জনগণ সচেতন না হলে ইতালি আমেরিকার থেকেও খারাপ অবস্থা হবে ভারতের

এক অচেনা আশঙ্কা,অশনি সংকেত ঢেউয়ের ধাক্কায় কম্পমান বিশ্বের হৃদপিণ্ড। সেই ঢেউ এর নাম এই মুহূর্তে কারো অজানা নয়। লক্ষ্য একটাই সমাধানের উপায় বের করে এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমস্ত দেশ প্রায় লকডাউন। চেনা পরিবেশ অচেনা হয়ে উঠছে। মানুষ আজ গৃহ বন্দী চিড়িয়াখানার জীব জন্তুর মত। এমনটা বোধ হয় আমরা কেউ আশা করিনি। হ্যাঁ এমনটাই হলো এক অজানা ভাইরাসের ভয়। কথায় আছে বাপেরো বাপ থাকে। কারণ যুগ যুগ ধরে মানব সভ্যতা শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করে আসছে। আমরা সবাই ভেবে বসে আছি এই আধুনিক সভ্যতার উর্ধ্বে আর কিছু নেই। আধুনিক আর উচ্চাকাঙ্ক্ষার নেশায় মানুষ ভুলে যাচ্ছে প্রকৃতির শক্তিকে।চিরন্তন ও বাস্তব মৃত্যু ভাইকে আমরা সবাই ভুলতে বসেছিলাম। তবে এ কথা বলা যায় উচ্চাকাঙ্ক্ষাই এই সভ্যতা ধ্বংসের অন্যতম কারণ হয়ে পড়েছে। মৃত্যুভয় আজ সেই মানবসভ্যতাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে মানবসভ্যতা,লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মানুষের বাঁচার ধরনটাই পাল্টে যাচ্ছে সামাজিক ছবিটা হয়ে যাচ্ছে উলটপালট এ কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা দুর্ঘটনা নয়।উদ্ভ্রান্ত ও দিশাহীন মানব ভল্লুকের মতো আচারণ করতে শুরু করেছে।এর মাঝে সবার মনে একটাই প্রশ্ন জাগছে, আগামীকালের সূর্যোদয় দেখার সৌভাগ্য হবে তো আমাদের? সমস্যা তো আসবেই,কিন্তু তাকে এড়িয়ে না গিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করাটা বীরের কাজ। বেশ কিছু দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে গেলেও,নতুন সূর্যোদয় দেখার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে আমাদের ভারত বর্ষ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনতার কারফিউ ঘোষণা করতেই শুরু হয় খিল্লিবাজ দের দাঁত খিঁচানো হাসি। কিন্তু আক্ষরিক অর্থে জনতার কারফিউ কি সেই ভাষা বোঝার মত বিবেক বোধ হয় বহু উলঙ্গ রাজনীতি বিদ ও জনগণের নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিবহন ব্যবস্থা ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মনে হয় এরপর পরিস্থিতি আমরা কিছুটা উপলব্ধি করতে পারছি। এই মারণ রোগের ঔষধ পেতে সময় লাগতে পারে ১২থেকে ১৬ মাস।বিকল্প ব্যবস্থা একমাত্র সচেতনতা। সেই সচেতনতা হল জনতার কারফিউ। খিল্লিবাজ ও বিবেকহীন নির্বোধ দের দাঁত খেচানো হায়নার হাসি কে উপেক্ষা করে, আমাদের এগিয়ে চলতে হবে। শুধুমাত্র শিক্ষিত বা গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকার পদে বহাল থাকলে যে সচেতন হবে তা কিন্তু নয়। কারণ কলকাতার এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষিত আমলার পরিবারের কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের ফল হাতেনাতে ভোগ করছে বাংলার জনগণ। জনকোলাহল ও ব্যস্ত নগরী কলকাতা কার্যত শুনশান। অসচেতনতার ফলে ইতালি আমেরিকার মত দেশ যেখানে বিপর্যস্ত সেখানে ভারত বর্ষ কিন্তু মৃত্যুর মিছিলে পা মেলাবে সে বিষয়টা কিন্তু পরিষ্কার।(WHO) চিফ সাইন্টিস্ট ২০১৫_১৬ সাল থেকে উন্নত দেশগুলোকে সতর্ক করে আসছিল,যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে কোন ভয়ঙ্কর মহামারী পাল্টে দিতে পারে গোটা পৃথিবীর চালচিত্র। না এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পরেও কোন দেশ তেমনভাবে আমল দেননি। তার ফল ভুগছে বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশগুলি।
ফেব্রয়ারি মাসের ২৭ তারিখ – রোমে তখনও পাস্তা পিৎজার ক্যাফে গুলো ভর্তি। ফন্তানা দি ট্রেভিতে তখনও থিকথিকে ভিড়। চারিদিকে শোনা যাচ্ছে রোগ হচ্ছে কিছু মানুষের, টিভিতে দেখাচ্ছে নতুন কেস ধরা পড়েছে ইত্যাদি।কিন্তু তখনও সাধারণ মানুষ অফিস যাচ্ছে, কাজে যাচ্ছে – আজ ভারতের মতই। তখনও মানুষ বাইরে বেরোচ্ছে, পানশালা যাচ্ছে, আড্ডা দিচ্ছে – আজ ভারতের মতই।
চাকরিতে ছুটি না পাওয়া মানুষ ভাবছে, না গেলে যদি চাকরি চলে যায়? – আজ ভারতের মতই।
ভাবছে, বাড়ির আসে পাশেই থাকবো, কি আর হবে – আজ ভারতের মতই। ইতালিতে তখন দ্বিতীয় স্টেজ, তৃতীয় সপ্তাহ – আজ ভারতের মতই। এই অব্দি সব মিল। এরপরের ব্যাপারটা ভবিষ্যত।
নিচে ছবিতে দেখুন, ইতালির ভবিষ্যত লেখা হয়ে গেছে। এক লাফে, তৃতীয় সপ্তাহে ১০০০ রের বেশি থেকে চতুর্থ সপ্তাহে এক লাফে প্রায় ৭০০০ হাজারের কাছাকাছি। তৃতীয় সপ্তাহে ছিলো প্রায় ২৫০, ভারতের আপাতত তৃতীয় সপ্তাহে২৭৬ – ইরান তৃতীয় থেকে চতুর্থ সপ্তাহে ২৪৫ থেকে এক লাফে বেড়ে ৪৭৪৭। পরিসংখ্যান টা ঠিক এমনই।
মিল আরেকটা হচ্ছে, ইতালি বা ইরানে তৃতীয় সপ্তাহেও সবাই এটাকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। অনেকেই ভেবেছেন যার হচ্ছে হোক, আমার হবেনা। ভারতেও আমরা অনেকটাই ক্যাজুয়ালি নিচ্ছি এভাবেই। সবই করে যাচ্ছি, বাইরেও যাচ্ছি অফিসেও যাচ্ছি কিন্তু বুকে ভয় নিয়ে!
আমরা ভাবতেও পারছি না, জাস্ট পরের সপ্তাহ আমাদের জন্য কি বিভীষিকা নিয়ে আসছে। আজকের ২৭৬ নাম্বারটা পরের সপ্তাহে ১০,০০০ হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই। ভারতের মতো জনবহুল ও ভিড় দেশে এটা খুব স্বাভাবিক, যদি আমরা সতর্ক না হই।
ভাবুন, আজ আপনি যে কারণে অফিস বাধ্য হয়ে যাবেন, সেই জব সিকিউরিটির কি হবে যদি আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ আক্রান্ত হন, বা তার থেকেও ভয়ঙ্কর – মারা যান। কে করবে এই চাকরি তখন? কার জন্য করবে?
যে বস আজ কাজে যেতে বলছে, সেই বস সেদিন আসবে না আপনার প্রিয়জনের বা আপনার জানাজা ধরতে। আগে প্রাণে বাঁচুন ভাই, তারপর চাকরির কথা ভাববেন।
সমস্যা হচ্ছে, এই লেখাটা যখন আপনি পড়বেন, তখনও করোনা আপনার ধারে কাছে পৌঁছায়নি। বা পৌঁছেছে, আপনি জানেন না – সিম্পটম বেড়িয়ে আসতে সময় তো লাগে। কিন্তু যখন জানবেন, দেখবেন চারপাশে কেউ বাকি নেই, সেদিন যতই মাথা দেওয়ালে ঠুঁকে বেড়ান, এই তৃতীয় সপ্তাহ আর ফেরত পাবেন না। তখন আপনি ঢুকে পড়েছেন আপনার চারপাশে হাজার হাজার করোনা পজিটিভ রুগী নিয়ে।
– সেটার মানেই আপনি মরবেন এমন না। কিন্তু সরকারের সেইসময় আর কিছু করার থাকবেনা। তার কাছে আপনাদের রাখার জায়গা নেই, পরিকাঠামো নেই। এত সংখ্যক মানুষের চিকিৎসা করার উপায় নেই – সরকার তখন কি করবে? সরকার তখন সেটাই করবে যেটা আজ বাধ্য হয়ে ইতালি করছে.. পাঁচজন রুগী এলে এবং দুটো বেড থাকলে, ওই পাঁচজনের মধ্যে সবথেকে বেটার অবস্থার দুজনকে বেছে নিচ্ছে, বাকিদের মরার জন্য ছেড়ে দিচ্ছে! সরকার তখন এটাই করবে বাধ্য হয়ে!
ইতালির মত উন্নত দেশ এর মোকাবিলা করতে ব্যার্থ সবরকম সুযোগ সুবিধে আমাদের থেকে অনেক ভালো থাকা সত্বেও। ভাবতে পারেন, ভারতের মতো জনবহুল দেশে এই বার্স্ট হলে কি অবস্থা হবে!
ইতালি তবুও জানতে পারেনি কি আসতে চলেছে তাদের দিকে, তারা ক্যাজুয়ালী নিয়েছে, কারণ তাদের সামনে অন্য একটা ইতালির উদাহরণ ছিলো না। পঞ্চম সপ্তাহে তারা হঠাৎ ২৫০০০এর কাছাকাছি! আমাদের সামনে ইতালি সহ বিভিন্ন দেশের উদাহরন স্পষ্ট, এরপরেও আমরা যদি সতর্ক না হই, যদি সংযত না হই এবং নিজেদের বাড়ির মধ্যে আটকে না রাখি, সেল্ফ আইসলেশনে না থাকি তাহলে পরে কেঁদে কিচ্ছু হবেনা। বরং বলা ভালো, আপনার জন্য কাঁদার লোকও পাবেন না।
তাই এই অসহনীয় অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে আমাদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গৃহবন্দী হওয়া ছাড়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। জাত,ধর্ম রাজনীতির ঊর্ধ্বে আমাদের মানবতার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে সময়। এ লড়াই ভারতবর্ষের মানচিত্র কে বাঁচানোর। কারণ ভারতবর্ষের মানচিত্র আজ বড্ড অসহায়। কিন্তু এত কিছু জানার পরেও সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছু ছবি উঠে আসছে যা আমাদের সমাজের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক ও দুঃখজনক। লকডাউন হওয়ার পরেও মানুষকে বাইরে বেরোতে আড্ডা মারতে,চায়ের দোকানে চায়ের দোকানে জমায়েত হতে দেখা যাচ্ছে। আমরা যেকোনো কাজে শুধুমাত্র সরকারকে দোষ দিই অথচ নিজেদের ন্যূনতম দায়দায়িত্ব টুকুও এড়িয়ে যাই। শুধু সরকার নয়, সচেতন হতে হবে দেশের জনসাধারণকে। বর্তমানে এই অসহনীয় অবস্থার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন জাগে পৃথিবী আবার কবে শান্ত হবে? তবে আজ নয়তো কাল পৃথিবী শান্ত হবে, নতুন সূর্য উঠবে কিন্তু সেই সূর্যদয় দেখার জন্য কতজন বেঁচে থাকবে সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।
বটু কৃষ্ণ হালদার, কবর ডাঙ্গা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।