Spread the love

 কবিতা : বাবুগো, তবুও কবি লেখক হবো

[ চিন্তা ও মন্তব্য কবির নিজস্ব। সমালোচনা করার অধিকার সকলের আছে। ]
 ————————————– 
  ঋদেনদিক মিত্রো ( কলকাতা, ভারত)  

বাবুগো,  তবুও কবি লেখক হবো।
আমি সকল দিকে টাকা দিবো, 
দিবো শ্রম ও দম, 
আমি দিতে পারি, নিতেও পারি
বিবাহে ঢের পন। 
শুধু কবিতা গল্প ছাপার  
জন্য কিছু চাইলে, 
আমি ঝটাং কইরা চইলা যাই 
সেই স্থান হতে পাইলে, 
বাবুগো, তবুও কবি লেখক হবো। 

আমার টাকা উপচে পড়ে,  
কত উৎসব বাইরে, ঘরে, 
সুখের বন্ধু আত্মিয়রা হল্লা করে, 
তাদের লোল হাসিতে ধন্য এ জীবন, 

শুধু কবিতা গল্প ছাপতে, 
তখন আমি থাকি মাপতে, 
সামান্য ক’টা টাকা দিতে  
আমার রাগ বেজায়,
তখন, সত্যিকার নাম, যস, জ্ঞান,
সুনাম প্রতিষ্ঠায় —
আমার বুকেতে হয় জ্বলন। 
বাবুগো, তবুও কবি লেখক হবো। 

টাকা দিয়ে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, 
টাকা দিয়ে কত রকম ব্যয় ও অপব্যয়। 
টাকা দিয়ে ইন্টারভু, পাস না করলে ঘুষ, 
ঘুষের টাকা মার গেলেও তবুও দীল খুস, 
লাখো-লাখো কোটি-কোটি,  
কোথাও বা লাভ, কোথাও ক্ষতি, 
রাগ নেই তো কারোর প্রতি, 
কেবল সাহিত্যতে বড় হবার  
জন্য খরচ করতে, 
আমার বুকে জ্বালা লাগে,  
চাই তো দূরে সরতে, 
তবুও আমার খ্যাতি, নাম ও
অর্থ চাই লিখে, 
কিন্তু, লেখক হবার আত্মত্যাগে 
আমি এত নীচে,
বাবুগো, তবুও কবি লেখক হবো।  

প্রেম, প্রণয়, গাড়ি, বাড়ি, মামলা মকদ্দমা, 
নানা রকম খাবার, পোষাক, নতুন গহনা, 
ভ্রমনে টাকা, গল্পে টাকা, টাকা উপহারে, 
চাঁদায় টাকা, ধাঁধায় টাকা দিচ্ছি চারিধারে, 
কেবল নিজের লেখক হবার জন্য সামান্য — 
টাকা খরচ দূরে, দিই না — দু মুঠো ধান্য, 
বাবু গো, তবুও কবি লেখক হবো। 

পরিবারে মরলে কেউ খরচ করি খুলে, 
নিজের মরার পরে খরচ — 
আগাম রাখি তুলে, 
কেবল লেখক হবার জন্য —
কয়টা টাকা দিতে বিষন্ন, 
বাবু গো, তবুও কবি লেখক হবো। 

রক্ত ধারা ও স্বভাবে ছোটলোকের চারা — 
এইটা হলে চলে আসে এই স্বভাবের ধারা, 
কেউ বা আবার লোককে শেখায় —
লিখে কী লাভ হয়, 
শুনছি নাকি সাহিত্যতে  
জীবন অপচয়, 
এরা মহা পাপের খাঁড়া, 
এরা ছোটলোকের চারা।

সাহিত্যটা পড়ে সবাই শিক্ষিতটা হই, 
আবার, সাহিত্যের প্রয়োগ দিয়েও
      বিজ্ঞানেরই বই, 
এই বিশ্বের সকল দিকে সাহিত্যেরই পড়া, 
সেটা থেকে অনুভূতি ও চিন্তা করা,
এই বিশ্বের সকল বিষয় বিশ্লেষণে ভরা,
সাহিত্যটা বাদ দিয়ে কি
আছে কোনো কথা কিংবা পড়া?

এসব সত্য আড়াল করে কারা?
সস্তা পথে অর্থ আয়ে
যারাই লোভে দিশেহারা, 
এরা সভ্যতারই খাঁড়া। 
আহা, ছোটলোকের চারা। 
 
সকল কাজে খরচ করে পরে আয় আসে, 
কখনো বা সকল খরচ ভুল খরচে ভাসে, 
কত হাজার, লাখো, কোটি, 
ফেউ খরচে হচ্ছে ক্ষতি, 
শুধু, লেখক হবার জন্য টাকায়  
হলো পকেট টান, 
কিন্তু, আমি সাহিত্যতে নিবেদিত প্রান। 

বাড়ির কারোর কিংবা আমার  
বিয়ে হবে যদি, 
তাদের সাথে জোড়া হবে, যারা   
নয় তো লেখক, কবি। 
সেদিক থেকে সেয়ানা আমি,
কোনো দিনও না এদের আনি — 
আমার সংসারে, 
কবি লেখকদেরকে বিয়ে করে — 
কে সামলাতে পারে।
কিন্তু, আমি আড্ডা দিতে  
জ্ঞানের কথা কবো, 
ইন্টেলেকচুয়াল আঁতেল হয়ে  
এক নম্বর রবো, 
বাবু গো, এসব ছোটলোকি নিয়ে 
 আমি কবি লেখক হবো। 

বুঝলে এবার, লিখছে কত  
হাজার লাখো হাত, 
লিখছে অনেকেই তো ভালো,  
আছে লেখার জাত, 
কিন্তু কজন প্রতিষ্ঠা পায় নামে বা যশে, 
কেউবা আবার লিখেও ধনী  
ঘরে বসে-বসে, 

নামী লেখক উদাহারণ,
এর পিছনে একটি কারণ, 
লেখক হবার স্বভাব ধারণ — 
করছে যারা তারাই দাঁড়ায় 
আজ বা আগামী কাল, 
অনিবার্য ঠিক,
তারাই তত বড় হবে —  
যাদের বুদ্ধি, বিচার যত নিখুঁত,  
ও স্বভাব স্বাভাবিক। 
এই জীবনের সকল কাজে, 
সকল সফলতার মাঝে, 
হয়না তো এর কোনো বিপরীত। 

—————————————-
😚🥭😚

( রচনা ২০-২১ ডিসেম্বর ২০২৩)  
ঋদেনদিক মিত্রো ( Ridendick Mitro) , পেশায় ইংরেজি ও বাংলাভাষাই কবি-উপন্যাসিক-গীতিকার-কলামিষ্ট।  কলকাতা। ভারত। 
Ridendick Mitro, is a poet-novelist-lyricist-columnist in English & Bengali languages,  West Bengal, India. 
——————————————-
 
লেখনির ভিতর চিন্তা ও মতামত কবির নিজস্ব : সম্পাদক।

😗 FOOT NOTE 😗
——————————–
[ A Bengali irony Poem “Babugo,  Tobuo Kabi Lekhok Hobo”, i.e. ” Oh man. Yet I want to be poet writer”, by Ridendick Mitro.

A type of poets and writers don’t sacrifice money to get establish in literature at primary stage, even though when they get established don’t sacrifice in these cases of works.

But, they untill death sacrifice huge money and loss or squandered at the other sides of life with causes or without causes. They demand free cost entry and establishment along with earning money in literature, but they don’t know what they write it or don’t know as other sides of life literature need have money or equal level sacrifices. Logic says they are the sorry figures in the world of literature. They are not fare in mind.  

I earn money as literature is my profession,  but I sacrifice some times in need of it at some corners in the many poets joint collections. Though some editors of the collections ask me, “Sir,  we need you, you may not do pre-booking.” I answered, “No, excellency, you fight for literature honestly, so my honesty should be with you if I think I am honest in literature along with in human shape.” They get stunned and pleased with moist eyes. Who will take loss for whome and why? I think my appeared should not be burden to others. 

“চইলা” = To leave the place. A dialectic use. 
“পাইলে”= In general its meaning “If it’s Gottom”, But here its meaning ” Go away “, used as ridiculous style with a dialectic charge.  But entire poem is in general language, not dialectical delevery. 

এক শ্রেনীর কবি লেখক আছেন, জীবনে সব দিকে বেপরোয়াভাবে টাকা খরচ করেন,  কিন্তু সাহিত্যে প্রকাশ বা প্রতিষ্ঠার জন্য সামান্য অর্থ খরচ করতে চান না। এইসব আজব স্বভাবের কবি, লেখকদের জন্য এই কবিতা। এঁরা জীবনে সব দিক সাজান, এবং খরচ করে সর্বশান্ত হন, কিন্তু নিজের জ্ঞান-স্পর্শী সক্ষমতাকে প্রতিষ্ঠা দিতে চান না সামান্য অর্থের বিনিময়ে। অবশ্যই ধোঁকাবাজ চক্রের থেকে সাবধান থাকার অধিকার তাঁদের আছে, কিন্তু সেই কারণে নয়। তাঁরা ভালো সূত্রেও সাহিত্যে প্রতিষ্ঠার জন্য টাকা খরচ করেন না। বরং এঁরা দাবী করেন যে, তাঁদের লেখা ছাপতে হবে তাঁদের থেকে টাকা না নিয়ে, কিংবা তাঁদের লেখার বিনিময়ে তাঁদেরকে টাকা দিতে হবে। সাহিত্য একটি পেশা, কিন্তু অন্য পেশার পিছনে যেমন শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, প্রাসঙ্গিক খরচ ও নিয়মানুবর্তিতা চাই,  তেমনি সাহিত্যের ক্ষেত্রেও প্রথম দিকে প্রকাশ বা প্রতিষ্ঠার জন্য সাহিত্যের অভিজ্ঞতাময় শিক্ষা, প্রাসঙ্গিক খরচ ও আজীবন নিয়মানুবর্তিতা চাই। কারণ, সাহিত্যের অবসর জীবন নেই। এই চিন্তার উপরে এই কবিতা। আসলে জ্ঞান চর্চায় সকলের অধিকার থাকলেও প্রতিষ্ঠায় সকলের অধিকার থাকে না। সেটা কেন, এই কবিতায় সেটা বলা হয়েছে। ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *