Spread the love

কবিতা : বই পড়া || ঋদেনদিক মিত্রো

[ A Bengali poem “BOI PORA”, i.e “Reading Books”, Written by Ridendick Mitro. This poem cordially describes that reading books is everywhere true and it’s our jubilation and property in life since childhood to last breathen. Reading books is the best virtue. Represented with amazing trend of rhymes. ]

 

|| লেখার মাঝে-মাঝে বিজ্ঞাপন চলে আসে। এটা ভালো। কিন্তু সেখানেই লেখাটার শেষ নয়। একদম নিচে নেমে দেখুন পুরো লেখা কতটা আছে। সকল লেখকের সব লেখা পড়তে গিয়ে এটা নিয়ে সতর্ক থাকবেন ||

 

কবিতা : বই পড়া

——————————

ঋদেনদিক মিত্রো  ( কলকাতা, ভারত)

 

বই পড়েনা এখন কেউই,

সবার গলা চড়া,

কেউ ভাবোনি — জীবন মানেই

বই পড়া, বই পড়া।

 

বই দিয়ে তো জীবন শুরু,

নার্সারিতে যাওয়া,

কত রকম ছড়া, গানে —

ভাসতো পড়ার হাওয়া।

 

কিংবা যারা সরাসরি

প্রাইমারিতে গেলাম,

হাতে যেদিন প্রথম পড়ায়—

সেই বইটা পেলাম,

 

মাত্র কয়টা পাতার বই,

পড়লে সবই জয়,

দুলে-দুলে পড়া হতো

“বর্ণপরিচয়”।

 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর —

তাঁর ছবি প্রচ্ছদে,

সাদা-কালো ছাপা সে-বই —

আজও অনুভবে —

 

জেগে আছে চুপিচুপি,

কত না সুখ ভরা,

কেউ ভাবোনি জীবন মানেই

বই পড়া, বই পড়া।

 

তারপরে তো হাতে এলেন

বিশ্বকবি রবি,

তাঁরই লেখা “সহজপাঠ”-এ

কত লেখা, ছবি।

 

নরম ভাষায় গদ্য লেখা,

নরম ভাষায় পদ্য,

“কুমোরপাড়ার গরুর গাড়ি”

কেমন অনবদ্য?

 

সেই সব বই মনের ভিতর

আজকেও দেয় উঁকি,

সেসব পড়ার স্মৃতিগুলি

আজও করে সুখি।

 

শিক্ষা ধারায় নানা বদল,

যখন যে-বই আনে,

কিন্তু সবই বই আর বই,

কোথাও না তা থামে।

 

প্রাইমারি শেষ, হাইস্কুল আর

কলেজ, য়ুনিভার্সিটি,

কত পড়া, আড্ডা নিয়ে

জুড়ে আছে স্মৃতি।

 

সবার পিছু একটি কথা,

হয় না নড়াচড়া,

জীবন শুধু এগিয়ে চলে

বই পড়া, বই পড়া।

 

তারপরে কেউ চাকরি পেলাম,

সেটাও পড়ার পর,

কেউ বা করে কোনো ব্যাবসা,

কে প্রাইভেটটিউটর।

 

কেউ বা হলাম লেখক, কবি,

কেউবা শিল্পী হই,

ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল,

সবই পড়ে বই।

 

কেউ বা হলাম বিজ্ঞানী বা —

শ্রমিক হলাম যদি,

যে-দিকে যাও নির্দিষ্ট

পড়াশুনার ছবি।

 

বই যদি কেউ ছেড়েই দিয়ে

বইকে বিদায় দেয়,

বইয়ের বদল করে সে তো

খবর কাগজ নেয়।

 

সেই সঙ্গে আছে আবার

রেডিও, টিভির চল,

হাতে-হাতে পৌঁছে গেলো

মোবাইলের কল।

 

সবই শুধু বই, জানো তো,

সবই বইয়ের কথা,

পাথর এবং বালিতে বই

লিখেই তো সভ্যতা।

 

আদিম কালের সেই কাহিনী

আজকে মনে করা,

মানব জাতীর পথই হবে —

বই পড়া, বই পড়া।

 

তাদের প্রথম কল্পনাতে

ছিল বইয়ের শ্বাস,

মানুষ হবে বইয়ের বন্ধু,

আবার বইয়ের দাস।

 

এই পরিচয় নিয়েই মানুষ

মহাবিশ্বে সেরা,

বই পড়াকে রুখে দেবে–

কোন সে দানবেরা?

 

নানা রকম ক্ষুদ্রতাতে

মন হয় সংকীর্ণ,

তবুও মানুষ শিক্ষা ছাড়া

নিজেই ভাবে শীর্ণ।

 

এইখানে তো বইয়ের জয়,

গরীব হতে ধনী,

কে কতটা হতে পারে

কত জ্ঞানের খনি।

 

এর পরেও বলবে নাকি —

বই পড়া যুগ শেষ,

পড়া নিয়েই রেষারেষি —

বিশ্বে সকল দেশ।

 

কত কিছু কিনতে দিলাম —

লাখো কোটি টাকা,

বই কিনবার সময় দেখাই

আমার পকেট ফাঁকা।

 

কিন্তু চোখের সামনে যখন

দেখি বইয়ের দোকান,

ঝলকে ওঠে মনের ভিতর —

চোখ খুঁজে পায় আরাম।

 

বইমেলা যেই ঘোষনা হয়,

ভিতরটাতে জাগি,

বইমেলাতে ঢুকে যেন

নতুন রূপে সাজি,

 

দেহে মনের ভিতরেতে

ছুটছে হাজার ঘোড়া,

দিনে রাতে হাঁটা চলায়

বই দেখা, বই পড়া।

 

নানা প্রকাশনীর স্টলে

ঢুকি আর বেরোই,

সে যে কী রোমাঞ্চতে

আবেগ মুগ্ধ হই।

 

রাত্রি হলে আলো ঝলমল,

লক্ষ মানুষ হাঁটি,

শিশু থেকে বড় সবাই —

বই প্রেমি এক জাতী।

 

এর বাইরে সব পরিচয়

মানুষেতে মিথ্যে,

যাদের হাতে বই লেখা ও

বই পড়ারই বিদ্যে।

 

এ পরিচয়ে শুধু তো এই

মানবজাতী গড়া,

জীবন মানেই একটি কথা —

বই লেখা, বই পড়া।

 

বইয়ের সাথে চলাফেরা,

বসা এবং ঘুম,

আলো জ্বালি রাত্রিবেলায়,

বইপড়া নিঃঝুম।

 

বইকে দেখে, ছুঁয়ে না ছুঁয়ে,

কত কিছুই ধরা,

মানব জাতী দুর্লভ, তাই

বই লেখা, বই পড়া।

 

সকল কিছুই আসে ও যায়,

বই শুধু যায় থেকে,

আলামারি, চেয়ার, টেবিল, র‍্যাক ও

খাটের নিচেতে।

 

সকল কিছু পুরানো হয়,

সব করে দিই বাদ,

পুরানো বই রেখে ভাবি —

তুলনাহীন স্বাদ।

 

বই যদি কেউ পড়েনা তো

এত কাগজ শেষ,

রঙ, পিচবোর্ড, সুতা, আঠায়

ব্যাস্ত লাখো Press।

 

ব্যস্ত লাখো-লাখো দোকান,

কর্মী কোটি-কোটি,

বইছাপা আর বইয়ের বাঁধাই

নিয়েই সবার গতি।

 

বই নিয়ে হয় আলোচনা

পত্রপত্রিকার,

দিকে-দিকে হচ্ছে সভা

গল্প কবিতার।

 

দিকে-দিকে সম্মাননা,

পদক, পুরস্কার,

কেউ বা পেলো অনেক টাকা,

প্রচার হলো তার।

 

বইপড়া যুগ শেষ হয়েছে

এসব কথার পরে —

কেমন করে বই ঢুকে যায়

হাজার-হাজার ঘরে।

 

আসলে বই এমন জিনিস —

বিজ্ঞাপন কী হবে?

বই তো আছে কল্পনা আর

নিয়ত বাস্তবে।

 

তবে বিক্রি করতে হলে

চাই তো বিজ্ঞাপন,

কোন্ বইতে লেখক দিলেন

কেমন জাগরণ।

 

সেখানটাতেও ল্যাংবাজি হয়,

কত কী কৌশল,

তাহলে বইয়ের গুরুত্ব কী!

তাকে নিয়েও ছল।

 

একটি ঘরে সবই আছে,

কত দামী দ্রব্য,

বই যদি না থাকে অনেক

বলবো অসভ্য।

 

বই দিয়ে তো বিভাজনেই

আমরা পরিচিত,

দুই শব্দের কোনটা তুমি —

মুর্খ বা শিক্ষিত।

 

কজন লেখক হচ্ছে ধনী,

বই হচ্ছে ছাপা,

ধন দৌলত দিয়ে কি আর

লেখককে হয় মাপা?

 

এটিই তো একমাত্র কাজ —

টাকায় হয় না মাপ,

টাকার ঊর্ধ্বে এর গুরুত্ব,

টাকায় মাপা পাপ।

 

রেডিও, টিভি, সিনেমা, যাত্রা,

থিয়েটার ও আড্ডায়,

আড়ালেতে আগে লেখক,

সকল পেশা, বিদ্যায়।

 

লেখক দিগের ঠকিয়ে সবাই

ধনী সারা বিশ্ব,

সেই পৃথিবী বলে আবার

লেখক মানেই নিঃস্ব।

 

লেখকদেরই বিয়ের সময়

পাত্রপাত্রী কম,

হায়রে স্বদেশ, হায় পৃথিবী,

তুই কত নির্মম।

 

লেখকেরই লেখায় শেখা

তোমার পড়াশোনা,

সেটা থেকেই ডিগ্রি নেওয়া,

এক-এক সিড়ি গোনা।

 

এই বিশ্বের সকল কাজে

আগে লেখক চায়,

রাজনীতিতে নেতারা সব

লেখক খুঁজে যায়।

 

লেখক হল বুদ্ধিজীবী,

এদের নীরব করা,

তবেই মানুষ থাকবে ঘুমে,

বেঁচে থেকেও মরা।

 

টেবিলেতে বইটা খোলা,

খাটেও বই রাখা,

এই দৃশ্য দেখার যে সুখ —

যায় কি ফিতেয় মাপা!

 

ঘুমের আগে খাটে শুয়ে

বুকেতে বই রেখে —

পড়তে-পড়তে ঘুম এসে যায় —

গভীর সুখে ঢেকে।

 

ছেঁড়া, ভেজা, উইলাগা বই

ফেলে দেবার আগে–

বুকটা ধড়াস্ করে ওঠে —

এতই কষ্ট লাগে।

 

উল্টেপাল্টে চোখ চালালাম,

কী লেখাটা পড়ি,

ফেলে দেবার আগে সেটা

যত্ন করে ধরি।

 

বইয়েই খুঁজি সব কিছু সুখ —

আগা এবং গোড়া,

কারা বলে চলবেনা আর

বই লেখা, বই পড়া।

 

বিদেশে যায় কত মানুষ —

হয় না হিসেব গোনা,

কেউ যদি যায় পড়তে বিদেশ–

তখন আলোচনা।

 

অমুক বাড়ির ছেলে বা মেয়ে

গেলো অমুক দেশে,

পরিবারের নাম উড়ছে

তখন হাওয়ায় ভেসে।

 

কাজে যদি কেউ করে ভুল,

গালি আসে রুক্ষ,

শালার নেই শিক্ষাদীক্ষা,

বংশটা তো মুর্খ।

 

বই দিয়ে হয় সবই বিচার,

শিক্ষাদীক্ষা, নাম,

লেখকরা তাই অজান্তে পায়

সবার উপর স্থান।

 

উনুনে কেউ পুরানো বই

ঢুকিয়ে জ্বালে ঘুঁটে,

সেটাই যখন চোখে পড়ে

বুকটা নড়ে ওঠে।

 

এই পৃথিবীর পদগুলো সব

ধাপে-ধাপে মাপা,

সবার উপর শিক্ষক পদ,

সবাই নোয়াই মাথা।

 

সেরা পেশা শিক্ষিকতা,

তাতে শুধু বই,

তাই বইকে সরিয়ে কারা

চাইছ হতে জয়ী!

 

ছেলেমেয়েরা প্রেম করতেও

কৃতিত্বটা দেখায়,

কে কতটা পেরে ওঠে

প্রেমের ছড়া লেখায়।

 

ডাক্তাররা রুগীদেরও

জানিয়ে দিয়ে যান,

বই পড়বেন শুয়ে, যদি —

সুস্থ হতে চান।

 

গরীব শ্রমিক ছেলেমেয়েদের

গালি পাড়েন ধরে,

চিরকাল কি মুর্খ থেকে —

মরবি এমন করে।

 

সেই বইকে ধরে কারা

পরাবে হাত-কড়া,

বিশ্বজুড়ে এক উৎসব —

বই পড়া, বই পড়া।

 

কত কিছু সংবাদ হয়

দেশবিদেশে ওই,

সবার চেয়ে বড় সংবাদ

কেউ লিখেছেন বই।

 

যতই বইকে গালি পাড়ো

বই না পড়ার দল,

তাদের ভিতরেতে আরো

বই বেশি উজ্জ্বল।

 

নতুন বইয়ের গন্ধ নাকে,

আঃ কী পাগল করা,

মানব চরিত্রতে আছে

বই পড়া, বই পড়া।

 

দোকানে যেই কিছু কিনি–

ঠোঙায় বইয়ের পাতা,

অমনি তখন দুচোখ বোলাই

কী রয়েছে ছাপা।

 

সকল কিছু চোখে দেখি,

দুরন্ত সক্ষম,

বইয়ের পাতা আবছা লাগে,

খারাপ হল মন।

 

নিজেই তখন ঘোষনা দিই —

খারাপ হল চোখ,

চোখ অন্ধ তখন, যখন —

বই না পড়ার শোক।

 

মর্যাদা ও সক্ষমতা —

বইকে দিয়েই মাপি,

এসো, বইয়ের সাথে ঘুমাই, বসি,

বইয়ের সাথে হাঁটি।

 

এই জীবনে দুঃখ সেটাই —

বই থেকে চোখ সরা,

চলো, চলো, জীবন ওড়াই,

বই পড়া, বই পড়া।

 

 

 

———————————

( ১২:০৭ রাত ৭,৮,৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪)

———————————

বিদ্র:- ঋদেনদিক মিত্রো ( Ridendick Mitro ) , পেশায় ইংরেজি ও বাংলাভাষায় কবি-উপন্যাসিক-গীতিকার-কলামিষ্ট।

————————————-

Cautions : মুদ্রিত বই বা পত্রপত্রিকা পৃষ্ঠার কালি বিষাক্ত। তাতে কোনো খাবার নেবেন না। সেই কালির স্পর্শ খাবারকে বিষাক্ত করে। জীবনে খুব সতর্কতা দরকার। অনেক সময় অসুস্থতা বা মৃত্যুও হয়। আসলে কে কখন কী কারণে অসুস্থ হয়, সেটা খুঁজে পাওয়া যায় না বলেই মানুষ ভুল চিকিৎসায় ঢুকে পড়ে বিপদ ঘটায়। প্রতি মুহুর্তে দেহ ও মন নিয়ে সুক্ষ্ম সতেজ থাকুন। নিজেকে বাঁচানোর জ্ঞান ছাড়া আর সব জ্ঞান নিয়ে আমরা হল্লার জীবন গড়ি। এটাই আমাদের সভ্যতার সর্বনাসের কারণ। কারোর ডিগ্রি বা পদের গৌরব দেখে ভুলবেন না। আপনার বুদ্ধি ও মুক্ত চিন্তাশক্তি সব চেয়ে বড় ডিগ্রিধারী ও পদাধিকারী। এটা খেয়াল রাখলে নিজের জীবন নিয়ে অনেক কিছু বুঝবেন। এবং অন্যদেরকেও অনুভব করবেন।

— ঋদেনদিক মিত্রো

———————————–

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *