IMG 20250926 WA0000

কবিতা: যাবার বেলায় ✓ দীপা কুমার

Spread the love

যাবার বেলায়

IMG 20250926 WA0000
দীপা কুমার

যাবার বেলায় কিছু দিতে চাই পথিক,
শোনো গো মোর গান খানি ;
অন্ধ কানাই আজও একলা পথে হেঁটে যায় —
বিধূ গোয়ালা গরু ধোয়ায়,
ময়নামতীর জলে,
আজও অর্ধনগ্ন নয়নতারা পথে পথে খাবার খুঁজে বেড়ায়!
কেউ তার পরনে দেয়নি তুলে বাস,
সভ্যতার বিকৃত সমাজ করেছে তার সর্বনাশ ।
সর্ব লোকে চেনে তাকে,
তবুও না চেনার ভাঙ করে থাকে ।
দিয়ে যেতে চাই পৃথিবী তোমাকে, শুধু আমাকে —‘
তুমি রক্ষা করো ঐ পাগলীটাকে !
ধন্য হোক মোর জন্মভূমি,
পুন্য হোক এই পৃথিবীর প্রতি টি ক্ষণ ।

* সম্পাদকের বিশ্লেষণ 

“যাবার বেলায়” কবিতা বিশ্লেষণ
কবি: দীপা কুমার
“যাবার বেলায়” কবিতাটি সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও অসহায় মানুষের প্রতি গভীর মানবিক আবেদনকে তুলে ধরে। কবি বিদায়ের মুহূর্তে পৃথিবীর কাছে কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া না রেখে সমাজের উপেক্ষিত মানুষগুলোর সুরক্ষা ও মর্যাদা কামনা করেছেন। কবিতার প্রতিটি পঙ্‌ক্তিতে মানবতা, সামাজিক বৈষম্য এবং করুণ বাস্তবতার এক মর্মস্পর্শী চিত্র ফুটে উঠেছে।

কবি এখানে সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র তুলে ধরেছেন।
“অন্ধ কানাই”, “বিধূ গোয়ালা”, “অর্ধনগ্ন নয়নতারা” এরা কেবল ব্যক্তি নয়, বরং সমাজের সেইসব মানুষদের প্রতীক, যাদের দিকে সভ্য সমাজ তাকিয়েও না দেখার ভান করে।
কবি বলেছেন
“সভ্যতার বিকৃত সমাজ করেছে তার সর্বনাশ”
এই পঙ্‌ক্তি আধুনিক সমাজের নির্মমতা ও ভণ্ডামিকে প্রকাশ করে। সমাজে সবাই নয়নতারাকে চিনলেও তার দুঃখ দূর করার জন্য কেউ এগিয়ে আসে না।

কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো মানবতার আহ্বান। কবি নিজের জন্য কিছু চান না; তিনি শুধু চান
“তুমি রক্ষা করো ঐ পাগলীটাকে!”
এখানে “পাগলী” সমাজের অবহেলিত নারীজীবনের প্রতীক। কবির এই আবেদন পাঠকের হৃদয়ে সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।

কবিতার ভাষা সহজ, সাবলীল এবং আবেগঘন। গ্রামীণ জীবনের চিত্র, প্রতীকী চরিত্র এবং করুণ বাস্তবতার মিশ্রণে কবিতাটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
“ময়নামতীর জলে”, “অন্ধ কানাই”, “পথিক” এসব চিত্রকল্প কবিতাকে আরও গভীরতা দিয়েছে।

“যাবার বেলায়” শুধুমাত্র একটি কবিতা নয়; এটি মানবতার পক্ষে এক মর্মস্পর্শী প্রতিবাদ। কবি সমাজকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে প্রকৃত সভ্যতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন অবহেলিত মানুষও সম্মান ও নিরাপত্তা পাবে। কবিতাটি পাঠকের মনে সহানুভূতি, মানবপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধ জাগিয়ে।

শ্রদ্ধেয় পাঠক/পাঠিকাগণ করি আবেদন মতামত জানাতে হবেন না কৃপণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রম্যরচনা: বাংলায় ✓ অরবিন্দ সরকার

Ridendick Mitro

কবিতা ঃ নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ ও নবাব আলীবর্দী খাঁ ঋদেনদিক মিত্রো ( ভারত )

নদীর বয়স বাড়ে না ✓শুভ্রনীল ধর নীল-ই 

চিরন্তন অনুসন্ধান! ✍️কনককান্তি মজুমদার