নবাব সিরাজউদ্দৌলা কবিতা সিরিজ : কবিতা নং -17

                         ✍️
কবিতা : হীরাঝিল নবাব প্রাসাদ  
(A Bengali poem : Hirajhil Nawab Prasad, i.e. The Palace of Nawab Siraj ud-Daulah at Hirajhil —  by Ridendick Mitro )
   —————————————
    — ঋদেনদিক মিত্রো 

[মুক্ত ঘূর্ণন ছন্দে অসম পংক্তির অন্তমিলে লেখা!

কবিতাটি যদি হীরাঝিলে পড়া হয় তাহলে হুবহু এটা থাকবে, যদি হীরাঝিলের বাইরে পড়া হয় তাহলে বিশেষ স্থানগুলিতে “এখানে ” বদলে “সেখানে ” বসাতে হবে, পাঠক পাঠিকা সেটা বুঝতে পারবেন,  কবিতাটা পড়বার পরে!  ]

আছে সেই হীরাঝিল, 
              মুর্শিদাবাদ,   
নেই শুধু এখানে তোমার প্রাসাদ, 
     সিরাজউদ্দৌলা,
     বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার
         শেষ স্বাধীন নবাব,   

এখানে এখন কত গাছপালা, 
    আর নিরীহ অতীত করে ঘোরাফেরা, 
এখানে ছিল তোমার বিরাট প্রাসাদ, 
     বৃহত্বে ও সৌন্দর্যে ভারতের সেরা, 

সে-প্রাসাদ ছিল ভাগীরথী পাড়ে, 
   তখন ছিল যে কত বিস্তৃত নদী,
    বড় -বড় ঢেউ, 
    কল্পনার চক্ষে ভাসে আজ তার ছবি, 

ছিল কী বিশাল দরবার, 
   ছিল কত আমির ওমরাহ,
                প্রজা আর জমিদার 

তাদের কতকি দাবী আর ক্ষোভ,  
  মহাবিশ্বের চেয়ে বড় মানুষের লোভ, 

তুমি ও তোমার শ্রেষ্ঠা প্রিয়তমা
   লুৎফুন্নিসা ছিলে —
   এসবের উর্দ্ধে এক তন্ময় নিবিড়তা,
    তোমাদের ছিল কত সৌখিনতা, 
     সৌখিনতা মানে লোভ নয়, 
             কিংবা এটা নয় বিলাসিতা, 

    সৌখিনতা হলো প্রতিটি প্রাণীর
            উপলব্ধির স্বচ্ছতা,  
    
তুমি ও বেগম লুৎফুন্নিসা
   আনিয়ে রাখতে পারস্যের কত কী সুগন্ধি, 
    তাই দিয়ে করতে স্নান, 
      সে এক দৃশ্য বটে —
        ইতিহাসের পৃষ্টায় আজ বন্দী, 

কিন্তু, প্ৰিয় নবাব, আছে তো কল্পনা, 
   তাই নিয়ে হেঁটে যাই এই হীরাঝিলে, 
   তোমার প্রাসাদ আজ ভাগীরথীর গর্ভে, 
    কোনো -কোনো অংশ ডাঙায় যায় মিলে, 
     উঁচু নিচু ভগ্নাংশ, 
        এগুলি তো ছিল নাকি
                    প্রসাদের অংশ বিশেষ, 

এখানে তুমি ও বেগম লুৎফুন্নিসা 
      হেঁটে যেতে, — ছড়িয়ে যেতে
             বিদেশী সুগন্ধির রেশ, 

বেগম লুৎফুন্নিসাকে তখন
   লোকে বলতো পদ্মগন্ধা, 
    পথ ছিল কী সুন্দর সাজানো,
    বেগমের হেঁটে যাবার সময়
    পায়ে -পায়ে ছিল রাজকীয় ছন্দ মাপ, 
                  

কল্পনা করি তোমাদের সেই পোশাকআসাক, 
             সেই আকাশ, মেঘ, রোদ আর রাত, 

সিরাজ, তুমি শুধু ছিলেনা নবাব, 
    তুমি ছিলে জীবন-বোধের কবি,
       আর লুৎফুন্নিসা ছিল
       তোমার স্বপ্নের পরিব্রাজক, 
      আলাদা ছিল সব কিছু তোমাদের, 
       সেই শয্যা, আসবাব, খানাপিনা, 
             কেবলি সততা নয়, 
             যে যত রুচিশীল ও সাবধানী,
               সে হয় ততই মহৎ, 

মহত্ব মানে নিরসতা নয়, 
   মহত্ব মানেও হতে পারে 
       উন্নত ক্ষতিহীন উপভোগের প্রশ্রয়, 

এইসব নিয়ে তোমাদের জীবন-প্রকরণ,
  পাখিদের সুগন্ধি-জলে স্নান করিয়ে
  উড়িয়ে দেওয়া হতো আকাশে,
   সারা মুর্শিদাবাদ যেন সুগন্ধিতে
   ভ’রে  উঠতো মিষ্টি হাওয়ায়, বাতাসে, 

জীবনের সত্য কী — কে বা তাই জানি, 
  অনন্ত রহস্য-মাঝে কেবলি তো হেঁটে যাই
     অসংখ্য জিজ্ঞাসায় হয়ে হয়রানি,
        এটাই জীবন,  আর মৃত্যু মানে ঘুম, 
        তার মধ্যে জোৎস্নার মত ছেয়ে আছে
          ইতিহাসের আকাশকুসুম, 

চোখ মেলে দেখি আর
            কত কী যে ভাবি অনাবিল,  
    কী ছিল একদিন এই হীরাঝিল!

——————————————————-
  (21:27 রাত্রি,  17 অক্টোবর, Ridendick Mitro, kolkata, India )

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : “Manas Bangla” youtube – (link : নবাব সিরাজউদ্দৌলার হীরাঝিল প্রাসাদে কে এই লুৎফুন্নিসা /Lutfunnisa at Hirajhil Palace ) ও “খুশবু দরিয়ার অন্দরে” — তাপসী দত্ত দাস, সাপ্তাহিক বর্তমান, 5 সেপ্টেম্বর 2020,  পৃষ্ঠা, (26— 30)/28!

খুব সংক্ষেপে, প্রসঙ্গত বলি, মুর্শিদাবাদের ইতিহাসের ওপর আমার কবিতা কয়েক বছর আগেও ছিল, মুর্শিদাবাদে কাউকে ছাপতে দিয়েছিলাম, সে প্রসঙ্গ এখানে থাক, কিন্তু, নবাব সিরাজের ওপর ও সিরাজের সাথে সংযুক্ত কিছু ব্যক্তি ও পরিস্থিতির ওপর কবিতার গুচ্ছ লেখার অনুপ্রেরণা পাই হঠাৎ খেয়াল বসত “Manas Bangla” youtube এর বাংলা youtube : “লুৎফুন্নিসার কি পুনর্জন্ম হয়েছিল / Was Lutfunnisa reborn ” দেখে, বেরুনোর পর মাত্র আট মাসে যার দর্শক সংখ্যা হয় প্রায় 16 (ষোলো )  লাখ, আরো বেড়ে চলেছে, যেখানে কলকাতার বিখ্যাত টিভি অভিনেত্রী সমর্পিতা কী ভাবে নবাব সিরাজের অনুভূতিতে নিমগ্ন হয়ে নবাবের কবরে নিয়মিত এসে যত্ন করেন, নিজেকে তাঁর কেন মনে হয় যে তিনি নবাবের সময় ছিলেন নবাবের সর্বশ্রেষ্ঠা স্ত্রী লুৎফুন্নিসা, এবং সমর্পিতা নিজেকে আজকের লুৎফুন্নিসা হিসেবে নিজেকে প্রমাণিত করতে পেরেছেন কী ভাবে, ও নবাবকে নিয়ে তথা সামগ্ৰীক মানব সমাজকে নিয়ে তাঁর স্বপ্ন, কর্মধারা, গবেষণা, এসব নিয়ে ওই ইউটুব-এ manas bangla এর কর্নধার মানস সিংহ মহাশয়ের সাথে কথোপকথন আমাকে নবাব সিরাজউউদ্দৌলা  নিয়ে লিখতে বাধ্য করেছিল, তারপর আমি বাংলা ও ইংরেজিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা, লুৎফুন্নিসা, আজকের লুৎফুন্নিসা সমর্পিতা, তাঁর স্কুল “নবাব সিরাজউদ্দৌলা মুক্ত বিদ্যালয় খোসবাগ “,  Manas Bangla এর মানস সিংহ, ইত্যাদি সহযোগী বিষয় নিয়ে 15 টি কবিতা লিখে  নিয়ে kabyapot.com -এর মাননীয় সম্পাদক কবি শ্যামল মন্ডলকে পাঠাই, উনি রেখে, পড়ে,  বের করেন পূর্ণ গ্রন্থ সম প্রায় 64(চৌষট্টি )পৃষ্টার লেখা! তারিখ 24 জুলাই 2021,

|| সিরাজউদ্দৌলা ও অভিনেত্রী সমর্পিতার ওপর 15টি বাংলা ও ইংরেজি কবিতা || ঋদেনদিক মিত্রো|| 07/24/2021

এই set এর লিংক  Manas Bangla এর কর্নধার মানস বাবুর কাছে পৌঁছয় ও সমর্পিতার কাছে পৌছায়, তাঁরা বিষয়টিকে সব দিক থেকে সম্মতি দেন, পছন্দ করেন, তারপর আমি আরো এই কাজে এগিয়ে যাই, সিরাজ নিয়ে গভীরতা আসে ওঁদের কর্ম প্রক্রিয়া থেকে, এর পরে আমি নানা ধরণের youtube দেখি বিভিন্ন কোম্পানির, ও বই পত্তরও একটু দেখবার চেষ্টা করি এই বিষয়ে, তাই নবাব সিরাজ নিয়ে এইসব লেখার ক্ষেত্রে নানা উৎসের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, সেগুলি আমি প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী প্রকাশ করবো, কিন্তু এতো সবকিছুর পেছনে যাঁরা প্রথম আমাকে এই কাজের প্রবণতায় নামালেন সেটা হলো Manas Bangla এর ওই ইউটুব !

হীরাঝিল -এর ওই youtube দেখে আমি হীরাঝিল কবিতাটি লিখি, এমনও হতে পারতো, হীরাঝিল এর ওপর অন্য কোনো কোম্পানির youtube দেখে হীরাঝিল এর ওপর কবিতা আসতো, হ্যাঁ, সেটাও হতে পারতো, কিন্তু ঘটনাক্রমে Manas Bangla এর  হীরাঝিলের ওই ইউটুব দেখে হীরাঝিলের ওপর এই কবিতাটি এলো ! এটা উদ্দেশ্য নয়, incident.

তাই অন্য কোনো youtuber সাংবাদিক গবেষকগন আমাকে ভুল বুঝবেন না, আবার এটাও ঠিক, তাঁদের থেকেও কেউ-কেউ অনেক কিছু পেয়ে তাঁরাও অনেক কাজ করেন, গবেষণা ও সৃষ্টি করেন, যেমনটা আমি এইভাবে Manas Bangla থেকে করেছি!, আমিও অন্যদের থেকেও লেখার অনেক উৎস পেয়েছি, সেগুলি প্রাসঙ্গিক স্থানে নিশ্চয় জানাবো, এখানে লেখাটা খুব বেড়ে যাবে সেগুলি বলতে গেলে!

আমরা সবাই স্রষ্টা, ভুল দৃষ্টিকোণ যেন কারোর না থাকে, সেটাই বলছি! সমস্ত জ্ঞানী পরিশ্রমী চিন্তাশীল youtube গবেষক সাংবাদিকদের আমি সমান ভাবেই  শ্রদ্ধা করি!

“সাপ্তাহিক বর্তমান” এর উপরে উল্লিখিত তারিখের সংখ্যা থেকে আমি নিয়েছি নবাবের ও লুৎফুন্নিসা বেগমের বিদেশী সুগন্ধি মাখা অভ্যেস , পশু পাখিকেও সুগন্ধি মাখিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো,  এইসব! বাকিগুলি ও কবিতার ভাষার গঠন প্রণালী পেয়েছি ওই youtube এর পরিকাঠামো থেকে ! 

এক একটি ব্যক্তি, সমষ্টি, বা মিডিয়ার ঔৎকর্ষ এক এক রকম, সেটাও আমাদের অনুভব করতে হবে!

কোনো একটি মাধ্যম বা নির্দিষ্ট কোনো গ্রন্থ, পত্রিকা, ইউটুব, কোনোটাই কোনো বিষয়ের ওপর সব জ্ঞান দিতে পারে না, প্রতিটি মাধ্যমের এক একটি অবস্থান এক একরকম চিন্তার ব্যাপ্তি ও রস দেয়, যেমন Manas Bangla এর ওই ইউটুবগুলো দেখে আমি নবাবের জগৎ নিয়ে প্রথম বিস্তারিত ভাবনায় প্রবেশ করি!

আচ্ছা, এখানে একটা কথা বলি, Salahuddin Sumon এর একটি youtube  দেখে, — সেটা এই সিরিজ এর 16 নং কবিতা “পলাশীর প্রান্তর ” লিখি যেটি 15th অগাস্ট 2021 এ প্রকাশিত হয়েছে “রূপুর পত্রছন্দ কবিতা সংকলন -প্রথম খন্ড, সম্পাদনা :নার্গিস খাতুন,  (Rupur Patrachhanda Bengali Poetry Collection — Ist part  :Edited by  Nargis Khatun ) গ্রন্থে! হতে পারতো “পলাশীর প্রান্তর ” কবিতাটি ওই বিষয়ের Manas Bangla বা অন্য কোনো youtube থেকে লিখতাম, কিন্তু ঘটনাক্রমে ওই youtube দেখতে গিয়ে ওই কবিতার লেখার ফ্রেম পেলাম, আবার Manas Bangla বা অন্য কোনো কোম্পানির তৈরী পলাশীর প্রান্তর এর ওপর কোনো youtube দেখে লেখাটা অন্য রকম হতে পারতো, আসলে এইসব বিষয় নিয়ে এইভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, শুধু বলা যায় হেঁটে চলেছি অন্যন্য রকমের সব অনুভূতিতে!
“পলাশীর প্রান্তর ” কবিতাটি লিখেছিলাম “Salahuddin Sumon ” youtube এর ” বেদনার ইতিহাস বুকে নিয়ে আজো কাঁদে পলাশী /History of plassey ” দেখে! এসবই নবাব সিরাজ সিরিজের কবিতার গ্রন্থে থাকবে!

আসলে আমি যখন তখন যেটা সেটা ক্লিক করি, সেই জন্য বিচিত্র ভাবে এখানে ওখানে প্রবেশ করি!

ওই “পলাশীর প্রান্তর ” কবিতা লেখার অনেক দিন পরে আজকে হাতের কাছে হঠাৎ পেলাম “Manas Bangla” ইউটুব এর একই বিষয়ের youtube, কিন্তু সেটা ভয়ে এখনো খুলিনি, কারণ একটাই, আবার যদি তথ্যের কোনো পার্থক্য পাই দুজনের মধ্যে, তাই ওটা পরে দেখবো, আরো পরে!

আসলে আমার মানসিক প্রক্রিয়াগুলো এইভাবেই ঘটছে, এটাই বলা যায়, এটাকে অন্য কিছু দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না!

Spread the Kabyapot

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *