ভুবন বন্দোপাধ্যায় এর ১৮টি কবিতা নিয়ে “গুচ্ছ কবিতা” প্রকাশিত হল


                অতীন খুড়ো
           ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

চুল পাকলে দাঁত পড়লে
তাতে কি হয় বুড়ো ?
মনটা আমার বড্ড কাঁচা
বলল অতীন খুড়ো ।

এখনো তো মাইল পাঁচেক
হাঁটতে পারি সোজা,.
বইতে পারি সুখ দুঃখের
কত রকম বোঝা ।

মেলার মাঝে নাগরদোলা
চড়তে আমি যাই,
আগের মত গণ্ডা ছয়েক
জিলাপি কিনে খাই ।

তারপর তো তেলেভাজাটা
সঙ্গে দু সের মুড়ি,
দেখনা খুঁজে আমার মত
কে আছে আর জুড়ি ।

উঠতে পারি তেমন করে
গাছের মগডালে,
কাটতে পারি ডুব সাঁতার
ভরা নদীর জলে ।

কাজলি মাঠে লাঙ্গল নিয়ে
তেমনি চাষ করি,
সবার আগেই  শক্ত হাতে
মিছিলে ঝাণ্ডা ধরি ।

মটর বাইক ছুটাই আমি
নব্বই কিমি বেগে,
এবার যদি বলবি বুড়ো
উঠব আমি রেগে ।
        _____


                       ভক্ত
                   ভুবন দা

সংসার  করাটাই
জানি অতি শক্ত
নাই যদি হতে পারো
বউয়ের ভক্ত ।

যাই বলে বউ তাই
মন দিয়ে শোনো,
থাকবে না ঘরে আর
ঝামেলাটা কোনো ।

শ্বশুর শাশুড়ি আর
শালা শালি যত,
খবরা খবর তুমি
রেখো নিয়মিত ।

নিজ পিতা মাতা আর
ভাই বোন ফেলে,
আরো সুখি হবে তুমি
যাও যদি চলে ।

ইসকুলে নিয়েছিলে
যত কিছু শিক্ষা,
সব ভুল, বউটার
কাছে নাও দীক্ষা ।
      _____


        জংলি ফুলের গন্ধ
                ভুবন দা

জঙ্গলে রোজ
ফুটে যে কত
       নানা রকম ফুল,
কেউ চেনেনা
কেউ জানেনা
      নাইরে জাত কুল ।

আসেনা কেউ
ওদের কাছে
      একলা ওরা থাকে,
নিজের দুঃখ
নিজের কাছে
      লুকিয়ে শুধু রাখে ।

আমরা চিনি
হাসনুহানা
       গোলাপ বেলী জুঁই,
গন্ধে তাদের
দিবস রাতি
       বিভোর হয়ে রই ।

ওরাও ফুল
নয়তো ভুল
     নয়তো কিছুই মন্দ,
তবু কি আর
কেউ কি নেয়
     জংলি ফুলের গন্ধ ?
         _______

            হক কথা
       ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

বলেছিল হক কথা
একরাম আলি,
আসল মানুষ খুঁজি
পাই শুধু জালি ।

দূর থেকে মনে হয়
মানুষযে দাদা,
কাছে গিয়ে বুঝি পরে
একদম  গাধা ।

মানুষের  চামড়াটা
থাকে সব গায়,
আসলে জন্তুু সব
মানুষকে খায় ।

বাঘ হাতি  সিংহের
মায়া থাকে তবু,
উদর ভরিলে আর
খায় নাত কভু ।

ওই সব মানুষেরা
দিন রাত খায়,
অভর পেট তাদের
ভরানো না যায় ।
      ______


                     ক্ষতি
           ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

ইচ্ছে ছিল অনেক কিছুই
পূরণ হল কই,
সব ইচ্ছে মনের ভিতর
নিয়েই আমি রই ।

ইচ্ছে ছিল বাংলা ভাষাই
ভাল করে শিখব,
নিজের চোখে জগৎটাকে
নিখুঁত করে দেখব ।

কোথায় ছিল ইংরাজিটা
এসেই খেল গিলে,
চোখে আর হয়না নজর
চশমাটা না নিলে ।

পিতা মাতা দাদু দিদার
মনবাসনা পূর্ণ,
টাকা টাকা করেই আমার
জীবন হল চূর্ণ ।

আজকে তাই মনে যে হয়
নিজেকে মূর্খ অতি,
মায়ের ভাষা না শিখে আজ
করেছি কত ক্ষতি ।
        _________


                মদ
           ভুবন দা

দুধ বেচে মদ খায়
মহাদেব পাল,
বউ তার দিন রাত
দেয় তাই গাল ।

মদ বেচে দুধ কেনে
ওপাড়ার কেষ্ট,
ঠিক থাকে নিজে শুধু
সব করে নষ্ট ।

বিকোয় না পড়ে থাকে
ভিটমিন খাদ্য,.
উড়ে যায়  পলকেই
যত সব মদ্য ।

মদ পান করে কেউ
ক্ষনিকের রাজা,
মদ বেচে কেউ ধনী
চিরকাল তাজা ।

কেউ মরে কেউ বাঁচে
মদ ভাল মন্দ,
যত খুশি বাড়ে দাম
নেই কোন দ্বন্দ্ব ।
        ______


             নেতাজী
      ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

বলতে পারো বলতে পারো
বীর নেতাজী তুমি ?
হঠাৎ করে কোথায়  গেলে
ছেড়ে ভারতভূমি ।

অনেক খোজা হলই সারা
হদিস পেলাম কই,
ভারতবাসী  আমরা তাই
দুঃখ নিয়েই রই ।

নিজের জীবন তুচ্ছ করে
বন্দুক হাতে ধরে,
জানালে তুমি ইংরেজকে
যাও ভারত ছেড়ে ।

তোমার মত দেশ প্রেমিক
সত্যি পাওয়া ভার,
হাজার কষ্ট  সহ্য  করেও
মানোনি কভু হার ।

ইচ্ছে তোমার অনেক কিছু
ছিল সবাই জানি,
বুঝিনা সেই আদর্শে দেশ
চলছে কতখানি !
        _______


                   ভালবাসা
           ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

ওদের নিখুঁত প্রেম
সাগর ও নদী,
চিরকাল ভালবাসা
থাকে নিরবধি ।

ছুটে যায় নদী ওই
কত গান গেয়ে,
সাগর আশায় থাকে
তার পথ চেয়ে ।

দুজনাই  দুজনার
অতি প্রিয়জন,
কোনদিন কোনকালে
নাই বিভাজন ।

মন চায়  এরকম
ভালবাসা পেতে,
আগামী জনমে যেন
এই পৃথিবীতে ।
     _______


              গাছ
     ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

একে একে ঝরে পাতা
কিবা ক্ষতি তায়,
আবার নব  পল্লবে
গাছ ভরে যায় ।

ঝরা পাতা উড়ে উড়ে
ধুলোতেই শেষ,
গাছ থাকে হাসি খুশি
সবুজেই বেশ ।

দেয় ফুল দেয় ফল
দেয় ছায়া ওই,
তার মত প্রেম কেউ
দেয় আর কই !
       ______
                     চিঠি
         ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

নদী স্রোতে ফেলে আসা
সেদিনের চিঠি,
ফিরে পেতে বার  বার
তার কাছে ছুটি ।

বলে নদী নেই কাছে,
সাগরের বুকে,
তোর সব চিঠি আমি
আসিয়াছি রেখে ।

সব কিছু তুই যদি
ফিরে পেতে চাস,
একবার সাগরের
কাছে তবে যাস ।

বলিস আমার কথা
তার কানে কানে,
রেখে গেছে নদী চিঠি
সব এইখানে ।

মনে পড়ে যাবে জানি
সব কিছু তার,
ফিরে পাবি সব কিছু
সব ব্যথা ভার ।
      _____
              টাকা
    ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

টাকা টাকা করি রোজ
আরো টাকা চাই,
টাকা ছাড়া দুনিয়াতে
বন্ধু কেহ  নাই ।

টাকা যার রাশি রাশি
আছে ভাই ঘরে,
পার পেয়ে যায় সে যে
অপরাধ করে ।

তার মত  শক্তিশালী
নেই কেউ আর,
টাকার কাছেতে সব
মেনে যায় হার ।

হও যত জ্ঞানী গুনী
একদম পাকা,
টাকা না থাকলে যে
সব কিছু ফাঁকা ।

পাবেনা সঠিক তুমি
মোটে সম্মান,
সকলের কাছে শুধু
হবে অপমান ।

খুঁজে আর পায় কেউ
জীবনের মানে ?
নেই টাকা যার আজ
সেই শুধু জানে ।
        ____
             অন্ধকারে
     ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

ওরা সব মিথ্যে বলে
আমরা ভাবি সত্য,
এই ভাবে বেঁচে থাকা
স্বপ্ন দেখি নিত্য ।

আশমানে মেঘ পানে
মেলে রাখি দৃষ্টি,
হয় নাতো এক ফোঁটা
মরু বুকে বৃষ্টি ।

আলো চেয়ে সূর্য্যটার
আরাধনা করে,
জীবন ভরেছে যেন       
বেশি অন্ধকারে !
      ____
                   জাল
       ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

ডিগ্রি নিয়ে মস্ত বড়
পণ্ডিত আজ তুই,
ঠিক করে দেখ ভেবে
মানুষ হলি কই !

আছে টাকা গাড়ি বাড়ি
আছে প্রতিপত্তি,
নেই শুধু মানবতা
তোর এক রত্তি ।

নিজেকেই চিনেছিস
এযাবৎকাল,
মনে হয় ডিগ্রি তোর
সব কিছু জাল ।
———————————
                ভুল
    ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

চোর সাধু মিলে মিশে
এক সাথে রয়,
আমাদের চিনে নিতে
মুশকিল হয় ।

সাধু বলে চোর ধরি
করি পদ সেবা,
বলি গুরু তুমি ছাড়া
আছে আর কেবা !

চুল দাড়ি মালা হাতে
জপে যায় নাম,
দিয়ে যাই শ্রদ্ধা ভক্তি
তাকে অবিরাম ।

শুনে হই হতবাক
একদম শেষে,
সাধু নয় পাকা চোর
আছে সাধু বেশে ।
       _______
           ঝরাপাতা
     ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

ঝরা পাতা রেখে যায়
সৃষ্টির উল্লাস,
নিজে শুধু নিয়ে যায়
ব্যথা একরাশ ।

পড়ে থাকে  ম্লান মুখে
ধুলো মাখে গায়,
একে একে লীন হয়
সকলের পায় ।

তাই দেখে কিশলয়
খিল খিল হাসে,
বুঝে নাতো এই দিন
সবার যে আসে ।
       ____
        সোনার গ্রাম
    ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

এমন সোনার ছোট্ট গ্রাম
   কোথায় আছে আর,
এইতো আমার  জন্মভূমি
    তুলনা নাই তার ।

দীঘির জলে মরাল ভাসে
    পাড়েতে তার গাছ,
হরেক পাখি উঠছে ডাকি
     করছে দেখি নাচ ।

রাঙা মাটির   পথটি ওই
   গেছে অনেক দূর,
বনে রাখাল বাজায় বেণু
     খুশিতে ভরপুর ।

সকাল হলে চাষীর ছেলে
    কোদাল নিয়ে হাতে,
ফলিয়ে় তারা ফসল শুধু
    আনন্দে সব মাতে ।

আকাশে ওই মেঘের ভেলা
     দূরে সবুজ বন,
শহর ছেড়ে এইখানে আজ
    হারিয়ে গেছে মন ।
          ______
           চৈত্র বলে
   ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

চৈত্র বলে সব শেষে
আমি আসি ভাই,
গাছগুলি ফুলে ফলে
ভরে ওঠে তাই ।

বনে বনে পাখি ওই
মেতে ওঠে গানে,
আমি সুখ নিয়ে আসি
সকলের প্রাণে ।

পুরাতন গ্লানি আর
নিয়ে মলিনতা,
আনি আমি নববর্ষ
কত উচ্ছলতা ।

সুখে থাকো ভাল থাকো
আমি যাই তবে,
আবার তো একদিন
দেখা ঠিক হবে ।
      ______
             মানুষ হতে
     ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়

বলল বাবা আমায় ডেকে
হতে হবে ডাক্তার,
মায়ে তখন বলল এসে
হবে তুমি মাস্টার ।

তাই না শুনে কাকা তখন
বলল কাছে এসে,
হতে হবে নাম করা এক
গায়ক এই দেশে ।

সবার শেষে ফোকলা দাঁতে
লাঠিতে ভর করে,
বলল দাদু উকিল হতে
আইন নিয়ে পড়ে ।

সবার কথা শুনেই আমি
ভাবছি নিরবেতে,
বলল না কেউ আমায় যে
সত্যি মানুষ হতে ।
       ________

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.