কৃষ্ণপদ ঘোষ : পৌরাণিক ধারাবাহিক কাব্য, উপস্থাপন ৪




(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
ধারাবাহিক পৌরাণিক কাব‍্য
* কুরুক্ষেত্রে আঠারো দিন *

——– কৃষ্ণপদ ঘোষ।
উপস্থাপন–৪
( পূর্ব প্রকাশিতের পর )
: কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধারম্ভ :
* বিরাট পুত্র উত্তর ও শ্বেতের মৃত্যু *
(প্রথম দিনের যুদ্ধ)



(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
সম্মুখ সমরে ভীষ্ম কুরুসেনা কুলে।
অগ্রে চলেন ভীম পাণ্ডব সেনাদলে।।
মহাবেগে এল ধেয়ে দুই সেনাদল।
রণ মাঝে তূর্য নাদ আর কোলাহল।।
দুন্দুভী শঙ্খ ভেরীর নিনাদ তুমুল।
অশ্ব ছোটে, হস্তী ছোটে বাঁধে হুলুস্থুল।।
ক্রুদ্ধ বৃষভ যেমতি সেমতি ভীমসেন,
ভীমবেগে ধাবিত হ’য়ে তিনি গর্জেন।।
সে গর্জনে শত্রুসেনা গনিল প্রমাদ।
অভিভূত হয় তায় অপর নিনাদ।।



(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
দ্বাদশ কুরু ভ্রাতা ভীষ্মে করি বেষ্টন,
সম্মুখ সমরে ধীরে করেন গমন।।
পাঞ্চালি-পঞ্চপুত্র, অভিমন্যু, নকুল,
সহদেব, ধৃষ্টদ‍্যুম্ন, আর সেনাকুল,
উন্মত্ত তারা সকলে বাণ বরষণে।
আলোক ঝলক বাণে বাণ ঘরষণে।।
সম্মুখ সমরে দুই পক্ষ রাজাগণ,
একে অপরে তাঁরা করেন আক্রমণ।।
ভীমসেন গদাযুদ্ধে দুর্যোধন সনে,
যুধিষ্ঠির মদ্ররাজ মাতিলেন রণে।।
ভীষ্ম ভীষণ ক্রুদ্ধ অতি কার্মুক হাতে।
তুমুল যুদ্ধ রত তিনি পার্থের সাথে।।
শিখণ্ডী-অশ্বত্থামা, দ্রুপদ-জয়দ্রথ,
রণাঙ্গনে পরস্পর রণেন অবিরত।।



(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
এই রূপে কুরু পাণ্ডবে যুদ্ধ তুমুল।
ক্ষণকালে বিশৃঙ্খলা তীব্র হুলুস্থুল।।
পিতা পুত্র ভ্রাতা নাহি চেনে পরস্পরে,
মত্ত মরণ মারণে উন্মত্ত সমরে।।
অভিমন্যু বাণ এক করিল ক্ষেপণ,
লুটাইল ভূতলে ছিন্ন ভীষ্ম-কেতন।।
মুহূর্তে আবৃত অভি ভীষ্ম শরজালে।
ভীমসেন তাঁর পাশে হেন বিপৎকালে।।
গজারূঢ় উত্তর শল‍্যে করে আক্রমণ।
হস্তীপদ শল‍্য-রথ করে চূর্ণন।।
শক্তি-অস্ত্র ত‍্যজিলেন শল‍্য সাথে সাথে,
উত্তর ত‍্যজেন প্রাণ সেই অস্ত্রাঘাতে।।
অতঃপর রণাঙ্গনে বিরাট পুত্র শ্বেত।
মদ্ররাজে বধিতে করেন অভিপ্রেত।।



(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
শ্বেতের আঘাতে হত যোদ্ধা শত শত।
এই দেখি ভীষ্ম তারে নাশিতে উদ‍্যত।।
নিক্ষেপিলেন বীর ভীষ্ম ভল্ল তাঁহার।
শ্বেতাশ্ব সারথি হত আঘাতে তাহার।।
হেন হেরি বিরাটের শ্বেত সেনাপতি,
ত‍্যজিলেন মহাশক্তি-অস্ত্র ভীষ্ম প্রতি।।
ছিন্ন সেই শক্তি-অস্ত্র ভীষ্ম শরাঘাতে।
ভীষ্মাশ্ব সারথি হত শ্বেত গদাঘাতে।।
মন্ত্রসিদ্ধ বাণ ভীষ্ম করেন মোচন।
সেই মহা বাণে শ্বেত লভিল মরণ।।
হেরিল মৃত্যু তার পাণ্ডব সেনাগণ।
তখন তারা সবে মিলি করিল শোচন।।
আনন্দে নৃত্য রত দুষ্ট দুঃশাসন।
সেই সাথে কুরু মাঝে তুমুল বাদন।।
সূর্যাস্ত হ’ল ক্ষণিক পরেতে তাহার।
সমর শ্রান্ত সেনা ঘোষিত অবহার।।
********



(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
( দ্বিতীয় দিনের যুদ্ধ )

প্রথম দিবস সমর যবে হয় গত,
যুধিষ্ঠির প্রকাশেন নিজ অভিমত।।
“তৃণদল নাশে যেমতি গ্রীষ্মে অনল,
ভীষ্ম নাশেন সেমতি পাণ্ডু সেনাদল।।
যম ইন্দ্র সবে তবু জয় করা যায়,
ভীষ্মে নাশিবারে কভু নাহিক উপায়।।
হে কেশব, নিজ বুদ্ধি করিলাম নাশ।
ভীষ্মরূপ জলরাশি তরিবার আশ।।
বরং রাজি আমি আজি যাইবারে বনে,
ঠেলি সবে মরণে বাঁচি আমি কেমনে।।
হে মাধব, কহ মোরে তুমি অন্তর্যামী,
কেমনে অজেয় ভীষ্মে জয় করি আমি।।
দেখি যুদ্ধে সব‍্যসাচী হল উদাসীন।
ধারণা মনে জ্ঞাতি বধ নহে সমীচীন।।



(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
হেরি যুদ্ধে ক্ষত্র ধর্ম করিয়া স্মরণ,
নাশিতে শত্রু ভীম নিয়োজিত মন।।
শত বর্ষের এইরূপ সরল সে রণে,
নাশিতে নারিবে কভু শত্রু সেনা গনে।।
কহেন কৃষ্ণ, শোন না করিও শোচন।
আমরা তোমার সবে প্রিয়কারী গণ।।
এই কথা তুমি মনে করিও ধারণ,
শিখণ্ডী হইবে ভীষ্মের মৃত্যু কারণ।।
কহিলেন ধর্মরাজ ধৃষ্টদ‍্যুম্ন প্রতি,
কার্তিকেয় তুল‍্য তুমি মম সেনাপতি।।
শার্দুল তুমি কৌরবে করহ সংহার।
অনুগামী সর্বক্ষণ আমরা তোমার।।
ধৃষ্টদ‍্যুম্ন কহেন শুনি, হে মহারাজ,
ভীষ্ম-দ্রোণাদি সনে রণিব রণে আজ।।
দ্রোণ ঘাতক আমি মহাদেব বিধানে।
তাই নাহি রাখিবেন শঙ্কা কভু মনে।।



(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
ধৃষ্টদ‍্যুম্ন রচিলেন কৌঞ্চারুণ ব‍্যূহ।
সেই ব‍্যূহ ভেদিবারে নাহি আর কেহ।।
পরদিন প্রাতে শুরু যুদ্ধ পুনর্বার।
ধায়িল অশ্ব হস্তী সেনা গতি দুর্বার।।
ভীষ্ম যুঝেন অতি ভীষন মারণ রণ।
হতা হত শত শত পাণ্ডব সেনা গণ।।
সে যুদ্ধে ভয়ে ভীত পাণ্ডব সেনা কত।
রথারোহী সেনা কেহ পলায়ন রত।।
হেন হেরি, কহেন অর্জুন, হে অচ‍্যুত,
ভীষ্ম সকাশে মম রথ কর চালিত।।
ধাবিল শুভ্র অশ্ব যেমতি বলাকা,
অর্জুন রথে উড্ডীন বহু পতাকা।।
মেঘ ধ্বনি জাগে রথ চক্র ঘর্ঘরে।
মহা কপি গর্জন রথধ্বজোপরে।।
শর নিপুণ অর্জুন উন্মত্ত সমরে।
মরে সেনা কত শত হাজারে হাজারে।।



(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
বায়ু বেগে ছুটে চলে শরের প্লাবন।
সেই রণে ভয়ে ভীত রাজা দুর্যোধন।
কহেন ভীষ্মে তিনি হইয়া দুঃখিত,
অদ‍্যাপি আপনি, দ্রোণ এখনো জীবিত।।
তথাপি অর্জুন সে নহে আজও হত।
থাকিয়া জীবিত সেনা মারে কত শত।।
কর্ণ সে আপনার কারণে যুদ্ধ হীন।
এই রূপ যুদ্ধে জানি জয় অতি ক্ষীণ।।
প্রয়াস যেন আপনার বধিতে অর্জুনে,
অতি ক্ষীণ হেরি আজি এই মহারণে।।
হেন শুনি ভীষ্ম দেন ক্ষত্রধর্মে ধিক।
পাইলেন দুঃখ তিনি মনে ততোধিক।।
অর্জুন সম্মুখে তিনি হইয়া আগত,
ভয়ঙ্কর রণে তিনি হইলেন রত।।



(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
রথচক্র শঙ্খ নিনাদ হইল উত্থিত।
দুই মহারথ রণে রণভূমি কম্পিত।।
গণিলেন প্রমাদ যত দেব ঋষিগণ।
অজেয় তাঁরা আশাহীন যুদ্ধ সমাপন।।
সম্মুখ সমরে রত ধৃষ্টদ‍্যুম্ন দ্রোণ।
চলে যুদ্ধ অবিরত অতীব ভীষণ।।
পরাভূত চেদিসেনা পাণ্ডবের পক্ষে।
বিজয়ী কলিঙ্গ নিষাদ সেনা বিপক্ষে।।
হেরি ভীমসেন চেদির এ পরাজয়,
আইলেন করিতে কলিঙ্গসেনা জয়।।
সেনা নাশে উদ‍্যত ভীম বৃকোদর।
কলিঙ্গরাজ ত্বরিতে করিতে সমর।।



(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
ভীমসেন বধিলেন সেনা শত শত।
ভীষ্ম-শরে নিপাতিত ভীম-অশ্ব যত।।
সক্রোধে বধিলেন ভীম ভীষ্ম-সারথি।
ভীষ্ম-রথাশ্ব পলায়িত বায়ুবেগ গতি।।
ভীমসেন পুনঃ রণে হইলেন রত।
সসৈন‍্য কলিঙ্গরাজ রণাঙ্গনে হত।।
মহারণে ব‍্যাপৃত অভিমন্যু লক্ষ্মণ।
সহায়িতে পুত্রেরে পাশে দুর্যোধন।।
অর্জুন আইলেন তথা ক্ষণিক পরে।
সেনা হত কত শত অর্জুন শরে।।
যুদ্ধ হেরি কত সেনা হল ভয়ে ভীত।
রণাঙ্গন ত‍্যজি তারা সবে পলাইত।।
এতেক হেরি ভীষ্ম কহিলেন দ্রোণে,
সম্ভব নহে জয় আজিকার রণে।।
সেনাগণ অবসন্ন ক্লান্ত অবসাদে।
বিদীর্ণ গগন পাণ্ডব সিংহনাদে।।
সূর্যাস্ত হইল ক্ষণিক পরেতে তাহার।
রণক্লান্ত সেনা, তাই ঘোষিত অবহার।।
(ক্রমশঃ)


(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.